Monday, August 29, 2022

জীবনে একজন ভালো বন্ধু থাকা চাই
জীবনে প্রেমিক বা স্বামীর চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন হলো একজন ভালো বন্ধু । সে ছেলে বা মেয়ে যে-ই হোক। একজন ভালো বন্ধু জীবনে অক্সিজেন এর মতো কাজ করে। তোমার অক্সিজেন স্বল্পতা হলেই তুমি তার স্বরণাপন্ন হবে। দেখবে আবার অক্সিজেন ফিরে পেয়েছো। আর এ ভালো বন্ধুর খোঁজ জীবনে খুব কম ছেলে-মেয়েই করে থাকে। সবাই শুধু প্রেমিক বা বেড পার্টনার খোঁজার পেছনেই পুরোটা সময় ব্যয় করে। অথচ সঙ্গী একজন বা একাধিক জীবনে আসবেই। কিন্তু একজন ভালো বন্ধু ঠিকমতো না খুঁজে নিলে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। ভাগ্য গুণে কেউ কেউ পায় বটে।
এখন আসা যাক ভালো বন্ধু বলতে কাকে বোঝাচ্ছি। ভালো ছেলে বন্ধু একটি মেয়ের জন্য সে-ই যে কোনোদিন প্রেমের দাবী নিয়ে তার সামনে দাঁড়াবেনা, যে কোনোদিন বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে সামনে দাঁড়াবেনা। কিন্তু সুখে দুখে সবসময় পাশে থাকবে। সব ধরনের সাপোর্ট দেবে এবং নেবে। যদিও তার মনেও তার প্রতি ভালোবাসার কমতি থাকবেনা। তবে সেটা বন্ধুত্বের ভালোবাসা। বেড পার্টনার হবার ভালোবাসা নয়। শুধুমাত্র বেড পার্টনার মানে জামাই-বৌ হবার স্বপ্ন দেখবেনা। কারণ তাদের এ বন্ধুত্ব হবে জামাই-বউ সম্পর্কেরও উর্ধ্বে। কারণ জামাই-বৌ হতে কাগজ-পত্র মানে প্রমাণ পত্র লাগে । আর বন্ধুর জন্য এসব কিছু লাগেনা। শুধুমাত্র অন্তরের বিশ্বাস দিয়েই বন্ধুত্ব যুগ যুগ টিকে থাকে। সুতরাং এটাই রক্তের সম্পর্কের বাইরে সত্যিকারের সম্পর্ক।
তুমি যদি কারো ভালো বন্ধু হও দেখবে তোমার বন্ধুটি যে কথা তার বাবা-মা ভাই-বোনকে বলতে পারেনা, সে কথা তোমাকে বলছে। যে কথা তার প্রেমিক বা স্বামীকে বলতে পারেনা বা বলেনা সে কথা তোমাকে বলছে। কেন বলছে কারণ তোমার স্থান অনেক উর্ধ্বে। তুমিই পৃথিবীতে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত মানুষ। এটা কি কম পাওয়া। অনেক বড় পাওয়া। অনেক কঠিন প্রেমের পর বিয়ে করেও দেখবে মেয়েটা বা ছেলেটা একে অপরকে বলে যে তোমাকে বিয়ে করা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। আবার বলে যে এর চেয়ে কতো ভালো ভালো ছেলে বা মেয়ে আমার জন্য ছিল আমি যাইনি। এখন মনে হচ্ছে না গিয়ে ভুলই করেছি। সুতরাং বুঝতেই পারছো। জীবনে কারো স্বামী বা স্ত্রী হবার চেয়ে ভালো বন্ধু হওয়া অনেক উত্তম। অবশ্যই তা হবে সুস্থ্য, সুন্দর ও পবিত্রতায় মোড়ানো বন্ধুত্ব।
এখন বন্ধু তোমার সমবয়সী বা বয়সে অনেক বেশী কেউও হতে পারে। দেখতে হবে কার সাথে তোমার যাচ্ছে। কে তোমাকে ভালো বোঝে অথবা তোমার বিবেচনায়


 

Sunday, August 28, 2022

সবার পরিচিত মুখ।
খেলার মাঠে দর্শক গ্যালারীতে
একসাথে তিন বেকার শাসক ।
➤ এরা তিনজনে মোট "চব্বিশ বছর" আমেরিকা শাসন করেছিল অথাৎ, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলো। কিন্তু এদের কেউ টাকা পয়সা চুরি করে নিজেদের নামে সম্পদ করে নাই। তাই এখন বসে বসে বেকার ভাতা খায় আর ঘোরাঘুরি করে।
এই তিনজন ভিন্ন মতের মানুষ হলেও একটা জায়গায় সবার নীতি এক ছিল- তা হলো "আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করা"
তাই তো স্বজাতির চোখে তারা আজও সমাদৃত।"
সবচেয়ে বড় কথা, এরা কেউ দেশের সম্পদ চুরি করে বিদেশে পাচার করে নাই। বরং যতটা পেরেছে নিজেদের দেশকে দুর্নীতি মুক্ত,সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে রূপান্তর করার চেষ্টা করেছে।

 


