Sunday, August 29, 2021

 

পবিত্র কোরআন শতাব্দীর পর শতাব্দী জীবন ও জগৎ সম্পর্কে কোটি কোটি মানুষের অন্তর্দৃষ্টি খুলে দিয়েছে, বদলে দিয়েছে ভেতর থেকে, খুলে দিয়েছে তাদের সম্ভাবনার দ্বার, দিয়েছে প্রশান্ত ও পরিতৃপ্ত জীবন। এই জীবনের সঙ্গে মৃত্যুও যে জড়িত তাও উল্লেখ করেছেন।

‘আল্লাহই তোমাদের জীবন দান করেছেন। তিনিই তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন। আবার তিনিই তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন। তারপরও মানুষ অতি-অকৃতজ্ঞ!’ (সূরা হজ, আয়াত ৬৬)

‘নিশ্চয়ই কখন কেয়ামত হবে তা শুধু আল্লাহই জানেন। তিনি মেঘ থেকে বৃষ্টিবর্ষণ করেন। তিনি জানেন জরায়ুতে কী আছে। অথচ কেউই জানে না আগামীকাল তার জন্যে কী অপেক্ষা করছে এবং কেউ জানে না কোথায় তার মৃত্যু হবে। শুধু আল্লাহই সর্বজ্ঞ, সব বিষয়ে অবহিত।’ (সূরা লোকমান, আয়াত ৩৪)

‘দূরাচারীরা কি মনে করে যে, তাদের জীবন ও মৃত্যু এবং বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের জীবন ও মৃত্যু একইরকম হবে? কত ভ্রান্ত ধারণা ওদের!’ (সূরা জাসিয়া, আয়াত ২১)

মৃত্যু অবধারিত

‘নিশ্চয়ই মৃত্যুর সময় নির্ধারিত। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারো মৃত্যু হতে পারে না। কেউ পার্থিব পুরস্কারের জন্যে কাজ করলে তাকে তার পুরস্কার ইহকালে দান করবো। আর যদি কেউ পরকালের জন্যে কাজ করে তবে তার পুরস্কার সে পরকালে পাবে। শোকরগোজার বান্দাদের কাজের ফল আমি নিশ্চয়ই দেবো।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৪৫)

‘সত্যের পথে তোমরা স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করো বা নিহত হও, তোমরা আল্লাহর কাছেই সমবেত হবে।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৫৮)

‘প্রতিটি প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। মহাবিচার দিবসে তোমাদের সবাইকে কর্মফল পুরোপুরিই দেয়া হবে। সফল মানুষ হবে সে-ই, যাকে লেলিহান আগুন থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে দাখিল করা হবে। আর শুধু পার্থিব জীবন তো এক মরীচিকাপূর্ণ ভোগ-বিভ্রম ছাড়া কিছুই নয়।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫)

‘হে নবী! তোমার পূর্বেও আমি কোন মানুষকে অমরত্ব দান করিনি। তোমার মৃত্যু হলে ওরা কি চিরকাল বেঁচে থাকবে?’ (সূরা আম্বিয়া, আয়াত ৩৪)

‘প্রত্যেক প্রাণই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আমি তোমাদের ভালো ও খারাপ অবস্থা দিয়ে পরীক্ষা করি। আর আমারই কাছে তোমাদের ফিরে আসতে হবে।’ (সূরা আম্বিয়া, আয়াত ৩৫)

‘আল্লাহ মৃত্যু এলে বা ঘুমের সময় আত্মাকে তুলে নেন। তারপর যার মৃত্যু অবধারিত তার আত্মা রেখে দেন। আর অন্যদের আত্মা নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ফিরিয়ে দেন। সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগকারীদের জন্যে এর মধ্যে শিক্ষণীয় নিদর্শন রয়েছে!’ (সূরা জুমার, আয়াত ৪২)

