Tuesday, May 31, 2022

 

সারা জাহান আমায়

সান্না জাহান আমায় বলুক বেলাং গুনাহগার 

যদি রাজী থাকে আমার পরােয়ার দিগার ।

যদি নবী রাজী থাকে

দয়া করে আমায় ডাকে 

রাহমাতুল্লিল আলামিন কয় কোরান মাঝার।

যার সাথে যার আত্মীয়তা

বাইরে লােকে বুঝে না তা 

দিল কাবারই শুনরে আজান পাবিরে দিদার ॥

ওরে আমার ভােলা মন কারও কথায় দিসনারে কান 

শাস্ত্র পড়ে সত্য চেনা ভীষণ ব্যাপার ।

যেজন মাের্শেদ সত্য জানে

মাওলারে সে পায় সন্ধানে বিশ্বাসের পাবি না মন করিলে বিচার।

একের জ্বালায় যেন জ্বলে

নিন্দায় সে না কথা বলে 

ধৈর্য্যেতে ঐশ্বর্য মিলে গরমিলে সংসার।

এসােনা কেউ আমার ধারে।

কাদতে দিওঁ একা মােরে 

রেখাে খােদা আশেক করে সব নিয়া আমার ।

যারা আমায় মন্দ বলে

রেখ তাদের অন্তরালে আমায় শুধু জড়াইও তােমার মাঝান্ন ।

চোখ ভরা মাের অশ্রু দিও

ভালবাসায় প্রাণ ভরে রাখিও 

আযহার নামে একটি মানুষ কাঙ্গাল তােমার ।

তােমায় আমি

তােমায় আমি ছেড়ে যাব 

বাসবনা আর ভালরে বন্ধু 

ভুলে যাৰ সেইতাে আমার ভাল ।

এত জ্বালা কেমনি সব

এত নিরব কেমনি রব 

এত আশা বুকে লয়ে বাঁচব কতকালরে বন্ধু ।

সারাটি জীবন কাদালি 

হৃদয়খানি করলি খালি

হেসে হেসে বিষ খাওয়ালি 

আমায় শুধু সারা জনম ভাবলিরে জঞ্জালরে বন্ধু

ফুলের মত বিভাবরী 

ফুটতে যেয়ে পড়ছি ঝরি,

নদী ভাংগা পাড়ের মত। 

বসে বসে গুণি পরকালরে বন্ধু ।

ভাল তোমায় বাসনা আর। 

কাছে তােমার আসব না আর,

বিরক্ত আর করব নাতাে, 

সরে যাব চোখের কাটা শেষ

হব জঞ্জালরে বন্ধু ।

বিধান তােমার বুঝি নাতাে 

হাত গুটাও হাত কখন পাত

আমায় করে স্নেহ স্নাত

আযহারেরে এখন কেন ভাব

এত জঞ্জালরে বন্ধু ।

 

Monday, May 30, 2022

 

হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, হযরত আদম আলাইহিস সালাম যখন দুনিয়াতে তাশরীফ আনেন তখন তিনি সবসময় কান্নাকাটি করতেন। একদিন তিনি আল্লাহর দরবারে আরজ করলেন, হে আল্লাহ! মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওসীলায় আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। তখন ওহী নাজীল হয়- মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আপনি কিভাবে চিনলেন, আপনি তো উনাকে কখনো দেখেননি? তখন তিনি বললেন-যখন আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমার অভ্যন্তরে রুহ প্রবেশের পর মাথা তুলে আমি আরশে লেখা দেখলাম- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।
তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চেয়ে সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তিত্ব আর কেউ নেই যার নাম আপনি স্বীয় নামের সাথে রেখেছেন। তখন অহী নাজীল হল-তিনি সর্বশেষ নবী। আপনার সন্তানদের অন্তর্ভূক্ত হবে। যদি তিনি না হতেন, তাহলে আপনাকেও সৃষ্টি করা হতো না।“

“আমি গুপ্ত ছিলাম। আমার মুহব্বত হলো যে, আমি জাহির হই। তখন আমি আমার (রুবুবিয়্যত) জাহির করার জন্যই সৃষ্টি করলাম মাখলূকাত (আমার হাবীব হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে)।”

হযরত সালমান ফারিসী রাদ্বিআল্লাহু তা’য়ালা আনহু বলেন: “হযূর পূর নূর সাললাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছে জিবরীল আমীন আলাইহিস সালাম এসে পৌঁছে দেন আল্লাহর বাণী, ‘(হে রাসূল) আপনার চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কাউকেই আমি সৃষ্টি করি নি। আমি বিশ্বজগত ও এর মধ্যে যা কিছু আছে তার সবই সৃষ্টি করেছি যাতে তারা জানতে পারে আপনার মহান মর্যাদা সম্পর্কে। আমি এই বিশ্বজগত সৃষ্টি করতাম না, যদি আপনাকে সৃষ্টি না করতাম’।” 

