Thursday, January 27, 2022

 

বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- ‘মা শা আল্লাহ আরবি- مَا شَاءَ اللهমা শা আল্লাহ’- শব্দটির অর্থ হলো- ‘আল্লাহ তাআলা যেমন চেয়েছেন কিন্তু ব্যাপক প্রচলিত কথাটি কখন এবং কেন বলতে হয় এটি বলার উপকারিতাই বা কী?

হাদিসে পাকে এসেছে, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রশংসার বহিঃপ্রকাশ কিংবা ভালো যে কোনো কিছু দেখলে বলা-

উচ্চারণ : ‘মা শা আল্লাহ

অর্থ : ‘আল্লাহ তাআলা যেমনটি চেয়েছেন’ (মুসলিম)

মা শা আল্লাহকখন বলবেন?

সুন্দর কিছু দেখলে- ‘মা শা আল্লাহবলতে হয় তবে ইসলামিক স্কলাররা মা শা আল্লাহ বলার তিনটি অবস্থা নির্ধারণ করেছেন তাহলো-

. যখন কারও সফলতা দেখবেন; তখন- ‘মা শা আল্লাহবলা

. যখন কাউকে ভালো কিছু করতে দেখবেন; তখন- ‘মা শা আল্লাহবলা

. যখন কারো কোনো সুন্দর জিনিস দেখবেন; তখন- ‘মা শা আল্লাহবলা

মা শা আল্লাহকেন বলবেন?

কারো সফলতা, ভালো কাজ সুন্দর জিনিস দেখেমা শা আল্লাহবলায় কোন বদ নজর লাগে না। বরং মাশা আল্লাহ বলায় রয়েছে বিশেষ উপকার। যে নিজিস বা যে কাজ দেখেমা শা আল্লাহবলা হয়; সে জিনিস বা কাজ থেকে শয়তানের প্রভাব চলে যায়। শয়তান তাতে আর প্রভাব ফেলতে পারে না। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে-

কোনো অতিথি বা মেহমান দাওয়াতে এসে যদি কোনো সুন্দর বাচ্চাকে দেখতে পেয়েমা শা আল্লাহবলে তবে ওই ব্যক্তির বদনজর থেকে বাচ্চাটি হেফাজত থাকে

সুন্দর কিছু দেখলে যা বলা যাবে না

অনেকে সুন্দর কোনো কিছু দেখলে বা সুন্দর কোনো বাচ্চা দেখলে সাধারণত- ‘ওয়াও’, ‘কংগ্রাচুলেসন্সকিংবাওয়ান্ডারফুলইত্যাদি আশ্চর্যজনক শব্দ ব্যবহার করেন। না, এমনটি বলায় সুন্দর জিনিসটিতে শয়তান প্রভাব ফেলতে সুযোগ খুঁজে পায়। তাই সব শব্দ এড়িয়ে চলুন এবং সুন্নাতের অনুসরণে- ‘মা শা আল্লাহবলুন। এতে শয়তানের আক্রমণ বদনজর থেকে কাজটি মুক্ত থাকবে

মা শা আল্লাহ উত্তর দেওয়া

কেউ যদি সুন্দর যে কোনো জিনিস দেখেমা শা আল্লাহবলেন, তবে তার উচিত, শব্দ শুনেই মহান আল্লাহর প্রশংসায়- ‘আলহামদুলিল্লাহকিংবাসুবহানাল্লাহবলা। তাহলে উভয়ের প্রশংসা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য বরকতময় হয় এবং দুনিয়ার যাবতীয় ক্ষতি থেকে বিষয় বা উপলক্ষ্যটি মুক্তি পায়

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, সুন্দর কিংবা প্রশংসামূলক কোনো কিছু দেখলে- مَا شَاءَ الله ‘মা শা আল্লাহবলা। আর কাউকেমা শা আল্লাহবলতে শুনলে আল্লাহর প্রশংসায়- ‘আলহামদুলিল্লাহবাসুবহানাল্লাহবলা

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুন্দর কিছু দেখলে কিংবা প্রশংসামূলক কাজেমা শা আল্লাহবলার তাওফিক দান করুন আর যারামা শা আল্লাহশুনবেন তাদের আলহামদুলিল্লাহ বা সুবহানাল্লাহ বলার তাওফিক দান করুন আমিন

