Tuesday, January 31, 2023

হজরত আয়েশা (রা.) একদা দোয়া করছিলেন। তখন নবী করিম (সা.) তাকে বললেন, তুমি পরিপূর্ণরূপে দোয়া কর।
তোমার প্রয়োজনীয় সব কিছু যেন তাতে অর্ন্তভুক্ত থাকে। তিনি দোয়া শেষ করে নবী (সা.)-এর দিকে ফিরে প্রয়োজনীয় সবকিছু অন্তর্ভুক্তসহ পরিপূর্ণ দোয়াটি শেখার আগ্রহ প্রকাশ করলেন।
তখন নবী করিম (সা.) বললেন, তুমি বল-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ الْخَيْرِ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ الشَّرِّ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ وَأَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ وَأَسْأَلُكَ مِنْ الْخَيْرِ مَا سَأَلَكَ عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَسْتَعِيذُكَ مِمَّا اسْتَعَاذَكَ مِنْهُ عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَسْأَلُكَ مَا قَضَيْتَ لِي مِنْ أَمْرٍ أَنْ تَجْعَلَ عَاقِبَتَهُ رَشَدًا
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিনাল খাইরি কুল্লিহি,
আজিলিহি ওয়া আজিলিহি মা আলিমতু মিনহু ওয়ামা লাম আলাম।
ওয়া আউযুবিকা মিনাশ শাররি কুল্লিহি
আজিলিহি ওয়া আজিলিহি মা আলিমতু মিনহু ওয়ামা লাম আলাম।
ওয়া আসআলুকাল জান্নাতা
ওয়ামা ক্বাররাবা ইলাইহা মিন কাউলিন আউ আমালিন।
ওয়া আউজুবিকা মিনান্নার।
ওয়ামা ক্বাররবা ইলাইহা মিন কাউলিন আউ আমালিন।
ওয়া আসআলুকা মিনাল খাইরি মা সাআলাকা
আবদুকা ওয়া রাসূলুকা মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
ওয়া আসতায়িদুকা মিম্মাস তায়াদুকা মিনহু-
আবদুকা ওয়া রাসূলুকা মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
ওয়া আসআলুকা মা কাজাইতা লী- মিন আমরিন আন তাজয়ালা আ-কিবাতাহু রাশাদা।
-মুসনাদে আহমাদ: ২৫১৩৭
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সব ধরনের কল্যাণ প্রার্থনা করছি। বর্তমানের কল্যাণ চাই ও ভবিষ্যতের কল্যাণ চাই। যে কল্যাণ সম্পর্কে আমি জানি তা চাই এবং যে কল্যাণ সম্পর্কে আমি জানি না সেটাও চাই। আপনার কাছে সব ধরনের অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাই। বর্তমানের অকল্যাণ থেকে ও ভবিষ্যতের অকল্যাণ থেকে। যে অকল্যাণ সম্পর্কে আমি জানি তা থেকে এবং যে অকল্যাণ সম্পর্কে আমি জানি না তা থেকে।
আপনার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করছি। এবং এমন কথা ও কাজের তওফিক প্রার্থনা করছি- যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে দিবে। আর আপনার কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এবং এমন কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকার তওফিক প্রার্থনা করছি- যা আমাকে জাহান্নামের নিকটবর্তী করে দিবে।
আপনার ওই সব কল্যাণ প্রার্থনা করছি যা আপনার কাছে প্রার্থনা করেছে আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি ওইসব অকল্যাণ থেকে; যা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছে আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
আমি আপনার কাছে আরো প্রার্থনা করছি, আমার জন্য আপনি যেসব বিষয়ের ফায়সালা করেছেন তার পরিণাম শুভ করে দিন।

 

Monday, January 23, 2023

প্রাচীন যুগে চীনারা বহিঃশত্রুর আক্রমন থেকে নিরাপদে থাকতে
গ্রেটওয়াল নির্মাণ করেছিল।
গ্রেটওয়ালের দেয়াল এত উঁচু করা হয়েছিল যাতে
শত্রুরা দেয়াল টপকিয়ে চীন আক্রমন করতে না পারে।
ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো,
গ্রেটওয়াল নির্মাণের প্রথম একশো বছরের মাথায়
চীনারা তিন বার বহিঃশত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয়।
আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো,
কোনোবারই আক্রমণকারীদের দেয়াল টপকাতে
বা দেয়াল ভাঙতে হয় নি।
কারণ প্রতিবারই তারা পাহারারত দেয়াল-রক্ষীদের ঘুষ দিয়ে
মূল গেট দিয়েই চীনে ঢুকে পড়ে।
চীনারা মজবুত দেয়াল তৈরি করেছিল বটে,
কিন্তু পাহারাদার দেয়ালরক্ষীদের চরিত্র মজবুত করেনি,
ফলে আক্রমন থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারে নি।
আমাদের অবস্থাও আজ তাই।
আমরা দেয়াল নির্মান করে চলছি,
কিন্তু দেয়াল পাহারাদারকে চরিত্র নির্মান করি নি।
তাইতো, আজ শিক্ষার হার বেড়েছে,
কিন্তু মানবতা, মানবিক মূল্যবোধ, মনুষ্বত্ব বাড়ে নি।
আপনি কোন জাতিসভ্যতাকে ধ্বংস করে দিতে চাইলে
জাস্ট তিনটি কাজ করুন,
(ক) পরিবার ও পারিবারিক গঠন ধ্বংস করে দিন
(খ) শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দিন
(গ) তরুণ সমাজকে আদর্শচ্যুত করে দিন
ব্যস, আর কিছুই করতে হবে না।
এবার সব আপনার নির্দেশে চলবে।

