পেটের মেদ কমানোর ঘরোয়া উপায়
ব্যায়ামের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস পেটের মেদ দ্রুত কমাতে সাহায্য করে।
স্বাস্থ্য-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে পেটের মেদ কমানোর সহজ ও ঘরোয়া কিছু উপায় সম্পর্কে জানান হল।
গরম পানিতে লেবু
সকালে এক কাপ ঘন কফি বা চা মন মেজাজ ভালো করে দেয় ঠিকই। কিন্তু যদি ওজন কমাতে চান তাহলে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে গরম পানিতে লেবুর রস পান করুন।
লেবু ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা হজমে সাহায্য করে ও শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটা দ্রুত চর্বি কমাতে সহায়তা করে। গরম পানিতে লেবু খাওয়া বেশি কষ্টকর মনে হলে এতে এক চামচ মধু যোগ করতে পারেন।
প্রতিদিন জিরা পানি পান
সকালে পানীয় হিসেবে জিরা পানি পান করুন। এটা হজমে সহায়তা করে, পেট ফোলাভাব কমায় ও পেটের মেদ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
প্রোটিন সমৃদ্ধ নাস্তা
শরীরে শক্তি যোগাতে প্রোটিন ভূমিকা রাখে। নাস্তায় প্রোটিন খাওয়া পেশি গঠনের পাশাপাশি সারাদিন পেট ভরা অনুভূত হতে সহায়তা করে। ফলে বাড়তি ক্যালরি গ্রহণের ঝুঁকি কমে।
প্রোটিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ও দেহে চর্বি সঞ্চয়কারী ইন্সুলিনের মাত্রা কমায়।
শস্য-জাতীয় খাবার
শস্য-জাতীয় খাবার আঁশ সমৃদ্ধ। এটা শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি ক্ষুধাভাব কমাতে ও উচ্চ ক্যালরিবহুল খাবারের চাহিদা কমাতে সহায়তা করে। উচ্চ আঁশ সমৃদ্ধ শস্য ওজন কমায় এবং পেটের মেদ কমাতেও সহায়তা করে।
মসলা
আদা স্থূলতার সমস্যা কমায় এবং প্রদাহনাশক উপাদান সমৃদ্ধ। ওজন কমাতে চাইলে খাবারে এই ধরনের মসলা যোগ করুন। এটা দেহের ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
মানসিক চাপ কমাতে যোগ ব্যায়াম বা ধ্যান
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ চর্বি বৃদ্ধিকারী হরমোন যেমন কর্টিসোলের মাত্রা বাড়ায়। কর্টিসোলের তীব্রতা ক্ষুধা বাড়ায়, ক্যালরি বহুল খাবারের চাহিদা বাড়ায় এবং পেটে চর্বি জমাতে ভূমিকা রাখে। তাই মানসিক চাপ কমাতে যোগ ব্যায়াম ও ধ্যানের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
পর্যাপ্ত পানি পান
ওজন কমানোর মূল চাবি কাঠি হল পর্যাপ্ত পানি পান। নিজেকে আর্দ্র রাখার পাশাপাশি এটা অস্বাস্থ্যকর খাবারের চাহিদা কমায়। খাবারের আগে পানি পান অতিরিক্ত খাওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করে ফলে পেটে চর্বি জমা হওয়ার ঝুঁকিও কমে।
চটপট পেটের মেদ কমানোর পাঁচটি উপায়
পুজোর আগে যে ক’টাদিন বাকি আছে, তার মধ্যে আর কিছু হোক না হোক, পেটের চারপাশে জমে ওঠা মেদের পরতটাকে সরিয়ে ফেলতে পারলে কার না ভালো লাগবে? সুবিধেটা হচ্ছে, পেটের ফ্যাট কমিয়ে ফেললে দেখতে ভালো লাগার পাশাপাশি অনেকগুলো সুবিধেও হবে আপনার৷ কমে যাবে হৃদরোগ আর টাইপ টু ডায়াবেটিসের আশঙ্কা, হাঁটুর উপর কম চাপ পড়বে৷ তা হলে আর দেরি না করে লেগে পড়ুন কোমর বেঁধে!
এমন খাবার খান যা সলিউবল ফাইবারে সমৃদ্ধ: সলিউবল ফাইবার আমাদের পেটে অনেকক্ষণ থাকে৷ ফলে ঘন ঘন খিদে পাবে না, অনেক বেশিক্ষণ পেট ভরে থাকার অনুভূতি হবে৷ সাধারণত উদ্ভিজ্জ খাবারেই ফাইবারের পরিমাণ বেশি হয়৷ তাই বেশি করে ফল ও সবজি খান অবশ্যই, তাতে ফাইবারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণও পাবে আপনার শরীর৷
সবরকম মিষ্টি আর নরম পানীয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করুন: বোতলবন্দি সফট ড্রিঙ্ক তো বটেই, বাড়িতে তৈরি শরবত, স্কোয়াশ ইত্যাদি থেকেও দূরে থাকার চেষ্টা করুন৷ চলবে না কোনও মিষ্টি, ফলের রস এবং এনার্জি ড্রিঙ্কও৷ চিনি হচ্ছে অর্ধেক গ্লুকোজ়, অর্ধেক ফ্রুকটোজ় এবং আমাদের লিভারে তা মেটাবলাইজ়ড হয়৷ আপনি যত বেশি চিনি খাবেন, তত বেশি ফ্রুকটোজ় জমা হবে লিভারে এবং একটা সময়ের পর লিভার তা ফ্যাটে পরিণত করবে৷ একাধিক সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে অতিরিক্ত চিনি খেলে আপনার লিভার আর পেটে ফ্যাট জমতে বাধ্য৷ তখনই
ইনসুলিনের প্রতি রেজিস্ট্যান্স তৈরি হবে শরীরে, আরও নানা মেটাবলিক ডিসঅর্ডার দেখা দেবে৷ তবে ফ্রুকটোজ় শুনেই আবার ভাববেন না যে ফল খাওয়ার উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা আছে৷ গোটা ফল চিবিয়ে খাওয়ার অনেক স্বাস্থ্যকর দিক আছে, তার ফলে ফ্রুকটোজ়ের নেগেটিভ দিকগুলি বাতিল হয়ে যায়৷ মনে রাখবেন, প্যাকেটজাত যে কোনও খাবারে, এমনকী ‘হেলথ ফুড’ তকমা লাগা খাবারেও চিনি লুকিয়ে থাকে!
প্রোটিনের মাত্রা বাড়ান: যাঁরা ওজন কমাতে চাইছেন, তাঁরা ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রোটিনসমৃদ্ধ কোনও ডায়েট ট্রাই করে দেখতে পারেন৷ বাড়তি প্রোটিন ঠেকিয়ে রাখবে আপনার খিদের বোধ, বাড়াবে মেটাবলিজ়মের হার৷ বাদাম, দুধ ও দুধজাত খাবার, মাছ, ডিম (কুসুমসহ), মাংস, ডাল ইত্যাদি হচ্ছে সেরা প্রোটিন৷ এগুলি খাদ্যতালিকায় রাখার পরেও যদি মনে হয় যে যথাযথ প্রোটিন সংশ্লেষ হচ্ছে না শরীরে, তা হলে প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করার কথা ভেবে দেখতে পারেন৷
কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমান: কার্বোহাইড্রেট একেবারে ছেঁটে ফেলাটা খুব বড়ো ভুল৷ তবে আমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট, বিশেষ করে ময়দার মতো রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট আর ভাজাভুজি খাওয়ার অভ্যেস গড়ে ওঠে৷ সেটা অবশ্যই বদলানো দরকার৷
ব্যায়াম করতেই হবে: এই সব বিধিনিষেধ মানার পাশাপাশি ব্যায়াম না করলে কিন্তু প্রার্থিত ফল পাওয়ার আশা নেই৷ ব্যায়াম বলতে কিন্তু আমরা কেবল পেটের ব্যায়ামের কথাই বলছি না৷ যে কোনও কার্ডিও এক্সারসাইজ় পুরো শরীরের ওজন কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়৷ সাঁতার, হাঁটা, দৌড়নোর মধ্যে থেকে যে কোনও একটা বেছে নিন৷ হাই বা লো ইন্টেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেনিংও ট্রাই করে দেখতে পারেন৷
পরের স্টোরি :ঘরোয়া পদ্ধতিতে বাড়ান রক্তের প্লেটলেটের সংখ্যা
ঘরোয়া পদ্ধতিতে বাড়ান রক্তের প্লেটলেটের সংখ্যা
বর্ষার শেষের এই সময়টায় পতঙ্গবাহিত জ্বরের প্রকোপ বাড়ে৷ বিশেষ করে ডেঙ্গি আক্রান্ত কোনও রোগীর রক্তে প্লেটলেটের মাত্রা আচমকা কমতে আরম্ভ করলেই আতঙ্ক শুরু হয়ে যায়৷ জানেন কি, এমন কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি আছে যার ফলে প্রাকৃতিকভাবেই প্লেটলেট বা অণুচক্রিকার সংখ্যা বাড়তে পারে শরীরে?
প্লেটলেট কী ও কেন তা গুরুত্বপূর্ণ:
প্লেটলেট বা অণুচক্রিকা আমাদের রক্তের অত্যাবশ্যক উপাদান৷ লোহিত আর শ্বেত রক্তকণিকার চেয়েও আকারে ছোট হয় অণুচক্রিকা৷ রক্ত জমাট বাঁধা এবং রক্তক্ষয় ঠেকাতে অণুচক্রিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে৷ তাই অণুচক্রিকার মাত্রা কমে গেলেই শরীর থেকে রক্ত বেরিয়ে যেতে আরম্ভ করে৷ অ্যানিমিয়া, ডেঙ্গি ও অন্যান্য কয়েকটি ভাইরাল ইনফেকশন, লিউকেমিয়ার কারণে এই সমস্যা হয়৷ কেমোথেরাপি, অতিরিক্ত মদ্যপান, ভিটামিন বি12-এর ঘাটতি, লিভারের অসুখ, ক্যানসারের কারণেও প্লেটলেট কমে৷ অটো ইমিউন অসুখ, রক্তে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বা কোনও ওষুধের প্রতিক্রিয়াও অণুচক্রিকার মাত্রা কমাতে পারে৷
প্লেটলেট কমছে বুঝবেন কীভাবে:
ক্লান্তি, দুর্বলতা, চোট-আঘাত থেকে অনবরত রক্তপাত, ত্বকে চুলকানি, মল-মূত্র বা মাড়ি ইত্যাদি থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে অণুচক্রিকা কমে যাওয়ার সুস্পষ্ট লক্ষণ৷
এর হাত থেকে বাঁচার উপায়:
ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন৷ অযথা নিজের বুদ্ধিতে কোনও ওষুধপত্র খাবেন না, তাতে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে৷ এমন কয়েকটি উপায় আছে যার সাহায্যে প্রাকৃতিকভাবেই প্লেটলেটের মাত্রা বাড়তে পারে, তবে অসুস্থ রোগীকে দেওয়ার আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে নেবেন৷ ভিতর থেকে সুস্থ থাকার জন্য অবশ্য যে কেউ খেতে পারেন কারণ প্রতিটিই পুষ্টিকর৷
পেঁপে পাতা ও পেঁপে: পেঁপে পাতার রস আর পেঁপে খেলে রক্তে অণুচক্রিকার মাত্রা বাড়তে পারে, এমন একটা বিশ্বাস দীর্ঘদিন প্রচলিত৷ 2009 সালে মালয়েশিয়ার এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি রীতিমতো তথ্যপ্রমাণ দাখিল করেছে এর সপক্ষে৷ তবে খাওয়ার আগে পাতা অতি অবশ্যই খুব ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে৷ স্বাদ খুব খারাপ লাগলে লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন৷
কুমড়ো আর কুমড়োর বীজ: কুমড়োর পুষ্টিগুণ প্রোটিন তৈরির পক্ষে খুব সহায়ক৷ প্রোটিন আবার প্লেটলেটের গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়৷ কুমড়োর ভিটামিন এ-ও প্লেটলেট তৈরিতে সাহায্য করে৷ তাই প্লেটলেট কাউন্ট বাড়াতে চাইলে কুমড়ো আর কুমড়োর বীজ দুটোই খেতে পারেন৷
লেবুর রস/ আমলকী: দুটিই ভিটামিন সি-র জোগান দেয়৷ ভিটামিন সি প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়ানোর কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়৷ তা থেকে বাড়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা৷ ইমিউনিটি বেশি হলে প্লেটলেট ধ্বংস হওয়ার পদ্ধতিটা ত্বরান্বিত হবে না৷
বিটের রস: বিটের রস প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর৷ রোজ এক গ্লাস বিটের রস খেলেই ফলটা বুঝতে পারবেন৷
অঙ্কুরিত গম বা হুইটগ্রাস জ্যুস: ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ইউনিভার্সাল ফার্মাসি অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ক্লোরোফিলে সমৃদ্ধ হুইটগ্রাসের মলিকিউলার স্ট্রাকচারের সঙ্গে হিমোগ্লোবিন মলিকিউলের গঠনের মিল আছে৷ সামান্য লেবুর রসসহ রোজ এক গ্লাস করে হুইটগ্রাস জ্যুস খেতে পারেন৷
পরের স্টোরি :ঘরোয়া উপায়ে রোম থেকে মুক্তি চান?
ঘরোয়া উপায়ে রোম থেকে মুক্তি চান?