‘হে মানুষ! আমিই জীবন দান করি। আমিই মৃত্যু ঘটাই। আমার কাছেই সবাইকে ফিরে আসতে হবে। যেদিন জমিন বিদীর্ণ হবে এবং মৃত্যুরা উত্থিত হয়ে ছুটতে থাকবে, তখন তাদের সমবেত করা খুব সহজ একটি কাজ।’ (সূরা কাফ, আয়াত ৪৩-৪৪)

‘আমি বিধান দিয়েছি যে, মৃত্যু সব সময় তোমাদের মাঝে অবস্থান করবে। আর তোমাদের অস্তিত্বের প্রকৃতি পরিবর্তন বা তোমাদের জানা নেই, এমন আকৃতিতে তোমাদের সৃষ্টি করা থেকে আমাকে বিরত রাখার শক্তি কারো নেই।’ (সূরা ওয়াকিয়া, আয়াত ৬০-৬১)

‘হে নবী ওদের বলুন, যে মৃত্যু থেকে তোমরা পালাতে চাচ্ছ, তোমাদেরকে সে মৃত্যুর মুখোমুখি হতেই হবে। শেষ পর্যন্ত তোমাদেরকে হাজির করা হবে দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহর কাছে। জীবদ্দশায় যা করেছ, তা তোমরা তখন পুরোপুরি জানতে ও উপলব্ধি করতে পারবে।’ (সূরা জুমআ, আয়াত ৮)

মৃত্যু শয্যায় তওবা

‘সারাজীবন অন্যায় করে মৃত্যু শয্যায় এসে যারা বলে, আমি তওবা করলাম, তাদের তওবা কোন কাজে আসবে না। আর সত্য অস্বীকারকারী হিসেবেই যারা মৃত্যুবরণ করে, তাদের জন্যেও তওবা নয়। তাদের জন্যে আমি নিদারুণ শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছি।’ (সূরা নিসা, আয়াত ১৮)

মৃত্যুর পর পুনরুত্থান

‘যারা মুক্তমন নিয়ে শোনে, তারাই সত্যের ডাকে সাড়া দেয়। মহাবিচার দিবসে আল্লাহ মৃতদের পুনর্জীবিত করবেন। তারপর তারা তাঁর কাছেই ফিরে যাবে।’ (সূরা আনজাম, আয়াত ৩৬)

‘তিনিই নিষ্প্রাণ থেকে প্রাণের উন্মেষ ঘটান আবার প্রাণকে করেন নিষ্প্রাণ। ধূসর জমিনকে তিনিই সজীব করে তোলেন। এমনিভাবে তোমাদেরও মৃত অবস্থা থেকে পুনরুত্থিত করা হবে।’ (সূরা রুম, আয়াত ১৯)