Saturday, August 27, 2022

মানুষের গুপ্ত ক্যান্সার কি???
হযরত নুহ (আঃ) একবার একটি কালো কুৎসিত কুকুরকে দেখতে পেয়ে ঘৃর্ণায় মুখ ফিরায়ে নিলেন। সাথে সাথে আল্লাহর নির্দেশে কুকুরটির জবান খুলে গেলো।
মানুষের মতই সে বলে উঠলোঃ হে নুহ, তুমি আমার কুৎসিত আকৃতি দেখে ঘৃর্ণায় মুখ ফিরিয়ে নিলে। কিন্তু তুমি কি জানো না, যে আল্লাহই আমাকে এ আকৃতি দিয়াছেন?
মনে রেখো এ সৃষ্টির পিছনে যদি আমার সামান্যতম দখল থাকত, তবে কিছুতেই আমি এ আকৃতি মেনে নিতাম না। বরং কুকুর হওয়াটাই পছন্দ করতাম না।
কুকুরের মুখে এ কথা শুনে নুহ (আঃ)- এর অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত হলো। অনুশোচনায় তিনি অস্থির হয়ে পড়লেন। এমন কি মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদতে লাগলেন!! ( সুত্র: নুজহাতুল মাজালিস)
তিনি কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন, হে প্রভু! আমাকে মাফ করে দাও। না বুঝে তোমার সৃষ্টিকে নিয়ে ঠাট্টা করেছি।
সেই অপরাধের অনুশোচনা করে আবদুল গাফফার দীর্ঘ দশ বছর আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করেছেন। তিনি এত বেশি কাঁদতেন যে, চোখের পানি পড়ে পড়ে তাঁর চিবুকের নিচে দাগ পড়ে গিয়েছিল। লোকজন এই অবস্থা দেখে তাঁকে নূহ ডাকতে শুরু করে। আরবি ভাষায় ‘নূহ’ অর্থ যে ক্রন্দন করে।
একবার ভাবুন সামান্য একটি কুকুর সম্পর্কে কোন মন্তব্য করার কোন সুযোগ নাই সেখানে সৃষ্টির সেরা মানুষ তথা আশরাফুল মাখলুকাত বনী আদম তাকে আমরা কি ভাবে সমালোচনা করি, আমরা নিজের দোষ দেখিনা পরের দোষ দেখি, এটা ও একটা গুপ্ত ক্যান্সার!!
আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন (আমিন)

 

A3fg255a 0la39 

১.কেউ যন্ত্রণা দিচ্ছে ?
🤫 চুপ হয়ে যান।
২.কেউ অনেক ভালবাসার পরও প্রাপ্যটা দেয়নি ?
🤫 চুপ হয়ে যান।
৩.কোন মানুষ অনেক অপ'মান করছে?
🤫 চুপ হয়ে যান।
৪.কেউ ঠকিয়ে গেছে ?
🤫 চুপ হয়ে যান।
৪.কেউ আপনাকে নিয়ে তুমুল মি'থ্যা দোষা'রোপ করছে ?
🤫 চুপ হয়ে যান।
৫.কেউ বিশ্বাস ঘা'ত'ক'তা করছে ?
🤫 চুপ হয়ে যান।
✅ এমন নিরব হয়ে যান সে মানুষগুলো যেনো আর কখনই আপনার শব্দ কিংবা ছায়া না দেখে । মৃ'ত হয়ে যান তাদের কাছে।
প্রতিজ্ঞা করুন আর কখনই ঘুরে তাকাবেন না । শুধু এই প্রতিজ্ঞাটা করতে পারলে আপনি কষ্ট পাবেন না । এই যে নিরবতা আপনাকে দম বন্ধ করা আ'র্ত'নাদ দিবে কিন্তু অপর পক্ষকে দিবে আফসোস । আসলে আমরা হারাবার ভয়ে শব্দ দিয়ে প্রতিবাদ করি ।
কিন্তু আপনি জানেন কি ? যে মানুষগুলো আপনাকে মানুষ বলে মূল্যায়ন করেনি , আপনাকে দম'বন্ধ কান্নার অনুভূতি দিয়েছে তারা আপনার কেউ না । তাই শব্দ দিয়ে , কান্না দিয়ে দুনিয়ার সমস্ত প্রায়োরিটি দিলেও ওরা আপনার মূল্য বুঝবে না ।
✅ তাই নিজের স্বার্থে বাঁচুন
নিজেকে ভালোবাসুন,,
আপনার একজন "রব" আছেন.!
সেজদায় গিয়ে বলে দিন,,
তিনি দুঃখ মুছার উপশম বিলি করেন..!!

 

পীর কিংবা মাজারে সিজদাহ্ করার ব্যাপারে সোনাকান্দার পীর সাহেব বলেন,
✔সিজদা দুই প্রকার 
১.সিজদায়ে আ'বুদি (ইবাদতি সিজদাহ)
২.সিজদায়ে তা'যীমি(সম্মান জনক সিজদা)
ইবাদতের নিয়তে যে সিজদা দেওয়া হয় তা একমাত্র আল্লাহর জন্য । (অন্য কাউকে ইবাদতের উদ্দেশ্যে সিজদা দিলে শিরক)
আর তাযীমি সিজদা একমাত্র নবীদের জন্য খাস ।
ফেরেশতাগণ মহান আল্লাহর নির্দেশে হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সিজদাহ্ করেছিল ।
(সুরা বাকারাহ ৩৪) ।
হযরত ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) সহ তাঁর পরিবারের মোট তের জন হযরতে ইউসুফ আলাইহিস সালামকে সিজদাহ করেছিল । (সুরা ইউসুফ ১০০)
এই গুলো হচ্ছে তাযীমি সিজদাহ্ এবং এগুলো আল্লাহর নির্দেশে করেছিল ।
(কিন্তু এইটা অন্যান্য নবীদের শরীয়ত জায়েজ ছিলো)
কিন্তু এই সিজদাহ্ শরীয়তে মুহাম্মদির মধ্যে হারাম ।
একদা প্যারিস থেকে একজন লোক এসে নবীজিকে সিজদাহ্ করতে চাইল, তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বাঁধা দিল । সে বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! প্যারিসের মানুষ তাদের ধর্মগুরুকে সিজদাহ্ করে । আমি কেন আপনাকে সিজদাহ্ করতে পারবো না? জবাবে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার শরীয়তে এক আল্লাহকে ছাড়া অন্য কাউকে সিজদাহ্ করার বিধান নাই (সুনানে ইবনে মাজাহ - ১৮৫৩)
এবার, যারা পীর অথবা মাজারে সিজদাহ্ করে তাদেরকে বলছি, আপনি কসম করে বলেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে সম্মানীত ব্যক্তি কে?? যদি আপনি মুসলিম হন তাহলে বলবেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম । এখন আপনার কাছে আমি অধমের প্রশ্ন? আপনি বলুন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেউ কি সিজদাহ্ দিয়েছেন?
যদি না দেন! কিংবা কাউকে দিতে না দেখেন তাহলে আপনি নিজ থেকে সিদ্ধান্ত নেন । আপনি পীর অথবা মাজারে সিজদাহ্ দিয়ে চরম অন্যায় করেছেন ।
সুতরাং আজকেই তওবা করুন ।পীর কিংবা মাজারে সিজদাহ্ দিবেন না, এটা সম্পুর্ণ অনৈসলামিক কার্যকলাপ ।
আল্লাহ্ তা'য়ালা সবাইকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সঠিক আক্বিদা বোঝার তৌফিক দান করুন - আমিন #পীর_সাহেব_সোনাকান্দা