নিয়মিত ওয়্যাক্সিং করানোর সময় নেই বলে স্লিভলেস পোশাক পরতে গিয়ে প্রায়ই আপনাকে বিব্রত হতে হয়? বাড়িতেই এমন কয়েকটি পদ্ধতি ট্রাই করে দেখতে পারেন যা প্রাকৃতিকভাবে আপনাকে রোম মুক্ত করে তুলবে ধীরে ধীরে৷ প্রাচীনকালেও মেযেরা উজ্জ্বল, মখমলি কোমল ত্বক পাওযার জন্য নিয়মিত রূপটান ব্যবহার করতেন৷ নিত্যদিন এর ব্যবহারে সদ্য গজানো কোমল রোমের হাত থেকে মুক্তি পেত ত্বক, স্বাভাবিক দীপ্তিতে তা ঝলমলিয়ে উঠত৷ তবে যাঁদের ত্বক খুব স্পর্শকাতর, তাঁরা প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের আগেও একটা প্যাচ টেস্ট করে নিন অতি অবশ্যই৷
মসুর ডাল আর আলুর প্যাক: মসুর ডাল ভিজিয়ে রাখুন সারা রাত৷ পরদিন সেটা বেটে নিতে হবে৷ মিক্সিতেও পিষে নিতে পারেন৷ আলু ছেঁচে রস বের করে নিন৷ তার পর লেবুর রস আর মধু সহযোগে দুটোকে একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন৷ প্যাক মুখে লাগিয়ে শুকনো হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে৷ তার পর চক্রাকারে হাত ঘুরিয়ে প্যাক তুলে ফেলুন এবং গোলাপজলে মুখটা ধুয়ে নিন৷ এই স্ক্রাব নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক রোমমুক্ত থাকবে৷ তবে রোজের মশলা পেষার যন্ত্রে ডাল পিষবেন না, তাহলে কিন্তু ত্বকে ভয়ানক রিঅ্যাকশন হতে পারে৷
হলুদ আর গোলাপজল: কাঁচা হলুদ বেটে নিন৷ তার মধ্যে মেশান গোলাপ জল৷ এর মোটা পরত ত্বকে লাগান৷ শুকিয়ে গেলে চক্রাকারে হাত চালিয়ে প্যাকটা তুলে ফেলুন৷ তার পর উষ্ণ জলে মুখ ধুয়ে নিন৷
চিনি, মধু আর লেবুর রস: সমান পরিমাণ চিনি, মধু আর লেবুর রস নিয়ে গরম করুন৷ খুব পাতলা মনে হলে একটু কর্নফ্লাওয়ার মেশাতে পারেন, গাঢ় হলে জল মিশিয়ে নিন৷ মিশ্রণটা সহ্য করার মতো ঠান্ডা হয়ে এলে ত্বকে লাগান৷ এক টুকরো পাতলা কাপড় তার উপর চেপে ধরে রেখে রোমের গ্রোথের উলটোদিকে টেনে তুলে দিন৷ তবে পুরো মুখে এটা লাগাবেন না, বড়োজোর ঠোঁটের উপরে ববহার করা যায়৷ ওয়্যাক্সিংয়ের সঙ্গে মিল আছে, কিন্তু ততটা যন্ত্রণাদায়ক নয়৷
কাঁচা পেঁপে আর কাঁচা হলুদের প্যাক: সমান পরিমাণ কাঁচা পেঁপে আর হলুদ বাটা মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন৷ লাগান৷ শুকিয়ে গেলে চক্রাকারে হাত ঘুরিয়ে তুলেন ফেলুন প্যাক, মুখ ধুয়ে নিন৷
ডিম আর কর্নফ্লাওয়ারের প্যাক: ডিম আর কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন৷ মুখে লাগিয়ে আধ ঘণ্টা শুকোতে দিন৷ তার পর প্যাকটাকে টেনে তুলে দিন৷ এই পদ্ধতিকেও প্রাকৃতিক ওয়্যাক্স বলতে পারেন৷ প্যাক তোলার পর ত্বক খুব লাল হয়ে গেলে বরফ বুলিয়ে নিন।
বর্ষাকালে পায়ের যত্ন নেওয়ার ঘরোয়া উপায়
বর্ষার জলকাদার সঙ্গে আপনার পায়ের সরাসরি যোগ আছে৷ যতই বৃষ্টিবাদলা হোক না কেন, রাস্তায় তো বেরোতেই হবে৷ আর বেরনো মানেই আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে জমে যাবে চ্যাটচেটে ময়লা৷ তাই বর্ষাকালে পায়ের যত্নের ব্যাপারে বিশেষ যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন৷ তা না হলেই কিন্তু পায়ে ফাঙ্গাল ইনফেকশন হতে পারে৷
কী করবেন:
অবশ্যই জলনিরোধক জুতো পরবেন৷ ভিজে যাওয়া জুতো পরে থাকা একেবারেই চলবে না৷ দরকারে প্রতিদিন আলাদা জুতো ব্যবহার করুন৷ জুতি, পাম্প শ্যু, লোফারের মতো যে সব জুতোর ভিতরে জল জমে থাকার আশঙ্কা আছে, সেগুলি না পরাই ভালো৷ অফিসে এক জোড়া স্লিপার বা বাড়তি জুতো রেখে দিন৷ বৃষ্টিতে ভিজে অফিসে ঢোকার পর ভেজা জুতো ছেড়ে সেটি পায়ে গলিয়ে নিন৷
প্রতিদিন সন্ধেবেলা বাড়ি ফেরার পর ফুট বাথ নিতে ভুলবেন না৷ উষ্ণ জলে অ্যান্টিসেপটিক লোশন আর শ্যাম্পু ফেলে মিশিয়ে নিন ভালো করে৷ তার পর সেই জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকুন 20
মিনিট৷ ঝামা পাথর দিয়ে গোড়ালি ঘষুন, লুফা দিয়ে ঘষে তুলে ফেলুন আঙুলের ফাঁকে জমে থাকা সব ময়লা৷ শেষে নখের ফাঁকে লুকিয়ে থাকা নোংরা বের করে নিন৷ শোওয়ার আগে অতি অবশ্যই পায়ে ঘন ক্রিম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে ভুলবেন না৷
পারলে মাসে একটা করে পেডিকিওর করান৷ নিয়মিত পেডিকিওরের অনেক উপকারিতা আছে৷ নিয়মিত করালে ভেরিকোজ় ভেনের সমস্যা থাকে না৷
কী করবেন না:
লম্বা নখ রাখবেন না৷ তাতে নখের ফাঁকে ময়লা ঢুকে বিপদ বাড়াবে৷
ফিশ পেডিকিওরের ধারে-কাছে ঘেঁষবেন না, তাতে ফাঙ্গাল ইনফেকশনের আশঙ্কা বাড়ে৷
যে কোনও সালোনে গিয়ে আগে নিশ্চিত হয়ে নিন পেডিকিওরের সমস্ত ইন্সট্রুমেন্ট জীবাণুমুক্ত ও শুকনো কিনা৷ তোয়ালের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে৷
পরের স্টোরি :বর্ষায় আপনার বাড়িরও বিশেষ যত্নআত্তি প্রয়োজন
বর্ষায় আপনার বাড়িরও বিশেষ যত্নআত্তি প্রয়োজন
বাড়ির বারান্দায় বা জানলার পাশটিতে বসে বৃষ্টি দেখতে কার না ভালো লাগে? কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, লাগাতার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া চলতে থাকলে আপনার বাড়ির বাইরেটা তো বটেই, ভিতরটাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ তাই একটু বিশেষ যত্নআত্তি প্রয়োজন৷ বাইরের কাজ অবশ্য বর্ষার মরশুমে না করাই ভালো৷ শীতের রোদ ঝলমলে দিনগুলো বা খটখটে শুকনো গরমকালে বাইরের দেওয়াল সারাই বা রং লাগানোর মতো কাজগুলো সেরে ফেলতে হয়, বর্ষায় নতুন করে কিছুই করা যাবে না৷ তবে ভিতরে যা যা আছে, তার যত্ন করতে পারেন স্বচ্ছন্দে৷
আপনার ঘরগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণে হাওয়া চলাচল করে তো? গুমোট আর্দ্রতা যত বাড়বে, তত ড্যাম্প লাগবে ঘরের ভিতর৷ হাওয়া-বাতাস চলাচল করলে ঘর জীবাণুমুক্ত থাকবে, তা না হলেই কিন্তু শিশু, বয়স্ক ও হাঁপানি রোগীদের খুব অসুবিধে হবে৷ যদি এই ধরনের সমস্যায় ভোগা রোগী থাকেন আপনার ঘরে, তা হলে কখনওই ভেজা কাপড় শুকনো করতে দেবেন না ঘরের ভিতর৷ তাতে ড্যাম্প আরও বাড়বে৷ তার চেয়ে কাপড় শুকনো করার জন্য ড্রায়ার ব্যবহার করুন৷
কাঠের মেঝে যতটা সম্ভব শুকনো রাখুন৷ জল পড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলুন৷ কাঠের মেঝে জল শুষে ফেঁপে ওঠে৷ তাই তা এই ঋতুতে শুকনো রাখতেই হবে৷ ঘরের মেঝেতে বা দেওয়ালে কার্পেট আছে? নিয়মিত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করে পরিষ্কার করুন, না হলে ধুলো আর আর্দ্রতায় তার বেহাল অবস্থা হবে, গন্ধ বেরোবে৷ শতরঞ্চি, দারি ইত্যাদি গুটিয়ে রোল করে পলিথিন শিটে মুড়ে রাখুন৷ বদলে মাদুর পেতে রাখুন৷
আপনার কাঠের আসবাবগুলি আর্দ্রতার কারণেই একটু ফেঁপে উঠতে পারে, দরজা ঠিক করে বন্ধ করাও মুশকিল হয়ে পড়বে সে ক্ষেত্রে৷ বর্ষা আসার আগেই কাঠের আসবাবে একবার পালিশ করিয়ে নিলে কিন্তু এই অসুবিধে হয় না! কাঠের আলমারি বা জুতোর তাকের কোণের দিকে এক দলা করে কর্পূর বা ন্যাপথালিন রেখে দিন, তা হলে জামাকাপড়ে ভ্যাপসা গন্ধ হবে না৷ সিলভার ফিশ তাড়াতে সবচেয়ে ভালো কাজে দেয় শুকনো নিমপাতা, তাই বইয়ের আলমারিতে অবশ্যই শুকনো নিমপাতা রাখুন, লবঙ্গও রাখতে পারেন৷
লাগাতার ভ্যাপসা আবহাওয়া চলতে থাকলে এয়ার কন্ডিশনার আর ডি-হিউমিডিফায়ারের সাহায্য নিন, তাতে ঘরের আর্দ্রতার মাত্রা কমবে৷
বাড়ির ইলেকট্রিক্যাল ওয়্যারিং অবশ্যই একবার পরীক্ষা করিয়ে নিন৷ কোথাও কোনও লুজ় কানেকশন বা কাটা-ছেঁড়া থাকলে সেটা সারানোর ব্যবস্থা করুন৷
জানলা খোলা রাখতেই হবে, না হলে ঘরের মধ্যেটা ভ্যাপসা হয়ে যাবে৷ মশা-মাছির উপদ্রব থাকলে বাড়ির আশপাশে জল বা ময়লা জমতে দেবেন না৷ জানলায় পতঙ্গরোধী জাল লাগিয়ে নিলেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে৷ বৃষ্টির সময় জানলা বন্ধ থাকলেও চুঁইয়ে চুঁইয়ে জল ঢুকছে? তার মানে আপনার জানলার ফ্রেমেই কোথাও ফাঁক রয়েছে৷ এই সমস্যাটা সারিয়ে নিলেই টের পাবেন যে আপনার এসির বিলও ক্রমশ কমছে৷
প্রতিদিন ছাদ পরিষ্কার করুন, রেনওয়াটার পাইপ যেন প্লাস্টিক আটকে বন্ধ না হয়ে যায়, সেটাও দেখতে হবে৷ ছাতে জল জমে গেলেই তা কংক্রিটের মধ্যে থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে নামবে দেওয়ালের দিকে, আরম্ভ হবে ঘরে জল পড়া৷
বর্ষায় চামড়ার জুতো, ব্যাগের যত্ন নেওয়ার টিপস
বর্ষার স্যাঁতসেঁতে, আর্দ্র বাতাসে আপনার সাধের চামড়ার জুতো আর ব্যাগের অবস্থা খুবই খারাপ হয়, বিশেষ করে ভিজে যাওয়ার পর৷ ড্রায়ার দিয়ে বা রোদ্দুরে স্যাঁতসেঁতে চামড়া শুকিয়ে নিলে তা খুব কড়া হয়ে যায়, আর না শুকনো হলে আবার বিচ্ছিরি গন্ধ বেরোয়, ছাতা ধরে যায়৷ এই পরিস্থিতিতে সেগুলির যত্ন নেওয়ার আদর্শ পদ্ধতি কী হতে পারে, জানতে চান?
কড়া রোদে বা ড্রায়ার দিয়ে কখনও চামড়ার জুতো/ ব্যাগ শোকাবেন না: বাইরে থেকে তাপ দিলেই চামড়ার নিজস্ব তেলের ভাঁড়ার শুকোতে আরম্ভ করবে ক্রমশ৷ ফলে ব্যাগ/জুতো কঠিন হয়ে যাবে, বাইরের স্তরে ফাটলও দেখা দিতে পারে৷ তার চেয়ে সারা রাত পাখার নিচে রেখে দিন৷ খবরের কাগজ বা টিস্যু পেপার পুরে দিন ব্যাগ/জুতোর মধ্যে, সেগুলি বাড়তি জল শুষে নেবে৷ বর্ষার জলে না ভিজলেও আর্দ্রতায় আমাদের পা ঘামে, সেই ঘামেও জুতোর মধ্যে স্যাঁতস্যাঁতে ভাব দেখা দেয়, কখনও কখনও বাজে গন্ধ হয়৷ ফলে নিয়মিত খবরের কাগজ বা টিস্যু পেপার দিয়ে জুতোর বাড়তি আর্দ্রতা শুষে না নিলেও ফাঙ্গাস ধরতে পারে৷ সম্ভব ফলে একই জুতো/ ব্যাগ প্রতিদিন ব্যবহার করবেন না৷ খবরের কাগজ/টিস্যু পেপার দিয়ে শুকনো করে নেওয়ার পরে সামান্য ট্যালকম পাউডার ছড়িয়ে দিলে সেটির মধ্যেকার সব আর্দ্রতা চলে যাবে৷ আজকাল নানা ধরনের ফুট স্প্রে বেরিয়েছে, সেগুলি পায়ে লাগালে দুর্গন্ধ হয় না বলে দাবি করা হয়৷ তেমন কিছুও ট্রাই করতে পারেন৷
পরিষ্কার রাখুন: বাড়ি ফিরে এসেই জুতো/ ব্যাগ ক্যাবিনেটে তুলে দেবেন না৷ খতিয়ে দেখে নিন কোনও ময়লা লেগে আছে কিনা৷ পুরোনো টুথব্রাশ আর সামান্য সাবান গোলা জল দিয়ে সেটা পরিষ্কার করুন আগে৷ তার পর শুকনো করে তবে ক্যাবিনেটে তুলুন৷ নিয়মিত পালিশ করে নিলে চামড়ার জিনিস বেশিদিন ভালো থাকে৷ তা আর্দ্রতা থেকে বাঁচাবে, চামড়ার তেলের ব্যালেন্স বজায় রাখবে এবং জিনিসটি দীর্ঘদিন ঝকঝকে, উজ্জ্বল থাকবে৷ যেদিন ময়লা হবে, সেদিনই পরিষ্কার করে নেওয়াটাও খুব জরুরি, তা না হলে পরে পরিষ্কার করা মুশকিল হতে পারে৷ শুকনো ব্রাশ দিয়ে মাঝা মাঝে ঝেড়ে নিলেও ধুলো চেপে বসতে পারে না৷
শুকনো কাপড়ে মুড়ে রাখার চেষ্টা করুন: আপনার জুতো/ ব্যাগের স্টোরেজ স্পেসটা কি কাঠের তৈরি? তা হলে কিন্তু এই ঋতুতে ফাঙ্গাস বা পোকামাকড়ের আক্রমণ হওয়াটাই স্বাভাবিক৷ তাই বিশেষ করে বর্ষাকালে পুরোনো সুতির ধুতি বা শাড়িতে মুড়ে স্টোর করুন এগুলিকে৷
মনে রাখবেন, চামড়ায় একবার ফাটল ধরে গেলে আর কিছু করেই সেটাকে সারানো সম্ভব নয়, কোনও প্রডাক্টই কাজে দেবে না৷ তাই যা যত্নআত্তি, সব আগে থেকে করুন৷ আর ভেজা অ্যাকসেসরিজ় না শুকিয়ে ব্যবহার করবেন না৷
মুক্তোর মতো উজ্জ্বল দাঁতের মালিক হতে চান?
