Saturday, December 31, 2022

 

হজরত সাখার আল-গামেদি (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এ দোয়া করেছেন, ‘হে আল্লাহ, আমার উম্মতের জন্য দিনের শুরুকে বরকতময় করুন।

’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৬০৬)

হজরত ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ (সা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘একদা রাসুল (সা.) আমার ঘরে এসে আমাকে ভোরবেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় দেখলেন, তখন আমাকে পা দিয়ে নাড়া দিলেন এবং বললেন, মা মণি! ওঠো! তোমার রবের পক্ষ থেকে রিজিক গ্রহণ করো! অলসদের দলভুক্ত হয়ো না। কেননা আল্লাহ সুবহে সাদেক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত মানুষের মধ্যে রিজিক বণ্টন করে থাকেন। ’ (আত-তারগিব, হাদিস নং : ২৬১৬)

শপথ প্রভাতকালের, যখন তা আলোকোজ্জ্বল হয়। নিশ্চয় জাহান্নাম ভয়াবহ বিপদগুলোর অন্যতম। ’ (সুরা : মুদ্দাসিসর, আয়াত : ৩৩-৩৫)

শপথ তাদের, যারা অভিযান বের করে প্রভাতকালে। ’ (সুরা : আদিআত, আয়াত নং : ০৩)

প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সকালবেলায় রিজিকের অন্বেষণ করো। কেননা সকালবেলা বরকতময় ও সফলতা অর্জনের জন্য উপযুক্ত সময়। ’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, হাদিস নং : ৬২২০)

নতুন সকাল নিয়ে উক্তি

নতুন সকাল নিয়ে অনেকেই উক্তি খোঁজ করে থাকে। যারা নতুন সকালে নিয়ে উক্তি খোঁজ করেছেন। তারা আজকের এই পোস্ট থেকে খুব সহজেই সংগ্রহ করে নিতে পারবেন। আমরা এই পোস্টে নতুন সকাল নিয়ে উক্তি তুলে ধরেছি। আশা করি আজকের এই পোস্টে থাকা উক্তি গুলো আপনাদের কাছে ভালো লাগবে

আপনি যদি জীবনের সাথে বিরক্ত হন –
তাহলে আপনি প্রতিদিন সকালে কিছু করার জন্য জ্বলন্ত ইচ্ছা নিয়ে উঠবেন না –
অপরিকল্পিত লক্ষই আপনার জীবনের বিরক্তির কারণ।

যে ব্যক্তি সকালের শিশির ছড়ায় না সে ধূসর চুল আঁচড়াবে না।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার জন্য যারা ঘুমাতে গিয়েছে তারই ভালো মানুষ।

এটা লজ্জার বিষয় যে সকালে পাখিদের আপনার চেয়ে আগে জেগে উঠতে হবে।

আমি প্রতিদিন সকাল নয়টায় ঘুম থেকে উঠে সকালের কাজ ধরি।
তারপর আমি মৃত্যুর পাতার দিকে তাকাই।
যে পাতায় আমার নাম থাকাটাই বাস্তবতা।

Friday, December 30, 2022

 

  আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

ওয়ালাইকুমুস সালাম  ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

 জীবনের প্রথম বাজে যে কোকিল প্রথম ডাকে,,,, সে হউকনা কুৎসিত কালো, সে আমার জীবনের আলো নাইচ তোমার চেহারা সুইট তোমার হাসি,,, সত্যি করে বললাম আমি--- তোমায় ভালোবাসি। মহুয়ার মালা গলে কে তুমি এলে, নয়ন ভুলানো রুপে কে তুমি এলে। পৃথিবীতে মানুষ স্নেহ, মায়া, মমতা, প্রেম প্রীতি ভালোবাসা নিয়ে বেচে থাকে।

 আমাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দাও, যদি আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা সত্যি হয়

আমিন আমিন আমিন ইয়া রব্বুল আলামিন । আপনি আমাদের শান্তি ও নিরাপত্তা এবং ঈমান ও ইসলামের উপর অবিচল রেখে শয়তান থেকে সুরক্ষা দান করুন। এবং আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের তৌফিক দান করুন । আমিন

আলহামদুলিল্লাহ প্রশংসা সেই মহান মাবুদের যিনি প্রতিদিন আমাদের ঘুম হতে জাগ্রত করে নতুন সূর্য দেখার তৌফিক দান করেন । মাবুদের দরবারে লাখ কোটি শুকরিয়া আলহামদুলিল্লাহ 

একটি প্রকৃত এবং গভীর ভালোবাসার সম্পর্কে কোনো ইতি থাকে না৷ গভীরভাবে কেউ তোমায় ভালোবাসলে তুমি পাবে মানসিক শক্তি আর তুমি যদি গভীরভাবে কাউকে ভালোবাসো তাহলে তুমি পাবে অনুপ্রেরণা।