 

Friday, August 26, 2022

১। বেটা ! কর্জ হইতে নিজেকে হেফাজাত রাখিও। কেননা ইহা দিনের বেলায় অপমান এবং রাত্রিতে দুশ্চিন্তা।
২। বেটা ! তুমি মোরগের চাইতে বেশী অক্ষম হইও না। সে তো শেষ রাত্রিতে জাগিয়া চিৎকার শুরু করিয়া দেয়, আর তুমি নিজের বিছানায় পড়িয়া ঘুমাইতে থাকো।
৩। বেটা ! গুরুত্ব সহকারে জানাযায় শরীক হইও এবং অহেতুক অনুষ্ঠানাদি শরীক
হওয়া হইতে বাঁচিয়া থাকিও।
৪। বৎস আল্লাহর সান্নিদ্ধ অবলম্বন করবে ।
৫। অন্যকে উপদেশ দেওয়ার আগে নিজে আমল করার চেষ্টা কর ।
৬। নিজের মান মর্যাদা বজায় রেখে কথা বলবে ।
৭। ভাল মানুষ রূপে বিবেচিত হওয়ার চেষ্টা করবে ।
৮। স্বীয় অধিকারের প্রতি সচেতন থাকবে ।
৯। গোপন তথ্য কারো নিকট প্রকাশ করবে না ।
১০। বিপদে বন্ধুর পরীক্ষা নিবে ।
১১। বন্ধুদের ভাল মন্দ উভয়টাই পরীক্ষা করবে ।
১২। বিচক্ষণ এবং জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাথে বন্ধুত্ব করবে ।
১৩। ভাল কাজে পুণঃপুণঃ অংশগ্রহণ করবে ।
১৪। নিজের কথা প্রমাণ করে দিবে ।
১৫। বন্ধুদের সাধ্যমত ভালবাসবে ।
১৬। শত্রু মিত্র সকলের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করবে ।
১৭। মাতা পিতাকে সর্বাধিক সম্মান করবে ।
১৮। শিষ্যকে সর্বাধিক মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখবে ।
১৯। আয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে ব্যয় করবে ।
১৯। প্রত্যেক কাজে মধ্যপন্হা অবলম্বন করবে ।
২০। কথা বলার সময় মুখ আয়ত্বের মধ্যে রাখবে ।
২১। বীরত্ব কে নীতি হিসাবে গ্রহণ করবে ।
২২। শরীর এবং পোষাক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখবে ।
২৩। ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকবে ।
২৪। প্রচলিত অস্ত্র সস্ত্র ও যানবাহন পরিচালনা শিখে নিবে ।
২৫। প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব প্রদান করবে ।
২৬। রাতের বেলায় যদি কথা বলার প্রয়োজন হয় তাহলে আস্তে এবং নরম স্বরে কথা বলবে ।
২৭। দিনের বেলায় কথা বলার সময় চতুর্দিকে লক্ষ্য করে কথা বলবে ।
২৮। কম কথা বলা কম খাওয়া এবং কম ঘুমানোর অভ্যাস করবে ।
২৯। নিজের জন্য যা পচন্দ করো না তা অন্যের জন্য পচন্দ করবে না ।
৩০। বিচক্ষণতা ও কৌশল অবলম্বন করে কাজ করবে ।
৩১। উপযুক্ত শিক্ষিত না হয়ে অন্যকে শিখাতে যেও না ।
৩২। অন্যের ধন সম্পদের প্রতি লক্ষ্য করবে না ।
৩৩। নীতিহীনদের কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা আশা করবে না ।
৩৪। কোনো কাজেই চিন্তামুক্ত হইও না ।
৩৫। যে কাজ তুমি করনি এরূপ কাজ করেছ বলে মনে করো না ।
৩৬। আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখবে না ।
৩৭। বড়দের সাথে হাসি ঠাট্টা করতে যেও না ।
৩৮। আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করিও না ।
৩৯। তোমার প্রতি যারা আশা রাখে তাদের নিরাশ করো না ।
৪০। বড়দের সামনে কথা দীর্ঘায়িত করবে না।
৪১। অতীতের তিক্ততা মনে রেখো না ।
৪২। নিজের ধন সম্পদের কথা অন্যের নিকট প্রকাশ করবে না ।
৪৩। সৎ লোকদের নিন্দা করবে না ।
৪৪। আপনজনদের কাছ থেকে কখনও বিচ্ছিন্ন হইও না ।
৪৫। অহংকার করবে না ।
৪৬। মানুষের সামনে দাঁত খেলাল করবে না ।
৪৭। মানুষের সামনে মুখে বা নাকে অঙ্গুল প্রবেশ করবে না ।
৪৮। শব্দ করে থুতু ফেলবে না ।
৪৯। হাই তোলার সময় মুখে হাত রাখবে ।
৫০। কাউকে জনসম্মুখে লজ্জা দিবে না ।
৫১। চোখ দিয়ে ইঙ্গিত করবে না ।
৫২। এক কথা বারবার বলবে না ।
৫৩। তামাশা মূলক অবাস্তব কথা বলবে না ।
৫৪। ঠাট্টা বিদ্রুপ থেকে বিরত থাকবে ।
৫৫। অন্যের সামনে নিজের প্রশংসা করবে না ।
৫৬। মেয়েদের ন্যায় সাজসজ্জা করবে না ।
৫৭। কথা বলার সময় হাত নাড়াচাড়া করবে না ।
৫৮। আপনজনদের শত্রুর সাথে উঠাবসা করবে না ।
৫৯। কারো মৃত্যুর পর তার সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করবে না ।
৬০। যথাসম্ভব ঝগড়া বিবাদ থেকে বিরত থাকবে ।
৬১। সৎলোকের প্রতি সুধারণা রাখবে ।
৬২। নিজের খানা অন্যের দস্তারখানায় নিয়ে যাবে না ।
৬৩। কোনো কাজেই তাড়াহুড়ো করবে না ।
৬৪। পার্থিব স্বার্থের মোহে নিজেকে দুঃখ কষ্টে ফেল না ।
৬৫। রাগান্বিত অবস্থায়ও ধীর শান্ত ভাবে কথা বলবে ।
৬৬।জামার আস্তিন দ্বারা নাক পরিস্কার করবে না ।
৬৭। সূর্য উদয়ের পূর্বেই শয্যা ত্যাগ করবে ।
৬৮। পথ চলার সময় বড়দের আগে চলবে না ।
৬৯। এদিক সেদিক উকি মেরে দেখবে না ।
৭০। অন্যের কথার মধ্যে বাধা দিয়ে কথা বলবে না।
৭১। মেহমানের সামনে কারো প্রতি রাগান্বিত হইও না ।
৭২। সন্দেহ প্রবণতা ত্যাগ করতে না পারলে দুনিয়ায় তুমি কোনো বন্ধু খুঁজে পাবে না।
৭৩। বেটা ! তুমি এত মিষ্ট হইও না যে, মানুষ তোমাকে গিলিয়া ফেলে। আরএত তিক্ত হইও না যে মানুষ তোমাকে থুথুর মতো ফেলিয়া দেয়।
৭৪। বেটা ! নিজের খানা আল্লাহ্ভীরু লোকদের ব্যতীত কাহাকেও খাওয়াইও না। আর নিজের কাজে আলেমগনের নিকট হইতে পরার্মশ লইতে থাকিও।
৭৫। বেটা ! মূর্খের সহিত বন্ধুত্ব করিও না। এমন না হয় তাহার মূর্খতা সুলভ কথাবার্তা তোমার ভালো লাগিত আরম্ভ করে। আর জ্ঞানী লোকের সহিত শত্রুতা করিও না। এমন না হয় যে, সে তোমার দিক হইতে মুখ ফিরাইয়া রাখে।
৭৬। বেটা ! তুমি যেদিন হইতে দুনিয়াতে আসিয়াছ, প্রতিদিন আখেরাতের নিকটবর্তী হইতেছ।
সংগৃহীত