” মহান আল্লাহ পাক তাহার রসূল হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে ওহী করলেন। হে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ! আপনি হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি ঈমান আনুন এবং আপনার উম্মতের মধ্যে তাহাকে যারা পেতে চায় তাঁদের নির্দেশ করুন, তাঁরা যেন তাহার প্রতি ঈমান আনে।

যদি মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম না হতেন তবে আদম আলাইহিস সালামকে ও সৃষ্টি করতাম না, যদি মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টি না হতেন তবে জান্নাত এবং জাহান্নাম সৃষ্টি করতাম না।
আর যখন আমি পানির উপর আরশ সৃষ্টি করলাম তখন তা টলমল করছিলো, যখনই আরশের মধ্যেلا اله الا الله محمد رسول الله صلي الله عليه و سلم লিখে দেই তৎক্ষণাৎ আরশ স্থির হয়ে যায়।”

 

 

ডাকি বসে অন্ধকারে

ডাকি বসে অন্ধকারে মুর্শিদ আমায় কর পার 

তুমি বিনে এ ভুবনে বন্ধু নাই আমার ।

তুমি যদি না হও আমার কেবা আমার আমি বা কার 

নয়নে না ভাসলে তুমি। অন্ধকার হয় এ সংসার ।

দেখলে তােমায় দেখার মত

সাধনা কি লাগত এত । 

ভাবলে তােমায় ভাবার মত ভাবনা রইত না আর ॥

সৰ্বরূপে রূপী তুমি একটি রূপ তার মাঝখানে 

সেই রূপেতে লিলা কর ধ্যানী জনের নয়নে,

সেই না নুরের ঝলক লয়ে দাও ছিনায় তাজাল্লি ছড়ায়ে 

আর হবে না মানব জনম ঘুচাও মনের অন্ধকার ॥

মাের্শেদ যখন মুরিদ রূপে জপে নিজ নাম বাতেনে। 

ফানা ফিশ্বায়খ হয়রে তখন

জাহের খােদা কোরানে, 

মাের্শেদ তুমি চাওরে ফিরে কান্দাইওনা আর আমারে 

আযহার বলে তুমি বিনে ছবকে হয় কিবা সার ।

 

তার কথা ফের

তার কথা ফের বলনা আমারে প্রাণ বন্ধুরে

তার কথী ফের বলনা আমারে।

ও মাের্শেল রে— 

তাের বিচ্ছেদে জীবন গেল

ভালবেসে কি ফল হল 

বসন্তে না ডাকলে কোকিল পাখী,

তােরে যদি না পাই কাছে 

এ জীবনের কি দাম আছে কি বুঝ দিয়া রাখিব অন্তরে ।

ও মাের্শেল রে

পাখা থাকলে দিতাম উড়া 

বন্ধু তুমি কত দুরা কোন রূপেতে তুমি বাজাও বাঁশি

আড় নয়ন চেয়ে দেখে। 

চরণ ধুলি নিতাম মেখে ভাসিতাম অশ্রুর সাগরে ।

ও মাের্শেল রে— 

আগুন জ্বলে অবিরাম কি কারণে হইলা বাম 

বুঝে কেন বুঝনা জ্বালাতন সংসারের মায়া ডোরে

কেন বেঁধে রাখ  মােরে ঘর হারা কেন কর না আমারে

ও মাের্শেল রে— পড়ে আছি সবার পিছু 

তােমার কাছে চাই না কিছু 

শুধু তােমার চরণে রাখিও 

ঘাের বিপাকে যদি পড়ি

ডেকো শুধু নামটি ধরি। 

চরণ দুটি দিও আযহারেরে ।

 