 আমি তোমার অনুভূতিকে সম্মান করি । এটি তোমার কাছে কিছুই না হতে পারে, তবে এটি আমার কাছে সব কিছু হতে পারে। 

প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর যিনি আবার একটি সকালের সুন্দর সূর্য দেখার তৌফিক দান করলেন । মাবুদের দরবারে লাখ কোটি শুকরিয়া আলহামদুলিল্লাহ

আল্লাহর কাছে সেজদায় মাথানত করার তৌফিক আল্লাহ আমাদের দান করেছেন তাই মাবুদের দরবারে শোকরিয়া আদায় করি। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ বলেন যে ব্যক্তি আল্লাহর কুদরতি পায়ে মাথা নত করে তাহাকে কোনদিনও পৃথিবীর কারো কাছে মাথা নত হতে আল্লাহ দেবে না।

গোটা পৃথিবীর জল দিয়ে জাহান্নামের আগুন নেভানো যাবেনা, কিন্তু মোনাজাতে আপনার চোখের দুই ফোটা জল জাহান্নামের আগুন নিভিয়ে দেবে

দোয়া করতেই থাকুন একদিন না একদিন আল্লাহ আপনাকে সফলতা উপহার দিবেন! ইনশাআল্লাহ

সকালে নামাজ পরে

মোনাজাতের এক ফোটা চোখের পানি একদিন আপনার ভাগ্য পরিবর্তন করে দিতে পারে! ইনশাআল্লাহ!

যদি অন্ধকারকে ভয় পাও, তাহলে কোরআন পড়ো! একদিন অন্ধকার কবরে কোরআনই তোমাকে আলো দেবে

সেই মেয়েটি সত্যিই খুব ভাগ্যবতী, যার ভালোবাসার মানুষ মানে তার স্বামীর রোজগার কম হলেও চরিত্র ও ভালোবাসাটা কিন্তু একদম খাঁটি।

যৌবনের প্রথম প্রেম হল আল-কোরআন! আর প্রথম ভালোবাসা হলো নামাজ।

রাত যখন গভীর হয় – কেউ ডুবে থাকে পাপে, আর কেউবা তাহাজ্জুদে অশ্রু ঝরায় পূর্বের গুনাহ মাফে

আল্লাহর কাছে সেজদায় মাথানত করুন! আল্লাহ আপনাকে কোনদিনও পৃথিবীর কারো কাছে মাথা নত হতে দেবে না।

আই উইশ – সবার মনের নেক ইচ্ছা গুলো আল্লাহ জানেন! তিনি যেন সবার মনের নেক ইচ্ছে গুলো পূরণ করে দেয়! আমিন!

জীবনে কিছু কিছু প্রশ্ন থাকে, যার উত্তর কখনও মিলেনা কিছু কিছু ভুল থাকে যা শোধরানো যায়না, আরকিছু কিছু কষ্ট থাকে, যা কাউকে বলা যায়না

 মৃত্যু! এক নির্মম, কঠিন বাস্তবতার নাম! এ থেকে কেউ পলায়ন করতে পারবে না, হোক সে এক্কেবারে মিস্কিন অথবা সম্পদশালী । মৃত্যু যেকোন বয়সের, যে কোন মানুষের সামনে, যেকোন সময়ে উপস্থিত হতে পারে!
-
মৃত্যু,এমন এক মেহমান, যে দরজায় এসে দাঁড়ালে তাকে ফিরিয়ে দেয়ার ক্ষমতা দুনিয়ার কোন প্রাণীর ই নেই!
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহতালা বলেন--
“তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই! এমনকি সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করলেও।”
[ সূরা নিসা (৪), আয়াত ৭৮ ]

 

