Wednesday, June 29, 2022
Tuesday, June 28, 2022
খাইবার যুদ্ধ এবং খামুস দূর্গ জয়ের ইতিহাস...

হযরত আলী (রাঃ) খাইবারের যুদ্ধে ইহুদিদের কামূস দূর্গের দরজা ভেঙ্গে তার ঢাল বানিয়েছিলেন, পরে আরো চল্লিশ জন মানুষ লেগেছিল সেই দরজা মাটি থেকে তুলতে...এই ঘটনার কথা হয়তো আমরা সবাই কম বেশি জানি। আমার আজকের লিখাটি সেই কামূস দূর্গ জয় করা নিয়েই।
৭ম হিজরির মুহররম মাসে অর্থাৎ ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে আরবের মদিনা নগরী থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খাইবার নামক মরুভূমিতে ইহুদিদের সাথে মুসলমানদের এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়...যা খাইবারের যুদ্ধ নামে পরিচিত। সেই সময় মুসলিম বাহিনীর সদস্য ছিল আনুমানিক আঠারোশ জন, অন্যদিকে ইহুদিরা ছিল প্রায় দশ হাজার। তবে এই বেশি সৈন্য ইহুদিদের অতিরিক্ত আত্নবিশ্বাসী করে তুলেছিল, তাই তারা কেন্দ্রীয়ভাবে সংগঠিত হয়ে মুসলমানদের প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর নেতৃত্বে আর আল্লাহর শক্তিতে বলিয়ান হয়ে মুসলমানরা নীরবে আর দ্রুতবেগে খাইবারের দখল নিয়ে নেয়।
খাইবারে চারটি দূর্গ ছিল ( কোন কোন সূত্র বলে আটটি)। মুসলমানদের অতর্কিত আক্রমণে নাতাত আর শিক্ক এলাকার সব দূর্গ পতন হয়, বাকি রয়ে যায় আল কামূস দূর্গ। মুসলমানদের অবরোধের মধ্যেও ইহুদিরা রাতের আধাঁরে কামূসে একত্রিত হয়, প্রচুর খাবারও নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
কামূস দূর্গ ছিল খাড়া পাহাড়ের উপর অবস্থিত ইহুদিদের সবচেয়ে সুরক্ষিত আর শক্তিশালি ঘাঁটি। কথিত আছে মুসলমানরা প্রায় তেরতম দিন থেকে উনিশতম দিন পর্যন্ত কামূস দূর্গ অবরুদ্ধ রেখেও এর দখল নিতে ব্যর্থ হয়। আর দূর্গের ভিতর খাবার আর পানির মজুদ ছিল পর্যাপ্ত, তাই ইহুদিদের দূর্গের বাইরে আসার প্রয়োজন হয়নি। এছাড়া মাঝে মাঝে দূর্গ থেকে নিক্ষিপ্ত তীর বেশ কিছু মুসলমান সৈনিককে আহত করে।
কামূস দূর্গে হযরত আবু বকর (রাঃ) এর নেতৃত্বে, ও পরে হযরত ওমর (রাঃ) নেতৃত্বে মুসলমানরা ব্যর্থ আক্রমন চালায়, কিন্তু কামূস দূর্গ অজেয়ই থেকে যায়। এতে মুসলমানদের মনোবলেও খানিকটা চিড় ধরে।
মুসলমানরা তখন সবাই গিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে বলেন, "হে আল্লাহর রাসুল, মুসলমানরা কি তাহলে হেরে যাবে।" নবীজি তাদের অভয় দিয়ে বলেন, "আগামীকাল আমি এমন একজনের হাতে যুদ্ধের সেনাপতির ভার দিব, যে ইন শা আল্লাহ, আমরা অসফল হব না।" তিনি এভাবে এরশাদ করেন,
"কাল সকালে আমি এমন একজনকে পতাকা দিবো, যিনি আল্লাহ ও রাসুলের প্রিয়; আল্লাহ ও রাসুল ও তার প্রিয়। আল্লাহ তার হাতেই দূর্গ জয় করাবেন ইন শা আল্লাহ।"
পরদিন সকালে মুসলমানরা সকলে লাইনে দাঁড়ান সেই ভাগ্যবান ব্যক্তি হওয়ার জন্য, কারণ তারা জানতেন আর বিশ্বাস করতেন আল্লাহর নবীর কথা সবসময়ই সত্যি হয়।
তবে পরদিন মহানবী রাসূলে করিম (সঃ), হযরত আলী ইবনে আবূ তালিব (রাঃ) এর হাতে যুদ্ধের সেনাপতির দায়িত্ব দিলেন। একটি সুত্রে বলা হয়, হযরত আলী (রাঃ) তখন চোখের ইনফেকশনে ভুগছিলেন। মহানবী (সঃ) এর দোয়াতে আর তার দেয়া থুথুতে হযরত আলী (রাঃ) এর চোখ সুস্থ হয়েছিল সংগে সংগে। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) তার হাতে নিজের তরবারি জুলফিকার আর ইসলামের পতাকা তুলে দিয়ে এরশাদ করলেন,