 

Sunday, January 22, 2023

আমি নিজেও কখনাে এভাবে ভাবিনি...
ফজর- ২ x ৩৬৫ দিন = ৭৩০ রাকাআত
যােহর- ৪ x ৩৬৫ দিন = ১৪৬০ রাকাআত
আসর- ৪x ৩৬৫ দিন = ১৪৬০ রাকাআত
মাগরিব- ৩ x ৩৬৫ দিন = ১০৯৫ রাকাআত
এশা- ৪x ৩৬৫ দিন = ১৪৬০ রাকাআত
মােট = ৬২০৫ রাকাআত
সুন্নাত এবং নফল সালাত তাে বাদই দিলাম !!
১ বছরে (৩৬৫ x ৫) = ১৮২৫ ওয়াক্ত সালাত।
অর্থাৎ বছরে ১৮২৫ বার আপনাকে আযানের মাধ্যমে ডাক দেয়া হয়।
আপনি কয়বার সাড়া দিয়েছিলেন ?
আপনার মনে কি একটুও অনুশােচনা হওয়ার কথা না ?
কি ভেবেছেন আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে না?
এখানে শুধু ১ বছরের একটু ধারণা তুলে ধরা হল,
আল্লাহ্'র কাছে পুরাে জীবনের হিসাব কিভাবে দিবেন. ?
কি অবস্থা হবে সেদিন ?
আসুন!!
আজ থেকেই ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা শুরু করি।
আল্লাহর ডাকে সাড়া দেই।আল্লাহ্ কে ডাকি।
আল্লাহ নিশ্চয়ই আমাদের ডাকে সাড়া দেবেন।
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে পাঁচ ওয়াক্ত
নামাজ আদায় করার তৌফিক দান করুক...... আমিন।

Saturday, January 21, 2023

 প্রচন্ড মন খারাপে যখন কেউ জিজ্ঞেস করে 'মন খারাপ কেন?' কথাটা তীরের মতো বুকে বিঁ ধে আর অজান্তেই চোখের কোনায় কয়েক ফোঁটা জল জমে; কিন্তু ব্যথাটা কাউকে বুঝনো যায় না।  কথায় আছে না, "কেউ দেখে শেখে আর কেউ ঠেকে শেখে", বর্তমানে এই কথাটার মর্ম হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি। আমি বাবা মায়ের একমাত্র কন্যাসন্তান। সেহুতু ছোটবেলা থেকেই খুব আদর-যত্ন আর ভালোবাসায় বড় হয়েছি। আমার বাবা একজন প্রাইভেট ব্যাঙ্ক কর্মচারী ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই কোনোকিছুর অভাব আমাকে অনুভব করতে হয়নি, আসলে অনুভব করতে দেয়নি! বাবা প্রাইভেট ব্যাঙ্কের সমস্ত কাজের চাপ, খাটনি সহ্য করেই সেই সুখ আমাদের দিয়েছিলেন। বেশ সুখ স্বাচ্ছন্দে আর পরিবারের ভালোবাসায় আমার দিন কাটছিল।
কিন্তু কিছু মাস আগেই বাবার একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়! কোমর থেকে গোড়ালি পর্যন্ত কোনো সাড় নেই, একেবারে বিছানা সজ্জা। সুতরাং কাজটা থাকারও কোনো চান্স নেই। ব্যাস! এক ঝটকায় যেনো আমার গোটা জীবন পুরো ওলটপালট হয়ে গেল। বাবা পরিবারের মেরুদন্ড ছিল, সেটা ভেঙে যাওয়ায় যেন আকাশ থেকে মাটিতে পুরো আছাড় খেয়ে পড়লাম। সংসারে শুরু হল আর্থিক অনটন। ধীরে ধীরে বাবার চিকিৎসায়, জমানো সবটুকু চলে গেল।
মা সবসময় আফশোস করতো কোনো কাজ করে না বলে, অনেকবার কাজ খুঁজেছে, পেয়েও ছিল ছোটোখাটো। কিন্তু আমি বলেছিলাম, আমাকে যখন পড়াশোনা শিখিয়েছো, তখন আমি তোমাদের পাশে দাঁড়াবো, তুমি শুধু বাবার খেয়াল রাখো।
আমি দু-তিনটে টিউশন করতাম, স্যার-ম্যাডাম আর বন্ধুদের সাহায্যে আমি গ্ৰাজুয়েশনটা পাশ করি, আর তারপর শুরু হল আসল যুদ্ধ।
কখনো তো ভাবিনি মাথার ওপর থেকে বাবার ছায়া চলে যাবে, বাইরের দুনিয়াটা যে কত কঠিন, আর হিংস্র ধীরে ধীরে বুঝতে শিখি। বর্তমানে সামান্য গ্ৰাজুয়েশন দিয়ে যে চাকরি পাওয়া কতটা কঠিন, সেটা শুধু ওই রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ছুটতে থাকা মানুষগুলো জানে! সেখানে কোনো লিঙ্গ বৈষম্য নেই। সবাই চায় একটু অর্থের সম্বল। আর ভালো চাকরি পেতে গেলে টাকা খরচ করে দামী দামী কোর্স করতে হবে, যেটা সবার সামর্থ্য নয়।
কিন্তু নারীদের জন্য এই চেষ্টা তো বরাবরই একটু কঠিন, তাদের তো কাজের সাথে সাথে নিজের সম্মানটাও বাঁচাতে হয়। আমি-ও অনেক লড়াই করেছি, কিন্তু বাড়িতে এসে মাকে কোনোদিন বলতে পারিনি সেসব, নিজের মধ্যে সবকিছু চেপে রেখে নিজেকে পাথরে পরিণত করেছি। অনেক কষ্টে একটা কাজ জোগাড় করতে পেরেছি, সেটুকুই শান্তি।
মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেদের যেমন লড়াই একটা চাকরি নিয়ে, সেই লড়াই অনেক মেয়েদেরও করতে হয়। ট্রেনের লেডিস কামরায় ওরাও রোজ ক্লান্ত হয়ে ফেরে।
অনেক নারী কাজ করে নিজের আত্মসম্মানের জন্য, কারো ওপর নির্ভরশীল না হওয়ার জন্য। আবার অনেকে আছে যারা কাজ শেষে বাড়িতে বাবার ওষুধটা, ঘরের মুদিখানা বাজার, ছেলে-মেয়ের পড়ার বই নিয়ে ফেরে। কারো ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কথা তাদের মাথাতেই আসে না, কারণ নির্ভরশীল হওয়ার মতো তাদের পাশে কেউ থাকেই না।
লড়াইটা সবার একই! সেটা হল পয়সা উপার্জন। শুধু কারণ হয়তো একটু আলাদা!

