Monday, October 17, 2022

১: হাড়ের সংখ্যা: ২০৬
২: পেশী সংখ্যা: ৬৩৯
৩: কিডনির সংখ্যা: ২
৪: দুধের দাঁতের সংখ্যা: ২০
৫: পাশের সংখ্যা: ২৪ (১২ জোড়া)
৬: হৃদযন্ত্রের সংখা: ৪
৭: বৃহত্তম ধমনী: ধমনী
৮: সাধারণ রক্তচাপ: ১২০/৮০ মিমিএইচজি
৯: রক্ত পিএইচ: ৭.৪
১০: শিরদাঁড়া মধ্যে মেরুদণ্ডের সংখ্যা: ৩৩
১১: ঘাড়ের মেরুদণ্ডের সংখ্যা: ৭
১২: মধ্য কানে হাড়ের সংখ্যা: ৬
১৩: মুখের হাড়ের সংখ্যা: ১৪
১৪: মাথার খুলি হাড় সংখ্যা: ২২
১৫: বুকের হাড়ের সংখ্যা: ২৫
১৬: বাহুতে হাড়ের সংখ্যা: ৬
১৭: মানব বাহুতে পেশী সংখ্যা: ৭২
১৯: প্রাচীনতম সদস্য: ত্বক
২০: বৃহত্তম অঙ্গ: যকৃত
২১: বৃহত্তম কোষ: ডিম্বাশয়
২২: ক্ষুদ্রতম কোষ: শুক্রাণু কোষ
২৩: সবচেয়ে ছোট হাড়: মধ্য কান
২৪: প্রথম প্রতিস্থাপিত অঙ্গ: একটি কিডনি
25: পাতলা অন্ত্রের গড় দৈর্ঘ্য: 7 মিটার
26: কোলন গড় দৈর্ঘ্য: 1.5 মিটার
২৭: গড় নবজাতক শিশুর ওজন: ৩ কেজি
২৮: প্রতি মিনিটে হৃদস্পন্দন: ৭২ বার
29: শরীরের তাপমাত্রা: 37°C
৩০: গড় রক্তের পরিমাণ: ৪ থেকে ৫ লিটার
৩১: লাল রক্ত কোষের বয়স: ১২০ দিন
৩২: সাদা রক্ত কণিকার বয়স: ১০ থেকে ১৫ দিন
৩৩: গর্ভাবস্থাকাল: ২৮০ দিন (৪০ সপ্তাহ)
৩৪: মানুষের পায়ের হাড়ের সংখ্যা: ৩৩
৩৫: প্রতিটি কব্জিতে হাড়ের সংখ্যা: ৮
৩৬: হাতের হাড়ের সংখ্যা: ২৭
৩৭: বৃহত্তম এন্ডোক্রিন গ্রন্থি: থাইরয়েড গ্রন্থি
৩৮: বৃহত্তম লিম্ফ্যাটিক অঙ্গ: স্প্লেন
৪০: সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী হাড়: ফেমার হাড়
৪১: ক্ষুদ্রতম পেশী: স্টেরয়েড (মধ্য কান)
৪১: ক্রোমোসোম সংখ্যা: ৪৬ (২৩ জোড়া)
৪২: সদ্যজাত শিশুর হাড়ের সংখ্যা: ৩০৬
43: রক্তনালী: 4.5 থেকে 5.5
৪৪: গ্লোবাল ডোনার রক্তের ধরন: ও.
৪৫: ইউনিভার্সাল রিসিভার রক্তের ধরন: এবি
৪৬: বৃহত্তম সাদা কোষ: একক কোষ
৪৭: ক্ষুদ্রতম সাদা কোষ: লিম্ফোসেল
৪৮: লাল রক্ত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধিকে পলিস্ফেরিন বলে।
৪৯: শরীরের ব্লাড ব্যাংক হল: স্প্লেন
৫০: জীবন নদীর নাম রক্ত।
৫১: সাধারণ রক্তের কোলেস্টেরল মাত্রা: ১০০ মিলিগ্রাম / ডিএল
৫২: রক্তের তরল অংশ হলো: প্লাজমা
তোমার মহিমা, প্রভু, তুমি কত মহান!
(আল্লাহ সবকিছু নিখুঁত করেছেন)
  

Sunday, October 16, 2022

 