"এই পতাকা নিয়ে এগিয়ে যাও। আল্লাহ যতক্ষণ তোমার হাতে বিজয় না দেন, ততক্ষণ লড়াই করে যাও।"
হযরত আলী (রাঃ) ছিলেন প্রচন্ড বলবীর্যবান ও পরাক্রমশালী অকুতোভয় সাহসী একজন যোদ্ধা। তিনি প্রচন্ডবেগে মুসলমান সেনাবাহিনী নিয়ে কামূস দূর্গ আক্রমণ করতে গেলেন। দূর্গের কাছে ইহুদিদের সাথে তার প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল।
এক সূত্রমতে দূর্গের গেটের সামনে, ইহুদিদের গালিয়াথ, সবচেয়ে ভয়ংকর আর শক্তিশালী যোদ্ধা মারহাবের সাথে হযরত আলী (রাঃ) এর যুদ্ধ বাধে। মারহাব ছিল বিশাল দেহের, সব যোদ্ধাদের ত্রাস, তার পুরো শরীর ছিল বর্ম দিয়ে ঢাকা। তার মাথায় ছিল কঠিন ইস্পাতের শিরোস্ত্রান। তার উপরে বসানো ছিল বিশাল এক হীরকখন্ড, যাতে আলো প্রতিফলন হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর দৃস্টি ঝলছে যায়। তার একহাতে ছিল বিশাল একটা তলোয়াড়, অন্য হাতে ত্রিশূল জাতীয় বর্শা। কথিত আছে, গালিয়াথের ত্রিশূলের আঘাতে আলী (রাঃ) মাটিতে পরে যান আর তার ঢাল কেটে যায়। কিন্তু হযরত আলী (রাঃ) দারুণ দক্ষতায় মাটি থেকে হাই জাম্পের মতো লাফ দিয়ে অনেকটা শূন্যে উঠে যান, আর মহানবী (সাঃ) এর দেওয়া জুলফিকার তরবারি দিয়ে এক কোপে ইস্পাতের শিরোস্ত্রান ভেদ করে গালিয়াথের মাথা দাঁত পর্যন্ত কেটে ফেলেন। এরপর তিনি দূর্গের দরজা হাত দিয়ে খুলে ফেলেন আর ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেন। ফলে দূর্গে ফাটল সৃষ্টি হয়, আর মুসলমান সেনাবাহিনী দূর্গে প্রবেশ করে।
অন্য একটি সূত্র অনূযায়ি, হযরত আলী (রাঃ) যখন দূর্গের গেটের সামনে যুদ্ধ করছিলেন, তখন দূর্গের ভিতর থেকে ছোড়া একটা বিষ মাখানো তীর তার পায়ে এসে বিঁধে। তীরের বিষক্রিয়ায় তিনি তার হায়দারি হাত দিয়ে দূর্গের দরজা টেনে খুলে ছুড়ে ফেলেন নিচে। যা একটি ব্রিজের মতো হয়ে যায়, আর ওটা দিয়ে মুসলমানরা খাদ অতিক্রম করে আক্রমণ করে প্রধান দূর্গে। আর ইহুদিদের দূভেদ্য দূর্গ কামূস দখলে নেয়। এই ছুড়ে ফেলে দেওয়া দরজাটি তুলতে পরবর্তীতে চারজন (শিয়া সুত্রমতে চল্লিশ জন) মানুষের প্রয়োজন হয়। এই যুদ্ধে অসাধারণ বীরত্বের জন্য নবী করিম (সাঃ), আলী (রাঃ) কে আসাদুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর সিংহ উপাধিতে ভুষিত করেন।
এখনকার ইহুদিদের ওয়েবসাইটে এই কাহিনীকে অস্বীকার করা হয়, তাদের মতে একজন ইহুদী রাজাকার কামূস দূর্গে ঢোকার গোপন সুরংগের দরজা খুলে দিয়ে ইহুদিদের হারিয়ে দেয়।
যাইহোক, যুদ্ধ জয় হলেও একটি সূত্র মতে সেই বিষ মাখানো তীরটি রয়ে যায় হযরত আলী (রাঃ) এর পায়ে। প্রচন্ড রকম যন্ত্রণা হতে থাকে; যন্ত্রণার প্রকোপ এত বেশী ছিল যে উনি তীরটি কাউকে ছুঁতে দিচ্ছিলেন না। কিন্তু তীরটি তার পা থেকে বের করা বেশ জরুরী ছিল, নয়ত বিষ সারা শরিরে ছড়িয়ে পরার আশংকা ছিল। সাহাবীদের কয়েকজন আবার নবী করিম (সাঃ) এর শরণাপন্ন হন। রাসুল (সাঃ) তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমি তীরটি বের করার উপযুক্ত সময় তোমাদের বলবো।
একটু পরেই হযরত আলী (রাঃ) নামাজে দাঁড়ালেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বললেন, এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তীরটি টেনে বের করে ফেল।
সাহাবিদের মধ্যে থেকে একজন তীরটি বের করে ফেললেন। পরবর্তীতে হযরত আলী (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "আপনি কি কিছু টের পেয়েছিলেন?"