 

সাপ আর টাকি মাছের মাঝে খুব বন্ধুত্ব ৷ কিন্তু সাপ ছিলো বেজায় অহংকারী ৷ অহংকারের বশে সে কখনো ডানে, কখনো বাঁয়ে এভাবে হেলেদুলে চলত ৷ ভরা বর্ষায় দুই বন্ধু একদিন ঘুরতে বের হলো ৷ সাপ তার স্বভাব সুলভ রাজকীয় ভঙ্গিতে ডানে বাঁয়ে হেলে দুলে চলতে লাগল ৷ এতে সাপের টাকি মাছের সাথে চলতে সমস্যা হচ্ছিলো ৷
দু'জনের চলার পথের প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য টাকি মাছ সাপকে বললো, "বন্ধু, তুমি একটু সোজা হয়ে হাঁটলেইতো পার ৷"
সাপ বললো, "বন্ধু, যারে দেখতে নারি পারি তার চলন নাকি বাঁকা ৷ তুমি আসলে আমাকে দেখতে পারো না, তাই আমার চলন তোমার কাছে বাঁকা মনে হয় ৷"
টাকি মাছ বললো, "ব্যাপারটা আসলে তা নয় ৷ তোমার বাঁকা চলার কারনে আমি তোমার পাশাপাশি হাঁটতে পারছি না ৷"
সাপ বললো, "বাপ-দাদার চৌদ্দ পুরুষ ধরে আমরা এভাবে চলে আসছি, আর তুমি আসছো আমাকে পথ চলা শেখাতে?"
একেতো টাকি মাছের চেয়ে লম্বা বলে অহংকারে সাপের পা পড়ে না, তার উপর সাপের অন্তর ভরা বিষ ৷ টাকি মাছ যতই তাকে বোঝাতে চায় ততই সে ফোঁস ফোঁস করে ফুলেতে থাকে ৷ তর্ক- বিতর্কের এক পর্যায়ে তারা জেলের জালে ধরা পড়ে ৷ জেলে সাপকে মেরে সোজা করে ঝুলিয়ে রাখে ৷ টাকি মাছ তখন আফসোস করে বললো, "বন্ধু, সেইতো সোজা হইলি, তাও মরনের পর!"
অহংকার আর অন্তর ভরা বিষ নিয়ে যারা মানুষকে বাঁকা পথে পরিচালনা করেন, আর তেল মেরে নিজেকে নেতা মনে করেন, তারা আশা করি এবার একটু সোজা পথে চলবেন ৷ মরনের পর সোজা হলে কোনো লাভ হবে না। আল্লাহ সবাইকে হেদায়েত দান করুক আমিন।
0 Comments

 

 