★ ফজরের পরে না ঘুমানো বা জেগে থাকার কল্যাণ অফুরন্ত★
আল্লাহর প্রিয় হাবীব, সাঈয়্যিদীল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সকাল বেলা আল্লাহ বান্দাদের বরকত দান করেন।
খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা (রাদ্বি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূল (দরূদ.) আমার ঘরে এসে আমাকে ভোরবেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে নাড়া দিয়ে বললেন, 'উঠো মা, তোমার রবের পক্ষ থেকে রিজিক গ্রহণ কর। অলসদের দলভুক্ত হয়ো না। কেননা আল্লাহ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত বান্দাদের মধ্যে রিজিক বণ্টন করে থাকেন। (সহীহ আত তারগিব : ২৬১৬)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বি.) তাঁর এক সন্তানকে ভোরবেলা ঘুমাতে দেখে বলেছিলেন, 'উঠো! তুমি এমন সময়ে ঘুমিয়ে আছ, যখন রিজিক বণ্টন করা হয়!' (যাদুল মাআ’দ : ৪/২৪১)
হযরত উরওয়া (রহ.) বলেন, হযরত যুবাইর (রাদ্বি.) তার সন্তানদেরকে ভোরবেলায় ঘুমাতে নিষেধ করতেন। তিনি আরো বলেন, 'আমি যখন কারো সম্পর্কে শুনি সে ভোর বেলায় ঘুমায়, তখন তার প্রতি আমি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি।'
ভোরবেলা জেগে থাকতে না পারার মূল কারণ হল অভ্যাস না থাকা। এই অভ্যাস তৈরি করতে হলে রাতে আগে ঘুমাতে হবে। রাসূল (দরূদ.) এশার নামাজের পর কথা বলা পছন্দ করতেন না। এ জন্য যত আগে পারা যায়, ঘুমিয়ে পড়া উচিৎ। জরুরী কোন কাজ না থাকলে এশার পরপরই ঘুমিয়ে শেষ রাতে আগে উঠার তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। আর ফজরের আগ মুহুর্ত বা রাত্রির শেষ ভাগ খুবই মুল্যবান সময়। এ সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজে বান্দাদের ডাকতে থাকেন ”কে আছো রহমত চাও, আমি রহমত দান করবো, কে আছো রিজিক চাও আমি রিজিক দান করবো, কে আছো সুস্থ্যতা বা শেফা চাও আমি শেফা দান করবো...।” এভাবে আল্লাহ তাআ'লা ফজরের আজানের পূর্ব পর্যন্ত ডাকতে থাকেন এবং বিশেষ ফেরেশতাগণ আল্লাহর রহমত নিয়ে জমিনে সেই সকল বান্দাদের
খুঁজতে থাকেন, যারা আরামের ঘুমকে হারাম করে সুখের বিছানা ছেড়ে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন।
মোবাইল আমাদেরকে রাতে আগে ঘুমাতে দেয় না। মোবাইলের স্ক্রিন থেকে যে রশ্মি নির্গত হয়, তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। মোবাইল ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এশার পর মোবাইল না ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। মোবাইল বিছানায় না রেখে একটু দূরে টেবিলে রাখা এবং দোয়া ও তাসবীহ মুখস্ত করা। আর ঘুমের আগে সেগুলো পড়ার চেষ্টা করা। আল্লাহ্‌ তৌফিক দান করুন, আমীন।

Friday, October 14, 2022

 