Friday, August 27, 2021

 নগ্নতা শয়তানের প্রথম কাজ : মানুষের উপর শয়তানের প্রথম হামলা ছিল তার দেহ থেকে কাপড় খসিয়ে তাকে উলঙ্গ করে দেওয়া। আজও পৃথিবীতে শয়তানের  পদাঙ্ক অনুসারী ও ইবলিসের শিখন্ডিদের প্রথম কাজ হলো  তথাকথিত ক্ষমতায়ন  ও লিঙ্গ সমতার নমে নারীকে উলঙ্গ করে ঘরের বাইরে আসা ও তার সৌন্দর্য উপভোগ করা। অথচ বিগত সভ্যতাগুলি ধংস হয়েছে মূলত নারী ও মদের সহজলভ্যতার কারণেই। অতএব সভ্য ভদ্র আল্লাহ ভীরু বান্দাদের নিকটে ইমানের পর সর্বপ্রথম ফরজ হলো স্ব স্ব লজ্জাস্থান আবৃত রাখা ইজ্জত আবরুর হেফাজত করা । অন্যান্য ফরজ  সবই এর পরে। নারীর পর্দা কেবল পোষাকে হবে না তাহবে তার কথাবার্তায়, তার আচরণে ও চাল চলতে সর্ব বিষয়ে। পরনারীর প্রতিটি অঙ্গ ভঙ্গি। মিষ্ট কন্ঠস্বর পরপুরুষের হৃদয়ে অন্যায় ভাবে প্রভাব বিস্তার করে।  অতএব লজ্জাশীলতাই মুমিন নর-নারীর অঙ্গ ‍ ভূষন  ও পারস্পরিক গ্যারান্টি । নারী ও পুরুষ প্রত্যেকে একে অপরের থেকে স্ব স্ব দৃষ্টিকে অবনত রাখবে। এবং পরস্পরে সার্বিক পর্দা বজায় রেখে কেবল প্রয়োজনীয় কথাটুকু সংক্ষেপে বলবে। নারী ও পুরুষ  প্রত্যেকে নিজ নিজ স্বাতন্ত্র  ও পর্দা  বজায় রেখে স্ব স্ব কর্মস্থলে ও কর্ম পরিধির মধ্যে স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং সংসার ও সমাজের কল্যাণে সাধ্যমত অবদান রাখবে। নেগেটিভ   ও পজিটিভ পাশাপাশি বিদ্যুৎ দুটি ক্যাবলের মাঝে প্লাস্টিকের আবরন যেমন পর্দার কাজ করে এবং অপরিহার্য এক্সিডেন্ট ও অগ্নি কান্ড থেকে রক্ষা করে । অনুরূপভাবে পর নারী ও পরপুরুষের মধ্যকার  পর্দা উভয়ের মাঝে ঘটিতব্য যেকোন অনাকাঙ্খিত বিষয় থেকে পরস্পরকে হেফাজত করে। অতএব শয়তানের প্ররোচনায় জান্নাতের  পবিত্র পরিবেশে আদি পিতা মাতার জীবনে  ঘটিত অনিচ্ছাকৃত  দূর্ঘটনা থেকে  দুনিয়ার  এই পঙ্কিল পরিবেশে বসবাসরত মানব জাতিকে আরও বেশী সতর্ক ও সাবধান থাকা উচিত।  কুরআন ও হাদিস আমাদেরকে সেদিকেই  হুঁশিয়ার করেছে।

Saturday, August 21, 2021

 

এক বাদশাহর এক বুদ্ধিমান সভাসদ ছিল বাদশাহ তাকে খুব ভালবাসতেন এই ভালবাসার নিদর্শন স্বরূপ বাদশাহ তাকে এক শাহী ক্ষমতা প্রদান করলেন- তুমি যদি কোথাও কোন বোকার সন্ধান পাও, তবে তার মুখে থু থু নিক্ষেপ করবে এই ক্ষমতা পেয়ে সে বোকা লোকের সন্ধান করতে লাগল বড় বড় বুদ্ধিমান বুদ্ধিমান পণ্ডিত ব্যক্তিও তার সাথে কথা বলতে ভয় করত- না জানি আবার বোকামিতে ধরা খেয়ে যায় এভাবে দীর্ঘ বারটি বছর চলে গেল, কিন্তু কোথাও সে কোন বোকার সন্ধান পেল না। আর তার বাদশাহী ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারল না। এজন্য তার মনে খুব দুঃখ ছিল

একদা বাদশাহ অসুখের কারণে মৃত্যুশয্যায় শায়িত। বাদশাহ তার প্রিয় সভাসদকে কাছে ডেকে বললেন, শুন, আমি। চললাম। সভাসদ জিজ্ঞেস করলেন, হুজুর! কোথায় চুললেন? 

 বাদশাহ :  এমন এক স্থানে, যেখানে গেলে কেউ আর কোনদিন ফিরে আসতে পারে না। 

 সভাসদ : 'আপনার খেদমতের জন্য আমাদেরকে সাথে যেতে হবে না হুজুর?