 

হাসান তাকী: বন্ধু শব্দটি বাংলা ভাষায় বহুল চর্চিত একটি শব্দ,  শব্দটি ছোট হলেও আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এই বন্ধু সম্পর্কটির গুরুত্ব অপরিসীম। আরবী পরিভাষায় বন্ধুকে বলা হয়  ‘খলিল’। বন্ধুত্ব এমন একটি সামাজিক বন্ধন, যা মানুষকে আত্মার বন্ধণে আবদ্ধ করে রাখে। বন্ধুত্ব এমন একটি পবিত্র সর্ম্পক যা নিয়ে স¦য়ং আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বিভিন্নভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন; পাশাপাশী সৎ এবং পরহেজগার বন্ধু নির্বাচনে উৎসাহিত করেছেন।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা বলেছেন, আর ঈমানদার পুরুষ এবং ঈমানদার একে অপরের বন্ধু। তারা ভালো কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠিত করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন-যাপন করে। তাদের ওপর আল্লাহতায়ালা অনুগ্রহ করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী সুকৌশলী। -সূরা আত তওবা: ৭১

পবিত্র কোরআনের অন্য জায়গায় আল্লাহ্তায়ালা এরশাদ করেন ‘আপনি নিজেকে তাদের সঙ্গে আবদ্ধ রাখুন, যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে অবচেতন করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার আনুগত্য করবেন না।’ (সুরা কাহাফ : আয়াত ২৮)

হাদিস শরীফে রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কাউকে ভালোবাসলো, তো আল্লাহর জন্যই ভালোবাসলো, কাউকে ঘৃণা করলো তো আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করলো, কাউকে কিছু দিলো তো আল্লাহর জন্যই দিল এবং কাউকে দেয়া বন্ধ করলো তো আল্লাহর জন্যই দেয়া বন্ধ করলো, তবে সে তার ঈমানকে পূর্ণ করলো। (মিশকাত শরিফ)

বিভিন্ন কারণে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। কিন্তু আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে সে বন্ধুত্ব সবচেয়ে বেশি দৃঢ় হয়। অপরদিকে নিজের স্বার্থের জন্য উপকার লাভের আশায় সামাজিক শ্রেণী ও জাতিগত পরিচিতির ভিত্তিতে যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে তা বেশিদিন টিকে না। এ সকল ক্ষেত্রে কারো স্বার্থে কোন রকম আঘাত লাগলেই বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়।

ইসলামের দৃষ্টিতে উপযুক্ত লোকদের সাথে বন্ধুত্ব করা উচিত এবং সারা জীবন যেন বন্ধুত্ব অটুট থাকে সে চেষ্টা করা। যে বন্ধুত্ব আমাদের জীবনের আমূল পরিবর্তন করে দেয়, যে বন্ধুত্ব ছাড়া আমাদের চলা সম্ভব নয়, সে বন্ধুত্ব লালনের জন্য কোরআন ও হাদীসে নির্দেশনা মানতে হবে।

একজন ভালো বন্ধুর কি কি গুণ থাকা দরকার এ সম্পর্কে ইমাম গাজ্জালি (রহ) বলেন, যার মধ্যে তিনটি গুণ আছে তাকে বন্ধু হিসেবে নির্বাচন করা উচিৎ।

গুণগুলো হলো:

১. বন্ধুকে হতে হবে জ্ঞানী ও বিচক্ষণ

২. বন্ধুর চরিত্র হতে হবে সুন্দর ও মাধুর্যময়

৩. বন্ধুকে হতে হবে নেককার ও পুণ্যবান

অনেক সময় চরম শত্রুও বন্ধুত্বের ছদ্মবেশে এসে ভীষণ সর্বনাশ করে। ইবলিশ শয়তানও হজরত আদম (আ.)-এর কাছে বন্ধুর বেশে এসে তাঁদের ধোঁকায় ফেলেছিল।

পরিশেষে একটি কথা দ্বার্থহীন কণ্ঠে বলা যেতে পারে, ভালো গুণের অধিকারী ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করাই মুসলমানের কাম্য।