Friday, January 20, 2023

 

শিক্ষার শেষ নেইঃ
১. স্ত্রীর পাশে ১-মিনিট বসুন, বুঝতে পারবেন জীবন বড় কঠিন।
২. মাতালের কাছে ১০- মিনিট বসুন, বুঝতে পারবেন জীবন খুব সহজ।
৩. সাধুদের সাথে ৩-মিনিট বসুন, আপনার সবকিছু দান করে অবসর নিতে ইচ্ছে করবে।
৪. রাজনীতিবিদের সাথে ৪-মিনিট বসুন, বুঝবেন আপনার পড়াশুনা সব বেকার, অনর্থক।
৫. একজন জীবন বীমা এজেন্টের সাথে ৫-১০ মিনিট বসুন, বুঝবেন বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।
৬. একজন ব্যবসায়ীর সাথে ৬-মিনিট বসুন, আপনি বুঝতে পারবেন আপনার উপার্জন কিছুই না।
৭. একজন বিজ্ঞানীর সাথে ৭-মিনিট বসুন, আপনি বুঝতে পারবেন আপনার মধ্যে খারাপটা আপনার অজ্ঞতার কারণে।
৮. একজন ভালো শিক্ষকের সাথে ৮-মিনিট বসুন, আপনি একজন ছাত্র হয়ে ফিরে আসতে চাইবেন।
৯. একজন কৃষক বা শ্রমিকের সাথে ৯-মিনিট বসুন, আপনি বুঝতে পারবেন আপনি কঠোর পরিশ্রম করেন না।
১০. একজন সৈনিকের সাথে ১০-মিনিট বসুন, আপনি বুঝতে পারবেন আপনার কাজ এবং ত্যাগ অত্যন্ত ঘৃণ্য।
১১. কবরস্থানে ১০/১১ মিনিটের জন্য যান মনে হবে জীবনের সবকিছু তুচ্ছ মায়া, হাল ছেড়ে দেই।
১২. একজন ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন ভালো, উদার মনের প্রকৃত বন্ধুর সাথে ১০-মিনিট বসুন, মনে হবে আপনার জীবন স্বর্গের চেয়েও সুন্দর।

Sunday, January 15, 2023

 

বুক ফাটা আর্তনাদ
মৃত্যু একটি অবধারিত সত্য.....
একে পাশ কাটাতে যাওয়া সীমাহীন মূর্খতা। আমরা সেই মৃত্যুকে অবিশ্বাস করে আজীবন নিজেকে ভালবাসি, নিজেকে 
আমি আমার মানুষটাকেই ভালোবাসি,
সীমাহীন মিস করি আমি
আজ সামান্য ইগো কনফ্লিক্টের কারণে
যাকে এভোয়েড করছি !!!
কে কখন কাকে দায়মুক্তি দিয়ে
হঠাৎ বিদায় নেবে বলা মুশকিল !!!
বিবেকের কাছে পরাজিত হবার চেয়ে
বড় পরাজয় আর নেই !!!
বিবেকের আত্ম দংশন সাংঘাতিক....
অনবরত খোঁচাতে থাকে আমার বিবেককে ....
আমার জীবন সঙ্গীকে পারিনী ভাল রাখতে, পারিনী সময় দিতে,
পারিনী ভাল চিকিৎসা দিতে, বুঝিনি তার মনের আকুতি,
শুধু ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে সে আমাকে দেখতো,
ওর শেষের দিনের যন্ত্রনা --- মুখখানা মলিন করে আমাকে দেখতো
ওর যন্ত্রনারা কারণে -------
আমি শুধু উহ্-আহ্ করতে থাকব আজীবন !!!
এখন আমার ইচ্ছে করে মানুষটাকে বলি-
"তুমি কি আজও রাগ করে কবরে শুয়ে আছো ?
এতো অভিমান তোমার ??
এতো জেদের কি আছে !!!"
হয়তো কোনদিন পারব না, কোনদিন সুযোগ পাব না,
সে আমাকে দায়মুক্তি দিয়ে অসীমের পথে পাড়ি জমিয়েছে....!!!
রেখে গেছে তাঁর দেয়া কিছু স্মৃতি,
যেটা সময়ের সাথে সাথে ধূসর হলেও
ঘনত্ব বাড়তে বাড়তে আমার জীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে অনন্তকাল,
বাড়াবে তার শেকড়ের গভীরতা !!!
হঠাৎ একদিন টাপুর টুপুর বৃষ্টিতে
আমার মনে কষ্টের ঝড় বইয়ে দেবে....
আমিও হয়তো বোবা হয়ে যাবো একদিন ........
বুক ফাটা আর্তনাদ নিয়ে বলতে ইচ্ছে করবে-
"ফিরে এসো! আর দূরে ‘কবরে’ না থেকে আমার কাছে চলে আস
ক্ষমা করো আমাকে !!! "
মানুষ চলে যাবে.... রেখে যাবে স্মৃতি.... আমার আশেপাশেই
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে ওরা !!!
আামি জন্মান্ধের মতোই হাতড়াতে থাকব ....
আমি নীরবে আফসোস করবো বৈকি....... !!