আফ্রিকার দরিদ্রতম একটি গ্রাম। এতটাই দরিদ্র যে সেখানে সাত সন্তানের জননী এক মা একটু নুন আর সবজির খোসা ছিটিয়ে মাটির বিস্কুট তৈরি করে নিজে খান, বাচ্চাদের খাওয়ান, বিক্রিও করেন।
রাতে যখন গল্প বলে ভুলিয়ে বাচ্চাদের খাওয়ান, ওরা কাঁদে,
খেতে চায়না। মা বলেন,
'কাঁদিস না বাছা, একদিন আমরা থালাভরা ভাত খাবো। শীগগিরই'...।
সেই গ্রামের স্কুলে একদিন রেস হবে। বিজয়ীর পুরস্কার মেডেল নয়, ট্রফি নয় এক ঝুড়ি খাবার রুটি, বিস্কুট, কেক, চকলেট এসব।
ওদের মধ্যে খুব উৎসাহ। পরদিন রেস শুরু হবে। জীর্ণ বস্ত্রে অর্ধ নগ্ন বাচ্চারা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে।
'On Your Mark Ready Steady Go....' দৌড় শুরু। কিন্তু এ কি কান্ড!
ছেলেরা দৌড়াতে দৌড়াতে একজন পাশের জনের হাত ধরে ফেলল। হাতে হাত ধরে দৌড়। কেউ হারেনি। সবাই জয়ী! দৌড় শেষে দু'হাত তুলে নাচ। Ubuntu!! Ubuntu!!
রক্তচক্ষু শিক্ষকের জিজ্ঞাসু চাহনি,
এমনতো কথা ছিলনা। এর মানেটা কি?
শিশুদের জবাব - আমরা কেউ একা জিতলে অন্য ক্ষুধার্ত বন্ধুদের না দিয়ে কোন আনন্দে খেতাম?
শিক্ষকের থোতা মুখ ভোঁতা! Ubuntu - আফ্রিকার Xhosa সংস্কৃতিতে যার অর্থ -
"I am B'coz we are!"
আমরা আছি, তাই আমি আছি। আমরা না হলে আমি কে?
লাখ কথার এক কথা এবং শেষ কথা।
"দরিদ্র ক্ষুধার্ত মানুষের নীরব কান্না হাহাকার যখন আফ্রিকার বাতাস ভারী হয়ে উঠে তখন উন্নত বিশ্বের লোকেরা মহানন্দে বিভোর। সারা বিশ্বের সম্পদ অল্প সংখ্যক মানুষের হাতে স্তূপীকৃত। হায়রে অসম বন্টন!
আমরা মানবতার কথা বলি, ধর্মের বুলি ছুঁড়ি, সমরাস্ত্রের জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় করি, নিজেকে বাঁচানোর জন্য অন্যকে হত্যা করি, ধর্মের নামে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছি আগুন, অথচ পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষ দরিদ্র সীমার নীচে বসবাস করে।
এই অত্যাধুনিক সভ্য যুগেও মা'কে সন্তানদের ক্ষুধা নিবারণের জন্য মিথ্যা আশ্বাসের গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়াতে হয়। আশ্চর্য এই পৃথিবী। কোথায় আমাদের মানবতা, কোথায় আমাদের ধর্ম, কোথায় আমাদের বিবেক?"
আজ থেকে ২০০ বছর পর আমার বাড়িতে, আমার ঘরে যারা বসবাস করবে, যারা আমার জায়গা জমি ভোগ করবে আমি তাদের চিনিনা।
তারাও আমাকে চিনবেনা।
কারন তাদের জন্মের অনেক আগেই আমি কবরবাসি হয়ে যাব।
আর ততদিন মুছে যাবে আমার নাম নিশানা।
কবরটাও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
আমার সন্তানরা যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন তারা হয়ত মনে পড়লে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলবে!
কিন্তু তাদের মৃত্যুর পর তাদের সন্তানরা তাদের যতটুকু মিস করবে আমাকে ততটুকু মিস করবে না।
হয়ত বাবার কবর জিয়ারত করে দোয়া করার সময় দাদার জন্যও একটু করবে।
কিন্তু তার পরের প্রজন্ম আর মনে রাখবেনা।
প্রায় ২০০ বছর আগে মারা গেছে আমার দাদার দাদা।
যিনি আমার পূর্ব পুরুষদের জন্য ঘর বাড়ি, জায়গা জমি রেখে গেছেন। একিই বাড়ি, একিই জায়গা জমি আমরা এখন ভোগ করছি।
কিন্তু উনার কবরটা কোথায় সেটা আমরা জানিনা।
হয়ত আমার দাদার পিতা জানতেন।
কিন্তু দাদার পিতা তো বেঁচে নেই, দাদাও বেঁচে নেই।
তবে সাত পাঁচ করে যে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন সেটা কবরে নিয়ে যেতে পারবেন না।
আর যাদের জন্য রেখে যাচ্ছেন তারা ও আপনাকে মনে রাখবে না এটা নিশ্চিত!
অন্যের সম্পত্তি জবর দখল করে ভাবছেন আপনি জিতে গেছেন?
সুদ, ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য করে সম্পদের পাহাড় গড়ে ভাবছেন আপনি জিতে গেছেন?
তাহলে আপনি আস্ত একটা বোকা !
এই শব্দটা ব্যবহার করার জন্য স্যরি!
ক্ষমা করবেন।
আমাদের সময় খুব কম! তাই এই সুদ, ঘুষ ,দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহার,সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ ইত্যাদি, কোন লাভ নেই ভাইজান।
সময় থাকা কালীন ভালো হয়ে কবরের খোরাক সংগ্রহ করুন ঐটাই বুদ্ধিমানের কাজ।। আসুন নিজেকে সৎ মানুষ হিসেবে তৈরি করি পরকালের জন্য নিজেকে প্রস্তুতি করি।
নেক আমলেই আপনার আমার জন্য প্রকৃত সম্পদ।।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে ক্ষমা করে দাও আমিন।