মৃত্যু নিয়ে এতো সুন্দর লেখা আগে কখনো পড়িনি
একটু পড়েই দেখুন না,🙏
জাযাকাল্লাহ।❤️
পরলোকগত কুয়েতি লেখক আব্দুল্লাহ যারাল্লাহ র মৃত্যুর আগে লিখে যাওয়া কিছু অনুভূতি -
"মৃত্যু নিয়ে আমি কোনো দুশ্চিন্তা করবো না, আমার মৃতদেহের কি হবে সেটা নিয়ে কোন অযথা আগ্রহ দেখাবো না। আমি জানি আমার মুসলিম ভাইয়েরা করণীয় সবকিছুই যথাযথভাবে করবে।"
يُجَرِّدُونَنِي مِنْ مَلَابِسِي
তারা প্রথমে আমার পরনের পোশাক খুলে আমাকে বিবস্ত্র করবে,
يَغْسِلُونَني
আমাকে গোসল করাবে,
يَكْفِنُونَنِي
(তারপর) আমাকে কাফন পড়াবে,
يُخْرِجُونَنِي مِنْ بَيْتِي
আমাকে আমার বাসগৃহ থেকে বের করবে,
يَذهَبُونَ بِي لِمَسَكِنِي الجَدِيدِ (القَبْرُ)
আমাকে নিয়ে তারা আমার নতুন বাসগৃহের (কবর) দিকে রওনা হবে,
وَسَيَأتِي كَثِيرُونَ لِتَشْيِيْعِ الجَنَازَتِي
আমাকে বিদায় জানাতে বহু মানুষের সমাগম হবে,
بَلْ سَيَلْغِي الكَثِيرُ مِنهُم أَعْمَالَهُ وَمَوَاعِيدَهُ لِأَجْلِي دَفْنِي
অনেক মানুষ আমাকে দাফন দেবার জন্য তাদের প্রাত্যহিক কাজকর্ম কিংবা সভার সময়সূচী বাতিল করবে,
وَقَدْ يَكُونُ الكَثِيرُ مِنهُم لَمْ يَفَكِّرْ في نَصِيحَتِي يَوماً مِنْ الأيّامِ
কিন্তু দুঃখজনকভাবে অধিকাংশ মানুষ এর পরের দিনগুলোতে আমার এই উপদেশগুলো নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা করবে না,
أَشْيَائِي سَيَتِمُّ التَّخَلُّصُ مِنهَا
আমার (ব্যক্তিগত) জিনিষের উপর আমি অধিকার হারাবো,
مَفَاتِيحِي
আমার চাবির গোছাগূলো,
كِتَابِي
আমার বইপত্র,
حَقِيبَتِي
আমার ব্যাগ,
أَحْذِيَتِي
আমার জুতোগুলো,
وإنْ كانَ أَهْلِي مُوَفِّقِينَ فَسَوفَ يَتَصَدِّقُونَ بِها لِتَنْفَعَنِي
হয়তো আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে উপকৃত করার জন্য আমার ব্যবহারের জিনিসপত্র দান করে দেবার বিষয়ে একমত হবে,
تَأَكِّدُوا بِأَنَّ الدُّنيا لَنْ تَحْزَنْ عَلَيَّ
এ বিষয়ে তোমরা নিশ্চিত থেকো যে, এই দুনিয়া তোমার জন্য দু:খিত হবে না অপেক্ষাও করবে না,
وَلَنْ تَتَوَقَّفْ حَرَكَةُ العَالَمِ
এই দুনিয়ার ছুটে চলা এক মুহূর্তের জন্যও থেমে যাবে না,
وَالاِقْتِصَادُ سَيَسْتَمِرُ
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিংবা ব্যবসাবাণিজ্য সবকিছু চলতে থাকবে,
وَوَظِيْفَتِي سَيَأتِي غَيرِي لِيَقُومَ بَها
আমার দায়িত্ব (কাজ) অন্য কেউ সম্পাদন করা শুরু করবে,
وَأَمْوَالِي سِيَذْهَبُ حَلَالاً لِلوَرَثِةِ
আমার ধনসম্পদ বিধিসম্মত ভাবে আমার ওয়ারিসদের হাতে চলে যাবে,
بَينَمَا أنا سَأُحَاسِبُ عَليها
অথচ এর মাঝে এই সম্পদের জন্য আমার হিসাব-নিকাশ আরম্ভ হয়ে যাবে,
القَلِيلُ والكَثِيرُ.....النَقِيرُ والقَطمِيرُ......
ছোট এবং বড়….অনুপরিমাণ এবং কিয়দংশ পরিমান, (সবকিছুর হিসাব)
وَإن أَوَّلَ ما مَوتِي هو اِسمِي !!!!
আমার মৃত্যুর পর সর্বপ্রথম যা (হারাতে) হবে, তা আমার নাম!!!
لِذَلكَ عِنْذَما يَمُوتُ سَيَقُولُونَ عَنِّي أَينَ "الجُنَّةُت"...؟
কেননা, যখন আমি মৃত্যুবরণ করবো, তারা আমাকে উদ্দেশ্য করে বলবে, কোথায় “লাশ”?
وَلَن يَنَادُونِي بَاِسمِي....
কেউ আমাকে আমার নাম ধরে সম্বোধন করবে না,
وَعِندَما يُرِيدُونَ الصَّلاةَ عَلَيَّ سِيَقُلُونَ اُحْضُرُوا "الجَنَازَةَ" !!!
যখন তারা আমার জন্য (জানাযার) নামাজ আদায় করবে, বলবে, “জানাযাহ” নিয়ে আসো,
وَلَن يُنَادُونِي يِاسْمِي ....!
তারা আমাকে নাম ধরে সম্বোধন করবে না….!
وَعِندَما يَشْرَعُونَ بِدَفنِي سَيَقُولُونَ قَرِّبُوا المَوتَ وَلَنْ يَذكُرُوا اِسمِي ....!
আর, যখন তারা দাফন শুরু করবে বলবে, মৃতদেহকে কাছে আনো, তারা আমার নাম ধরে ডাকবে না…!
لِذَلِكَ لَن يَغُرَّنِي نَسبِي وَلا قَبِيلَتِي وَلَن يَغُرَّنِي مَنْصَبِي وَلا شَهرَتِي ....
এজন্যই দুনিয়ায় আমার বংশপরিচয়, আমার গোত্র পরিচয়, আমার পদমযার্দা, এবং আমার খ্যাতি কোনকিছুই আমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে,
فَمَا أَتْفَهُ هَذِهِ الدُّنْيَا وَمَا أَعْظَمَ مُقَلِّبُونَ عَليهِ .....
এই দুনিয়ার জীবন কতই না তুচ্ছ, আর, যা কিছু সামনে আসছে তা কতই না গুরুতর বিষয়…
فَيا أَيُّهَا الحَيُّ الآنَ ..... اِعْلَمْ أَنَّ الحُزْنَ عَليكَ سَيَكُونُ على ثَلَاثَةٍ أَنْواعٍ:
অতএব, (শোন) তোমরা যারা এখনো জীবিত আছো,….জেনে রাখো, তোমার (মৃত্যুর পর) তোমার জন্য তিনভাবে দু:খ করা হবে,
1ــ النَّاسُ الَّذِينَ يَعْرِفُونَكَ سَطْحَيّاً سَيَقُولُونَ مِسْكِينٌ