Saturday, January 14, 2023

একবার এক গ্রামে তিনজন চোর থাকত। তারা গ্রামে এতটাই চিহ্নিত ছিল যে গ্রামের সাধারণ মানুষ তাদের সন্দেহ করতে থাকে। তাই তাদের এলাকায় এবং আশেপাশে তাদের চুরি অভিযান চালানো প্রায় অসম্ভব ছিল। স্বাভাবিকভাবেই তারা কাজের বাইরে ছিলেন। হতাশা থেকে তারা একটি পরিকল্পনায় আঘাত করে এবং কাছের শহরে চলে যায় যেখানে কেউ তাদের চিনত না। সেখানে তারা এক ধনী ব্যবসায়ীর চেম্বার থেকে সোনার একটি পার্স চুরি করে দূরের জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তিতে তারা ভয়ানক ক্ষুধার্ত অনুভব করলো। তারা কিছু খেতে পায়নি। তাই তারা তাদের জন্য খাবার কেনার জন্য তাদের একজনকে কাছের গ্রামে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন অনায়াসে রাজি হয়ে গেল এবং খাবারের সন্ধানে রওনা দিল আর বাকি দু'জন সোনার মানিব্যাগটি যত্ন নেওয়ার জন্য বসে রইল। যে চোর বেরিয়েছিল সে একটি খাবারের দোকানে পৌঁছে তার দুপুরের খাবার শেষ করল। তিনি বাকি দুজনের জন্য খাবার কিনেছিলেন যারা তাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছিল যাতে তাদের দুজনের মধ্যে সোনা ভাগ করে নেওয়া হয়। বনের আশ্রয়ে যাওয়ার পথে সে ভাবল, আমি খাবারে বিষ মিশিয়ে পার্সের মালিক হব। তাই সে খাবারে বিষ মিশিয়ে আনন্দে ফিরে গেল। তিনি খাবার নিয়ে পৌঁছানোর সাথে সাথেই তারা তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সাথে সাথে তাকে হত্যা করে। খুব ক্ষুধার্ত থাকায় তারা খাবার খেয়ে মারা গেল। ফলে চুরি হওয়া সম্পদ কেউ ভোগ করতে পারত না। খুব ক্ষুধার্ত থাকায় তারা খাবার খেয়ে মারা গেল। ফলে চুরি হওয়া সম্পদ কেউ ভোগ করতে পারত না। খুব ক্ষুধার্ত থাকায় তারা খাবার খেয়ে মারা গেল। ফলে চুরি হওয়া সম্পদ কেউ ভোগ করতে পারত না। 

Monday, January 9, 2023

 