 

Wednesday, December 28, 2022

একদিন ইব্রাহীম ইবনে আদহাম (রঃ) বসরা শহরের বাজারের একটি পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকজন তার পাশে সমবেত হয়ে জিজ্ঞাসা করল:

হে আবু ইসহাক আল্লাহ সোবহানাহাতাহু ওয়াতা আলা কোরআনে বলেন “আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব” কিন্তু আমরা অনেক দিন ধরে আল্রাহকে ডাকি কিন্ত আল্লাহ তায়ালা আমাদের দোয়ার সাড়া দিচ্ছেন না ।

ইব্রাহীম বিন আদহাম বলেন হে বসরা বাসী দশটি ব্যপারে তোমাদের অন্তর মরে গেছে।

(১) তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে জানো কিন্তু তার প্রতি তোমাদের কর্তব্যগুলো

পালন কর না ।

(২) তোমরা কোরআন পড় ঠিকই কিন্তু সে অনুযায়ী আমল কর না।

(৩) তোমরা দাবী কর যে, রাসুলুল্লাহ (সঃ)কে ভালোবাসো কিন্তু তার সুন্নতকে অবহেলা করো ।

(৪) তোমরা নিজেদেরকে শয়তানের শত্রু হিসেবে দাবী কর কিন্তু তোমরা তারই পদাংক অনুসরণ কর।

(৫) তোমরা জান্নাতে যেতে উদগ্রীব কিন্তু তার জন্য পরিশ্রম কর না।

(৬) তোমরা জাহান্নামের ভয়ে আতঙ্কিত কিন্তু পাপের মাধ্যমে তার নিকটবর্তী হচ্ছো।

(৭) তোমরা স্বিকার কর মৃত্যু অনিবার্য কিন্তু তার জন্য নিজেকে প্রস্তুত কর না ৷ (৮) তোমরা সবসময় অন্যের দোষ বের করতে সচেষ্ট কিন্তু নিজের দোষ ত্রুটির ব্যপারে খেয়াল রাখ না ।

(৯) তোমরা আল্লাহর নিয়ামত উপভোগ কর কিন্তু তার জন্য শুকরিয়া আদায় কর

না।

(১০) তোমরা মৃতের লাশকে দাফন করো কিন্তু তার থেকে শিক্ষা গ্রহন করো না

 

Tuesday, December 27, 2022

 

০১. আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম।

[অর্থঃ বিতারিত শয়তানের হাত থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।] .


০২. বিস্মিল্লাহির রহমানির রাহিম।

[অর্থঃ পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি।] .


০৩. রাব্বানা আ’তিনা ফিদ্দুনিয়া হাছানাতাঁও ওয়াফিল আখিরাতি হাছানাতাঁও ওয়াক্বিনা আজাবান্নার।

[অর্থঃ হে আল্লাহ্ তুমি আমাকে ইহকালীন যাবতীয় সুখ-শান্তি ও পরকালীন যাবতীয় সুখ-শান্তি প্রদান কর। আর দোজখের আগুন থেকে আমাকে রক্ষা কর।] .


০৪. মাতা-পিতার জন্য সন্তানের দোয়াঃ

রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাঈয়ানী সাগিরা।

(সূরা বণী ইসরাইল, আয়াতঃ ২৩-২৫)

[অর্থঃ হে আল্লাহ্ আমার মাতা-পিতার প্রতি আপনি সেই ভাবে সদয় হউন, তাঁরা শৈশবে আমাকে যেমন স্নেহ-মমতা দিয়ে লালন-পালন করেছেন।] .


০৫. ঈমানের সাথে মৃত্যু বরণ করার দোয়াঃ

রাব্বানা লা’তুযিগ কুলুবানা বা’দা ইয হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিল্লাদুনকা রাহমাতান, ইন্নাকা আনতাল ওয়াহাব।

(সুরা আল ইমরান, আয়াতঃ ০৮)

[অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা, সরলপথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে বক্র করে দিওনা এবং তুমি আমাদের প্রতি করুনা কর, তুমিই মহান দাতা।] .