১. যারা তোমাকে বাহ্যিক ভাবে চিনতো, তারা তোমাকে বলবে হতভাগা,
2ــ أَصْدِقَاؤُكَ سَيَحْزُنُونَ سَاعَات أَو أَيَّامَاً ثُمَّ يَعُودُونَ إِلَى حَدِيثِهِم بَلْ وَضَحِكَهُم.....
২. তোমার বন্ধুরা বড়জোর তোমার জন্য কয়েক ঘন্টা বা কয়েক দিন দু:খ করবে, তারপর, তারা আবার গল্পগুজব বা হাসিঠাট্টাতে মত্ত হয়ে যাবে,
3ــ الحُزْنُ العَمِيقُ فِي البَيْتِ سَيَحْزُنُ أَهْلِكَ أُسْبُوعاً.... أُيسْبُوعَينِ شَهراً ....شَهرَينِ أَو حَتَّى سَنَةً وَبَعْدَهَا سَيَضْعُونَكَ فِي أَرْشِيفِ الذَّكَرِيّاتِ !!!
৩. যারা খুব গভীর ভাবে দু:খিত হবে, তারা তোমার পরিবারের মানুষ, তারা এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ, একমাস, দুইমাস কিংবা বড় জোর একবছর দু:খ করবে। এরপর, তারা তোমাকে স্মৃতির মণিকোঠায় যত্ন করে রেখে দেবে!!!
اِنْتَهَتْ قِصَّتُكَ بَينَ النَّاسِ وَبَدَأَتْ قِصَّتُكَ الحَقِيْقِيّةِ وَهِيَ الآخِرةُ ....
মানুষদের মাঝে তোমাকে নিয়ে গল্প শেষ হয়ে যাবে, অত:পর, তোমার জীবনের নতুন গল্প শুরু হবে, আর, তা হবে পরকালের জীবনের বাস্তবতা,
لَقدْ زَالَ عِندَكَ:
তোমার নিকট থেকে নি:শেষ হবে (তোমার):
1ــ الجَمَالُ
১. সৌন্দর্য্য
2ــ والمَالُ
২. ধনসম্পদ
3ــ والصَحَّةُ
৩. সুস্বাস্থ্য
4ــ والوَلَدُ
৪. সন্তান-সন্তদি
5ــ فَارقَت الدَّور
৫. বসতবাড়ি
6ــ القُصُورُ
৬. প্রাসাদসমূহ
7ــ الزَوجُ
৭. জীবনসঙ্গী
وَلَمْ يَبْقِ إِلَّا عَمَلُكَ
তোমার নিকট তোমার ভালো অথবা মন্দ আমল ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না,
وَبَدَأَتِ الحَيَاةُ الحَقِيقَيَّةُ
শুরু হবে তোমার নতুন জীবনের বাস্তবতা,
وَالسُّؤَالُ هُنا : ماذا أَعْدَدْتَ لِلقُبَرِكَ وَآخِرَةَكَ مِنَ الآنَ ؟؟؟
আর, সে জীবনের প্রশ্ন হবে: তুমি কবর আর পরকালের জীবনের জন্য এখন কি প্রস্তুত করে এনেছো?
هَذِهِ حَقِيقَةٌ تَحْتَاجُ إلى تَأمَّلٍ
*ব্স্তুত: এই জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে তোমাকে গভীর ভাবে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন,*
لِذَلِكَ أحرصُ عَلى :
এজন্য তুমি যত্নবান হও,
1ــ الفَرَائِضِ
১. ফরজ ইবাদতগুলোর প্রতি
2ــ النَّوَافِلِ
২. নফল ইবাদতগুলোর প্রতি
3ــ صَدَقَةُ السِّرِّ
৩. গোপন সাদাকাহ’র প্রতি
4ــ عَمَلُ الصَّلِحِ
৪. ভালো কাজের প্রতি
5ــ صَلاةُ اللَّيلِ
৫. রাতের নামাজের প্রতি
لَعَلَّكَ تَنْجُو....
যেন তুমি নিজেকে রক্ষা করতে পারো….
إِنْ سَاعَدْتَ عَلى تَذْكِيرِ النَّاسِ بِهَذِهِ المُقَالَةِ وَأنتَ حَيُّ الآنَ سَتَجِدُ أَثَرَ تَذكِيرِكَ في مِيزَانِكَ يَومَ القِيامَةِ بِإِذْنِ اللهِ .....
এই লিখাটির মাধ্যমে তুমি মানুষকে উপদেশ দিতে পারো, কারণ তুমি এখনো জীবিত আছো, এর ফলাফল আল্লাহ’র ইচ্ছায় তুমি কিয়ামত দিবসে মিজানের পাল্লায় দেখতে পাবে,
قال الله تَعالى : ((فَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَ تَنْفَعُ المُؤمِنِينَ))
আল্লাহ বলেন: ((আর স্মরণ করিয়ে দাও, নিশ্চয়ই এই স্মরণ মুমিনদের জন্য উপকারী))
لِمَاذَا يَخْتَارُ المَيِّتِ "الصَّدَقَةَ لو رَجَعَ للدُّنيا....
তুমি কি জানো কেন মৃতব্যক্তিরা সাদাকাহ প্রদানের আকাঙ্খা করবে, যদি আর একবার দুনিয়ার জীবনে ফিরতে পারতো?
كَمَا قَالَ تَعَالى: ((رَبِّ لَو لا أَخَّرْتَنِي إلى أَجَلٍ قَرِيبٍ فَأَصَّدَّقَ....))
আল্লাহ বলেন: ((হে আমার রব! যদি তুমি আমাকে আর একটু সুযোগ দিতে দুনিয়ার জীবনে ফিরে যাবার, তাহলে আমি অবশ্যই সাদাকাহ প্রদান করতাম….))
ولَمْ يَقُلْ :
তারা বলবে না,
لِأعتَمَرَ
উমরাহ পালন করতাম,
أو لِأُصَلَّي
অথবা, সালাত আদায় করতাম,
أو لِأصُومُ
অথবা, রোজা রাখতাম,
قالَ العُلَماءُ : ما ذَكَرَ المَيِّتُ الصَّدَقَةَ إلا لِعَظِيمِ مَا رَأى مِن أَثَرِها بَعدَ مَوتِهِ
আলেমগণ বলেন: মৃতব্যক্তিরা সাদাকাহ’র কথা বলবে, কারণ তারা সাদাকাহ প্রদানের ফলাফল তাদের মৃত্যুর পর দেখতে পাবে,
فَأَكْثِرُوا مِنَ الصَّدَقَةِ وَمِن أَفضَلِ ما تَتَصَدَّقُ بِهِ الآنَ 10 ثَوَان مِنْ وَقْتِكَ لِنشَرِ هذا الكَلامَ بِنِيَّةِ النَّصْحِ فَالكَلمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ.
আর, গুরুত্ববহ এই সাদাকাহ’র কাজটি তুমি এই কথাগুলো ছড়িয়ে দিয়ে মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় ব্যয় করে করতে পারো, যদি তোমার উদ্দেশ্য হয় এর মাধ্যমে মানুষকে উপদেশ প্রদান করা। কারণ, উত্তম কথা হল এক ধরণের সাদাকাহ।।।!