পাশের বাসার আন্টি আমাদের রুমে এসে আমাকে বললো,
--মা, কিছু টাকা হবে তোমার কাছে?
আমি খানিক বিব্রত হয়ে বললাম,
--আন্টি আমার কাছে চাল কেনার টাকা আছে।অতিরিক্ত টাকা নেই।
--তোমাকে চাল আমি দিচ্ছি।তার বিনিময়ে তুমি চালের টাকাটা আমাকে দাও।
ভদ্রমহিলা উদ্বিগ্ন দৃষ্টি নিয়ে আমাকে কথাগুলো বলে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
মুন্নী, তমা,স্বর্ণা আমরা তিনজন এ-ই বাসাতে থেকেই পড়াশোনা করছি।তিনজনের বাসা ভার্সিটি থেকে অনেক দূর।তাই এখানে বাসা ভাড়া নিয়ে আমরা থাকছি।আমরা নিজেদের রান্না নিজেরাই করি।
এ-ই ভদ্রমহিলা আমাদের পাশের বাসাতেই থাকে।উনার ছয় মেয়ে।আমার জানামতে উনার বর খুব সামান্য বেতনের কাজ করে।
কিছুক্ষণপর ভদ্রমহিলা প্রায় তিন কেজি চাল এনে আমার হাতে দিয়ে বললেন,
--মাগো, টাকাটা তাড়াতাড়ি দাও।আমার মেয়ে খুব অসুস্থ, ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
জানিনা তিন কেজি চালের দাম দিয়ে উনি কিভাবে মেয়েকে ডাক্তার দেখাবেন কিংবা ঔষধ কিনবেন।আমার কাছেও অতিরিক্ত টাকা ছিলোনা।
পরেরদিন ভদ্রমহিলার মেয়ের খোঁজ নেওয়ার জন্য উনার বাসায় যাই।গিয়ে দেখি মেয়ে শুয়ে আছে আর ভদ্রমহিলা তার পাশে বসে আছেন।আমাকে দেখে খুব খুশি হয়ে বললেন,
--মাগো,তোমার উপকারের কথা কখনো ভুলবো না।ঐ টাকাটা না পেলে কি যে হতো!
আমি উনাকে বুঝালাম, টাকাটা আমি এমনি দেইনি।বিনিময়ে আপনি চাল দিয়েছেন, সুতরাং এতটা কৃতজ্ঞ হওয়ার কিচ্ছু নেই।
উনি আমাকে মেয়ের পাশে বসিয়ে হুট করে বেরিয়ে গেলেন।আমি বাচ্চাটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম,
--কেমন আছো?
--ভালো আছি।
তারপর বাচ্চাটা শোয়া থেকে উঠে বসে বললো,
--জানেন আপু,গতকাল আপনাকে যে চাল দিয়ে মা টাকা এনেছে ওটা আমাদের ঘরের শেষ চাল ছিলো।মা রান্না করতে চাল পাতিলে নিয়েছিলেন।তারপর সেই চাল ই পলিথিনে ঢেলে আপনাকে দিয়ে আসে।
আমাদের ঘরে আজ নিয়ে দুইদিন ভাত রান্না হয়নি।আমি যে এ-ই কথা আপনাকে বলেছি,মাকে বলবেন না।কথাটা বলে বাচ্চাটা আবার শুয়ে পড়ে।
আমি আর ওর পাশে বসে থাকতে পারলাম না।খুব কষ্ট হচ্ছিলো।চোখ মুছতে মুছতে ঘর থেকে বের হয়ে আসলাম।
এ-ই ঘটনাটা প্রায় বিশ বছর আগের।বিশ বছর পর আজ কোনো একটা কাজে আমি সেই বাসার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম।বাসার গেটের সামনে সেই ভদ্রমহিলাকে দেখে থেমে যাই।উনি এখনো এ-ই বাসাতে থাকেন, এটা দেখে অবাক হয়েছি।
আমি রাস্তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে ভদ্রমহিলাকে দেখছি।কোনো পরিবর্তন নেই।সেই একইরকম মাথাভরতি কালো চুল,চেহারা।কাছে গিয়ে সালাম দিয়ে খোঁজখবর নিলাম।কথা বলার একপর্যায়ে উনি আমার মাথায় হাত রেখে বললো,
--সেই দিনের কথা আমার সারাজীবন মনে থাকবে, মা।তুমি হয়তো জানো না।
আমার বাচ্চারা জীবনে প্রথম ঐ সময়ে দুইদিন না খেয়ে ছিলো।আর সেটা আমাকে সহ্য করতে হয়েছে।
অথচ দেখো,আজ আমার কোনো কিছুর অভাব নেই।এ-ই যে বাসাটা, এটা এখন আমাদের নিজের।
আমার সেই মেয়েটা আজ একজন ডাক্তার।
জানো মা,
ধৈর্যশক্তি এমন এক জিনিস,যদি ধরতে পারা যায় তবে বেঁচে থাকতেই এ-র ফল দুনিয়াতে ভোগ করা যায়।
ভদ্রমহিলার হাসিখুশি জীবন দেখে ভীষণ আনন্দ নিয়ে বাসাটা অতিক্রম করি।
হাঁটতে হাঁটতে ভাবছি,জীবন বড় অদ্ভুত! কাকে,কখন, কোথায়, কিভাবে নিয়ে যায় তা কেউ বলতে পারে না।আর এর জন্য জীবনকে সুযোগ এবং সময় দুটোই দিতে হয়।সত্যি দিতে হয়।
জীবন যখন যেমন গল্পের লিংক