০৬. ভুল করে ফেললে ক্ষমা চাওয়ার দোয়াঃ

রাব্বাবা যালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফির্লানা ওয়াতার হামনা লানা কুনান্না মিনাল খা’সিরিন

[অর্থঃ হে আল্লাহ্, আমি আমার নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি। এখন তুমি যদি ক্ষমা ও রহম না কর, তাহলে আমি ধ্বংস হয়ে যাব।] .


০৭. গুনাহ্ মাফের দোয়াঃ

রাব্বানা ফাগফিরলানা যুনুবানা ওয়া কাফফির আন্না সাইয়্যিআতিনা ওয়া তাওয়াফ্ফানা মায়াল আবরার।

(সূরা আল ইমরান, আয়াতঃ ১৯৩)

[অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দাও, আমাদের থেকে সকল মন্দ দূর করে দাও এবং আমাদের নেক লোকদের সাহচার্য দান কর।] .


০৮. স্বামী-স্ত্রী-সন্তানদের জন্য দোয়াঃ

রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিইয়াতিনা কুররাতা আইইনিও ওয়াজ আলনা লিল মুত্তাক্বিনা ইমামা।

(সূরা আল ফুরকান, আয়াতঃ ৭৪)

[অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদিগকে আমাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিগণ হতে নয়নের তৃপ্তি দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানাও।] .


০৯. ঈমান ঠিক রাখার আমলঃ

ইয়া মুক্বাল্লিবাল কুলুবি ছাব্বিত ক্বালবি আলা দ্বীনিকা।

[অর্থঃ হে মনের গতি পরিবর্তনকারী, আমার মনকে সত্য দ্বীনের উপর স্থিত কর।] .


১০. সন্তানদের প্রতি মাতা-পিতার দোয়া ও মাতা-পিতার জন্য সন্তানদের দোয়াঃ

রাব্বিজ আলনী মুতিমাছ ছালাতি ওয়ামিন জুররি ইয়াতি, রাব্বানা ওয়াতাকাব্বাল দুয়া, রাব্বানাগ ফিরলি ওয়ালি ওয়ালি দাইয়া ওয়ালিল মু’মিনিনা ইয়াওয়া ইয়াকুমুল হিসাব।

(সূরা ইব্রাহিম, আয়াতঃ ৪০-৪১)

[অর্থঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে নামাজ কায়েমকারী বানাও আর আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। হে আল্লাহ্ আমার দোয়া কবুল করে নাও। হে আল্লাহ্ আমাকে ও আমার মাতা- পিতাকে আর সকল ঈমানদার লোকদের সেদিন ক্ষমা করে দিও, যেদিন হিসাব কার্যকর হবে।] .


১১. নেক সন্তানদের জন্য দোয়াঃ

রাব্বি হাবলি মিনাস সালেহীন।

[অর্থঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে নেককার সৎ-কর্মশীল সন্তান দান কর।] .


১২. অবাধ্য সন্তান বাধ্য করার দোয়াঃ

ওয়াছলিহলি ফী যুররিইয়াতি, ইন্নি তুবতু ইলাইকা, ওয়া ইন্নি মিনাল মুসলিমীন।

(সূরা আহকাফ, আয়াতঃ ১৫)

[অর্থঃ আমার জন্য আমার সন্তানদের মধ্যে প্রীতি দান কর, অবশ্যই আমি তোমারই দিকে ফিরিতেছি এবং অবশ্যই আমি মুসলমানদের অন্তর্ভূক্ত।] .


১৩. সকল মুসলমানদের জন্য দোয়াঃ

আল্লাহুম্মাগ ফিরলী ওয়ালিল মু’মিনিনা ওয়াল মু’মিনাতি, ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাতি।

[অর্থঃ হে আল্লাহ্ তুমি আমার ও সমস্ত মু’মিন নর-নারীর এবং সমস্ত মুসলমান পুরুষ ও স্ত্রীলোকের পাপ সমূহ মোচন করে দাও।] .


১৪. কাফেরদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার দোয়াঃ

রাব্বানাগ ফিরলানা যুনুবানা ওয়া ইসরাফানা ফী আমরিনা ওয়া ছাব্বিত আক্কদামানা ওয়ানছুরনা আলাল কাওমিল ক্বাফিরীন।

(সূরা আল ইমরান, আয়াতঃ ১৪৭)

[অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের গুনাহ এবং কোন কাজের সীমা লঙ্ঘনকে তুমি ক্ষমা কর, আমাদের ঈমান দৃঢ় রাখ এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে আমাদের বিজয়ী কর।] .