লিখছেন রুদ্রাণী ভট্টাচার্য | July 26, 2018, 12:00 AM IST
চিত্রতারকাদের ঝকঝকে, উজ্জ্বল, সমান একপাটি দাঁতের মোহিনী হাসি দেখে একটু হিংসে হয় না, এমন কি কেউ আছেন? আমরা সবাই চাই অমন মুক্তোর মতো দাঁত পেতে, তাই না? তা ছাড়া অধিকাংশ তারকা নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে যান, পিলিং করান – সাধারণ মানুষের পক্ষে তো আর অতটা সম্ভব নয়! তবে আপনিও কিছু নিয়মকানুন মেনে চলার অভ্যেস তৈরি করুন, তাতে আখেরে সুবিধেই হবে৷
প্রথমেই জানা দরকার, দাঁতের রং কেন ক্রমশ হলদেটে হয়ে যায়৷ দাঁতের উপর এনামেলের যে পরতটি থাকে, সেটির রং সাদা এবং তার কারণেই দাঁতের রংও সাদা হওয়ার কথা৷ কিন্তু যথাযথ যত্নে না রাখলে তার ক্ষয় আরম্ভ হয়৷ এনামেলের ঠিক নিচের স্তরেই থাকে ডেন্টিন, তার রং হলুদ, ফলে দাঁতও হলুদ দেখায়৷ কোন কোন খাবার এনামেলের ক্ষয় ত্বরান্বিত করে জানতে চাইবেন নিশ্চয়ই? অতিরিক্ত চা, কফি, রেড ওয়াইন খেলে দাঁতে ছোপ পড়ে৷ এনামেলের উপর চটচটে আঠালো একটা আস্তরণ তৈরি হয়, তার উপর আটকে যায় খাবারের কণা৷ পরিষ্কার করার জন্য জোরে ব্রাশ চালাতে হয়, এ সবের মিলিত প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এনামেল৷ চকোলেট, ক্যারামেল, ড্রাই ফ্রুটসও দাঁতে আটকে থাকে৷ তাই এই ধরনের খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে, ছাড়তে হবে নরম পানীয় ও ধূম পানের অভ্যেস৷ একমাত্র তা হলেই আপনার মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে৷ অনেকে খেয়ে উঠেই দাঁত মেজে ফেলেন, কার্যত তাতেও লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়, তখন কুলকুচি করে নিন ভালো করে৷ খাওয়ার পর অন্তত আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করে তার পর দাঁত মাজুন৷
দাঁত ঝকঝকে সাদা রাখার ঘরোয়া উপায়
বেকিং সোডা: সামান্য একটু বেকিং সোডা জলে গুলে একটি মিশ্রণ বানিয়ে নিন৷ দাঁত মাজার আগে এই মিশ্রণটা আপনার ব্রাশের উপর ঢেলে নিন৷ তার পর মৃদু চাপ দিয়ে চক্রাকারে দাঁতের উপর ব্রাশ চালাতে থাকুন৷ আঙুলে এই মিশ্রণ নিয়েও দাঁতের উপর ঘষতে পারেন৷ মিনিটখানেক পর মুখ ধুয়ে ফেলুন৷ বেকিং সোডা আপনার দাঁতকে ঝকঝকে উজ্জ্বল করে তুলতে পারে, কিন্তু খুব ঘনঘন ব্যবহার করলে এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ যাঁদের দাঁত খুব স্পর্শকাতর, সামান্য এদিক-ওদিক হলেই শিরশির করে, তাঁরা কিন্তু ডেন্টিস্টের পরামর্শ ছাড়া বেকিং সোডা ব্যবহার করবেন না৷
ফ্লস করুন: ফ্লস আপনার দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে লুকিয়ে থাকা খাবারের কণাগুলিকে টেনে বের করে আনে, ফলে মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য ভালো থাকে৷ সেই সঙ্গে সঠিকভাবে ব্রাশ চালানোটাও খুব প্রয়োজনীয়৷ কখনও কঠিন ব্রিসলের ব্রাশ ব্যবহার করা উচিত নয়, নরম ব্রাশ কিনুন এবং সেটা দাঁতের উপর চক্রাকারে চালান৷ সোজাসুজি ঘষবেন না এবং বেশি চাপ দেবেন না৷ তাতে দাঁত দুর্বল হয়ে পড়ে৷
ফলের খোসা: লেবু বা কলার খোসার ভিতরের সাদা দিকটা দাঁতের উপর ঘষলে ম্যাজিকের মতো ফল পাবেন৷ প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ় ও পটাশিয়াম থাকে এই অংশে, তাতে দাঁতের ছোপ সরে যায়৷
অ্যাপেল সিডার ভিনিগার: মিনিটখানেকের জন্য দাঁতের উপরে অ্যাপল সিডার ভিনিগার ঘষুন৷ তার পর মুখ কুলকুচো করে ধুয়ে নেবেন৷ নিয়মিত করলে দাঁত উজ্জ্বল হয়ে উঠবে৷
আপেল, গাজর, শসা রাখুন খাদ্যতালিকায়: শক্ত ফল ভালো করে চিবিয়ে নিয়ে খান৷ ফলের কুচিগুলো দাঁতের গায়ে ঘষা খেয়ে তা স্বাভাবিকভাবেই উজ্জ্বল রাখে, এনামেলেরও কোনওরকম ক্ষতি হয় না৷ দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারও দাঁত ও মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে৷
বাহুমূলে কালো ছোপ পড়েছে? জেনে নিন তা নির্মূল করার ঘরোয়া উপায়
বারংবার ওয়্যাক্সিং, শেভিং তো বটেই, রোজ ডিওডোরান্ট ব্যবহারের ফলেও আমাদের বাহুমূল বা আন্ডারআর্মে কালো ছোপ পড়তে পারে৷ যে সমস্ত হেয়ার রিমুভাল ক্রিম বা ডিওডোরান্টে অ্যালকোহল থাকে, সেগুলির ব্যবহার যতটা সম্ভব কমানোর চেষ্টা করুন৷ সেই সঙ্গে নিয়মিত এক্সফোলিয়েশন করাও জরুরি, কারণ মৃত কোষ জমে থাকলে আন্ডারআর্মের কালচে ছোপ আরও গাঢ় হবে৷ তবে হাতের কাছে থাকা ঘরোয়া উপাদানের সাহায্যে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন৷
আপেল: খানিকটা আপেল কুরে নিন৷ তার থেকে রসটা চিপে বের করে নিয়ে লাগিয়ে রাখুন বাহুমূলে৷ এর মধ্যে থাকা AHA ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুকে ধ্বংস করে, তার ফলে দুর্গন্ধ আর কালো ছোপ, দুটো বিষয় থেকেই আপনি মুক্তি পাবেন৷ মিনিট 20 পর ধুয়ে ফেলতে হবে৷
চন্দন: দুই বাহুমূলের জন্য যতটা প্রয়োজন ততটা চন্দন বেটে নিন৷ গুঁড়ো চন্দন আর গোলাপজল দিয়েও ঘন পেস্ট তৈরি করে লাগানো যায়৷ পাঁচ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন এবং প্রতিদিন ব্যবহার করুন এই টোটকা৷
মধু আর লেবুর রস: সমান পরিমাণে মধু আর লেবুর রস মিশিয়ে লাগিয়ে রাখুন কালো ছোপ ধরা অংশে৷ 10 মিনিট পর উষ্ণ জলে ধুয়ে ফেলুন, প্রতিদিন ব্যবহার করা যায়৷
কমলালেবুর খোসা আর গোলাপ জল: কমলালেবুর খোসার গুঁড়ো আর গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে একটা ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন৷ তার পর সেটা লাগিয়ে রাখুন আন্ডারআর্মে৷ 20 মিনিট পর ধুয়ে ফেলবেন৷ এটি মৃত কোষ সরাতেও কার্যকর৷
দুধ: প্রতিদিন স্নানের আগে তুলোয় করে দুধ নিয়ে বাহুমূলে লাগিয়ে রাখুন৷ শুকিয়ে গেলে স্নান করে নিন৷
আপনার কাঠের আসবাবের যত্ন নেবেন কীভাবে?
কাঠের আসবাব ঘরে রাখতে কার না ভালো লাগে? টেবিল, চেয়ার, শেলফ, আলমারি, পালঙ্ক বা ছবির ফ্রেমের আভিজাত্যই আলাদা৷ কাঠের আসবাবের যত্নের জন্য নিয়মিত শুকনো কাপড় দিয়ে তা ঘষে ঘষে মোছা উচিত৷ কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হবে না, কারণ ধুলো, তেল-ময়লা চেপে বসবেই আসবাবের উপরে, এবং সেটা সরাতে গেলে খুব ভালো করে ডিপ ক্লিনিং করাতে হবে৷
রোজের যত্নের জন্য কী করবেন:
কাঠের আসবাবের উপর ধুলো জমতে দেবেন না৷ তা নিয়মিত শুকনো কাপড়ে মুছে ফেলা দরকার৷ সপ্তাহে একদিন খুব হালকা কোনও লিকুইড ডিটারজেন্ট আর হালকা গরম জলের একটা মিশ্রণ তৈরি করুন৷ একটা পাতলা ও পরিষ্কার তোয়ালে এই মিশ্রণে ডুবিয়ে ভালো করে নিংড়ে জলটা ফেলে দিন৷ তার পর তা দিয়ে আলতো হাতে আসবাবটা ঘষে ঘষে মুছে নিতে হবে৷ মনে রাখবেন, এই কাপড়টি আর্দ্র হওয়া প্রয়োজনীয়, ভেজা হওয়ার দরকার নেই৷ এর পর অন্য একটা শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে শুষে নিন সমস্ত ভিজেভাব৷ জলটা যেন আসবাবে বসার সুযোগ না পায়৷
অ্যান্টিক আসবাবের দেখভাল:
অ্যান্টিক আসবাবের পালিশ চটে গেলে দেখতে বড়ো বাজে লাগে, কিন্তু তার পুরোনো ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনা মোটেই তেমন কঠিন কাজ নয়৷ এক মগ জল গরম করে নিন, তার মধ্যে কড়া ফ্লেভারের টি ব্যাগ ডুবিয়ে রাখুন৷ চা ঘরের তাপমাত্রায় এসে গেলে টি ব্যাগ তুলে ফেলে দিন৷ এবার এর মধ্যে নরম, পরিষ্কার একটি কাপড় ডুবিয়ে তুলে নিয়ে নিংড়ে বের করে নিন সমস্ত জলীয় ভাব৷ তার পর সেটা দিয়ে মুছুন আপনার পুরোনো আসবাবটি৷ তার চমক দেখে আপনি নিজেই অবাক হয়ে যাবেন!
জলের দাগ তোলার উপায়:
অসাবধানে চায়ের কাপ বা সফট ড্রিঙ্কের বোতল উলটে গিয়েছে কাঠের টেবিলের উপর? দাগের জায়গাটায় টুথপেস্ট লাগান (জেল হলে কিন্তু চলবে না, পেস্ট চাই)৷ তার পর একটা নরম কাপড় দিয়ে ঘষে ঘষে দাগটা তুলে ফেলুন৷ টুথপেস্টটা মোছার জন্য পরে আবার একটা আর্দ্র রুমাল বা তোয়ালে ব্যবহার করতে হবে৷
কালি বা অন্য কোনও কঠিন দাগ তোলার পদ্ধতি:
এক টেবিলচামচ বেকিং সোডা আর জল দিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করুন৷ দাগের উপর এটা লাগিয়ে নিন, তার পর নরম কাপড়ে মুছে দাগটা তুলে ফেলুন৷ এইবার একটা আর্দ্র কাপড় এর উপর বুলিয়ে নিন, তার পর একটা শুকনো কাপড়ে মুছে ভেজাভাবটা শুষে নেবেন৷
বাড়িতেই তৈরি করে নিন পালিশ:
1 কাপ আলিভ অয়েল আর ¼ কাপ সাদা ভিনিগার একসঙ্গে মিশিয়ে নিন৷ আসবাব পরিষ্কার করে নেওয়ার পর এই মিশ্রণ একটা নরম কাপড়ে ঢেলে ভালো করে মুছে নিন৷ আপনার ফার্নিচার ঝলমলে থাকবে বহুদিন৷
পরের স্টোরি :ধুলো থেকে অ্যালার্জি হচ্ছে? জেনে নিন তার ঘরোয়া সমাধান
ধুলো থেকে অ্যালার্জি হচ্ছে? জেনে নিন তার ঘরোয়া সমাধান
ঘর-দোর পরিষ্কার করতে গেলেই হাঁচি-কাশিতে নাজেহাল হয়ে পড়ছেন? তা হলে সম্ভবত আপনার ডাস্ট অ্যালার্জি আছে৷ অতি অবশ্যই একবার ডাক্তার দেখিয়ে নিন, তাঁর পরামর্শমতো ওষুধপত্র খান৷ সেই সঙ্গে অবশ্যই মেনে চলুন কয়েকটি ঘরোয়া নিয়ম, তাতে আরাম মিলবে নিশ্চিতভাবেই৷
লক্ষণ:
ডাস্ট মাইট (ধুলোর মধ্যে থাকা আণুবিক্ষনিক জীব) ও অন্য নানা কারণে ডাস্ট অ্যালার্জি হতে পারে৷ সাধারণ এই ধরনের অ্যালার্জির আক্রমণে নাক বন্ধ হয়ে যায়, শ্বাস নিতে অসুবিধে হয়, বার বার হাঁচি আসতে থাকে, কাশি হয়, চোখ চুলকায় এবং লাল হয়ে জল পড়ে৷ গায়ে, মুখে লালচে চুলকানিও বেরোয়৷ কারও কারও ক্ষেত্রে এই সব লক্ষণের একটি কার্যকর হয়, কেউ কেউ একাধিক সমস্যায় ভোগেন৷
কী খাবেন:
খাদ্যতালিকায় অবশ্যই প্রোবায়োটিক রাখুন: দই, ঘোল, ছানায় উপস্থিত প্রোবায়োটিক আপনার প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়৷ প্রতিরোধক্ষমতা যাঁদের বেশি, তাঁদের এই ধরনের সংক্রমণ খুব একটা কাবু করে ফেলতে পারে না৷
মধু: হাঁচি ও কাশিতে খুব কষ্ট পাচ্ছেন? তা হলে এক চাচামচ অরগ্যানিক মধু খেয়ে নিন৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই উপকার পাবেন৷ খুব কাশি হলে গরম জলে এক চাচামচ অরগ্যানিক মধু মিশিয়ে ছোট ছোট সিপে খেলেও গলায় আরাম হয়৷
গ্রিন টি: গ্রি টিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরে অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন তৈরি হওয়া ঠেকিয়ে রাখতে পারে৷ অ্যালার্জির কারণে ফোলা, লালচেভাব, চুলকানিও কমায় গ্রিন টি-র প্রভাব৷ অনেকেরই বর্ষাকালে অ্যালার্জির সমস্য বাড়ে, সে সময়ে দিনে দু’ কাপ গ্রিন টি পান করলে অ্যালার্জি ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব৷
ইউক্যালিপটাস তেল: সাইনাসের সমস্যা ধুলোর কারণে আরও বাড়ে৷ যদি এক বড়ো বাটি গরম জলে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল ফেলে 10 মিনিট ভাপ নিতে পারেন, তা হলে মুক্তি পাবেন নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যা থেকে৷ কমবে নাকের প্রদাহ৷
পিপারমিন্ট: এক কাপ গরম জলে এক মুঠো শুকনো পুদিনাপাতা দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে খানিকক্ষণ রাখুন৷ তার পর ছেঁকে পান করুন৷ কমবে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া ও শ্বাসে অসুবিধের সমস্যা৷
ঘি: প্রচুর চুলকানি বেরিয়েছে গোটা গায়ে? তুলোর মধ্যে এক চামচ খাঁটি ঘি নিয়ে থুপে থুপে লাগিয়ে নিন তার উপর, জ্বালা কমবে৷ খুব হাঁচি হলেও কোয়ার্টার চাচামচ ঘি খেতে পারেন, আরাম পাবেন৷
সেই সঙ্গে ঘর-দোর পরিষ্কার রাখুন৷ মাস্ক পরে ঝাড়াঝুড়ির কাজ করবেন সব সময়ে৷ জানলার পরদা, বিছানার চাদর, বালিশের ঢাকা সপ্তাহে একদিন গরম জলে ধুয়ে নিন৷ অনেকের বিড়াল, কুকুর, পাখির লোম বা সফট টয়ের রোঁয়া থেকেও অ্যালার্জি হয়, সেগুলি থেকে দূরে থাকুন৷ বর্ষায় ঘরের মধ্যে জামাকাপড় শুকোতে দেবেন না৷
রান্নাঘর ঝকঝকে পরিষ্কার রাখতে চান?