বাদশাহঃ না, তবে অনেক দূর পর্যন্ত আমাকে তোমরা পৌছিয়ে দিয়ে আসবে  

সভাসদঃ সেখানে আরাম-আয়েশে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে তো

 বাদশাহঃ না, তা করার তো সুযোগ হয়নি।  

সভাসদঃ তবে আপনার শাহী সরঞ্জামাদি পাঠিয়ে দেব কি? বাদশাহ? না তা তোমরা পারবে না। এমন সরঞ্জামও আমার নেই- ঐখানে প্রয়োজন হবে 

সভাসদঃ তাহলে শোনেন হুজুর! দীর্ঘ বার বছর পূর্বে আপনি আমাকে একটা শাহী ক্ষমতা প্রদান করেছিলেন যে, কোন বোকা লোক পেলে তার মুখে থু থু দেয়ার জন্য, তা আপনার স্মরণ আছে কি?  

বাদশাহঃ হ্যাঁ, অবশ্যই স্মরণ আছে।   

সভাসদঃ এই দীর্ঘ বার বছর পর্যন্ত আমি কোথাও কোন বোকা পাইনি। তবে এই মাত্র একজন বোকার সন্ধান পেলাম, আর তা হলেন আপনি। কারণ এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের আরাম-আয়েশের জন্য আপনি প্রয়োজনের চেয়ে বহুগুণ সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছেন, অথচ যেখানে আপনাকে চিরকাল থাকতে হবে, যেখানকার জন্য আপনি কিছুই সংগ্রহ করেননি। আপনিই হলেন প্রকৃত বোকা সুতরাং আপনাকে ওয়াক থু।