১৫. ক্ষমা ও রহমতের দোয়াঃ

রাব্বিগ ফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমীন।

[অর্থঃ হে আল্লাহ্, আমাকে ক্ষমা করে দাও, আর আমার প্রতি রহম কর, তুমিই তো উত্তম দয়ালু।]

যে ছিলো নেতা

22h 
☘️|| পেনশান প্রার্থী ||☘️
স্যার , ভদ্রমহিলা আবারো এসেছেন । ভেতরে আসতে বলবো ?
ডি আই সাহেব একটু বিরক্তির সুরে বললেন , বল ।
ভেতরে ঢুকলেন এক বৃদ্ধা । দক্ষিণ কলকাতায় এক স্কুল থেকে দশ বছর আগে রিটায়ার করেছেন । এখনো পেনশান পাননি । তদ্বির করতে এসেছেন বৃদ্ধা ।
ভেতরে ঢুকতেই ডি আই অব স্কুল তাঁর ফাইলে কৃত্রিম মনোযোগ নিক্ষেপ করে বললেন , যা বলবার তাড়াতাড়ি বলুন । মহিলা তাঁর আঁচলে মুখের ঘাম মুছলেন । চশমার কাঁচ মুছলেন । তারপর ক্ষীণকন্ঠে একটা চেয়ারের কোনা ধরে দাঁড়িয়ে হাঁফাতে হাঁফাতে বললেন , স্যার ! আমার ফাইলটা মুভ করেছে ?
টেবিলের অপর প্রান্তে ফাইলে মুখ গুঁজে ডি আই এর উত্তর ভেসে এলো , কী করে করবে ? এ জি বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছে । যথাযথ রিপ্লাই না পেলে আপনার ফাইল পাঠিয়ে কোন লাভ হবে না ।
প্রৌঢ়া বললো , কী প্রশ্ন জানতে চান ?
ডি আই বিরক্তির সুরে বললেন , আপনার সার্ভিস বুক থরোলি চেক করে আপনাকে আমি আগেও যে প্রশ্ন করেছিলাম এ জি ঠিক সেই প্রশ্নই করেছে ... তবুও আপনি আমায় রিকোয়েস্ট করেছিলেন এ জি-তে ফাইলটা পাঠাতে । আই হ্যাভ ডান মাই ডিউটি । নাও আই হ্যাভ নাথিং টু ডু । আপনার সার্ভিস বুকে আপনার কোয়ালিফিকেশানের কোন উল্লেখ নেই । আপনি যে বি এ পাশ করেছেন তার প্রমাণ কোথায় ? আপনাকে স্কুল কমিটি সিলেক্ট করেছিল কমপ্যাশানাট গ্রাউন্ডে । সার্ভিস বুকে শুধু লেখা রয়েছে , সী হ্যাস বীন সিলেক্টেড অন রেকমেনডেশান অব এ সিনিয়র ক্যাবিনেট মিনিস্টার এন্ড দ্যা স্কুল কমিটি হ্যাজ বীন কমপেলড টু রিক্রুট হার অন কমপ্যাশানেট গ্রাউন্ড দ্যাট সি ওয়াজ এ ফ্রীডাম ফাইটার এন্ড হ্যাড বীন ইন জেল ফর এ সেভারেল লঙ ইয়ার্স ।
বৃদ্ধার মুখে এবারে ফুটে উঠলো অপমানের ছাপ ।
সত্যিই তো , তিনি যে বি এ পাশ করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সে প্রমাণ কোথায় ? তিনি বি এ পাশ করার পর একটা চোথা কাগজ পেয়েছিলেন বটে যেটাকে মার্কশিট বলে । কিন্তু সেটাই বা কোথায় ? ১৯৩১ সালে বি এ পাশ করলেন ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে । পরের বছরে হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসব । সেই সমাবর্তনে তাঁর সার্টিফিকেট পাওয়ার কথা ছিল । কিন্তু তা আর হল কৈ ? সেদিনই যে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করলো । তারপর দীর্ঘ কারাবাস । কারাবাস থেকে বাড়ি ফিরে এসে দেখলেন পুলিশ ঘরে ঢুকে তাঁর বইপত্র সবকিছু তছনছ করে চলে গেছে । অনেক খুঁজেও পাওয়া গেলো না তাঁর সেই মার্কশিট । আর সেনেট হলের সেই ঘটনার পরেই তো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর সার্টিফিকেট বাতিল করে দিল । তাঁর তখন মনে হয়নি ঐ সার্টিফিকেটের মূল্য কতখানি । জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার কিছুদিন পর আবারো জেলে গেলেন ভারত-ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দিয়ে । দেশ স্বাধীন হল । তাঁর মনে হল , এই স্বাধীনতাই কি তাঁরা চেয়েছিল ? পেটের দায়ে নেতাদের দয়ায় দক্ষিণ কলকাতার এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে চাকরি করলেন ক'বছর । তখন কি করে বুঝবেন যে এ দেশে কমপ্যাসানেট গ্রাউন্ডে চাকরি পাওয়া যেতে পারে কিন্তু ইউনিভার্সিটির বাজেয়াপ্ত সার্টিফিকেট পাওয়া যায় না ! এই সার্টিফিকেটের জন্যে তিনি বহুবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে রেজাল্ট সেকশানে তদ্বির করেছেন । শেষে একজন এসিস্ট্যান্ট কন্ট্রোলার অনেক ফাইল ঘেঁটে-ঘুটে তাঁকে শেষে বলেছিলেন , আপনার সম্পর্কে সে সময় সিনেটে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা বর্তমান সিনেট কনডোন করে আপনাকে সার্টিফিকেট দেওয়ার সুপারিশ না করা পর্যন্ত আপনাকে কোন সার্টিফিকেট দেওয়া যাবে না । অনেক চেষ্টা করে বৃদ্ধা একবার ভাইস চ্যান্সেলারের সাথে গিয়েও দেখা করেছিলেন । ভি সি যদিও খুব ভদ্র ব্যবহার করেছিলেন কিন্তু তিনিও তাঁকে সেই একই কথা বলেছিলেন । বিশ্ববিদ্যালয়ের রুলস অনুযায়ী সিনেটের পারমিশান ছাড়া কাউকে সারটিফিকেট দেওয়ার কোন প্রভিশান নেই । একজন সিনেট সদস্য একবার ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁকে ইউনিভার্সিটির তরফে সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যাপারে একটা প্রস্তাব তুলেছিলেন । কিন্তু সিনেট তো আসলে দলীয় রাজনীতির আখড়া । যিনি প্রস্তাব তুলেছিলেন তিনি তো দলীয় রাজনীতির বিচারে মাইনরিটি । তা তাঁর প্রস্তাব বাকিরা মানবে কেন ? ফলে প্রস্তাবটা প্রত্যাখ্যান হল । আফটার অল , বৃদ্ধা একজন কংগ্রেসি মন্ত্রীর রেকমনডেশনে স্কুলের চাকরিটা পেয়েছিলেন । কংগ্রেসিরা রাজ্য শাষণ থেকে বিদায় নিয়েছে । বৃদ্ধা আজও মনে-প্রাণে কংগ্রেসি । ক্ষমতায় এখন বামপন্থীরা । তাদের সেনেটররা এটা মানবেন কেন ? কংগ্রেসিদের যত কিছু ছলাকলা সেসব গঙ্গাজলে ধুয়েমুছে শিক্ষাক্ষেত্রকে স্যানিটাইজ করার জন্যেই তো বামপন্থীরা ক্ষমতায় এসেছেন ।
দোরে দোরে ঘুরেও সমস্যার কোন সুরাহা হল না । উপরন্তু যারা তাঁকে কর্মসূত্রে চেনে বা জানে তারা আড়ালে-আবডালে বলতে লাগলো , মন্ত্রীর সুপারিশে কোন সার্টিফিকেট ছাড়া এতো বছর চাকরি করেও ক্ষিদে মেটেনি । এখন আবার পেনশনের জন্যে বুড়ি তদ্বির করতে শুরু করেছেন এখানে ওখানে । একদিন কথাটা কানে গেলো বৃদ্ধার । তাঁর স্বামীও ছিলেন একজন প্রাক্তন স্বাধীনতা সংগ্রামী । তিনিও গত হয়েছেন । নিঃসন্তান , সহায়সম্বলহীন বৃদ্ধার দু-চোখে তখন শুধু অন্ধকার । মনে করে দেখলেন , যেদিন তিনি কলকাতা ইউনিভারসিটির সার্টিফিকেটের পরোয়া না করে শহিদ বিনয় বসুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ইউনিভারসিটির চ্যান্সেলর স্টানলি জ্যাকসনের দিকে তাক করে রিভলবার চালিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সেদিন কিন্তু তাঁর দু-চোখে একটুও অন্ধকার ছিল না । ছিল শুধু স্বপ্ন ! সে স্বপ্ন হল একদিন না একদিন দেশ স্বাধীন হবেই হবে । সে সব কোন যুগের কথা । আর কেই বা সেসব কথা মনে রেখেছে ?