রান্নাঘরটা একেবারে পরিষ্কার, তকতকে রাখতে চাই আমরা সকলেই, কিন্তু চাইলেই তো আর দুনিয়ার সব ভালো জিনিস হাতের মুঠোয় পাওয়া যায় না, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার জন্য কঠিন পরিশ্রম করতে হয়৷ রান্নাঘর পরিষ্কার রাখাটাও ঠিক তেমনই একটা কাজ৷ দু’-তিনদিন গা ছাড়া ভাব দেখালেই বাসনপত্র, দেওয়াল তেল চিটে ধরবে, স্টিলের জিনিসপত্রের গায়ে জমবে কুয়াশা৷ তাই রান্নাঘর সাফসুতরো রাখুন সব সময়েই, তাতে পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকেও বাঁচবেন৷
প্রতিদিন অন্তত আধ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ রাখুন রান্নাঘর সাফাইয়ের কাজে৷ গ্যাসের আভেন, কিচেন কাউন্টার, সিঙ্ক প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে৷ আভেন, ফ্রিজ, বাসন রাখার আলমারি, মাইক্রোওয়েভের সামনের দরজাটা প্রতিদিন মুছতে হবে৷ বাদ দেবেন না মশলার কৌটোগুলোকেও৷ ফ্রিজের তাকে জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখুন৷ প্রতিদিন ফল আর সবজির বাস্কেটটা একবার চেক করে দেখে নিন কোনও জিনিস নষ্ট হচ্ছে কিনা৷ স্টোভ আর ফ্রিজের নিচটা সাধারণত পরিষ্কার করা হয় না, কিন্তু সেটাও যত্ন নিয়ে পরিষ্কার করুন৷ প্রতিটি কলের মাথা মুছুন৷ দেওয়ালটাও ভালো করে মুছে নেবেন৷ চিমনি থাকলেও প্রতিদিন একবার রান্নাঘরের সমস্ত জিনিসপত্র মুছে নেওয়া প্রয়োজন৷
রান্নাঘরের মেঝেটা খুব ভালো করে মুছুন৷ অনেকের রান্নাঘরে ফিনাইল ব্যবহারে আপত্তি থাকে, তাঁরা গরম জলে একমুঠো নিমপাতা ফেলে মেঝেটা মুছে নিতে পারেন৷ রান্নাঘরের মেছেতে টাইলস পাতা আছে? তা হলে জলে বেকিং সোডা দিয়ে মুছুন৷ দেখবেন, টাইল কেমন ঝকমকিয়ে ওঠে৷ যাঁরা কিচেন আর ডাইনিং এরিয়াটায় কাঠের মেঝে তৈরি করেছেন, তাঁরা 9 ভাগ গরম জলে 1 ভাগ খাবার সোডা মিশিয়ে নরম কাপড় দিয়ে ঘষে ঘষে মুছুন৷
স্টেনলেস স্টিলের গ্যাজেট যত্নে না রাখলে তাতে জং পড়ে যেতে পারে৷ প্রতিদিন ব্যবহারের পর শুকনো কাপড়ে গ্যাজেট মুছে নিন৷ যদি জং পড়েই যায়, তা হলে হার্ডওয়্যার স্টোর থেকে ঝামাপাথরের গুঁড়ো কিনে এনে একটা কাপড়ে সেই গুঁড়ো নিন৷ তার পর সেটা দিয়ে ঘষে ঘষে মুছেন ফেলুন জং পড়া জায়গাগুলো৷ তার পর থেকে নিয়মিত পরিষ্কার রাখবেন৷
স্টিলের বাসনপত্র, বিশেষ করে কাটলারি পরিষ্কার করার সবচেয়ে সহজ রাস্তা হচ্ছে এক বাটি গরম জল আর কয়েক ফোঁটা ডিশওয়াশের মিশ্রণ৷ বাড়িতে পার্টি থাকলে বা প্রচুর বাসন বেরোলে একটা গামলায় এই মিশ্রণটা তৈরি করে রাখুন৷ এঁটো বাসন তাতে ডুবিয়ে রাখার ব্যবস্থা করুন৷ তারপর আর একবার সাবান আর জলের মিশ্রণ বুলিয়ে ধুয়ে নিলেই বাসন ঝকঝক করবে৷ শুকনো কাপড়ে মুছে গুছিয়ে তুলে রাখুন এর পর৷ রান্নার/ পার্টির পর একগাদা বাসন জমিয়ে না রেখে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলার ব্যবস্থা করুন৷
স্টেনলেস স্টিলের পাত্রে পোড়া দাগ ধরেছে? এক কাপ বেকিং সোডা, কোয়ার্টার কাপ লেবুর রস, তিন টেবিলচামচ বোরাক্স আর এক বোতল ক্লাব সোডা লাগবে পরিষ্কার করতে৷ প্রথম তিনটি একসঙ্গে মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করে নিন৷ তারপর নরম কাপড় দিয়ে সেটা বাসনের উপর ঘষুন৷ হয়ে গেলে ক্লাব সোডা দিয়ে ধুয়ে নেবেন৷ ভালো করে মোছার পর জল দিয়ে আর একবার ধুয়ে নিলেই বাসন ফিরে আসবে আগের চেহারায়৷
কোন কোন খাবার থেকে আপনি সবচেয়ে বেশি ক্যালশিয়াম পাবেন?
ক্যালশিয়ামের প্রয়োজনীয়তা:
আমাদের শরীরে যে খনিজ পদার্থগুলির প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি, তারই মধ্যে পড়বে ক্যালশিয়াম৷ আমাদের হাড়ের কাঠামো তো বটেই, পেশিগুলিকে সচল রাখতে বা নার্ভাস সিস্টেমকে কার্যকর রাখতেও ক্যালশিয়ামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে৷ ক্যালশিয়াম ছাড়া ভিটামিন এ, ডি, ই আর কে-র মতো ফ্যাট সলিউবল ভিটামিনগুলির আত্তীকরণ হবে না শরীরে৷ তাই খাদ্যতালিকায় যথেষ্ট পরিমাণ ক্যালশিয়াম আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখে নিতে হবে৷ মনে রাখবেন, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতিদিন 1000 মিলিগ্রাম ক্যালশিয়ামের প্রয়োজনীতা আছে৷ জেনে নিন কোন কোন খাবার থেকে আপনি সর্বাধিক ক্যালশিয়াম পেতে পারেন৷
দুধ: দুধে প্রচুর ক্যালশিয়াম থাকে, এ তথ্য আমাদের সবার জানা৷ এক কাপ মাঠাযুক্ত দুধে আপনি আন্দাজ
270 মিলিগ্রাম ক্যালশিয়াম পাবেন৷ সঙ্গে ভিটামিন ডি আর এ-ও মেলে৷ সোয়াবিন পিষে নিষ্কাশিত দুধের এক কাপে 200 মিলিগ্রামের কাছাকাছি ক্যালশিয়াম মিলবে৷ যাঁরা ভেগান বা দুধ হজম করতে পারেন না, তাঁরাই সোয়া মিল্ক, আমন্ড মিল্ক বা নারকেলের দুধের দ্বারস্থ হোন৷
চিজ়: প্রোটিন, ভিটামিন, ক্যালশিয়াম, ছাড়াও ফসফরাস ও জ়িঙ্কের মতো মিনারেলের সন্ধান মিলবে চিজ়ে৷ তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় চিজ় বা ছানা রাখতে পারেন৷ তবে অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়তে পারে৷
দই: যাঁরা দুধ হজম করতে পারেন না, তাঁদের জন্য আদর্শ অপশন হচ্ছে দই৷ এক কাপ দইয়ে ক্যালশিয়ামের পরিমাণ আন্দাজ
280-290 মিলিগ্রামের কাছাকাছি৷ তবে এ ক্ষেত্রেও ফুল ফ্যাট দুধের দই সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধ৷ এর মধ্যে যে ল্যাকটোব্যাসিলাস থাকে, তা হজমের পক্ষেও সহায়ক৷
ডাল: সোয়াবিন, রাজমা, ছোলা, সোয়াবিনের দানা, নানা ধরনের ডালেও প্রচুর ক্যালশিয়াম মেলে৷ এক কাপ রান্না করা মুগ ডালে ক্যালশিয়ামের পরিমাণ আন্দাজ
270 মিলিগ্রাম৷
সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি: পালং, সরষে, নটে শাক, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, ফুলকপি ইত্যাদিতেও ক্যালশিয়ামের জোগান ভালোই৷ তবে এই ধরনের আনাজপাতি অতি অবশ্যই খুব ভালো করে ধুয়ে নিয়ে তবেই খাওয়া উচিত৷
শুকনো ফল: শুকনো এপ্রিকট, খেজুর, বাদামেও বেশ ভালো পরিমাণেই ক্যালশিয়াম মেলে৷ তবে শুকনো ফল বা বাদাম খাওয়ার আগে একবার পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিলে ভালো করবেন৷ অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে ওজন বাড়তে পারে৷
সামুদ্রিক মাছ, ডিম, মাংস: যাঁরা আমিষ খেতে ভালোবাসেন, তাঁদের ক্যালশিয়ামের জোগান দেয় সমুদ্রের মাছ, ডিম ও মাংস৷
টিপস: অতিরিক্ত ক্যালশিয়াম থেকে কনস্টিপেশন হতে পারে, কিডনিতে স্টোন জন্মানোও বিচিত্র কিছু নয়৷ আয়রন ও জ়িঙ্কের সংশ্লেষেও বাধা সৃষ্টি করে ক্যালশিয়ামের বাড়াবাড়ি৷ তাই খাদ্যতালিকাটি একবার পুষ্টিবিদকে দিয়ে দেখিয়ে নিলে ভালো করবেন৷
পরের স্টোরি :ঘামের সমস্যায় কার্যকর ঘরোয়া সমাধান
ঘামের সমস্যায় কার্যকর ঘরোয়া সমাধান
ভ্যাপসা গরমে অল্পবিস্তর ঘাম সকলকেই বিব্রত করে৷ কিন্তু যদি আপনি সারাক্ষণ প্রবল ঘামতে থাকেন, এমনকী এসির মধ্যে বা পাখার সামনে বসে থাকলেও ঘাম হয়, তাহলে কিন্তু একটু তলিয়ে ভেবে দেখতে হবে কোনও শারীরিক সমস্যার কারণে এমনটা হচ্ছে কিনা৷ উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা, অত্যধিক স্ট্রেস, অ্যাংজ়াইটি এমনকী পুষ্টির ঘাটতি থেকেও মাত্রাতিরিক্ত ঘাম হতে পারে৷ যাঁদের ডায়াবেটিস, ওবেসিটি, হাইপার থাইরয়েডিজ়ম সংক্রান্ত সমস্যা থাকে, তাঁদেরও খুব ঘাম হয়৷ রোগ নিয়ন্ত্রণে এলে সমস্যা কমেও যায়৷ তাই যাঁরা আচমকাই খুব ঘামতে আরম্ভ করেছেন, তাঁরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তার দেখান৷ তবে যতদিন না সমস্যার সমাধান হচ্ছে, ততদিন কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখতে পারেন৷
অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার: এর অ্যাস্ট্রিনজেন্ট প্রপার্টি আপনার শরীরের পিএইচ ব্যালেন্স বজায় রাখতে সাহায্য করে, ফলে অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়৷ স্নানের শেষে অ্যাপল সাইডার ভিনিগার মেশানো জল গায়ে ঢালতে পারেন৷ বা সমান পরিমাণ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার আর জল মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করে সেটা তুলো দিয়ে লাগাতে পারেন উপদ্রুত অংশগুলিতে৷ অ্যান্টি পার্সপিরেন্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ত্বকের ছিদ্রগুলি বন্ধ রাখতেও সাহায্য করবে এই মিশ্রণ৷ রাতে শোওয়ার আগে লাগিয়ে পরদিন সকালে ধুয়ে ফেললেও ভালো ফল পাওয়া যায়৷
পাতিলেবু: অতিরিক্ত ঘাম ও দুর্গন্ধের জন্য যে ব্যাকটেরিয়াগুলি দায়ী, সেগুলির বিনাশে খুব কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে লেবুর রসে উপস্থিত সাইট্রিক অ্যাসিড৷ ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হলে কমবে ঘামের দুর্গন্ধও, তাই লেবুর রস প্রাকৃতিক ডিওডোরান্ট হিসেবে কাজ করে, এমনটাও বলা যায়৷ এক চাচামচ লেবুর রস আর সম পরিমাণ বেকিং সোডা দিয়ে একটা মিশ্রণ বানিয়ে নিন৷ রাতে শুতে যাওয়ার আগে শরীরের যে সব জায়গায় অতিরিক্ত ঘাম হয়, সেখানে এই মিশ্রণটি লাগিয়ে নিন তুলো দিয়ে৷ আধ ঘণ্টা পরে ধুয়ে নিন৷ একটা লেবু অর্ধেক করে কেটে বাহুমূলে ঘষে নিন ভালো করে, সারা রাত রেখে পরদিন সকালে উঠে ধুয়ে নেবেন৷
নারকেল তেল: যে সব ব্যাকটেরিয়ার কারণে অতিরিক্ত ঘাম হয়, তা নিয়ন্ত্রণ করে নারকেল তেলের লরিক অ্যাসি়ড৷ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে স্নান করুন ভালো করে৷ যেখানে বেশি ঘাম হয়, সেখানে কোল্ড প্রেসড নারকেল তেল লাগিয়ে নিন তারপর৷ মিনিট 45
ম্যাসাজ করতে পারলে খুব ভালো, কারণ তা হলে আপনার ত্বক তেলটা শুষে নেবে৷ পরদিন সকালে স্বাভাবিক উষ্ণতার জলে ধুয়ে ফেলুন৷ প্রতিদিন এই নিয়মটা চালিয়ে গেলে সুফলটা নিজেই বুঝতে পারবেন৷
আলু: অ্যান্টি পার্সপিরেন্ট ও ব্লকিং এজেন্ট হিসেবে আলু কাজ করে৷ তা শরীর থেকে বাড়তি জলও শুষে নেয়৷ এক টুকরো আলু কেটে নিয়ে ত্বকের যে সব অংশে বেশি ঘাম হয়, সেখানে পাঁচ মিনিটের জন্য ঘষে নিন৷ জায়গাটা শুকনো হয়ে গেলে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন৷ আলু কুরে বা ছেঁচে নিয়ে রস বের করেও ঘাম-প্রবণ অংশগুলিতে লাগাতে পারেন তুলো দিয়ে৷ বাড়তি রসটা একটা কাচের মুখ বন্ধ কৌটোয় ভরে ফ্রিজে রেখে দিন৷
3-4দিন বেশ ভালো থাকে৷
কালো চা: চায়ে উপস্থিত ট্যানিক অ্যাসিড ঘামের উপদ্রব কমাতে উল্লেখযোগ্য সাহায্য করতে পারে৷ এর অ্যাস্ট্রিনজেন্ট প্রপার্টি ঘর্মগ্রন্থিকে দৃঢ়সংবদ্ধ রাখে, ফলে ঘাম কম হয়৷ অল্প উষ্ণ জলে কয়েকটি টি-ব্যাগ রেখে দিন, কিছুক্ষণ পর লিকার বেরিয়ে আসবে৷ তখন সেই মিশ্রণটা কাচের বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে এক সপ্তাহ ব্যবহার করতে পারবেন৷ তুলোয় করে অল্প মিশ্রণ নিয়ে অতিরিক্ত ঘাম হয়, এমন অংশে লাগান৷ শুকিয়ে গেলে গরম জলে ধুয়ে নিন৷
বর্ষায় প্রিয় পোষ্যটির খেয়াল রাখার 5টি টিপস
প্রতিবার বর্ষা এলেই বড়ো সমস্যায় পড়ে আপনার প্রিয় পোষ্যটিও৷ মুখে বলতে পারে না বলে তাদের প্রতি আরও বেশি করে নজর দেওয়া উচিত, কারণ আপনি অসতর্ক হলে তার কষ্ট আরও বাড়বে৷ গা থেকে বাজে গন্ধ ছড়াবে, পোকা হবে৷ কিন্তু আপনি যদি কয়েকটি টিপস মেনে চলেন, তা হলে সমস্যা এড়াতে পারবেন সহজেই!