সােনার মদিনা

সােনার মদিনার পথ হতে ফিরে যদি না আসি আর 

যদি নবী দয়া করে কবুল করেন এ গুনাহগার ।

তােমাদের সবার মাঝে

বাশি যদি না মাের বাজে জন্মের মত যদি ফিরে আমি না আসি আর ।

ভােরের তারকা হয়ে।

পূর্ব আকাশে হয়তো হেসে আলাে হয়ে পড়ব ঝরে 

তােমাদের ঐ কোলটি ঘেসে ৷

সাঁঝের রাঙা আকাশেতে

হাসব বলাকার স্রোতে 

শিউলি হয়ে ঝরলে রাতে বাতায়ন ভরবে তােমার।

দু'নয়নে দেখবে না আর

অশান্ত এই মানুষটিরে সবারে হারাইয়ে কাঁদব হয়তাে কোন নদী তীরে ॥

যনি মােরে পড়ে মনে

খুঁজবে জানি বনে বনে ক্ষমা ভরা অশ্রু দিয়ে মুছে দিয়ে স্মৃতি আমার ।

ব্যথা যলি দিয়ে থাকি আমিই তাে কত ব্যার্থী 

দুঃখ যদি দিয়ে থাকি দুঃখই করে গেলাম সাথী 

ব্যথা আর দি না জানি 

করব না আর অভিমানী 

আযহার যদি না ফিরে আর 

হাত দুটি উঠাই এ তোমার ।

Thursday, May 26, 2022

 

সন্তানের জন্য চমৎকার শিক্ষামূলক উপদেশ
বাবাকে এক ছেলের জিজ্ঞাসা!!
-“বাবা, সফল জীবন কাকে বলে?"
বাবা (সরাসরি উত্তর না দিয়ে) বললেন/
- “আমার সাথে চলো, আজ ঘুড়ি উড়াবো। তখন বলবো।"
বাবা ঘুড়ি ওড়ানো শুরু করলেন। ছেলে মনযোগ দিয়ে দেখছে। আকাশে ঘুড়ি বেশ কিছু ওপরে উঠার পর বাবা বললেনঃ
- “এই দেখো ঘুড়িটা অতো উচুতেও কেমন বাতাসে ভেসে আছে। তোমার কি মনে হয়না, এই সূতার টানের কারণে ঘুড়িটা আরোও উপরে যেতে পারছেনা?"
ছেলে,
“তা ঠিক, সূতো না থাকলে ওটা আরও উপরে যেতে পারতো!"
বাবা আলগোছে সূতোটা কেটে দিলেন। ঘুড়িটা সূতার টান মুক্ত হয়েই প্রথমে কিছুটা উপরে উঠে গেল। কিন্তু একটু পরেই নিচের দিকে নামতে নামতে অদৃশ্য হয়ে গেল।
এবার বাবা ছেলেকে জীবনের দর্শন শুনাচ্ছেন ...
"শোনো, জীবনে আমরা যে উচ্চতায় বা পর্যায়ে আছি বা থাকি; সেখান থেকে প্রায় মনে হয় ঘুড়ির সূতার মত কিছু কিছু বন্ধন আমাদের আরও উপরে যেতে বাধা দেয়। যেমনঃ
■ ঘর,
■ মা-বাবা,
■ পরিবার,
■ অনুশাসন,
■ সন্তান ইত্যাদি।
আর আমরাও সেইসব বাঁধন থেকে কখনো কখনো মুক্ত হতে চাই। বাস্তবে ঐ বন্ধনগুলোই আমাদের উঁচুতে টিকিয়ে রাখে, স্থির রাখে, নিচে পড়ে যেতে দেয় না। ঐ বন্ধন না থাকলে আমরা হয়তো ক্ষণিকের জন্য কিছুটা উপরে যেতে পারি, কিন্তু অল্পসময়েই আমাদেরও পতন হবে ঐ বিনে সূতোর ঘুড়ির মতই!
জীবনে তুমি যদি উঁচুতে টিকে থাকতে চাও, তবে কখনোই ঐ বন্ধন ছিঁড়বে না। সুতা আর ঘুড়ির মিলিত বন্ধন যেমন আকাশে ঘুড়িকে দেয় ভারসাম্য; তেমনি সামাজিক, পারিবারিক বন্ধনও আমাদের জীবনের উচ্চতায় টিকে থাকার ভারসাম্য দেয়। আর এটাই প্রকৃত সফল জীবন।"

 

যার লাগিয়া প্রাণ কান্দে

যার লাগিয়া প্রাণ কান্দে বুঝে নাতাে অন্যজন

কলংকী হইলি পাগল মন ।

এ জীবন দিয়াছ যারে বসায়েছ হৃদ মাঝারে 

তারে কে ভুলাইতে পারে বদল দিয়া মানিক ধন।

বৃক্ষে যেমন জড়ায় লতা ।

গলা ধরে কয় বারতা । 

নয়নে নয়নে কথা বুঝে না তাে পাখীগণ ।

ফুলের বুকে বসলে অলি দেয় সে মধুর দুয়ার খুলি 

তেমনি তােমায় নিছি তুলি সইয়া এস্কের জ্বালাতন।

মজনু হয় লাইলির দেওয়ানা লাইলী হয় মাওলার ঠিকানা 

চেনার মাঝে পায় অচেনা কথাটা বা হয় কেমন |

জীবন দিয়া মানুষ চেন

মন দিয়া তারে কিন আযহার অতি দীনহীন পায় যেন মাের্শেদ চরণ ॥

 