এক লোক প্রচুর কুরআন পড়ত। কুরআন নিয়েই ডুবে থাকতে ভালবাসত। কিন্তু কেন যেন কুরআনের কিছুই সে মুখস্থ রাখতে পারত না। একদিন লোকটির ছোট ছেলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলল, 'বাবা, আপনি যে এত কুরআন পড়েন, কিছুই তো মনে রাখতে পারেন না। এতে কী লাভ হচ্ছে?'
.
— তোমার এই প্রশ্নের উত্তরটা দিবো। তার আগে এক কাজ করো, তুমি এই বেতের ঝুড়িটা সমুদ্র তীরে নিয়ে যাও এবং পানি ভরে নিয়ে আসো।
— এটা তো বেতের তৈরি, পানি কীভাবে ধরবে?
— আহা, চেষ্টা করে দেখো না!
.
সাধারণত কয়লা আনা-নেওয়ার কাজে তারা এই ঝুড়ি ব্যবহার করে। তবুও বাবার কথায় ছেলেটি ঝুড়ি নিয়ে তীরে গেল এবং পানি ভরল। কিন্তু বাড়ি ফিরে আসতে আসতে সব পানি পথেই শেষ। পড়তে পড়তে একদম খালি হয়ে গেছে।
.
'দেখলেন? কোনো লাভ হলো? পানি একটুও বাঁচেনি।' ছেলে আফসোস নিয়ে বলল।
লোকটি আশ্বাস দিলো, 'চেষ্টা চালিয়ে যাও সোনা। আরও কয়েকবার চেষ্টা করো।'
.
এভাবে দুইবার, তিনবার, চারবার, সবশেষে পাঁচবার পর্যন্ত চেষ্টা করল ছেলেটি। কিন্তু এক মুঠো পানিও আনতে পারল না। অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়ে বাবাকে বলল, 'এই ঝুড়ি দিয়ে আমার পক্ষে পানি আনা অসম্ভব।'
.
এবার লোকটি শান্ত গলায় বলল, 'আচ্ছা, তবে তুমি কি ঝুড়িটার ভিতরের দিকে খেয়াল করেছ? ভিতরের অবস্থার কোনো পরিবর্তন দেখেছ?'
— হ্যাঁ, এটা পানি ধরে রাখতে না পারলেও বার বার পানি ভরার কারণে কয়লার ময়লাগুলো সাফ হয়ে গেছে। ভিতরটা বেশ পরিষ্কার দেখাচ্ছে এখন।
— ঠিক ধরেছ। এবার বলি, কুরআনও ঠিক এই কাজটাই করে তোমার অন্তরের ভিতরে। দুনিয়ার পেছনে ছুটতে ছুটতে তোমার অন্তর যখন কলুষিত হয়ে পড়ে, তখন কুরআন সমুদ্রের পানির মতোই তোমাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দেয়। অন্তরে মুখস্থ রাখতে না পারলেও সে তোমাকে পবিত্র করে দেয়।
বাবারে, একটা কথা মনে রেখো, কুরআনের প্রথম অবতীর্ণ আয়াত 'পড়ো', 'মুখস্থ করো' না। কাজেই মুখস্থ করতে না পারার কারণে শয়তান যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে, কুরআন পড়া থেকে দূরে সরিয়ে দিতে না পারে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি কোরআন পড়ার তৌফিক দান করুক,আমিন

 ভোট ডাকাতি আর ভোট চুরি করে ক্ষমতার সিংহাসন দখল করা যায় বটে তবে শেষ পরিণতি যে ভাল হয়না তার বাস্তব দৃশ্য উপভোগ করতে জনগণ উম্মূখ হয়ে আছে, কখন আসবে সেই মহেন্দ্রক্ষণ। ক্ষমতা নিঃশঙ্ক করতে প্রতিপক্ষ নির্মূলে যত না সময় ব্যয় করেছে দখলদার আওয়ামী সরকার তার শতাংশানু সময়ও জনগণের কল্যান বা নিরাপত্তার ব্যয় করেনি।দুর্নীতির পাহাড় গড়তে দেশের অর্থ লোপাটের ম্যাগা প্রকল্প হাতে নিয়ে লোক দেখানো উন্নয়ণের যে হিরিক দেখানো হচ্ছে তাতে দেশের অর্থনীতির বারটা বাজিয়ে ছাড়ছে।কোন ভাল মনের সৎ সাহসী লোকেরা আওয়ামীলীগ করে না। দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসি বখাটে চোর চোট্টা নেশাখোর চাপাবাজ ধান্ধাবাজ লম্পট বদমাশ শ্রেণীর লোকের অভয়ারন্য হলো আওয়ামীলীগ। প্রকৃত দেশপ্রেমিক সৎ আদর্শবান রাজনৈতিক নেতাদের জেল ফাসি মামলা হামলা গ্রেফতার করে দেশকে প্রতিপক্ষ মুক্ত করার যে মিশন বাস্তবায়ণে আওয়ামীলীগ সরকার ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে তার একটা বিহিত হওয়া খুবই জরুরী।এমতাবস্থার সুরাহাকল্পে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ ইউরোপীয় দেশগুলি যদি কোন ব্যবস্থা নেয় বাংলাদেশের অধিকার হারা নির্যাতিত জনগণ তা সাদরে সম্ভাষণ জানাবে নিঃসন্দেহে।

Saturday, January 7, 2023

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

হটাও সাদ বাচাও ঈমান

তাবলীগ জামাতের বিতর্কিত ব্যক্তি

মোঃ সাদ (হাদাহুল্লার) কিছু ঈমান বিধ্বংশী বক্তব্য

০১। আল্লাহ তায়ালার হাতে হেদায়েত নেই, যদি থাকত তাহলে তিনি নবী পাঠাতেন না। 

০২। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সমস্ত বিবাহের ওলিমা খেজুর দ্বারা সম্পন্ন করেছেন, শুধু মাত্র আম্মাজান হযরত যয়নব (রাঃ) এর বিবাহের সময় গোস্ত-রুটি দ্বারা ওলিমা সম্পন্ন করেছেন। আর এটা তিনি নবী হয়ে ভুল করেছেন। এই জন্য তাকে শাস্তি ভোগ করতে হয়েছে।

০৩। হযরত মুছা (আঃ) দ্বারা অনেক বড় গুণা হয়েছিল, তাই আল্লাহ তায়ালা তাকে তূর পাহাড়ে ডেকে নিয়েছিলেন।

০৪। মসজিদে যারা ইমামতি করে টাকা নেয় এবং মাদ্‌রাসায় পড়িয়ে যারা টাকা নেয় তাদের চেয়ে ব্যাস্যার উপার্জন উত্তম। এদের আগে ব্যাস্যা জান্নাতে যাবে।