 

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ সম্পর্কে কিছু কথাঃ
=======================
১৭৫৭ সালে অপরিনামদর্শী সিরাজউদ্দৌলার পতনের আগ পর্যন্ত সুবা বাংলা ছিল গোটা দুনিয়ার মধ্যে ঐশ্বর্যশালী সুখী মানুষের একটি দেশ। তখনকার আমলের অনেক ইউরোপিয়রাই বলেছেন, বাংলার মানুষের খাবার থালায় কম করেও তিন ধরনের পদ থাকতোই। ঘি, মাখন খাওয়ার বিষয়টা তাদের জন্য ছিলো সাধারণ। তাদের গায়ে যে পোষাক ছিল তা ইউরোপিয়ানদের কাছে ভাবনারও অতীত, ঈর্ষণীয়। তখনকার আমলে বাংলার পন্য নিয়ে বাংলার বণিকরা পূর্বদেশ মানে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত পৌছে যেতো।
পরবর্তীতে নবাবের পতনের হলে তিন দফা নতুন নবাব প্রতিস্থাপনের পর মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও ওড়িশার খাজনা উঠানোর বিষয়টি মাত্র লাখ দেড়েক রূপিতে কিনে নেন রবার্ট ক্লাইভ। এরপর রবার্ট ক্লাইভ হিসাব করে দেখান, দেড় লাখ রূপি দেবার পরও কোম্পানির প্রায় ১৬ লাখ রূপি। বাস্তবে সেটি কোটি রূপিতে ছাড়িয়ে যায়।
এরপর থেকেই ফসলে, পন্যে উদ্বৃত্ত একটি জনপদ হয়ে যায় স্রেফ শশ্মান ঘাট। সব থেকে বেশি সংকটে পড়ে ঢাকা। ব্রিটিশদের অত্যাচার আর লুন্ঠনে একটা বাণিজ্যিক শহর পরিনত হয়ে যায় গোরস্তানে। কোম্পানির হাতে রাজস্ব উত্তোলনের দায়িত্ব থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত রাজস্ব উত্তোলন শুরু হয়।
বাংলা ১১৭৬ সাল আর ১৭৭০ ইংরেজি। সিরাজের পতনের মাত্র ১৩ বছরের মাথায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা যায়। সোনার বাংলা একটি কবরস্থানে পরিণত হয়। এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ১ কোটি লোক মারা যায়। সেটা ছিলো এটা দুনিয়ার নিকৃষ্টতম দুর্ভিক্ষের মধ্যে অন্যতম। সে দুর্ভিক্ষের কারণ ছিলো না যে ফসল উৎপাদন কম হয়, দুর্ভিক্ষের কারণ ছিলো সে বছরের মাত্রাতিরিক্ত খাজনা আদায়। যে বছর দুর্ভিক্ষ হলো তার আগের বছর আদায়কৃত রাজস্ব ছিল দেড় কোটি রূপি। আর যে বছর দুর্ভিক্ষ হলো সে বছর আগের বছরের তুলনায় ৫ লাখ ২২ হাজার রূপি বেশি আদায় হয়েছিল।
তত্কালীন সময়ে ঢাকার মসলিনের কদর ছিল আকাশ ছোঁয়া। আর ব্রিটেন থেকে কোম্পানি কলের তৈরি কাপড় আনলেও সেটা এখানে চলত না। তারপর তারা আমাদের মসলিন উৎপাদনকারী তাঁতীতের হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত কেটে দেয়া শুরু করে যাতে তারা মসলিন বুনতে না পারে।
গোটা মুঘল আমলে সুবা বাংলা ১৯টি, পরে ৩৪টি ছোট ছোট নবাব ও রাজাদের অধীনে শাসন হয়েছে। সেই শাসনের বেশিরভাগ সময় মুঘল শাসনের বিষয়টি অনেক আলগা ছিল। বাংলা মুঘল শাসনের অধীনে ছিল ২৩০ বছর। এই ২৩০ বছরে বাংলায় দুর্ভিক্ষ হয়নি। ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিম হেরে যাবার পর দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানী কিনে নেয় কোম্পানি। এরপর মাত্র ৬ বছরের মাথায় ১৭৭০ সালে বা বাংলা ১১৭৬ সনে দুর্ভিক্ষ হয় যাতে মারা যায় প্রায় ১ কোটি মানুষ। এই ইতিহাস নির্মম, ভয়াবহ উপনিবেশিক শোষনের ফলাফল।