হতাশায় নিমজ্জিত , আশাহীন বৃদ্ধা চোখের জল ফেলতে ফেলতে একদিন মনের দুঃখে চলে গেলেন হরিদ্বারে । তারপর হরিদ্বার থেকে একদিন এলেন হৃষীকেশে । কবে গেলেন হরিদ্বার আর কবেই বা এলেন হৃষীকেশে ---- সেসব এখন ডাস্টবিনের জঞ্জাল !
কলকাতা শহরটাকে তাঁর নিশ্চয়ই তখন মনে হয়েছিল এক জেলখানা । যে জেলখানার চেয়ে ইংরেজের জেলেখানায় কষ্ট এবং গর্ব ---- দুইই ছিল ঢের ঢের বেশি । এই গর্বই একদিন সব দুঃখ-কষ্ট ভোলাতে সাহায্য করেছিল তাঁকে । কিন্তু এখন এখানে থাকবেন কার ভরসায় আর কীসের আকর্ষণে ? এখানে তো দুহাত ভরে কুড়িয়েছেন শুধু অপমান আর অপমান ।
হৃষীকেশে কার কাছে গেলেন তিনি ? কে তাঁকে আশ্রয় দিল ? হয়তো দেখা যাবে কোন আশ্রমে সকালে ও সন্ধ্যায় অনাথ ভিখিরিদের সাথে পাত-পেরে তিনিও বসে গেছেন দুটো অন্নের লোভে ! মানুষের পেটের দায় যে বড় বেশি !
কতদিন হৃষীকেশে ছিলেন তার কোন প্রমাণ নেই । কে রাখবে সে খোঁজ ? কত মানুষ সেখানে নিত্য আসে যায় ! তবে হ্যাঁ , একদিন হৃষীকেশের পুলিশের কাছে খবর এলো যে অমৃতবাহিনী গঙ্গার কোলে এক নির্জন স্থানে এক বেওয়ারিশ লাশ দেখা গেছে । স্থানীয় মানুষেরা কেউ তাকে চেনে না । পুলিশ গিয়ে সেই লাশ উদ্ধার করলো । পুলিশ দেখলো লাশটি এক মহিলার । বয়েস আনুমানিক সত্তর । তাঁর কাপড় পরার ধরণ দেখে পুলিশের মনে হল মহিলা সম্ভবত বাঙালি । শরীরে কোন অলংকার নেই । লোক্যাল পেপারে মহিলার মুখের ছবি ছাপা হল । পেপারের খবরটা নজরে এলো ড ত্রিগুণা সেনের । তিনি তখন কনখলে আনন্দময়ী মায়ের আশ্রম রয়েছেন । ড ত্রিগুণা সেন ফোন করলেন তাঁর এক ছাত্রকে হৃষীকেশে । সেই ছাত্রের কাছে সংবাদের সত্যতা যাচাই করে ছুটে এলেন নিজে । হৃষীকেশে ।
এসে কী দেখলেন ত্রিগুণা সেন ? পুলিশ মর্গে গিয়ে দেখলেন কীভাবে নিশ্চিন্তে ' ঘুমের দেশে ' চলে গেছেন এক বীরাঙ্গনা যিনি একদিন বাংলার ছোটলাটকে সেনেট হলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুলি চালিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন । যিনি ছিলেন বাঙালির শ্রেষ্ঠ বীর ও দেশপ্রেমিক সুভাষচন্দ্রের জীবনে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত বেণীমাধব দাসের কন্যা । যিনি কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া স্বাধীনতা সংগ্রামীর পেনশান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন নীতিগত কারণে । অথচ যিনি বহু চেষ্টা করেও আইনের বজ্রআঁটুনির জন্যে নিজের প্রাপ্য পেনশান আদায় করতে পারেননি সরকারের থেকে । বঞ্চিত হয়েছিলেন ন্যায্য অধিকার থেকে । বলা বাহুল্য যে , ত্রিগুণা সেন বীণাকে চিনতেন ।যাদবপুরে যখন তিনি ভি সি তখন অনেক অনুষ্ঠানেই বীণার সাথে তাঁর দেখাসাক্ষাৎ হয়েছে ।
বীরাঙ্গনা বীণা দাস ! তোমায় আমরা তোমার ন্যায্য অধিকার থেকে সেদিন বঞ্চিত করে যে অন্যায় করেছিলাম তার জন্যে তুমি আমাদের মতো এই অধম , অধঃপতিত ও নির্বোধ জাতিকে ক্ষমা করো।🌿
প্রয়ান দিবসে রইলো আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি..🌸
কলমে ✒️ অধ্যাপক শুভেন্দু মজুমদার
📌 Facebook এর পাশাপাশি আমরা পথচলা শুরু করেছি YouTube এও.. আমাদের কাজ ভালো লাগলে আমাদের channel টি Subscribe করে পাশে থাকবেন.. এই রইলো link 👇 https://appopener.com/yt/19zgtp0em