 

গল্পে গল্পে Parts of speech🌸
Noun আর তার ভাইয়েরা মোট ৮ জন । তাদের বাড়ির নাম হল Sentence ভিলা । সমাজের মানুষ তাদের Parts of speech বলে ডাকে । এক বাড়িতেই (Sentence) তারা ৮ ভাই থাকে । তবে তাদের কাজকর্ম এক না ।
১ম ভাইয়ের নাম হল Noun । তার কাজ হল সব কিছুর নাম বলা । বাড়িতে যা যা দরকার শাকসবজি, গোশত, মাছ সবকিছুর নাম বলা ।
২য় ভাইয়ের নাম হল Pronoun । Noun বাড়িতে না থাকলে সে noun এর কাজ করে দেয় । Noun এর অনুপস্থিতিতে Noun এর সব কাজ Pronoun ই করে ।
৩য় ভাইয়ের নাম হল Adjective । Noun ও Pronoun এর পিছনে গোয়েন্দাগিরি করা । তাদের দোষ-গুণ লিখে রাখাই হল Adjective এর কাজ ।
৪র্থ ভাইয়ের নাম হল Verb । তার কাজ হল সবার কাজ বলে দেওয়া । খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, গোসল সব কাজ বলে দেওয়া ।
৫ম ভাইয়ের নাম হলো Adverb । তার কাজ হল ৩য় ও ৪র্থ ভাই (Verb, Adjective) এর নজরদারি করা । তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা । মাঝেমধ্যে সে নিজের অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করে ।
৬ষ্ঠ ভাইয়ের নাম হল Preposition । ভাইদের মাঝে সম্পর্কের বন্ধন তৈরি করাই তার কাজ ।
(Noun ➕ Verb➕Pronoun, Noun➕ Noun)
৭ম ভাইয়ের নাম হল Conjunction । তার কাজ Preposition এর কাজের চেয়ে বড় । সে এক বাড়ির সাথে অন্য বাড়ির আত্মীয়তার সম্পর্ক সৃষ্টি করে এবং তারা সবাই মিলে সেই বাড়িতে দাওয়াত খায় ।
(Sentence ➕ Sentence)
৮ম ভাইয়ের কাজটা খুবই দারুণ ! তার নাম Interjection । সে আনন্দে-দুঃখে সব সময় সবার পাশে থাকে । সবার আবেগ প্রকাশ করাই তার একমাত্র কাজ।
এমন আরো পোস্ট পেতে রিকুয়েস্ট দিয়ে সাথেই থাকুন।।❤️

 

লিডারশীপ একটা দেশকে কোথায় নিতে পারে,
মধ্যপ্রাচ্যের ছোট্ট একটা দেশ কাতার।
১) আমেরিকা এর মতো পরাশক্তিকে লবিং এ হারিয়ে ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ এর আয়োজক হলো।
২) আয়োজনের পরে সবার একই প্রশ্ন মরুভূমির বালিতে কিভাবে বিশ্বকাপ হতে পারে? কাতার সবগুলো স্টোডিয়ামকেই এয়ার কন্ডিশনিং করে দিলো। আধুনিক উপায়ে গাছ লাগালো।
৩) কাতার ফুটবল ঐতিহ্যবাহী দেশ না হওয়ায় কাতারে আধুনিক স্টোডিয়াম ছিলো না, ১১,০০০ বর্গকিলোমিটার এর ছোট্ট দেশটিতে আধুনিক হোটেল ও ছিলো না, কাতার সবগুলো সমস্যাই মিটিয়ে ফেললো।
৪) কাতার বিশ্বকাপ এর খরচ কত জানেন?
২২৮ বিলিয়ন ডলার।( টাকার অংকটা বুঝতে বেশিদূর যেতে হবে না, বাংলাদেশকে ২ বিলিয়ন এর জন্য আইএমএফ এর কাছে হাত পাততে হয়) যা গত ১০ বিশ্বকাপ এর মোট খরচ মেলালেও তার বেশি হবে।
৫) ফাইনাল ম্যাচ হবে লুসাইল স্টোডিয়ামে। লুসাইল স্টোডিয়াম এর জন্য তারা পুরো একটা শহর তৈরী করে ফেললো। শহরের নাম লুসাইল সিটি। যাকে ফিউচার দুবাই বলা হচ্ছে।
৬) বিশ্বকাপ এর ৬ মাস আগে ফিফাকে সরাসরি বলে দিলো মদ, সমকামিতা কোনোটাই চলবে না, আমরা ১ মাসের জন্য নিজেদের ধর্ম পরিবর্তন করবো না বলেও ঘোষনা দিলো। ফিফা সমঝোতায় আসতে বাধ্য হলো।
৭) বিশ্বকাপের ১০০ দিন আগে জারজ ইসরায়েল এর নাগরিকদের ফিলিস্তিন এর পাসপোর্ট নিয়ে বিশ্বকাপ দেখতে হবে, যদি তারা দেখতে চায় বলে ঘোষনা দিলো কাতার।
কাতার এর টাকা আছে, কাতার এর মেরুদন্ড আছে, ১১০০০ বর্গকিলোমিটার এর ছোট্ট দেশ কাতার বিশ্বকে বুঝিয়ে দিলো লিডারশীপ একটা দেশকে কোথায় নিতে পারে।

 