কোম্পানির শাসন ও ব্রিটেনের শাসনের মধ্যে তারা কত লোককে জোরপূর্ব দাস বানিয়েছে সেই হিসাবটা নতুন করে নেয়া আমাদের খুব দরকার, আজ না পারি, একদিন আমাদের প্রজন্ম নিবে আশা করি।
১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ সময়ের দিকে যে দুর্ভিক্ষ হয় তাতে বাংলার প্রায় ৩০ লক্ষ লোক না খেয়ে মারা যায়। এই দুর্ভিক্ষ‌ও কিন্তু ফসল উৎপাদন কম হয়েছিল সে কারণে হয়নি, বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলা থেকে সব খাদ্য শস্য ব্রিটেনে নিয়ে মজুদ করা হচ্ছিলো বলেই হয়েছিলো। যুদ্ধে যেখানে মাত্র ৪০ হাজার ব্রিটিশ সৈন্য লড়ছিলো সেখানে ভারতীয় সৈন্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার। ভারতীয়রা অকাতরে মরেছেও সে যুদ্ধের ময়দানে।
দুর্ভিক্ষের অশনি সংকেত বেজে উঠার আগে বিষয়টি তৎকালীন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিলকে জানানো হয়েছিল, তখন রাজা ছিলেন ষষ্ট জর্জ, মানে দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাবা। চার্চিল নিকৃষ্ট উত্তর দিয়েছিল।
একটা সোনার দেশকে মৃতপুরি বানালো যে ব্রিটেন, ব্রিটেন উপনিবেশবাদ, তারই প্রতীকী চিহ্ন বহন করতেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।
দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা গেছেন। পরিণত বয়সেই মারা গেছেন। আমরা মানি, যে কোনো মৃত্যুই বেদনাদায়ক কিন্তু রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে পূর্ববঙ্গের মানুষের শোকটা ভিন্ন রকম, যা রক্তের সাথে বেঈমানি মিশ্রিত।
ইতিহাস মরে না। বাহাদুর শাহ পার্ক নামে ঢাকায় যে পার্কটা আছে ওখানে ১৮৫৭ সালে ভারতের প্রথম স্বাধীনতাকার্মী বিপ্লবীদের লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। আর সিরাজউদ্দৌলার লাশ শহরে টেনে হিঁচড়ে নেয়া হয়েছিল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ডকুমেন্ট নাড়াচাড়া করলে অপ্রকৃস্থ হয়ে যেতে হয়! মানুষ কি করে এতো পিচাশ প্রকৃতির হয়! তখনকার আমলে ব্রিটিশ শোষণ থেকে মুক্তি পাবার লক্ষ্যে অকাতরে জীবন দিয়েছেন তরুন যুব শ্রমিক কৃষকের দল। সেই বিপ্লবীদের বৃহত্তম অংশটি ছিলো বাংলাদেশের। আমাদের পূর্বপুরুষ তাদের জীবন বাজি রেখে, ভয়াবহ ইন্টারোগেশনের সামনে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। আর আমরা আজ সেই ঔপনিবেশিক শোষনের পদ চিহ্নের মৃত্যুর কথা জেনে কাঁদতে পারি নি বলে দুঃখিত! আমাদের সেই মহান লড়াকু পুর্বপুরুষদের আত্মদানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা সম্ভব নয় তাই।
আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের জেলগুলোতে থাকা আমাদের বিপ্লবীদের দীর্ঘশ্বাস বাংলার আকাশে বাতাসে ঘুরে বেড়ায়। যে রক্তের গন্ধ পায় প্রকৃতি কেতাদুরস্ত ফ্যাশনাবেল প্রজন্ম সে রক্ত দিয়ে পান করুক স্কচ হুইস্কি, জনি ওয়াকার রেডলেভেল!
বলি, কোহিনূর চুরি আর হাজার বছরের মুসলিম আবাস ফিলিস্তিনের দূর্দশার নেপথ্যে কারা? কারা শত শত বছর এই পৃথিবীর মানুষের রক্ত শুষে নিতে পানপাত্র ভরেছে?
তাই বিদায়, রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ, বিদায়....