সারা জাহান আমায়

সারী জাহানি আমায় বলুক বেদাৎ গুনাহগার 

যদি রাজী থাকে আমার পরােয়ারদিগার ৷

যদি নবী রাজী থাকে

দয়া করে আমায় ডাকে রাহমাতুল্লিল আলামিন কয় কোরান মাঝার।

যার সাথে যার আত্মীয়তা

বাইরে লােকে বুঝে না তা 

দিল কাবারই শুনরে আজান পাবিরে দিদার

ওরে আমার ভােলা মন

কারও কথায় দিসনারে কনি। 

শাস্ত্র পড়ে সত্য চেনা ভীষণ ব্যাপার।

যেজন মাের্শেদ সত্য জানে

মাওলারে সে পায় সন্ধানে বিশ্বাসের পাবি না মন করিলে বিচার ।

এস্কের জ্বালায় যেন জ্বলে

নিন্দায় সে না কথা বলে 

ধৈর্য্যেতে ঐশ্বর্য মিলে গরমিলে সংসার ।

এসােনা কেউ আমার ধারে

কাঁদতে দিও একা মােরে রেখো খােদা আশেক করে সব নিয়া আমার ।

যারা আমায় মন্দ বলে।

রেখ তাদের অন্তরালে 

আমায় শুধু জড়াইও তােমার মাঝার ৷

চোখ ভরা মাের অশ্রু দিও

ভালবাসায় প্রাণ ভরে রাখিও আযহার নামে একটি মানুষ কাঙ্গাল তােমার ।

 

দরদী নাই

দরদী নাই আমার রে দুঃখ বলি আমি কারেরে। 

ব্যথার ব্যথি রইলনা সংসারে

কার লাগিয়া বাধিয়া ঘর।

পর হইয়া যাই 

হল না কপালে আমার ঘরের মাঝি ঠাই

কে জ্বালাবে বাতি আমার।

অন্ধকার কবরে 

বন্ধু আমার কোথায় গেল 

আর মনে করে না। 

বাসবেনা আর জানি 

তবু এ মনতাে বুঝে না।

তার মত আর কোথায় পাব

কান্দি তাই এমন করে 

কান্দাস না আর বন্ধুরে তুই আড়ালে থাকিয়া 

দেখলি না তুই কি হইয়াছি শুধু তাের লাগিয়া 

সাগরে ফালাইয়া আমায় কান্দ তুমি পাড়ে। 

আমারে কান্দাসনে তােরা তার কথা জিজ্ঞাসী 

তার পথে পড়িয়া মরলে মাটি দিস ভাই আসি 

বন্ধু আইলে খবর কইও আযহার নাই আর ঘরে

 