Wednesday, August 18, 2021

বোখারী শরীফ

ইয়াহইয়া ইবন বুকায়র ()......আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আবু যার (রা) রাসূলুল্লাহ (সঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন : আমার ঘরের ছাদ খুলে দেওয়া হল। তখন আমি মক্কায় ছিলাম। তারপর জিব্রীল (') এসে আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। আর তা যমযমের পানি দিয়ে ধুইলেন। এরপর হিকমত ঈমানে পরিপূর্ণ একটি  সোনার পাত্র নিয়ে আসলেন এবং তা আমার বক্ষে ঢেলে দিয়ে বন্ধ করে দিলেন। তারপর হাত ধরে আমাকে দুনিয়ার আসমানের দিকে নিয়ে চললেন। যখন দুনিয়ার আসমানে পৌছলাম, তখন জিবরীল () আসমানের রক্ষককে বললেন : দরযা খোল। তিনি বললেনঃ কে? উত্তর দিলেন : আমি জিব্রীল আবার জিজ্ঞাসা করলেন : আপনার সঙ্গে আর কেউ আছে কি? তিনি। বললেন : হাঁ, আমার সঙ্গে মুহাম্মদ  (সঃ) তিনি আবার বললেন  : তাকে কি আহবান করা হয়েছে। তিনি উত্তরে বললেন হাঁ। তারপর আসমান খেলা হলে আমরা প্রথম আসমানে উঠলাম। সেখানে দেখলাম, এক লোক বসে আছেন এবং অনেকগুলো মানুষের আকৃতি তার ডান পাশে রয়েছে এবং অনেকগুলো মানুষের আকৃতি বাম পাশেও রয়েছে। যখন তিনি যখন ডান দিকে তাকাচ্ছেন, হাসছে আর যখন বাঁ দিকে তাকালেন, কাদছেন। তিনি বললেন খোশ আমদেদ, হে পূণ্যবান নবী! হে নেক সন্তান! আমি জিবরীল (')-কে জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? তিনি বললেনঃ ইনি আদম () আর তার ডানে বায়ে তার সন্তানদের রুহ।  ডান দিকের লোকেরা জান্নাতী আর বাঁ দিকের লোকেরা জাহান্নামী। এজন্য তিনি ডান দিকে তাকালে হাসেন আর বাঁ দিকে তাকালে কান্না করে দেন। তারপরে জিব্রীল () আমাকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় আকাশে উঠলেন। সেখানে উঠে রক্ষককে বললেন : দরজা খোল । তখন রক্ষক প্রথম আসমানের রক্ষকের অনুরূপ প্রশ্ন করলেন। তারপর দরজা খুলে দিলেন। আনাস (রা) বলেন। এরপর আবু যার বলেন। তিনি (নবী ) আসমান সমূহে আদম ('), ইদরীস (), মূসা (), 'ঈসা (') ইবরাহীম ()-কে পেলেন। আৰু যার (রা) তাঁদের অবস্থান নির্দিষ্টভাবে বলেন নি। কেবল এতটুকু বলেছে যে, নবী সাঃ আদম ()-কে প্রথম আসমানে এবং ইবরাহীম ()কে ষষ্ষ্ঠ আসমানে পেয়েছেন। আনাস (রা) বলেন। যখন  জিবরিল (') নবী জে-কে ইদরীস ()-এর পাশ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন ইদরীস (') বললেন। খোশ আমদেদ। পুণ্যবান নবী এবং নেক ভাই! আমি জিজ্ঞাসা করলাম ? ইনি কে? জিবরীল () বললেন। ইনি ইদরীস (') তারপর আমি মূসা (')-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বললেন খোশ আমদেদ। পুণ্যবান নবী নেক ভাই। আমি বললামঃ ইনি কে? জিবরীল (') বললেনঃ মূসা (') তারপর আমি  মুসা (')- এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বললেনঃ খোশ আমদেদ। খোশ আমদেদ।! পুণ্যবান নবী এবং নেক ভাই। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? জিবরীল () বললেনঃ ইনি ঈসা (') তার পর ইবরাহীম ()-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বললেন : খোশ আমদেদ। খোশ আমদেদ। খোশ আমদেদ।! পুণ্যবান নবী নেক সন্তান! আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? জিবরীল (') বললেনঃ ইনি ইবরাহীম () ইব্ শিহাব () বলেন যে, ইবন হাযম আমাকে খবর দিয়েছেন ইন আৰুৱাস আবু হক আনসারী () উভয়ে বলেন নবী = বলেছেন। তারপর আমাকে আরো উপরে উঠানাে লআমি এমন এক সমতল স্থানে উপনীত হলাম, যেখান থেকে কলমের লেখার শব্দ শুনতে পেলাম। ইবন হাযম () আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন। নবী বলেছেন। তারপর আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করে দিলেন। আমি নিয়ে প্রত্যাবর্তনকালে যখন মূসা (')-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন মূসা (') বললেন। আপনার উম্মতের উপর আল্লাহ কীৱষ করেছেন? আমি বললাম ? পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। তিনি বললেন আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান, করণ আপনার টয়ত তা আদায় করতে সক্ষম হবে না। আমি ফিরে গেলাম। আল্লাহ পাক ছুি অংশ কমিয়ে দিলেন। আমি মূসা (')এর কাছে আবার গেলাম আর বললাম কি অংশ কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন আপনি আবার আপনার রবের কাছে যান। কারণ আপনার উম্মত এও আদায় করতে সক্ষম হবে না। আমি ফিরে গেলাম। তখন আরো কিছু অংশ কমিয়ে দেওয়া হলো । আবারও মূসা ()-এর কাছে গেলাম, এবারও তিনি বললেন আপনি আবার আপনার রবের কাছে যান। কারণ আপনার উম্মত এও আদায় করতে সক্ষম হবে না। তখন আমি আবার গেলাম, তখন আল্লাহ বললেন। এই পাঁচই (সওয়াবের দিক দিয়ে) পঞ্চাশ (গণ্য হবে) আমার কথার কোন পরিবর্তন নেই। আমি আবার মূসা (')-এর কাছে আসলে তিনি আমাকে আবারও বললেন। আপনার রবের কাছে আবার খান। আমি বললাম। আবার আমার রবের কাছে যেতে আমি লজ্জাবোধ করছি। তারপর জিবরীল (') আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। আর তখন তা বিভিন্ন রঙ্গে ঢাকা ছিল, যার তাৎপর্য আমার জানা ছিল না। তারপর আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হল। আমি দেখলাম তাতে মুক্তার হার রয়েছে আর তার মাটি কস্তুরী