 

বায়না দলিল কি? বায়না দলিল কারা করে?
বায়না দলিল করার ফলে বিক্রেতার কী কী লাভ হতে পারে? বায়না দলিল না করার ফলে বিক্রেতার কী কী ক্ষতি হতে পারে? কখন বায়না দলিল রেজিষ্ট্রেশন করবেন ?
** বায়না দলিল কী?
আপনি একটা জায়গায় কিনতে চাচ্ছেন। জায়গায় মালিকের সাথে কথা বললেন। জায়গার মালিক একটা দাম নির্ধারণ করলো ১০ লক্ষ টাকা বা ১ কাণি ১৫ লক্ষ টাকা এই রকম।
এখন জায়গাটা আপনার মন মতো হলো। দামটাও আপনার মনমতো হলো। কিন্তু আপনার কাছে ১০ লক্ষ বা ১৫ লক্ষ টাকা একবারে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আপনি জায়গায় মালিকের সাথে কথা বললেন, টাকা তো সব গুলো একসাথে পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না,
এখন অর্ধেক পরিশোধ করবো, বাকি অর্ধেক রেজিস্ট্রি করার সময় পরিশোধ করবো। আপনার প্রস্তাবটা জায়গার মালিক মেনে নিলেন। এখন আপনি টাকা দেওয়ার সময় কোন ডকুমেন্ট ছাড়াই কি টাকা দিয়ে দিবে। নাকি স্টাম্প করে বা লিখিত কোন দলিলের মাধ্যমে টাকাটা দিবেন। আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই লিখিত দলিলের মাধ্যমে টাকাটা দিবেন। লিখিত দলিলটাই হলো বায়না দলিল। আপনি এবং জায়গার মালিক দুইজনই উকিল বা ডেন্ডার এর কাছে গিয়ে একটা লিখিত ডকুমেন্টের মাধ্যমে উকিল বা ভেন্ডারকে সাক্ষী রেখে জমির কিনার অর্ধেক টাকা বুঝিয়ে দিবেন, সেইটা হচ্ছে বায়না দলিল।
** বায়না দলিল তারাই করে যারা সম্পত্তি (জমি) কিনার সময় একসাথে সমস্ত টাকা পরিশোধ করতে পারে না।
** বায়না দলিল করার ফলে বিক্রেতার লাভ -
১) ক্রেতা বা জমির মালিক টাকা পাই নাই বলার কোন সুযোগ নেই
২) জমির দাম পরিবর্তন করতে পারবে না।
৩) জমির বিক্রি করবো না বলে অস্বীকার করতে পারবে না।
৪) তৃতীয় পক্ষ ক্রেতাকে কুবুদ্ধি দিলেও কোন কাজ হবে না।
** বায়না দলিল না করলে বিক্রেতার ক্ষতি -
১) জমির মালিক বা ক্রেতা কিছু টাকা পেয়েও বলবে আমি টাকা পাইনি
২) কিছু টাকা দেওয়ার পর ১ বা ২ মাস পর্যন্ত কোন টাকা দিতে পারেনি তখন মালিক বলতে পারে জমির দাম বাড়িয়ে দিতে হবে।
৩) জমির বিক্রি করবো না। যদি কিনতে মন চাই তাহলে জমির দাম বাড়িয়ে দিতে হবে।
৪) তৃতীয় পক্ষ জমির মালিককে কুবুদ্ধি দিতে পারে, বিক্রেতাকে কষ্টে ফেলানোর জন্য।
৫) তৃতীয় পক্ষ বলবে বিক্রেতার দামের চাইতে তিনগুন টাকাটা আমি বাড়িয়ে দিবো। তখন ক্রেতা নিজের মতামত পরিবর্তন করে বসে। পরিশেষে মাঝখানে বিক্রেতা কষ্টে পড়ে যাই।
** কখন বায়না দলিল রেজিষ্ট্রেশন করবেন -
বায়নাপত্র দলিল সম্পাদনের ৩০ দিনের মধ্যে বায়না দলিল রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এবং এটি বাধ্যতামূলক;
রেজিস্ট্রেশন আইনের ১৭(ক) ধারা অনুসারে।
অর্থাৎ আপনাকে বায়নাপত্র দলিলটি দলিল লেখক বা আইনজীবীর মাধ্যমে সম্পাদন করার পরে ৩০ দিনের মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে।
** বায়না দলিল রেজিস্ট্রেশনের দিন থেকে শুরু করে ৬ মাসের মধ্যে সাফ কবলা দলিল রেজিস্ট্রেশন করতে হবে;
ধারা ৫৪(ক), সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ১৮৮২।
** বায়না দলিল অবশ্যই অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন করবেন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে।
সামান্য খরচে আপনি বায়না দলিল রেজিস্ট্রি করতে পারবেন। অনেক সময় দেখা যাই টাকা বাঁচাতে গিয়ে বায়না দলিল করে কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করে না।
এই ভুল কোনদিনও করবেন না।