এমনি ভাবে দেহতত্ত্ববিদগণ মানব দেহ জরীপ করতে গিয়ে অসংখ্য স্থানে মহাস্রষ্টা আল্লাহকে মেনে নিয়েছেন। যিনি হৃৎপিন্ডে স্পন্দন দিয়েছেন, যিনি প্রথম ধাক্কা দিয়ে হৃৎপিন্ডতে ষ্টার্ট করিয়ে দিয়েছেন এবং যিনি ভ্যাগাস নার্ভে জীবন প্রবাহের প্রেরণা (Impulse) ইনজেক্ট করে দিচ্ছেন, তিনি সমগ্র সৃষ্টিকে জানিয়ে দিয়েছেন, “আল্লাহু নুরুস্সামাওয়াতে ওয়াল আরদ” (আল-কুরআন) অর্থাৎ আসমান জমিনে যা কিছু  প্রেরণা পায়, শক্তি পায়, হৃৎপিন্ড তার চলশক্তি পায়, ভ্যাগাস নার্ভ প্রবাহ পায়, জীবকোষ তার শক্তি পায়- এসবের জেনারেটর হচ্ছি আমি, আমি মহাআলো, মহাতেজময় শক্তি আমার মহাশক্তির মেশিন থেকে সবাই শক্তি (Energy) পায় আমার আলো বিদ্যুতের প্রবাহের মত মস্তিষ্কে খেলে যায় অনবরত, তা থেকে ভ্যাগাস নার্ভ প্রবাহ পায় সেই তড়িৎ প্রবাহ প্রতিনিয়ত হৃৎপিন্ডকে উজ্জীবিত করে এবং তার স্পন্দন শক্তি যোগায় জন্য প্রতিটি মানুষকে আল্লাহ অনুধাবন করে দেখতে বলেছেন, “আফালা তা'কেলুন", অর্থাৎ তােমাদের কি জ্ঞান নেই? তােমরা কি একেবারেই পাথরের চেয়ে স্থবির হয়ে চিন্তা কর? তােমাদের সামনে এক খন্ড গোশত খাবারের পেয়ালায় রাখা হল, এখন তুমি ওতে হাত দিতে যাবে এমন সময় যদি মাংসপিন্ডটি হঠাৎ স্পন্দিত হয়ে সংকুচিত এবং সম্প্রসারিত হতে থাকে এবং তার ভিতর থেকে ঝোলগুলো উথলিয়ে ওঠে এবং উঠানামা করতে থাকে প্রতি মিনিটে ৮০ বার, তবে তুমি নিশ্চয়ই লাফ দিয়ে উঠবে, ভাবনায় বিভোর হয়ে চিল্লাচিল্লি করে বিবিকে, পড়শীকে হাকাহাকি করে ডাকতে শুরু করবে কিন্তু তোমার ভিতরে মিনিটে ৭০ থেকে ৮০ বার তোমার নিজের গোশতখন্ডটা লাফাচ্ছে, তার শব্দও তুমি ষ্টেথিসকোপে কানে শুনতে পাও, কই তুমি তো জীবনে কোনদিন এর জন্য তোমার কোন জ্ঞানী পড়শীকে ডেকে এর কারণটা জিজ্ঞেস করলে না বা ভুলেও একদিন একটু চিন্তা করে দেখলে না এই মর্মে আল্লাহ বলে, “উলায়িকা কাল আনয়াম বালহুম আদাল” (আল-কুরআন) অর্থাৎ এত নিকটের চিন্তা ভাবনা যার নেই, ভিতরের খবর নেই, বাইরের কত কিছু নিয়ে কতই না ভাবনা ভাবে, এরা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট

এক লাইনের জ্ঞান খাটিয়ে অন্য লাইনের সমস্যার সমাধান করা যায় না। এক যন্ত্রে সকল অস্ত্র তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। কৃষিবিদ্যার একজন ডক্টর একটা ব্যাধির যেমন প্রেসক্রিপশান করতে পারে না, ঠিক একজন ডাক্তার কেমিস্ট্রির সূক্ষ্ম থিওরি নাও বুঝতে পারে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে হলে ক্ষেত্রে যারা অভিজ্ঞ তাদের কাছে গিয়েই শিখতে হয়। হৃৎপিন্ডে কেমন করে প্রবাহ আসে এবং কেন স্পন্দিত হয় এবং কে এই স্পন্দন ঘটায় তার সম্বন্ধে শুধু দেহতত্ত্ব (Physiology) এবং শব ব্যবচ্ছেদ বিদ্যায় (Anatomy) পারদর্শী হয়ে বােঝা যাবে না। এখানে আরও সূক্ষ্ম জ্ঞানের দরকার হবে এবং লাইনে যারা বিশেষজ্ঞ (Specialist) তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে জানা যাবে হৃৎপিন্ড কেন রকম করে। স্কুল জ্ঞান দিয়ে অনেক সূক্ষ্ম জিনিষ বোঝা যায় না। তাইতো কবির ভাষায় বলতে হয়

হাতুড়ি দিয়ে সেলায়ের কাজ সম্ভব না ভবে, যার কাছে যে খবর আছে সেথায় যেতে হবে

মানুষকে যে মানুষ করে চালায় সর্বক্ষণ, তার নিকটে জীবনে কি বসেছো কিছুক্ষণ? তুমি যারে কল্পনা কও গল্প নাতো তা, জল্পনা সব ছেড়ে দিয়ে নোয়াতে পার মাথা? বিশ্বাসের অবিশ্বাসে রাখলে আড়াল করে, সত্যি যদি সত্য হয়ে স্রষ্টা তোমায় ধরে

হৃৎপিন্ড কেন স্পন্দিত হয়, কোথা থেকে শক্তি পায় এবং কে সারা দেহে রক্ত চলাচল প্রবাহমান রাখে? ভ্যাগাস নার্ভের শক্তির উৎস কোথায় জীবকোষ কেন বিভক্ত হয়? প্রথম কোষে জীবন ধারা কিভাবে শুরু হয়, সম্বন্ধে একটি ঘটনা না বলে পারা যায়