তিনি এরশাদ করেন, "আমি নামাজে এত বেশি মশগুল ছিলাম যে কিছুই টের পাইনি।"
হযরত আলী (রাঃ) এর পায়ে তীর বিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটা কামূস দূর্গ জয়ের সময় হয়েছিল নাকি অন্য আরেকটি যুদ্ধে হয়েছিল তা নিয়ে অবশ্য মতভেদ আছে। তবে এটাও ঠিক হযরত আলী (রাঃ) সহ, মহানবী সঃ এর কাছের সব সাহাবীদের আল্লাহ ভীতি, রাসুলের প্রতি ভালোবাসা, ইসলামি অনুশাসনের প্রতি আনুগত্য সর্বোপরি নামাজে তাদের মনোযোগ ছিল অসামান্য। সেই মনযোগের কতটুকুই বা আমরা বর্তমান সময়ে দিয়ে থাকি? খুব তড়িঘড়ি করে নামাজ শেষ করে ফেলতে পারলেই বেঁচে যাই। অথচ এইসব মহামানবরা নামাজকে কতটাই না ভালোবাসতেন...গভীর ভালোবাসা আর প্রগাঢ় মমত্ববোধ ছিল নামাজের প্রতি।
পৃথিবীতে যতগুলো প্রার্থনার দৃশ্য আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর,নান্দনিক আর নয়নাভিরাম দৃশ্য হলো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান মুসূল্লি যখন নামাজের সময় পরম করুণাময় আর অসীম দয়ালু আল্লাহ পাকের নামে সিজদাহতে যায়। তাই আশারাখি আমাদের দেশের মানুষও দুনিয়াবি চিন্তা ঝেড়ে ফেলে তাদের সবটুকু মনোযোগ আর প্রেরণা দিয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করবে, আর রাব্বুল আলামীন আমাদের সমস্ত বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা করবেন।
তথ্য সূত্র : উইকিপিডিয়া, দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠ।
Sunday, June 19, 2022
চিকিৎসা বিজ্ঞানে সিজদার উপকারিতা
নামাজ মুসলিম জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন মুসলিম কিছুতেই নামাজকে এড়িয়ে যেতে পারেন না। ঈমান আনার পর ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয়টিই হচ্ছে নামাজ। পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে—‘নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা মুমিনদের ওপর ফরজ। (সুরা : নিসা, আয়াত : ১০৩)
ইসলামের পরিভাষায় ফরজ মানেই হচ্ছে অবশ্যকরণীয়। যা না করে কোনো উপায় নেই। নামাজ এমন একটি ইবাদত, যেখানে বান্দা ও তার প্রভুর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সৃষ্টি হয়। একাগ্রচিত্তে নামাজ আদায়কারী একজন মানুষ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে কোনো খারাপ কাজের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত হতে পারেন না। কারণ তাঁর মধ্যে কাজ করে একটু পরই মহান রবের সঙ্গে কথোপকথনের মধুময় মুহূর্তের অনুভূতি। মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে অন্তত ৮২ জায়গায় নামাজের কথা বলা হয়েছে। মহানবী (সা.)-এর জীবনের শেষ আদেশও ছিল এই নামাজ।
মুসলিম জীবনের এই নামাজের ইহকালীন ও পরকালীন অনেক উপকারিতা ও ফজিলতের পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায়ও উঠে এসেছে মানবদেহের জন্য এর অভাবনীয় উপকারিতার কথা। আমরা নামাজের রুকনগুলোর বৈজ্ঞানিক উপকারিতার বিষয়ে পর্যায়ক্রমে আলোকপাত করার চেষ্টা করব। সেই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা কথা বলব নামাজের সিজদায় মানবদেহের বৈজ্ঞানিক উপকারিতা নিয়ে। আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসির একজন চিকিৎসক