কুকুর/বিড়ালের গা মুছুন শুকনো করে: প্রতিবার বাইরে থেকে বেরিয়ে আসার পর বা বৃষ্টির জলে ভেজার পর পোষ্য বাড়িতে ফিরে এলে তার গা মুছে দিন শুকনো তোয়ালে দিয়ে৷ যদি আপনার পোষ্য রোমশ হয়, তা হলে আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে৷ আর্দ্রতা রোমের গোড়ায় বসে গেলেই স্যাঁতসেঁতে গন্ধ ছাড়বে, চুলকানি হবে ত্বকে৷ গা মোছার সময় খেয়াল রাখবেন কানের দিকেও, কানের প্রতিটি ভাঁজ-খাঁজ একেবারে শুকনো করে মুছে দেওয়া একান্ত প্রয়োজনীয়৷ যে সব কুকুরের লম্বা কান, তাদের ক্ষেত্রে আরও বেশি যত্নশীল হওয়া আবশ্যক৷ নতুবা জল বসে কানে ইনফেকশন হবে৷ লাগাতার বৃষ্টি হতে থাকলে স্নান না করিয়ে গরম জলে তোয়ালে ভিজিয়ে ভালো করে নিংড়ে নিয়ে গা মুছিয়ে দিন, ড্রাই বাথও ব্যবহার করতে পারেন৷ যে সব কুকুর বা বিড়ালের রোম লম্বা হয়, তাদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে একদিন স্নান যথেষ্ট৷ পায়ের থাবার ফাঁকে যেন জল না জমে থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে৷
পোকা নিরোধক শ্যাম্পু ব্যবহার করুন: গায়ে পোকা দেখতে পেলে স্নান করানোর সময় অ্যান্টি-টিক শ্যাম্পু ব্যবহার করাটা একান্ত আবশ্যক৷ না হলে অ্যান্টি-সেপটিক শ্যাম্পু ব্যবহার করুন৷ পোকা নিরোধক কলারও কিনতে পাওয়া যায়, সেটাও ট্রাই করে দেখতে পারেন৷ তবে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে সব সময়ে, দিনে অন্তত দু’বার ভালো করে রোম আঁচড়ে দিন৷
ডি-ওয়ার্মিং আর ভ্যাকসিনেশনের ব্যাপারে যত্নশীল হোন: কোনও পরিস্থিতিতেই পোষ্যের ডি-ওয়ার্মিং আর ভ্যাকসিনেশনের ব্যাপারে গাফিলতি করবেন না৷ ইমিউনাইজ়েশন শেডিউল মেনে চলুন৷ তাতে আপনার পোষ্য ভিতর থেকে শক্তিশালী হয়ে উঠবে, ছোটখাটো ইনফেকশন তাকে বিব্রত করতে পারবে না৷ নিয়মিত নখ কাটা, দাঁত পরিষ্কার করাও প্রয়োজনীয়৷ নিয়মিত গ্রুমিং সেশনে নিয়ে যেতে পারলে ভালো হয়৷
ঘরের ভিতরেই এক্সারসাইজ়ের ব্যবস্থা করুন: যদি লাগাতার বৃষ্টি পড়তে থাকে, তা হলে পোষ্যটিকে নিয়ে বাইরে না বেরিয়ে ঘরের ভিতরেই ব্যায়াম করানোর বন্দোবস্ত করুন৷ বৃষ্টিতে ভেজার চেয়ে ঘরে খেলাধুলো করলে তার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে৷ মনে রাখবেন, বেশি বৃষ্টিতে ভিজলে কুকুরের গায়ে চুলকানি বাড়ে, বিড়ালের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়৷
খেয়াল রাখুন পোষ্যের ডায়েট আর ওজনের প্রতি: পোষ্যের ডায়েট যদি পুষ্টিকর হয়, তা হলে তার সামগ্রিক স্বাস্থ্যই ভালো থাকে৷ ঝলমল করে রোম, চোখের দৃষ্টি হয় পরিষ্কার, বাড়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা৷ তাই পোষ্যকে সেরা ডায়েট দিন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে৷ পানীয় জল যেন পরিশ্রুত হয়৷ পোষ্যের ওজনের উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখুন৷ ওজন বাড়লেই হার্টের উপর বাড়তি চাপ পড়ে, হাড়ের জোড়ের জায়গাগুলি ক্রমশ দুর্বল হতে আরম্ভ করে৷
রান্নাঘরে কাজে লাগতে পারে এমন 10টি টিপস
নিজে রান্না করে খাওয়ার অনেকগুলো সুবিধে আছে৷ খরচ কম হয়, তা ছাড়া যেহেতু রান্নাটা আপনি নিজের দায়িত্ব নিয়ে করছেন, তাই তা স্বাস্থ্যকরও বটে৷ কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, রান্না তত ঝকমারির না হলেও পুরো রান্নাঘরটা দায়িত্ব নিয়ে সামলানো ততটা সহজ বলে মনে না-ও হতে পারে সকলের৷ রইল কিছু সহজ টিপস, যা মেনে চললে কিছু সুবিধে হবে সকলেরই৷
1. আগেরদিন রাতে কাটা আলু পরদিন এতটাই কালো হয়ে যায় যে রাঁধার ইচ্ছেটাই থাকে না, তাই না? তাই খোসা ছাড়ানো আলু রান্নার আগে পর্যন্ত ঠান্ডা জলে ডুবিয়ে রাখুন৷ এটা ফ্রিজেও রাখা যায়৷ রান্নার আগে আলুটা টুকরো করে কেটে নেবেন৷
2. খুব পোক্ত হাত না হলে ডিম ভাঙতে গিয়ে বেশি চাপ পড়ে ডিমের খোসা ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যাওয়াটা বিচিত্র নয়৷ এই পরিস্থিতিতে গোটা ডিমটা ফেলে না দিয়ে ভাঙা খোসার একটা বড়ো টুকরো হাতে নিন৷ এবার এই টুকরোটার সাহায্য নিয়ে খোসার ছোট ছোট ভাঙা অংশগুলো তুলে ফেলুন ডিমের গোলা থেকে৷ খোসার বড়ো টুকরোটা চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে আনবে ছোট টুকরোগুলিকে৷ তাতে খুব বেশি ডিম নষ্ট হবে না৷
3. বাজার থেকে কলা/ আম কিনে এনে দেখলেন যে সেগুলি তখনও পাকেনি৷ কী করবেন? একটা বড়োসড়ো কাগজের ঠোঙায় ফলগুলি মুড়ে রেখে দিন৷ তাড়াতাড়ি পেকে যাবে৷ আর কাটা ফলের গায়ে দাগ ধরা আটকাতে চাইলে সামান্য লেবুর রস মাখিয়ে রেখে দিন ফ্রিজে৷
4. মাখন বের করে রাখতে ভুলে গিয়েছেন, কিন্তু এখনই ব্যবহার করতে হবে? শক্ত মাখনটা গ্রেট করে নিন৷ তার পর গরম টোস্টের উপর ছড়িয়ে দিলেই দেখবেন মাখন গলতে আরম্ভ করে দিয়েছে এবং বাটার নাইফ দিয়ে স্বচ্ছন্দে লাগানো যাচ্ছে৷
5. জন্মদিনের কেক পুরোটা শেষ হয়নি? কোনও চিন্তা নেই, ফ্রিজে রাখার আগে কেকটা যেখান থেকে কেটেছেন, সেই খোলা দিকটায় টুথপিক দিয়ে পাউরুটির স্লাইস আটকে দিন৷ এই পাউরুটিই কেকটাকে শুকনো হতে দেবে না৷ আর সম্ভব হলে কোনও গভীর এবং ঢাকা দেওয়া কৌটোয় কেকটা তুলে রাখুন, তা না হলে কিন্তু ফ্রিজের অন্যান্য খাবারের গন্ধ কেক শুষতে আরম্ভ করবে৷
6. বাড়িতে পার্টি আছে বলে প্রচুর বরফ জমিয়ে রেখেছেন ফ্রিজ়ারে, কিন্তু তাতে কুলোবে কিনা নিশ্চিত নন? এক থোকা আঙুর/ ব্লুবেরিও ফ্রিজ় করে রাখুন৷ যাঁরা ককটেল, সাংগ্রিয়া বা ফলের স্বাদে ভরপুর কোনও মকটেল খাচ্ছেন, তাঁদের গ্লাসে কয়েকটা বরফে জমাট বাঁধা ফল ফেলে দিলেও ড্রিঙ্ক শীতল হয়ে যাবে৷ ফ্রোজ়েন ফল কিন্তু পরে ডেজ়ার্ট তৈরি করেই খেতে হবে, কারণ তা আর আগের চেহারায় ফিরবে না, নরম হয়ে যাবে৷
7. হাত থেকে আদা-রসুন বা মাছের গন্ধ ছাড়তেই চাইছে না? লেবু বা বেকিং সোডা হাতের আঙুলে মাখিয়ে ঘষে ধুয়ে নিন৷ তাতেও গন্ধ থাকলে হাতটা একটা স্টেনলেস স্টিলের বাসনের গায়ে খানিকক্ষণ ঘষুন – হাতের গন্ধ বাসনটি টেনে নেবে!
8. ছুরির ধার কমে যাচ্ছে? কাঁটা-চামচ ইত্যাদি কাটলারির সঙ্গে ছুরি রাখার কারণেও তা হতে পারে কিন্তু! ছুরি সব সময় নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডে রাখা উচিত, ধারালো দিকটা যেন নিচের দিকে থাকে৷
9. মাইক্রোওয়েভে পাউরুটি, নান বা পরোটা গরম করলেই শক্ত হয়ে যাচ্ছে? একটা ভেজা কাপড়ে মুড়ে নিন রুটিটা বা অল্প করে জল ছিটিয়ে নিন৷ তার পর গরম করুন৷ তাহলে তা মোটেই শক্ত হবে না৷
10. কৌটো বা জারের মুখ এমনভাবে আটকে গিয়েছে যে কিছুতেই খুলতে পারছেন না? রবার ব্যান্ড আটকে নিন ঢাকনাটায়, তার পর ফের একবার ট্রাই করুন৷ এতেও না খুললে রবার ব্যান্ড আটকানো ঢাকনার উপর একটা শুকনো রুমাল জড়িয়ে ট্রাই করতে পারেন, ঢাকনা খুলতে বাধ্য৷
নতুন জুতোয় পায়ে ফোসকা পড়েছে? জেনে নিন ঘরোয়া প্রতিকার
অফিসে বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে যাওয়ার সময় নতুন একজোড়া জুতো পরতে কার না ভালো লাগে? কিন্তু সব ভালোরই একটা খারাপ দিকও যে থাকে, সেটা ভুক্তভোগী মাত্রেই জানেন৷ নতুন জুতো পরার খানিকক্ষণের মধ্যেই পায়ে অস্বস্তিকর খচখচানি, বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেটা বেড়ে ব্যথায় পরিণত হওয়া আর দিনের শেষে বেশ বড়োসড়ো একখানি ফোসকার মুখোমুখি কম-বেশি আমরা সবাই-ই হয়েছি কখনও না কখনও৷ কিন্তু আগামীদিনে যাতে আর তা না হয়, সেই চেষ্টাটা করতে হবে তো! তাই হাতের কাছে রাখুন কিছু কার্যকর ঘরোয়া উপাদান৷
নারকেল তেল: নারকেল তেল ত্বক ময়েশ্চরাইজ় করে এবং জ্বালাভাব কমাতেও তা দারুণ কার্যকর৷ নতুন জুতোয় যদি আপনি খানিকটা নারকেল তেল লাগিয়ে রাখেন পরার আগের রাতে, তা হলে জুতোর চামড়াও নরম হয়ে যাবে৷ যাঁদের বাড়ির আশেপাশে কোথাও নারকেলগাছ আছে, তাঁরা পারলে একটি সবুজ নারকেলপাতা জোগাড় করুন, পুরোটা চাই না, দু’-একটা সবুজ স্ট্রিপ হলেই হবে৷ কাঁচা পাতাটা পুড়িয়ে নিন গ্যাসে৷ এবার ছাইটা গুঁড়ো করে নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে একটা পরিষ্কার কৌটোয় ভরে ফ্রিজে রেখে দিন৷ এই মিশ্রণ লাগালে নাকি পায়ে কড়াও পড়ে না, ফোসকাও পড়ে না!