০৫। মসজিদের বাহিরে দাওয়াত দেওয়া সুন্নতের খেলাফ।

০৬। কোরআন শরীফ বুঝিয়া পড়া ওয়াজিব, না বুজিয়া পড়িলে ওয়াজিব তরকের গুনা হবে। 

০৭। ওহুদের যুদ্ধে ৪০ জন সাহাবী নাফরমানি করেছে, তাই যুদ্ধে মুসলমান পরাজিত হয়েছে 

০৮। হযরত মুছা (আঃ) তাওরাত কিতাব আনার জন্য যে তূর পাহাড়ে গিয়েছিলেন এটা ভূল ছিল, যার ফলে উম্মত মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল।

০৯। আসহাবে কাহাফের ৭জন যুবকের সঙ্গে বাঘ ছিল কুকুর ছিল না।

১০। হুজুর (সাঃ) এর পরে ৩ জন ছাড়া আর কাহারোর বায়াত পরিপূর্ণতা লাভ করেনি। তিনজন হল (হযরত মাওঃ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ), হযরত মাওঃ ইলিয়াছ (রহঃ), হযরত মাওঃ ইউসুফ (রহঃ) ।

১১। সারা দুনিয়াতে মক্কা-মদিনার পর সবচেয়ে ইজ্জতের স্থান, সম্মানের স্থান, আজমতের স্থান, মারকাজে নিজাম উদ্দিন।

১২। আমি আমীর আমাকে যারা না মানবে তারা জাহান্নামী।

১৩। নামাজ মসজিদের ঐচ্ছিক আমল, প্রধান আমল হল মাওয়ারা।

১৪। মাদ্‌রাসায় যাকাত দেওয়া নাজায়েজ, দিলে যাকাত আদায় হবে না।

১৫। হযরত ইউসুফ (আঃ) গাইরুল্লাহর দিকে ইশারা করায় অতিরিক্ত ৭ বছর জেল খাটতে হয়েছিল।

১৬। উলামারা কোরআনের তাফছির বুঝে না।

এছাড়া আরও অনেক গুমরাহী কথা বার্তা তিনি নিয়মিতই বিভিন্ন মজমাতে বলে যাচ্ছে। যার ফলে বর্তমান দুনিয়াতে দারুল উলুম দেওবন্দ সহ সমস্ত হক্কানী উলামায়ে কেরাম, পীর মাশায়েখ,তার অনুসরন কে নাজায়েজ ঘোষণা করেছেন

তাই আমাদের দায়িত্ব, আমাদের আকাবিরদের রেখে যাওয়া এই মহান আমানতকে রক্ষার জন্য মহল্লায় মহল্লায় মসজিদে মসজিদে জবরদস্ত মেহনত করা, এবং তার মত গোমরাহ বাড়ির গোড়া দের নিয়ে খানও আমলকে হেফাজত করা ।

 

হঠাৎ করে কখনো—কারো কথা মনে পড়লে তার জন্য দো'আ করুন। হয়তো বা সেই মূহুর্তে আপনার দোয়া তার খুব প্রয়োজন। “যে ব্যাক্তি অন্যের জন্য দোয়া করে ফেরশতারা তার জন্য দোয়া করেন

-[আবু দাউদঃ(১৫৩৪)

Friday, January 6, 2023

 

আল্লাহর কাছে মনের কথাগুলি এভাবে বলব,

" ইয়া আল্লাহ ইয়া রাহমানির রাহিম 

আমি ছাড়া তোমার আরও অনেক বান্দা আছে। 

কিন্তু আমার কাছে তুমি ছাড়া আর কোন রব নাই। 

আর তুমি ছাড়া আমার কোন চাওয়ার জায়গা নাই।"