Saturday, October 1, 2022

 

জন্মেছি একা, পৃথিবী ছেড়ে যেতেও হবে একা,

দুঃখ পেলেও একা, মন খারাপ হলেও একা, কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজেকে একাই সামলাতে হয়... 

এ যেন সবার মাঝে থেকেও একার রাজ্যেই বসবাস !!

 

হঠাৎ করেই একদিন আপনার দুআ গুলাে কবুল হয়ে যাবে। যে দুআ করতে গিয়ে। আপনার কণ্ঠ হয়েছিল কান্না বিজরিত, চোখ দিয়ে। ঝরছিলাে অজস্র জল। সেই দুআ যখন হুট করে। 'মহান রব্বল আলামীন কবুল করে নিবেন,

সেদিনও আপনার চোখজোড়া ভিজে উঠবে আনন্দের অশ্রুকণায়,ইনশাআল্লহ! সেদিন হয়তাে। ফিসফিস করে বলে উঠবেন "হে আমার পালনকর্তা আপনাকে ডেকে আমি কখনাে নিরাশ হয়নি"

(সুরা মারইয়াম ১৯৪৪)

 

আমি যদি হই

মুসলিম

তবে এটাই হতে হলে আমার চরিত্র।

আমি নিয়মিত নামায পড়ল। আমি রমযান মাসে রোযা রাখব আমি সামর্থ্যবান হলে যাকাত দেব আমার উপর হজ ফরয হলে হজ্জ কণা কারো কোন অলনি কামনা না কারাে নামে মিথ্যা অপবাদ রটানা কারাে কোন প্রকার ক্ষতি করব না। কারো সাথে দুর্ব্যবহার করব না। কারাে সাথে গড়া করব না। কারাে সম্পদ নষ্ট করব না। কারাে মনে কষ্ট দেব না কখনও জেনা করব না কাউকে গালি দেব না কাউকে কষ্ট দেব না। চোগলখুরী করব না। কখনও সুদ গল না।

কখনও মদ খাব না। আমি মিথ্যা কথা বণবনা, পিতা-মাতার অবাধ্য হব না

খনও খুনাখুনি কল না, কারাে অধিকার খর্ব করব না। অন্যের দোষ বলে বেড়ান্ত না, কারো উপর জুলুম করণ না সমাজে অশান্তি সৃষ্টি পান না, কারো কাছ থেকে দুই নেন না কন? চুরি-ডাকাতি করে না, যেীতুক নেয়া সমর্থন করে না কালাে সাথে প্রতারনা করব না, কারো জায়গা-জমি দখল করল না কালাে টাকা আত্মসাৎ কাল না, কারাে বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেশ না কারাে নামে মিথ্যা মামলা করব না, কখনও ওষদ বরখেলাপ করব না। আমি আমানতের খিয়ানত করল না, বরুনদের সাথে বেয়াদবি করব না।

 

দুয়া কবুলের সময়

১। সিজদার সময়; (মুসলিম:৪৮২) 