মধু: মধুতে জ্বালাভাব কমে, তাড়াতাড়ি ক্ষত সারে, দাগও মিলিয়ে যায় দ্রুত৷ মধুর সঙ্গে তিলের তেল মিশিয়েও লাগাতে পারেন ফোসকার উপর৷ শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নেবেন ঘরের তাপমাত্রায় থাকা জলে৷ তবে ত্বক খুব স্পর্শকাতর হলে মধুতে রিঅ্যাকশন হতে পারে, তাই সতর্ক থাকবেন৷
চালের গুঁড়ো: ফোসকা শুকিয়ে যাওয়ার পরও অনেকদিন দাগ থেকে যায়, তার মূল কারণ মৃত কোষ৷ যথাযথ এক্সফোলিয়েশন হলে ফোসকা সারেও তাড়াতাড়ি, দাগও মিলিয়ে যায়৷ চালের গুঁড়ো আর জল গুলে মোটা মিশ্রণ বানিয়ে নিন৷ ফোসকা যেখানে পড়েছে সেখানে লাগিয়ে শুকোতে দিন৷ তার পর জলে ধুয়ে নিতে হবে৷ পা মুছে ভালো করে ময়েশ্চরাইজ়ার লাগাতে ভুলবেন না৷
অ্যালো ভেরা: ফোসকা পড়ার পর যে জ্বালা ও ব্যথাভাব থাকে, সেটা কমাতে দারুণ কার্যকর হয়ে উঠতে পারে অ্যালো ভেরা জেল৷ অনেক সময় ফোসকা ফেটেও যায়, সেক্ষেত্রেও অ্যালো ভেরার অ্যান্টি মাইক্রোবায়াল প্রপার্টি কাজে আসবে৷ সরাসরি পাতার নির্যাস লাগাতে পারেন, বাজারচলতি অ্যালো ভেরা জেল ব্যবহার করলেও ভালোই ফল পাবেন৷
পেট্রোলিয়াম জেলি: নতুন জুতো পরার আগের দিন সারা রাত তার ভিতরে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে রাখুন৷ জুতো নরম হয়ে যাবে, ফোসকা পড়ার আশঙ্কাও কমবে৷ আর যদি একান্ত পড়েই যায়, তা হলেও নিয়মিত পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে থাকুন, পায়ের ত্বক আর্দ্র থাকলে ফোসকা সারবে তাড়াতাড়ি৷
হাত-পায়ের ত্বক সুস্থ রাখার ঘরোয়া উপায়
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকেই চুটিয়ে স্লিভলেস পরা শুরু করেছেন, পায়ে দিয়েছেন থং স্যান্ডাল আর হাল ফ্যাশনের স্লিপার৷ ফলে বর্ষা আসার মুহূর্তে নিজের হাত-পায়ের দিকে নিজেরই আর তাকাতে ইচ্ছে করছে না? এখনই কিন্তু সতর্ক হওয়া উচিত, কারণ এর পর পুরোদমে ধারাস্নানের মরশুম শুরু হয়ে গেলে যা-ই করুন না কেন, ফাঙ্গাল ইনফেকশনের আশঙ্কা থেকেই যাবে৷ তাই হাতের কাছে থাকা উপাদানগুলি দিয়ে এখনই যত্নআত্তি শুরু করে দিন, বর্ষার জমা জলও আপনাকে কোনওভাবে বিব্রত করতে পারবে না৷
ব্যবহার করুন নারকেল তেল: রোদের তাপে ত্বক আর্দ্রতা হারাতে আরম্ভ করে, ক্রমশ শুষ্ক হয়ে আসে৷ শুষ্ক ত্বকে ইনফেকশনও হয় বেশি৷ ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে দারুণ কার্যকর হয়ে উঠতে পারে নারকেল তেল, বিশেষ করে কোল্ড প্রেসড ভার্জিন নারকেল তেল৷ স্নানের পর এবং রাতে শুতে যাওয়ার আগে আর্দ্র ত্বকে নারকেল তেল লাগিয়ে নিন৷ দিনে দু’বার ত্বককে এই যত্নটা দিতে পারলে কিছুদিনের মধ্যেই ফারাকটা বুঝতে পারবেন৷ চুলকানি বা সানবার্নের সমস্যা থেকেও মুক্তি পাবেন৷
প্রতিদিন স্নানের সময় লুফা ব্যবহার করুন: স্নানের সময় হাত-পায়ের ত্বক লুফা বা ধুঁধুলের জালি দিয়ে ঘষে নিতে ভুলবেন না৷ বিশেষ করে জোর দিন হাঁটু, কনুই আর গোড়ালির দিকে৷ এতে ত্বকের মরা কোষ দূর হবে৷ পায়ের ক্ষেত্রে সাহায্য নিতে পারেন ঝামাপাথর বা পামিস স্টোনের৷ ঝামা দিয়ে পা ঘষে নেওয়ার অভ্যেস থাকলে পায়ে কখনও কড়া পড়বে না৷ তবে কোনও ফোসকা বা কড়া নিজের দায়িত্বে কাটতে যাবেন না, তাতে বিপদ হতে পারে৷
স্নানের পর আর্দ্র ত্বকে ক্রিম লাগান: স্নানের পর অবশ্যই হাতে-পায়ে ভালো করে ক্রিম লাগাতে হবে৷ শিয়া বাটার বা কোকো বাটারযুক্ত ক্রিম ত্বককে নরম রাখে৷ কনুই, হাঁটু আর গোড়ালির প্রতি বিশেষভাবে যত্নশীল হতে হবে৷
হাত-পায়ে সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না: হাত-পায়ের ত্বকে সানস্ক্রিন না লাগানোর ভুলটা অনেকেই করুন এবং তার ফলে ত্বকে কালচে ভাব দেখা দেয়৷ যাঁদের ত্বক স্পর্শকাতর, সানস্ক্রিনের পরত বিনা তাঁদের ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়৷ মুখ, গলার মতো হাত-পায়েও পর্যাপ্ত সানস্ক্রিন লাগানো একান্ত আবশ্যক৷ বিশেষ করে স্লিভলেস বা থ্রি কোয়ার্টার্স পরলে৷ পা ঢাকা জুতো না পরলে পায়ের পাতাতেও সানস্ক্রিন মাস্ট!
বিশেষ পরামর্শ: বর্ষার জমা জলে অনিচ্ছে সত্ত্বেও পা ডোবাতে বাধ্য হতেই হবে অনেক সময়ে৷ বাড়ি ফিরে এসে অবশ্যই উষ্ণ জলে খানিকটা শ্যাম্পু আর এক টুকরো পাতিলেবু ফেলে পা ডুবিয়ে রাখুন মিনিট দশেক৷ তার পর লুফা/ জালি আর পামিস স্টোন দিয়ে পা ঘষে
নিন৷ নখের ফাঁকে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করুন খুব সাবধানে৷ শেষে ভালো করে ক্রিমের পরত লাগিয়ে নিন৷ নিয়মিত ওয়্যাক্সিং, ম্যানিকিওর, পেডিকিওরের রুটিনে ছেদ পড়ারও কোনও কারণ নেই৷
বেশিদিন বাঁচতে চান? রোজ বই পড়ার অভ্যেস করুন
আপনার যদি নিয়মিত বই পড়ার অভ্যেস থাকে, তা হলে যাঁরা আদৌ বই পড়েন না, তাঁদের চেয়ে সম্ভবত আপনি বেশিদিন বাঁচবেন৷ আকাশকুসুম কল্পনা বলে বিষয়টাকে উড়িয়ে দেবেন না, এমনটাই প্রকাশিত হয়েছে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায়। প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ যোগ দিয়েছিলেন এই সমীক্ষায় এবং তাঁদের তিনটি ভাগে ভাগ করে নেওয়া হয়েছিল
— প্রথম দলে যাঁরা ছিলেন তাঁরা মোটেই কোনও বই পড়েন না, দ্বিতীয়টিতে যাঁদের রাখা হয়েছিল তাঁরা প্রতি সপ্তাহে গড়ে সাড়ে তিন ঘণ্টা ব্যয় করেন বই পড়ে। তিন নম্বর গ্রুপে যাঁরা ছিলেন তাঁরা প্রতি সপ্তাহে সাড়ে তিন ঘণ্টার চেয়ে বেশি সময় বই পড়ার জন্য বরাদ্দ রাখেন।
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা পড়ুয়া, তাঁদের সিংহভাগই মহিলা। এঁরা প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষিত, সারা জীবন বেশ ভালোই রোজগারও করেছেন, উপভোগ করেছেন আর্থিক স্বাচ্ছল্য। বয়স, স্বাস্থ্য, ডিপ্রেশনের মতো ক্রনিক মানসিক সমস্যা, চাকরি, বৈবাহিক শান্তি ইত্যাদির মতো বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে সমীক্ষাটি করা হয়েছিল। পরের 12 বছর নিয়মিত ফলো-আপ চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। দেখা গিয়েছে, প্রথম দলের চেয়ে দ্বিতীয় দলের মানুষের মৃত্যুর হার অন্ততপক্ষে 17 শতাংশ কমেছে, আর তিন নম্বর দলের ক্ষেত্রে তা কমে গিয়েছে 23 শতাংশ! দেখা গিয়েছে যাঁরা মোটেই বই পড়েন না, তাঁদের চেয়ে পড়ুয়াদের গড় আয়ু অন্তত দু’ বছর বেশি৷
যাঁরা বইপত্র না পড়ে ম্যাগাজ়িন আর খবরের কাগজ পড়েন প্রতিদিন, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই নিয়মগুলি খাটে৷ তবে বই পড়ার ক্ষেত্রে ফারাকটা পরিষ্কার বোঝা যায়৷ইয়েলের অধ্যাপক ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বেক্কা আর লেভি ‘সোশাল সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন’ জার্নালে প্রকাশিত এই সমীক্ষার ফলাফলে লিখেছেন, ‘দিনে আধ ঘণ্টা বই পড়লেও জীবৎকাল বাড়ে।’ যাঁরা বইপত্র পড়তে ভালোবাসেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে খুব উল্লসিত এ খবরে!
ব্ল্যাকহেডস দূর করার ঘরোয়া উপায়
ব্ল্যাকহেডসের নাম শুনে ঘাবড়ে যান না বা অস্বস্তিতে পড়েন না, এমন মহিলা গোটা দুনিয়াতেই বিরল৷ কাকে বলে ব্ল্যাকহেডস? কেনই বা তা হয়? সাধারণত আমাদের নাকের দু’পাশে, কপালে, গালে, চিবুকে যে ছোট ছোট বাদামি/ কালো এবং ত্বকের থেকে অল্প উঁচু অংশ থাকে তাকেই ব্ল্যাকহেডস বলে৷ এগুলো আর কিছুই না, তেল-ময়লা জমে বন্ধ হয়ে যাওয়া ত্বকের ছিদ্র এবং মৃত কোষের সমষ্টি, বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে তা কালো হয়ে যায়৷ অনেকে নখ দিয়ে চেপে ব্ল্যাকহেডস বের করার চেষ্টা করেন, কেউ কেউ স্ট্রিপ লাগিয়ে তা তুলে ফেলেন৷ তবে তাতে ব্যথা লাগে, দাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে৷ তার চেয়ে সাহায্য নিন কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতির৷ এগুলি নিয়মিত ব্যবহার করলে আপনার ত্বকে ব্ল্যাকহেডস হবেই না, তাই তা তাড়ানোর জন্যও বিশেষ পরিশ্রমের প্রয়োজন নেই৷ তবে কখনওই ত্বক এমনভাবে স্ক্রাব করবেন না যাতে কেটে-ছড়ে যায়, তাতে কিন্তু ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে৷
যে ফেসপ্যাকগুলি আপনার কাজে আসতে পারে:
একটি ডিমের সাদা অংশ ও এক চাচামচ মধু ফেটিয়ে নিন৷ ত্বকে লাগিয়ে শুকনো হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন৷ ঈষদুষ্ণ জলে ধুয়ে ফেলুন৷ ডিমের সাদা অংশে যে অ্যালবুমিন থাকে, তা ত্বকের ছিদ্রগুলিকে টাইট রাখে, ফলে ব্ল্যাকহেডস হয় না৷ বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ দেয়৷ সপ্তাহে দু’-একবার ব্যবহার করা যায়৷
তাজা অ্যালো ভেরার পাতা মাঝখান থেকে কেটে জ্যুসটা বের করে নিন৷ সরাসরি সেটা লাগান ব্ল্যাকহেডসের উপর৷ শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন৷ প্রতিদিন এটা করতে পারলে ধীরে ধীরে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে৷
একটি স্ট্রবেরি, আধ চাচামচ মধু আর আধ চাচামচ লেবুর রস একসঙ্গে পিষে নিন৷ তার পর সেটা ব্ল্যাকহেডসের উপর লাগিয়ে রাখুন অন্তত 20
মিনিটের জন্য৷ তার পর ধুয়ে ফেলুন ঠান্ডা জলে৷
টোম্যাটোর খোসা ছাড়িয়ে থেঁতো করে নিন৷ নাকে, গালে বা যেখানে ব্ল্যাকহেডস আছে সেখানে লাগিয়ে রাখুন সারা রাত৷ পরদিন সকালে উঠে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন৷ আপনার ত্বক খুব স্পর্শকাতর হলে টোম্যাটোর রসের সঙ্গে সমান পরিমাণ জল মিশিয়ে নিন৷
গরম জলের ভাপ নিন অন্তত দু’ মিনিটের জন্য৷ তারপর অরগ্যানিক মধু, অরগ্যানিক চিনি আর লেবুর রসের প্যাক তৈরি করে আলতো হাতে ঘষে নিন মুখে৷ মিনিটখানেক ম্যাসাজ করবেন৷ তার পর মুখ ধুয়ে ফেলুন৷ প্রতিদিন রাতে শোওয়ার আগে করলে ব্ল্যাকহেডস দূর হবে এবং ফিরে আসবে না৷
দুধের সঙ্গে জায়ফলের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন, তারপর এই মিশ্রণটা দিয়ে স্ক্রাব করুন প্রতি রাতে৷ তার আগে অবশ্যই ক্লেনজ়ার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নেবেন৷
যাঁদের ত্বক শুষ্ক, তাঁরা অরগ্যানিক ভার্জিন নারকেল তেল রোজ রাতে শোওয়ার আগে লাগিয়ে নিন ব্ল্যাকহেডসের উপর৷ ম্যাসাজ করুন মিনিটখানেকের জন্য৷ মৃত কোষ আপনিই ঝরে যাবে৷ মিশ্র বা শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ক্যাস্টর অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করলেও ভালো কাজ হয়৷ তার পর তুলো দিয়ে আলতো হাতে মুখটা মুছে নেবেন৷
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলতে আপনি কোন কোন পদক্ষেপ নিতে পারেন?