স্ত্রীর লাশ সামনে রেখে,
মসজিদে স্বামীর না বলা কথা.....
ঢাকার একটি মসজিদে আসরের নামায শেষ করার পর পরই,
ইমাম সাহেব জানালেন জানাজার নামাজ আছে। সবাই যেন একটু অপেক্ষা করি।
হাদিসে আবার জানাজার নামাজ পড়তে
উৎসাহিত করা হয়েছে। জানাজার নামাজ মানে নিজের জন্য একটা সেলফ রিমাইন্ডার।
তাই হঠাৎ মনে হল জানাজাটা পরেই যাই।
ইমাম সাহেব জানালেন, একজন মহিলা মারা গিয়েছেন। ভদ্রমহিলার স্বামী আপনাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলবেন।
একজন সত্তরোর্ধ্ব বয়স্ক লোক।
সাদা পাঞ্জাবি পরা, দাঁড়িগুলোও ধবধবে সাদা।
ভদ্র লোক শুরু করলেন........
আসসালামু-আলাইকুম,
আপনারা হয়ত আমাকে চিনবেন না। আমি এলাকাতে নতুন এসেছি। আমার স্ত্রী আজ সকালে ফজরের নামাজের পর আল্লাহর কাছে চলে গেছেন।
আমরা একসাথে গত ৪৫ বছর ধরে সংসার করছি। একটা ছোট সরকারী চাকরী দিয়ে আমি সংসার জীবন শুরু করেছিলাম।
সারাজীবন চেষ্টা করেছি সৎ থাকার জন্য। আল্লাহর কসম খেয়ে বলতে পারি জীবনে কোনদিন এক টাকা অসৎ ভাবে আয় করিনি।
সৎ থাকার কারণে আয়ও ছিল খুব সামান্য। আমাদের তিন ছেলে এবং দুই মেয়ে ছিল। গ্রামের বাড়িতে বাবা-মাকেও কিছু টাকা পাঠাতে হতো। কখনো কখনো মাস শেষ হওয়ার আগে আমার বেতনের টাকা ফুরিয়ে যেত।
আমার সহকর্মীদের মধ্যে আমিই সবচেয়ে গরীব ছিলাম। কিন্তু আমার স্ত্রীর কারণে আমি এটা কখনোই উপলব্ধি করতে পারিনি। উনি যে কিভাবে সবকিছু ম্যানেজ করতেন একমাত্র উনিই জানেন।
আমার সাধ্যের বাইরে জীবনে কখনো কোনদিন উনি কিছু দাবি করেননি। জীবনে কখনো আমাকে এটা বলেন নি যে, আপনি আমাকে এটা দিলেন না, ওটা দিলেন না।
কখনো আমাকে আমার সামর্থ্য নিয়ে কষ্ট দিয়ে উনি কোনো কথা বলেননি। আজীবন ওনাকে শুধু সন্তুষ্টই দেখেছি।
আমার বাবা-মা মারা যাওয়ার আগের শেষের ৪-৫ বছর আমার সাথেই থাকতেন। আমার স্ত্রী আমার মা-বাবারও যথেষ্ট খেদমত করেছেন। কখনো আমাকে এটা বলেন নি যে, আপনার মা-বাবার খেদমত করা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
সত্যি কথা বলতে পেনশনের টাকা পাওয়ার পর হজে নিয়ে যাওয়া ছাড়া আমি উনাকে তেমন কিছুই দিতে পারিনি। তারপরও উনি কোনদিন আমাকে কষ্ট দিয়ে কথা বলেননি।
আমার স্ত্রী একজন নেককার মানুষ ছিলেন। উনি উত্তম আচরণের অধিকারী ছিলেন। আত্মীয়তার হক রক্ষা করেছেন।
পরোপকারী ছিলেন, স্বামী-সন্তানদের হক আদায় করেছেন। উনাকে আমি কখনো কোন নামায কাযা করতে দেখিনি, আজীবন পর্দা রক্ষা করে চলেছেন। উনি ধৈর্যশীল ছিলেন এবং অল্পে সন্তুষ্ট ছিলেন।
এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে ভদ্রলোক একটু দম নেওয়ার জন্য থামলেন।
এরপর আবার বলতে শুরু করলেন,
আমি আসলে আমার স্ত্রীর হয়ে আপনাদের কাছে মাফ চাওয়ার জন্য এখানে কথা বলছি না। যে নারী ৪৫ বছর ধরে তার স্বামী-সন্তান এবং আত্মীয়দের হক রক্ষা করে চলেছেন তিনি অন্য কারো হক নষ্ট করতে পারেন না।
একজন জান্নাতি নারীর মধ্যে যা যা বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন তার সবই আমার স্ত্রীর মাঝে ছিল। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ উনাকে জান্নাত নসিব করবেন।
আমি নিজে জান্নাতে যেতে পারবো কিনা আমি জানি না। আপনারা শুধু এই দোয়া করবেন আমি যেন আমার স্ত্রীর সাথে জান্নাতে একত্রিত হতে পারি।
আর আপনারা সাক্ষী থাকেন আমি আমার স্ত্রীর উপর পুরোপুরি সন্তুষ্ট। আল্লাহ যেন উনাকে মাফ করে দেন।
পুরো মসজিদ ভর্তি মুসল্লী একসাথে বলে উঠল আমিন,আমিন, আমিন।
সাধারণত জানাজার নামাজের আগে মৃতের লোকজন সর্বোচ্চ ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিটের বক্তব্য দেন। এই ভদ্রলোক টানা চার-পাঁচ মিনিট তার স্ত্রী সম্পর্কে বললেন।
কোন মুসল্লী এতোটুকু বিরক্তি প্রকাশ করলেন না। সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো একজন জান্নাতি নারীর কথা শুনলেন।
হাদিসে এসেছে, একজন মুমিন-মুমিনার জীবনে তার রবের তরফ থেকে সর্বোত্তম রিযিক হচ্ছে একজন নেককার স্বামী এবং স্ত্রী। এই ভদ্রলোকের কথা থেকে যেন সরাসরি এই হাদীসের প্রমাণ পেলাম।
মসজিদ থেকে বের হলাম একটা অপূর্ব ভালো লাগা নিয়ে। সুখী মানুষদের কথা শোনার মধ্যেও একটা সুখ আছে।
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আমাদের সকলকে বুঝার তৌফিক দান করুন।
আমিন।
সংগৃহীত.....