মুসলিম সমাজে নামাজের এত গুরুত্বের কারণ অন্বেষণ করতে গিয়ে আবিষ্কার করেন যে মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে হার্ট, যা সারা শরীরে পাম্প করার মাধ্যমে রক্তের প্রবাহ চালু রাখে। প্রতিনিয়ত সারা শরীর থেকে পাম্পিং করে হার্ট রক্ত টেনে আনে এবং আবার তা সারা শরীরে ছড়িয়ে দেয়। আর মানবদেহে হার্টের অবস্থান থেকে বেশি অংশই হার্টের নিচের দিকে হওয়ায় বুক, পেট, কোমর ও পায়ের দিকে খুব সহজেই রক্তের প্রবাহ সৃষ্টি হয় ও চালু থাকে। এমনকি কখনো কখনো খুব বেশি সময় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে শরীরের নিম্নাংশে অতিরিক্ত রক্তপ্রবাহের কারণে অসুবিধারও সৃষ্টি হয়। আরো লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, মানুষ সাধারণত দাঁড়িয়ে, বসে বা শুয়ে থেকে সময় অতিবাহিত করে থাকে। এর মধ্যে শোয়ার সময় সারা শরীর হার্টের সমান্তরাল পজিশনে এলেও মাথার দিক তখনো হার্ট থেকে নিচে অবস্থান করে না। কিন্তু একজন মুসলিম যখন নামাজ আদায় করেন তখন তিনি প্রতিবার সিজদা করার সময় তাঁর দেহের মাথাসহ ওপরের অংশ হার্টের নিচে অবস্থান করে থাকে। আর ঠিক ওই সময়টায় হার্ট মানবদেহের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মাথায় পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত প্রবাহিত করে থাকে। পাঠকবৃন্দ! আমরা যাঁরা নামাজ আদায়ে অভ্যস্ত, তাঁরা একটু খেয়াল করলে অনুভব করতে পারব যে সিজদা করার সময় আমাদের মাথাটা কিঞ্চিৎ গরম ও ভারী অনুভূত হয়। আর সাধারণত সিজদায় বেশি সময় অবস্থান করা হয় না বিধায় বেশি পরিমাণ রক্তপ্রবাহের চাপও খুব বেশি সময় ধরে হয় না। যার ফলে মস্তিষ্কে রক্তের মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টির অবস্থা হওয়ারও সুযোগ থাকে না। এভাবে একজন নামাজি প্রতি ওয়াক্ত নামাজে অনেকবার, দিনে অন্তত পাঁচবার যখন দেহের এই ব্যায়ামটুকু করেন, তখন তিনি স্বাভাবিকভাবেই অন্য আরো অনেকের তুলনায় অনেকাংশে সুস্থতা অনুভব করেন। তাঁর দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তিসহ স্মরণশক্তিও বেনামাজিদের তুলনায় অনেক বেশি হয়।
নামাজি ব্যক্তির চেহারায় অন্যদের তুলনায় বেশি লাবণ্য পরিলক্ষিত হয়। তার কারণ সিজদা করার সময় মুখের প্রতিটি শিরায় যথেষ্ট পরিমাণে রক্তের প্রবাহ সৃষ্টি হয়। যার অভাবে যাঁরা নামাজ আদায় করেন না তাঁদের চেহারায় একধরনের কালচে আভা দৃষ্টিগোচর হয়ে থাকে।
এ ছাড়া সিজদার সময় নিতম্ব, হাঁটু, টাখনু ও কনুইয়ের ওপর ঝোঁকানো (Flexion) হয়ে থাকে। যখন নলা ও রানের পেছনের পেশি, কোমর ও উদরের পেশি চেপে যায়, তখন কাঁধের জোড়ার পেশিগুলো এর বাইরের দিক থেকে টান লাগে। এর সঙ্গে সঙ্গে মাথার পেছনের অঙ্গগুলোও চেপে যায়। এর সবগুলোই শরীরতত্ত্ববিদ্যার ভাষায় দেহের জন্য খুবই উপকারী বলে প্রমাণিত।
মহিলা নামাজিরা সিজদা করার সময় তাঁদের বুক হাঁটুর সঙ্গে মিলিয়ে রাখেন। যেটি শরীরতত্ত্ববিদদের ভাষায় গর্ভাশয়ের সর্বোত্তম চিকিৎসা।
লাখো কোটি শুকরিয়া সেই মহান রবের, যিনি আমাদের এত এত সুন্দর সুন্দর আমল দিয়ে নিজেদের দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনকে সুচারুরূপে সাজিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।