আজ 5 জুন সারা পৃথিবীতে পালিত হচ্ছে পরিবেশ দিবস হিসেবে৷ আমরা সবাই জানি, দূষণের কবলে একটু একটু করে বদলে যাচ্ছে আমাদের এই গ্রহ৷ পরিবর্তন আসছে ঋতুর চেনা প্যাটার্নে৷ এই পরিস্থিতিতে আমাদের প্রত্যেককেই সচেষ্ট হয়ে উঠতে হবে৷ একমাত্র তা হলেই বাঁচবে এই সবুজ পৃথিবী৷ জানতে চান, এই অবস্থায় আপনি কী কী করতে পারেন৷
প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করুন: প্লাস্টিক বায়োডিগ্রেডেবল নয়, পরিবেশের সঙ্গে মিশতে অন্তত 500 বছর সময় লাগে৷ আর এই দীর্ঘ সময়ে জল-বায়ু-মাটি সর্বত্র দূষণ ছড়াতে থাকে তা৷ তাই আজই বন্ধ করুন প্লাস্টিকের ব্যবহার৷ প্লাস্টিকের টিফিন বাক্স আর জলের বোতল তো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাদ দেওয়া উচিত, কারণ এগুলির হানিকারক প্রভাবে শারীরিক অসুস্থতাও দেখা দিতে পারে৷ কাচ বা মাটির বোতল আর স্টিল/ অ্যালুমিনিয়ামের টিফিন বাক্স ব্যবহারের উপর জোর দিন৷ ডিসপোজ়েবল কাটলারিও ব্যবহার করবেন না, স্টিলের কাঁটা-চামচ ক্যারি করুন সঙ্গে৷ বাজারে ব্যাগ নিয়ে যান, প্লাস্টিকের ক্যারি ব্যাগে কোনও জিনিস নেবেন না৷ এই ছোট ছোট পরিবর্তনের ফল সুদূরপ্রসারী৷ প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো গেলে পরিষ্কার থাকবে জল, রাস্তায় জল জমে বর্ষায় নাকাল হওয়ার হাত থেকেও বাঁচবেন৷
ফুল নয়, বন্ধুবান্ধবকে গাছ উপহার দিন: ফুলের চাষে, বিশেষ করে উপহার দেওয়ার উপযোগী বিদেশি ফুলের চাষ করতে প্রচুর পরিমাণে সার ব্যবহার হয়৷ তার অনেকটাই রাসায়নিক সার৷ যদি আপনি পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠতে চান, তা হলে ফুলের বদলে ছোট একটা গাছের চারা উপহার দিন বন্ধুকে৷ সেই সঙ্গে বাহারি টবও দেওয়া যায়, যেখানে গাছটি একটু বড়ো হলে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব৷ গাছটি যত বড়ো হবে, বন্ধুর পরিবারে অক্সিজেনের জোগানও তত বাড়বে৷ আর কে না জানে, একটি গাছ মানেই একটি প্রাণ?
বিদেশি ফলমূল বা সবজি খাওয়ার নেশা ত্যাগ করুন: মাঝেমধ্যে এক-আধবার শখে রাস্পবেরি বা ব্ল্যাকবেরি অথবা খুব দামি মাশরুম খাওয়ার ইচ্ছে হলে আলাদা কথা, রোজের খাদ্যতালিকায় বিদেশি সবজি, বাহারি ফল বা ফ্রোজ়েন তরিতরকারি না রাখাই ভালো৷ যে সব খাদ্যবস্তু বিদেশ থেকে আসে, সেগুলির আমদানিতে প্রচুর পেট্রোলিয়াম পোড়ে৷ সংরক্ষণ করে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয় কেমিক্যাল৷ ফ্রিজ়ারে রাখা মানেও তো জ্বালানির খরচ৷ তাই এই জাতীয় জিনিসপত্র বর্জন করে টাটকা স্থানীয় খাবার খাওয়ার উপর জোর দিন৷ সেগুলি স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো৷
অপ্রয়োজনে বিদ্যুতের ব্যবহার করবেন না: একান্ত প্রয়োজন না হলে বিদ্যুতের ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন৷ এসি না চালিয়ে ঘরের জানলা খুলে শোয়া সম্ভব? তা হলে সেটাই করুন৷ আলো-পাখা জ্বেলে রেখে বা জলের কল খুলে রেখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবেন না৷ ফোনে চার্জ দেওয়া হয়ে গেলে সুইচ অফ করে চার্জার খুলে সরিয়ে রাখুন৷ কমপিউটারে কাজ শেষ হলে তা বন্ধ করে দিন, স্লিপ মোডে রেখে সিট ছেড়ে যাবেন না৷
কেনাকাটির উপর রাশ টানুন: অহেতুক জামাকাপড় বা দামি গ্যাজেট কিনবেন না৷ যদি আপনি সত্যিই রান্নায় আগ্রহী হন, একমাত্র তা হলেই আভেন কিনুন, মাইক্রোওয়েভ নিয়মিত ব্যবহার হলে তবেই সেটি রান্নাঘরে ঢোকান৷ বাড়িতে কেক বা আইসক্রিম তৈরির অভ্যেস থাকলেই একমাত্র হ্যান্ড ব্লেন্ডার লাগে, না হলে সেটি ছাড়াও জীবন চলতে পারে৷ পোশাকের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে, বিশেষ করে পলিয়েস্টার বা নাইলনের মতো কৃত্রিম তন্তুতে তৈরি পোশাক থেকে যতটা দূরে থাকা সম্ভব, ততই মঙ্গল৷
রান্নাঘরের হাল ফেরান, খেয়াল রাখুন স্বাস্থ্যের
দিনের মধ্যে 8-10 ঘণ্টা একটা সিটে টানা বসে কাজ করার ফল ভালো হওয়ার কথা নয়, হচ্ছেও না৷ যত দিন যাচ্ছে, তত বাড়ছে ওবেসিটি, ডায়াবেটিস ও মেদবাহুল্যের সঙ্গে যুক্ত আরও নানা আধিব্যাধি৷ ব্যায়াম করার মতো ফুরসত নেই অনেকেরই, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করলে যেটুকু হাঁটাচলা হয়, সেটুকুও বন্ধ হতে বসেছে প্রায়৷ এই অবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়াই হচ্ছে বাঁচার একমাত্র উপায়৷ আর সেটা ঠিকমতো করার জন্য রান্নাঘরে সঠিক হাতিয়ার রাখা দরকার৷
ড্রাই ফ্রুটস/ মুড়ি: বেশ কয়েক রকম বিস্কিট আর কুকিজ় কিনে রান্নাঘরে সাজিয়ে রাখার অভ্যেস থাকলে বদলাতে হবে৷ তার বদলে শুকনো ফল, বাদাম, নুন ছাড়া মুড়ি, শুকনো তাওয়ায় ভাজা ছোলার মতো স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস রাখুন হাতের কাছে৷ চা বা কফির সঙ্গে মুখ চালানোর জন্য এগুলোই ব্যবহার করুন৷
কফি ব্রিউয়িং মেশিন: তাজা কফি তৈরি করে খান৷ তার স্বাদ-গন্ধে মন এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে৷ উচ্চ মানের কফি বা চা কিন্তু চিনি ছাড়াই খেতে ভালো লাগে৷
এয়ার ফ্রায়ার: ভাজাভুজি খেতে ভালোবাসেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর৷ যতই আপনি কম তেলে বেক বা গ্রিল করার চেষ্টা করুন না কেন, ভাজা খাবারের স্বাদের ধারে-কাছে আনতে পারবেন না কিছুতেই৷ এই পরিস্থিতিতে আপনার সহায়ক হতে পারে এয়ার ফ্রায়ার৷ সামান্য তেল আর প্রচুর তাপকে কাজে লাগিয়ে এই যন্ত্রগুলি এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করে যে ছাঁকা তেলে ভাজা খাবারের স্বাদের সঙ্গে খুব একটা ফারাক থাকে না৷
স্টিমার: মুখ চালানোর জন্য চটপটা খাবার খেতে সবারই ভালো লাগে৷ ঠিকমতো বানাতে পারলে ধোকলা, ইডলি বা মোমো সুখাদ্য বলেই বিবেচিত হবে, তাই একটা স্টিমার লাগবেই রান্নাঘরে৷ স্টিম করলে ফ্যাট বা তেল ছাড়াও খুব সুস্বাদু খাবার তৈরি করা সম্ভব, এমনকী মাছ-মাংসও রান্না করা যায়৷ বিশেষ করে কলা, বাঁধাকপি, লাউ বা পালংয়ের পাতায় মোড়া মাছ/ মাংসের কিমার পদ তো দারুণ লাগবে খেতে৷
নন স্টিক কুকওয়্যার: নন স্টিক বাসনপত্রের কিন্তু সত্যিই কোনও জবাব নেই! খুব কম তেলে রান্না হয়, বিনা তেলেও প্যানকেক বা দোসা বানানো সম্ভব৷ পরিষ্কার করার ঝক্কিও কম৷ তবে নন স্টিক বাসনপত্র একটু বেশি দাম দিয়ে ভালো ব্র্যান্ড থেকে কিনবেন, পরিষ্কার করার নিয়মকানুন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলবেন এবং নন স্টিক পরতের চলটা উঠে গেলে সেটা বদলে ফেলতে হবে৷
রান্নার বই ও অ্যাপের উপর ভরসা রাখুন: খাবারকে স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু করে তোলার হাজারটা উপায় আছে আর সেটা এখন খুব সহজেই জেনে নেওয়া সম্ভব৷ স্বাস্থ্যকর খাবারের সন্ধান দেওয়ার মতো অজস্র রান্নার বই আছে, অ্যাপ-ও ডাউনলোড করে রাখতে পারেন৷ মনে রাখবেন, নিজে রান্না করার
কোনও বিকল্প নেই৷ একমাত্র তা হলেই আপনি স্বাদ-স্বাস্থ্যের ব্যালান্সটা বজায় রাখতে পারবেন৷
স্ট্রেস ঠেকিয়ে রাখুন এসেনশিয়াল অয়েলের সাহায্যে
সারাদিন অফিসে কাজের প্রবল চাপ, তার উপর রয়েছে সংসারের হাজারো দায়দায়িত্ব৷ স্ট্রেস কি কিছুতেই আপনার পিছু ছাড়ছে না? ঘুম আসছে না রাতে বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়ার পরও? অ্যারোমাথেরাপির নিয়ম মেনে নিজের রোজের রুটিনে এসেনশিয়াল অয়েলের ম্যাজিক যোগ করে দেখতে পারেন৷ বিষয়টার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন নাকি? কিছুদিন আগেই জার্মানির রুঢ় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রফেসর হান্স হাট-এর একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অফ বায়োলজিক্যাল কেমিস্ট্রিতে৷ সেখানে তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে জুঁইফুলের সুগন্ধ মনকে শান্ত করার ক্ষেত্রে প্রায় অ্যান্টি অ্যাংজ়াইটি ওষুধ ভ্যালিয়ামের সমকক্ষ হিসেবে কাজ করে৷ কিছু কিছু সুগন্ধি কিন্তু সত্যিই নার্ভের উত্তেজনা প্রশমনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে৷ বাড়িতে কেউ স্ট্রেস বা অ্যাংজ়াইটিতেও ভুগলে তাঁকে ওষুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করে দেখতে পারেন, ক্ষতি হওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই অন্তত৷
কীভাবে এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করা উচিত:
এসেনশিয়াল অয়েলের গন্ধ আপনি সরাসরি বোতল থেকে শুঁকতে পারেন, সেক্ষেত্রে আপনার অফিসের ড্রয়ারে একটি ছোট বোতল রেখে দিলে কোনও অসুবিধে হবে না৷ রুমালে কয়েক ফোঁটা দিয়ে রাখতে পারেন, সেটা শুঁকলেও হবে৷ হাতের পাতায় কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল দিয়ে রাখলেও মোটামুটি একই ফল পাবেন৷ ডিফিউজ়ার থাকলে খুব ভালো হয়, রাতে শুতে যাওয়ার আগে ডিফিউজ়ারে এই তেল দিয়ে রাখলে আপনার বাড়ি ভরে উঠবে সুগন্ধে৷ নারকেল বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে নিয়েও মাসাজ অয়েল হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন৷
জেনে নিন কোন এসেনশিয়াল অয়েলে কী কাজ হয়:
জুঁই: অ্যাংজ়াইটি, ইনসমনিয়া, ডিপ্রেশন কমাতে কার্যকর৷ মুড ভালো হয়, বাড়ে আত্মবিশ্বাস৷
ল্যাভেন্ডার: মুড ভালো করে৷ রিল্যাক্সড হতে সাহায্য করে৷ ঘুমের আগে ব্যবহার করলে দারুণ ফল পাবেন৷
চন্দন: মন শান্ত রাখে, আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে৷ আয়ুর্বেদে বহুল ব্যবহৃত৷
কমলালেবু: জাপানের মেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে যে ডিপ্রেশনের রোগীদের মুড ভালো করতে নাকি কমলালেবুর সুগন্ধের জুড়ি নেই৷ ডিফিউজ়ারে ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাবেন৷
ইউক্যালিপটাস: সর্দি সারাতে জুড়ি নেই, আপনার এনার্জি বাড়াতেও দারুণ কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে৷ মানসিক শৈথিল্য কাটায়৷
লেবু: আপনি কি ক্লান্ত ও দুঃখী? তা হলে এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করুন৷ মনঃসংযোগ বাড়াতেও এটি দারুণ কার্যকর৷
আচমকা ঠান্ডা লেগেছে? জেনে নিন ঘরোয়া উপশম
বাইরে প্রবল গরম, অফিসের ভিতরে এসির কনকনে ঠান্ডা৷ বিকেলের দিকে প্রায়ই বৃষ্টি-বাদলা হচ্ছে, সতর্ক হয়ে ব্যাগে ছাতা নিয়ে না বেরোলেই ভিজে কাক স্নান হতে হচ্ছে৷ ওদিকে আবার ঘামের দাপটও কম না৷ সব মিলিয়ে ঠান্ডা লেগে সর্দি-জ্বর বাধাচ্ছেন অনেকেই৷ নাক দিয়ে জল পড়ছে, কাশতে-কাশতে বুকে ব্যথা, মাথা ভারী হয়ে আছে, সঙ্গে ঘুষঘুষে জ্বর? ডাক্তার দেখান অবশ্যই৷ সাধারণত এই মরশুমি জ্বর-জারি সেরে যায় দিনকয়েক পরিপূর্ণ বিশ্রাম নিলেই৷ এই সময়ে কিছুই খেতে ভালো লাগে না, অরুচি হয়৷ তাই খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে একটু যত্নশীল হতে হবে৷ জানতে চান এই পরিস্থিতিতে কী কী খেলে শরীর তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে?