২। আজানের শেষে; (আবু দাউদ:৫২৪) 

৩। ফরজ সালাতের পর; (তিরমিজি: ৩৪৯৯) 

৪। শেষ রাতে; (বুখারী: ১১৪৫)। 

৫। আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়; (আবু দাউদ:৫২১) 

৬। যুদ্ধরত অবস্থায় ও বৃষ্টির সময়; (আবু দাউদ: ২৫৪০) 

৭। রুকূ থেকে উঠার সময় ও উঠার পর দুয়া; (বুখারী: ৭৯৬,৭৯৯) 

৮। জমজমের পানি পান করার সময়; (ইবনু মাজাহ: ৩০৬২) 

৯। আজানের সময়; (সিলসিলা সহিহাহ: ১৪১৩) 

১০। দুয়া ইউনুস পড়লে; (তিরমিজি: ৩৫০৫) 

১১। কারও মৃত্যুর পর; (মুসলিম: ৯২০) 

১২। ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়ার সময়; (মুসলিম: ৩৯৫) 

১৩। ফেরেশতাদের সাথে মুসল্লির আমীন মিলে গেলে; (বুখারী: ৭৮০) 

১৪। নামাজে সালাম ফেরানাের আগে; (আবু দাউদ: ১৪৯৫) 

১৫। ওযূর পর কালিমা শাহাদাত পাঠ; (মুসলিম: ২৩৪) 

১৬। আরাফার দিন; (তিরমিজি: ৩৫৮৫) 

১৭। মােরগ ডাকার সময়; (বুখারী: ৩৩০৩) 

১৮। লাইলাতুল কদরের দুয়া; (তিরমিজি: ৩৫১৩) 

১৯। রাতে ঘুম থেকে উঠে নির্দিষ্ট দুয়া; (বুখারী:১১৫৪) 

২০। সালাতের শুরুতে বিশেষ দুয়া পড়া; (মুসলিম: ৬০১) 

২১। জিলহজ্ব মাসের দশ প্রথম দিন; (বুখারী: ৯৬৯)

🍀মৃত্যু শয্যায় মহাবীর আলেকজেন্ডার তার সেনাপতিদের ডেকে বলেছিলেন, আমার মৃত্যুর পর আমার তিনটা ইচ্ছা তোমরা পূরণ করবে।
★ আমার প্রথম অভিপ্রায় হচ্ছেঃ
শুধু আমার চিকিৎসকরাই আমার কফিন বহন করবেন।
★ আমার ২য় অভিপ্রায় হচ্ছেঃ
আমার কফিন যে পথ দিয়ে যাবে সেই পথে আমার অর্জিত সোনা ও রুপা ছড়িয়ে থাকবে।
★ আর শেষ অভিপ্রায় হচ্ছেঃ
কফিন বহনের সময় আমার দুই হাত কফিনের বাইরে ঝুলিয়ে রাখবে।'
তার সেনাপতি তখন তাঁকে এই বিচিত্র অভিপ্রায় কেন করছেন প্রশ্ন করলেন।
দীর্ঘ শ্বাস গ্রহণ করে আলেকজান্ডার বললেন, 'আমি দুনিয়ার সামনে তিনটি শিক্ষা রেখে যেতে চাই।
★ আমার চিকিৎসকদের কফিন বহন করতে এই কারনে বলেছি, যে যাতে লোকে বলতে পারে যে চিকিৎসক মানুষকে সারিয়ে তুলতে পারে না। তারা ক্ষমতাহীন আর মৃত্যুর থাবা থেকে রক্ষা করতে অক্ষম।
★ যাবার পথে সোনা-দানা ছড়িয়ে রাখতে বলেছি সোনা-দানার একটা কণাও আমার সঙ্গে যাবে না। এগুলো পাওয়ার জন্য সারাটা জীবন ব্যয় করেছি কিন্তু নিজের সঙ্গে কিছুই নিয়ে যেতে পারছি না। মানুষ বুঝুক এসবের পেছনে ছোটা মানে সময়ের অপচয়।'
★ কফিনের বাইরে আমার হাত ছড়িয়ে রাখতে বলেছি মানুষকে বুঝানোর জন্য পৃথিবীতে খালি হাতে এসেছি আজ পৃথিবী থেকে খালি হাতেই চলে যাচ্ছি।