"আল্লাহ! তুমিই তো অভাবীদেরকে তাড়িয়ে দিতে নিষেধ করেছো। 

তাহলে এই অভাবীকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিও না।


Thursday, January 5, 2023

আসসালামুয়ালাইকুম ওয়ারামাতুললাহি ওয়াবারাকাতুহু।। আল্লাহ তুমি আমাদের ক্ষমা করো আমিন।।কখন “বিসমিল্লাহ” বলবেন, আর কখন “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম”?
আমাদের অধিকাংশই এই ভুলটা করি। সেটা হলো আমরা মনে করি যে, বিসমিল্লাহ হলো আসলে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম এর সংক্ষিপ্ত ভার্শন, তাই সম্পূর্ণভাবে বলতে হলে আমাদের বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম বলা উচিত। (যেমন আসসালামু আলাইকুম সম্পূর্ণভাবে বলতে হলে আমাদের বলা উচিত আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু)।
কিন্তু এই ধারণাটি ঠিক নয়। সালামের যেমন সম্পূর্ণ ভার্শন হলো আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, তাই শুধু আসসালামু আলাইকুম বলার চাইতে এইভাবে পুরোপুরি বলা নিঃসন্দেহে উত্তম। কিন্তু বিসমিল্লাহর বেলায় এরকমটা নয়। বরং হাদীসের বিভিন্ন জায়গায় যেখানে যেখানে বিসমিল্লাহ বলতে বলা হয়েছে, সেখানে শুধু ‘বিসমিল্লাহ’ কথাটাই নবীজী (সা) বলতে বলেছেন। তিনি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম বলতে বলেন নি। যেমন, একটি হাদীসঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “যখন তোমাদের কোনো ব্যক্তি খাওয়া শুরু করে তখন সে যেন ‘বিসমিল্লাহ’ বলে।” (তিরমিযী, ১৮৫৮)
তাই নবীজী (সা) আমাদেরকে যতটুকু বলতে শিখিয়েছেন আমরা ততটুকুই বলবো, তার সঙ্গে আলাদা কিছু যোগ করবো না। কেননা স্বয়ং নবীজীর (সা) শিখিয়ে দেওয়া কথার চাইতে উত্তম আর কী হতে পারে? (যদিও অধিকাংশ উলেমাগণের মতে, কেউ যদি “বিসমিল্লাহ”-র জায়গায় “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” বলে তাহলে সেটা নাজায়েজ হবে না।)
তাই আপনার দৈনন্দিন জীবনের প্রত্যেকটা কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলুন। যেমন বাড়িতে প্রবেশ করার সময়, দরজা লাগানোর সময়, পানাহারের সময়, বাথরুমে ঢোকার সময়, স্নান করার সময়, ওযু করার সময়, পোশাক পরিধানের সময়, গাড়িতে ওঠার সময় ইত্যাদি ইত্যাদি। এরকম ছোটো খাটো প্রত্যেকটা জায়েজ কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলুন।
আর ‘বিসমিল্লাহ’-র সাথে ‘আর-রাহমান আর-রাহীম’ যোগ করে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” বলবেন দুটো ক্ষেত্রেঃ
১. কোরআনের কোনো সুরাহ প্রথম আয়াত থেকে পড়ার শুরুতে।
২. যেকোনো লেখালেখির শুরুতে, যেমন কাউকে চিঠি লেখা, কিংবা কোনো প্রবন্ধ/বই ইত্যাদি লেখার শুরুতে। (যেমন নবীজী (সা) হিরোক্লিয়াস বাদশাহকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি লেখার সময় “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” দিয়ে লেখা শুরু করেছিলেন)।
(বিঃদ্রঃ “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম”-এর পরিবর্তে কোনো লেখার শুরুতে ৭৮৬ লেখা জায়েজ নয়, বরং এটি একটি বিদ'আত, যা থেকে আমাদেরকে অবশ্যই বিরত থাকা উচিত। কেননা ৭৮৬ কখনোই “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম”-কে রিপ্রেজেন্ট করে না। এটি কেবল একটি সংখ্যা মাত্র।)

 

Tuesday, January 3, 2023

 

মা
অসাধারন একটি লেখা শেয়ার করলাম । আশাকরি ভালো লাগবে
এক ভদ্র মহিলা পাসপোর্ট অফিসে এসেছেন পাসপোর্ট করাতে।
অফিসার জানতে চাইলেন- আপনার পেশা কি?
মহিলা বললেন, আমি একজন মা।
আসলে ,শুধু মা তো কোনো পেশা হতে পারেনা।
যাক, আমি লিখে দিচ্ছি আপনি একজন গৃহিনী।
মহিলা খুব খুশী হলেন। পাসপোর্টের কাজ কোনো ঝামেলা ছাড়াই শেষ হলো। মহিলা সন্তানের চিকিৎসা নিতে বিদেশ গেলেন। সন্তান সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসলো।
অনেকদিন পরে, মহিলা দেখলেন পাসপোর্টটা নবায়ন করা দরকার। যেকোনো সময় কাজে লাগতে পারে। আবার পাসপোর্ট অফিসে আসলেন। দেখেন আগের সেই অফিসার নেই। খুব ভারিক্কি, দাম্ভিক, রুক্ষ মেজাজের এক লোক বসে আছেন।
যথারীতি ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে অফিসার জানতে চাইলেন-
আপনার পেশা কি?
মহিলা কিছু একটা বলতে গিয়েও একবার থেমে গিয়ে বললেন-
আমি একজন গবেষক। নানারকম চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করি। শিশুর মানসিক এবং শারিরীক বিকাশ সাধন পর্যবেক্ষণ করে,সে অনুযায়ী পরিকল্পণা প্রণয়ন করি। বয়স্কদের নিবিড় পরিচর্যার দিকে খেয়াল রাখি। সুস্থ পরিবার ও সমাজ বিনির্মাণে নিরলস শ্রম দিয়ে রাষ্ট্রের কাঠামোগত ভিত মজবুত করি।  
প্রতিটি মূহুর্তেই আমাকে নানারকমের চ্যালেঞ্জের ভিতর দিয়ে যেতে হয় এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা মোকাবিলা করতে হয়। কারণ,আমার সামান্য ভুলের জন্য যে বিশাল ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
মহিলার কথা শুনে অফিসার একটু নড়ে চড়ে বসলেন। মহিলার দিকে এবার যেন একটু শ্রদ্ধা আর বিশেষ নজরে তাকালেন । এবার অফিসার জানতে চাইলেন-
আসলে আপনার মূল পেশাটি কি? যদি আরেকটু বিশদভাবে বলতেন।লোকটির আগ্রহ এবার বেড়ে গেলো।
আসলে, পৃথিবীর গুণীজনেরা বলেন - আমার প্রকল্পের কাজ এতো বেশি দূরহ আর কষ্ট সাধ্য যে, দিনের পর দিন আঙুলের নখ দিয়ে সুবিশাল একটি দীঘি খনন করা নাকি তার চেয়ে অনেক সহজ।
আমার রিসার্চ প্রজেক্ট তো আসলে অনেকদিন ধরেই চলছে। সর্বক্ষণ আমাকে ল্যাবরেটরি এবং ল্যাবরেটরীর বাইরেও কাজ করতে হয়। আহার,নিদ্রা করারও আমার সময়ের ঠিক নেই। সব সময় আমাকে কাজের প্রতি সজাগ থাকতে হয়। দুজন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অধীনে মূলত আমার প্রকল্পের কাজ নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে চলছে।
মহিলা মনে মনে বলেন,দুজনের কাউকে অবশ্য সরাসরি দেখা যায়না।
(একজন হলেন, আমার স্রষ্টা আরেকজন হলো বিবেক)
আমার নিরলস কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ আমি তিনবার স্বর্ণপদকে ভূষিত হয়েছি। (মহিলার তিন জন কন্যা সন্তান ছিল।)
এখন আমি সমাজবিজ্ঞান,স্বাস্থ্যবিজ্ঞান আর পারিবারিক বিজ্ঞান এ তিনটি ক্ষেত্রেই একসাথে কাজ করছি, যা পৃথিবীর সবচেয়ে জটিলতম প্রকল্পের বিষয় বলা যায়। প্রকল্পের চ্যালেঞ্জ হিসাবে একটি অটিস্টিক শিশুর পরিচর্যা করে মানুষ হিসাবে গড়ে তুলছি, প্রতিটি মুহুর্তের জন্য।
‘ঊষর মরুর ধূসর বুকে, ছোট্ট যদি শহর গড়ো,
একটি শিশু মানুষ করা তার চাইতেও অনেক বড়।‘
অফিসার মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে মহিলার কথা শুনলেন । এ যেন এক বিস্ময়কর মহিলা। প্রথমে দেখেতো একেবারে পাত্তাই দিতে মনে হয়নি।
প্রতিদিন আমাকে ১৪ থেকে ১৬ ঘন্টা আবার কোনো কোনো দিন আমাকে ২৪ ঘন্টাই আমার ল্যাবে কাজ করতে হয়। কাজে এতো বেশি ব্যস্ত থাকতে হয় যে, কবে যে শেষবার ভালো করে ঘুমিয়ে ছিলাম কোনো রাতে,তাও আমার মনে নেই। অনেক সময় নিজের আহারের কথা ভুলে যাই।আবার অনেক সময় মনে থাকলেও সবার মুখে অন্ন তুলে না দিয়ে খাওয়ার ফুরসত হয়না । অথবা সবাইকে না খাইয়ে নিজে খেলে পরিতৃপ্তি পাই না। পৃথিবীর সব পেশাতেই কাজের পর ছুটি বলে যে কথাটি আছে আমার পেশাতে সেটা একেবারেই নেই। ২৪ ঘন্টাই আমার অন কল ডিউটি।
এরপর আমার আরো দুটি প্রকল্প আছে । একটা হলো বয়স্ক শিশুদের ক্লিনিক। যা আমাকে নিবিড়ভাবে পরিচর্যা করতে হয়।সেখানেও প্রতিমুহুর্তে শ্রম দিতে হয়। আমার নিরলস কাজের আর গবেষণার কোনো শেষ নেই ।
আপনার হয়তো বা জানতে ইচ্ছে করছে, এ চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প পরিচালনায় আমার বেতন কেমন হতে পারে।
আমার বেতন ভাতা হলো- পরিবারের সবার মুখে হাসি আর পারিবারিক প্রশান্তি। এর চেয়ে বড় অর্জন আর বড় প্রাপ্তি যে কিছুই নেই।
এবার আমি বলি, আমার পেশা কি?
আমি একজন মা। এই পৃথিবীর অতিসাধারণ এক মা।
মহিলার কথা শুনে অফিসারের চোখ জলে ভরে আসে। অফিসার ধীরে ধীরে চেয়ার ছেড়ে ওঠেন। নিজের মায়ের মুখ চোখের সামনে ভেসে ওঠে।তিনি খুব সুন্দর করে ফর্মের সব কাজ শেষ করে, মহিলাকে নমস্কার করে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেন। তারপর নিজের অফিস রুমে এসে একটি ধূসর হয়ে যাওয়া ছবি বের করে -ছবিটির দিকে অপলক চেয়ে থাকেন। নিজের অজান্তেই চোখের জল টপ টপ করে ছবিটির ওপর পড়তে থাকে ।
আসলে "মা"-এর মাঝে যেন নেই কোনো বড় উপাধির চমক।বড় কোনো পেশাদারিত্বের করপোরেট চকচকে ভাব।কিন্তু কত সহজেই পৃথিবীর সব মা নিঃস্বার্থ ভাবে প্রতিটি পরিবারে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন।মাতৃত্বের গবেষানাগারে প্রতিনিয়ত তিলেতিলে গড়ে তুলছেন একেকটি মানবিক নক্ষত্র।
সেই মা সবচেয়ে খুশি হন কখন জানেন-
যখন সন্তান প্রকৃতই মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে ধনে নয়, সম্পদে নয়,বিত্তে নয়, ঐশ্বর্যে নয় শুধু চরিত্রে আর সততায় একজন খাঁটি মানুষ হয়।
লেখা সংগৃহীত