গোলমরিচ-মধুর অনুপান: দু’ কাপ ফুটন্ত জলে এক চাচামচ অল্প থেঁতো করে নেওয়া গোলমরিচ দিয়ে ফোটান দশ মিনিট ধরে৷ তারপর এই জলটা ছেঁকে নিয়ে দু’ টেবিলচামচ মধু মিশিয়ে ধীরে ধীরে পান করুন৷ কাশি কমবে, বুকে সর্দি বসবে না৷
লেবু আর আদার অনুপান: আধ ইঞ্চিমাপের আদা টুকরো করে কেটে নিন৷ সেটা গরম জলে ফোটাতে আরম্ভ করুন৷ পাঁচ মিনিট পর নামিয়ে ছেঁকে নিন, তার পর একটা মাঝারি আকারের লেবুর রস আর এক বড়ো চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন৷
আদা-পুদিনা-মধু দিয়ে বানান নিজস্ব কাশির ওষুধ: এক ইঞ্চিমাপের আদা স্লাইস করে নিন৷ এক মুঠো পুদিনা ভালো করে ধুয়ে নিন৷ এক বোতল জলে দুটোকে একসঙ্গে ফোটাতে আরম্ভ করুন। এক কাপের মতো পরিমাণ হলে গ্যাস বন্ধ করে আধ কাপ মধু মিশিয়ে নিন। একটু উষ্ণ থাকতে থাকতে পান করুন। পুরোটা একেবারে খাওয়ার দরকার নেই, কিন্তু যখনই খাবেন, তখন একটু গরম করে নেবেন। এতে আপনার কফটা পাতলা হয়ে যাবে।
চিকেন স্যুপ খান: চিকেন স্যুপ সর্দি-কাশির সমস্যায় খুব ভালো কাজে দেয় বলে দীর্ঘদিনের বিশ্বাস। সদ্য তৈরি হওয়া চিকেন স্যুপ খেতে ভালো লাগে, তা পুষ্টিগুণেও ঠাসা, সম্ভবত তা থেকেই গড়ে উঠেছে এই ধারণা। চিকেন স্যুপের সঙ্গে কিছু সবজি দিয়ে দিন, তাতে পুষ্টিগুণ আরও বাড়বে৷
প্রচুর ফল আর দই রাখুন খাদ্যতালিকায়: দইয়ের প্রোবায়োটিক হজমশক্তি বাড়ায়, বাড়িয়ে তোলে প্রতিরোধ ক্ষমতা। আপেল, লেবু, বাতাবিলেবু, অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার, লঙ্কা রাখুন খাদ্যতালিকায়। এর ভিটামিন সি আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে, আপনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবেন।
নিয়মিত ভেপার নিন, গার্গল করুন: গরমজলে সামান্য নুন আর হলুদ দিয়ে গার্গল করুন। কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল জলে ফেলে ভেপার নিন। ভেপার নেওয়ার সময় মাথার উপর থেকে তোয়ালে দিয়ে নেবেন। এতে কফ তাড়াতাড়ি পাতলা হয়ে যাবে।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে মুক্তি পান ঘামাচির হাত থেকে
গ্রীষ্মকালে যাঁদের বাইরে ঘুরে বেড়িয়ে কাজকর্ম করতে হয়, তাঁদের খুব বিরক্ত করে ঘামাচির সমস্যা৷ সবচেয়ে মুশকিল হয় বাচ্চাদের নিয়ে, কারণ তারা গরমের তোয়াক্কা না করেই খেলাধুলো করে এবং ঘামে ভেজা জামা পরে অনেকক্ষণ কাটায়৷ তাই তাদের ঘামাচি হওয়ার আশঙ্কাও অনেক বেশি৷ শুনতে হয়তো সমস্যাটা খুব বড়ো নয়, কিন্তু জ্বালাভাব আর চুলকানিটা সহ্য করা সত্যিই বেশ মুশকিল৷
ঘামাচি কেন হয়, আগে সেটা জানতে হবে৷ তা হলে সমস্যার গোড়া থেকে নির্মূল করাটাও সহজ হবে৷ অতিরিক্ত ঘামে ত্বকের ছিদ্রের মুখ বন্ধ হয়ে গেলেই ঘামাচি জন্মায়৷ তাই যদি মনে করেন যে গাদা গাদা প্রিকলি হিট পাউডার মাখলেই সমস্যাটা থেকে দূরে থাকা যাবে, তা হলে ভুল ভাবছেন৷ ঘামে ভেজা পোশাক, অন্তর্বাস বদলে ফেলুন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব৷ যাঁরা খুব ঘামেন, তাঁরা দিনে দু’-তিনবার পোশাক বদলান৷ বাচ্চাকে স্কুলের পোশাকের নিচে অন্তর্বাস পরান এবং বাড়ি ফেরামাত্রই পোশাক বদলে দিন৷ সব সিন্থেটিক মেটিরিয়াল বাদ দিয়ে সুতি বা লিনেনের ঢিলেঢালা জামাকাপড় পরুন৷ ঘাম যেন শরীরে চেপে বসতে না পারে৷ দিনে অন্তত দু’বার স্নান করুন৷ কিছু কিছু ঘরোয়া উপাদান আপনার খুব কাজে আসতে পারে, সেগুলি অবশ্যই রাখুন হাতের কাছে৷
নিমপাতা: যে কোনও চুলকানির তীব্রতা কমাতে খুব ভালো কাজে আসে নিমপাতা৷ একমুঠো নিমপাতা এক লিটার জলে 15 মিনিট ধরে ফুটিয়ে নিন৷ এই জলটা ঠান্ডা করে স্নানের শেষে গায়ে ঢেলে নিন৷ স্নানের জলে এটা মিশিয়েও ব্যবহার করা যায়৷ নিমের মাইক্রোবায়াল প্রপার্টি ত্বকের সমস্ত দূষণ দূর করতে পারে, চুলকানি বা ব্যথা কমাতেও তা কার্যকর৷
পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়ে নিমপাতার জলে স্নান করলে ঘামাচির সমস্যা থেকে দূরে থাকবেন৷ নিমপাতা বেটেও লাগাতে পারেন ত্বকের উপদ্রুত অংশে৷
চন্দনবাটা আর গোলাপজল: চন্দনের প্রলেপ ত্বককে শীতল রাখে৷ গোলাপজল আর চন্দনের মোটা পেস্ট তৈরি করে ঘামাচির উপর লাগিয়ে রাখতে পারেন, শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলবেন৷ এতে চুলকানি থেকে মুক্তি মেলে৷ দিনে একবার এই পেস্ট ব্যবহার করে দেখুন৷
তরমুজের নির্যাস: তরমুজের একটি টুকরো নিয়ে সেটার বীজ বের করে নিন৷ তারপর সেটাকে থেঁতো করে নিন৷ প্রতিদিন এই প্রলেপটি
ব্যবহার করতে হবে টানা এক সপ্তাহ ধরে৷ খানিকক্ষণ রেখে তার পর ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন৷
দই আর মুলতানি মাটি/ দই আর বেসনের পেস্ট: ত্বকের জ্বালাভাব কমাতে দই খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়৷ মুলতানি মাটি আর দইয়ের পেস্ট আপনার ত্বককে ঝরঝরে রাখতে সাহায্য করে৷ তার মধ্যে খানিকটা গোলাপজলও মিশিয়ে নিতে পারেন৷ প্রলেপটা ঘামাচির উপর মিনিট 15 লাগিয়ে রাখুন৷ শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন৷ তবে যাঁদের ত্বক শুষ্ক, তাঁরা একদিন বাদ দিয়ে দিয়ে মুলতানি মাটির পেস্ট লাগান৷ শুষ্ক ত্বকে কিন্তু ইনফেকশনও বেশি হয়৷
পিঁপড়ের উপদ্রব থেকে বাঁচতে চান? আছে ঘরোয়া সমাধান
গরমকালে খাবারদাবার তো বটেই, জামাকাপড়-বিছানাপত্রেও পিঁপড়ে হামলা চালায়৷ দিনের শেষে শয্যার শরণ নিলেই যদি কুটুস-কুটুস কামড়ে বিপর্যস্ত হতে হয়, তা হলে তো মহা মুশকিল! অনেক সময় কোনও পোকা মারার ওষুধই পিঁপড়ের বিরুদ্ধে যথাযথ অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে না৷ তা ছাড়া খাবার জিনিসপত্র, শোবার জায়গা বা জামাকাপড়ের উপর পোকা মারার ওষুধ ছড়ালে তার ক্ষতিকারক প্রভাবও হতে পারে৷ তার চেয়ে এমন কয়েকটি টোটকা ট্রাই করে দেখুন যা আপনার হাতের কাছেই মজুত রয়েছে এবং কোনও রাসায়নিক বিক্রিয়ারও বিন্দুমাত্র আশঙ্কা নেই৷
দারচিনি: আপনি যে ক্যাবিনেটে খাবার রাখেন, তার মধ্যে এবং আশপাশে খানিকটা দারচিনির গুঁড়ো ছড়িয়ে রেখে দিন৷ টেবিলে খাবার বা ফল ঢাকা দিয়ে রাখলেও তার চারপাশে দারচিনির পাউডার ছড়িয়ে রাখুন, পিঁপড়ে আসবে না৷ দারচিনির এসেনশিয়াল অয়েলও বাজারে কিনতে পাওয়া যায়, তার কয়েক ফোঁটা তুলোয় নিয়েও ফ্রিজে বা খাবারের ক্যাবিনেটে রাখতে পারেন৷ একই কাজ হবে৷
লেবুর রস: ঘরের কোণ দিয়ে সার বেঁধে পিঁপড়ের সারি চলেছে আর খাবার-দাবারের গন্ধ পেলেই চাক বেঁধে হাজির হচ্ছে? ঘর মোছার জলের বালতিতে সরাসরি লেবুর রস মিশিয়ে নিন৷ বেশ খানিকটা মেশাবেন, বেশি পাতলা হয়ে গেলে লেবুর গন্ধটা থাকবে না৷ লেবুর গন্ধে পিঁপড়েরা আর খাবারের গন্ধ পায় না৷ ফ্রিজেও যদি পিঁপড়ের আনাগোনা থাকে, তা হলে সেখানেও লেবুর রস প্রয়োগ করে দেখতে পারেন৷ সমান পরিমাণ লেবুর রস আর জল মিশিয়ে আপনার নিজস্ব স্প্রে তৈরি করে নিন৷ বিছানার খাঁজেও প্রয়োগ করতে পারেন, তবে অতিরিক্ত মাত্রায় নয়, তা হলে চটচটে লাগতে পারে৷
শুকনো লঙ্কা: শুকনো লঙ্কার তীব্র ঝাঁজ নাকি পিঁপড়েদের দিগভ্রান্ত করে দেয়, তারা আর বাসায় ফিরে যাওয়ার রাস্তা খুঁজে পায় না৷ রান্নাঘরে বা ক্যাবিনেটে যদি পিঁপড়ের আক্রমণ বাড়ে, তা হলে গোটা শুকনো লঙ্কা রেখে দিন সেখানে৷ শুকনো তাওয়ায় ভেজে নেওয়া শুকনো লঙ্কাও পিঁপড়ের হাত থেকে বাঁচাতে সক্ষম৷
পিপারমিন্ট: পিপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল জলে মিশিয়ে স্প্রে হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন৷ বেশ কয়েকটি পুদিনার পাতা এক গ্লাস জলে ভালো করে ফুটিয়ে নিয়ে ছেঁকে নিন এবং স্প্রে করুন চারদিকে৷ চড়া গন্ধে পিঁপড়ের দল পালাতে পথ পাবে না!
সাদা ভিনিগার: সমান পরিমাণে সাদা ভিনিগার আর জল মিশিয়ে ভরে নিন স্প্রে মেশিনে৷ এই স্প্রে ছিটিয়ে দিলে পিঁপড়ের হাত থেকে তখনই মুক্তি পাবেন৷ তবে প্রতিবার ব্যবহারের আগে অবশ্যই একবার বোতলটা ভালো করে ঝাঁকিয়ে নেবেন৷
রোজের নানা সমস্যা থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারে পাতিলেবুর ব্যবহার
গরমের দিনে লেবু-চিনি-বিট নুনের শরবত তো তোফা লাগে খেতে, কিন্তু তা ছাড়াও পাতিলেবু আপনার দৈনন্দিন ঘরোয়া সমস্যার সমাধানে দারুণ সাহায্য করতে পারে৷ ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করতে, খুশকি তাড়াতে, নখের হলদেভাব থেকে মুক্তি পেতে চাইলে পাতিলেবু আপনাকে দারুণ সাহায্য করতে পারে৷
নাছোড় দাগ লেগেছে পোশাকে? ব্যবহার করুন লেবুর রস: প্রিয় জামায় বিচ্ছিরি দাগ লাগলে সকলেরই মন খারাপ হয়৷ জামাটা ড্রাই ওয়াশে দেওয়ার আগে একবার ঘরোয়া একটা পদ্ধতি ট্রাই করে দেখতে পারেন৷ দাগের জায়গাটায় ভালো করে লেবুর রস লাগান, সঙ্গে দিন সামান্য নুন৷ বেশ কয়েক ঘণ্টা এইভাবে রেখে দিন৷ তার পর এটা ধুয়ে সাবানজলে ভেজাতে হবে৷ মনে রাখবেন, কেবলমাত্র হালকা রঙের সুতির পোশাকেই এটা করা সম্ভব, গাঢ় রঙের পোশাকে ট্রাই করতে গেলে রং চটে যাওয়ার আশঙ্কা আছে৷ কেচাপ, কফি, তরকারির দাগ খুব সহজেই উঠে যায় এই পদ্ধতিতে৷
ফ্রিজের গন্ধ তাড়ান: বেশিদিন পরিষ্কার না করা হলেই ফ্রিজের মধ্যে গুমোট একটা গন্ধ হয়৷ সেটা তাড়াতে চাইলে ফ্রিজের মধ্যে লেবুর টুকরো কেটে রাখতে পারেন৷ তবে আদা-রসুনবাটা, কাটা পেঁয়াজ, কাঁঠাল, বেলের মতো তীব্র গন্ধযুক্ত ফল থাকলে কিন্তু এই টোটকায় কোনও কাজ দেবে না৷ আদা-রসুনবাটা রাখুন এয়ারটাইট কন্টেনারে, পেঁয়াজ কাটুন খাওয়ার আগে৷ কাঁঠাল, বেল শেষ করে ফেলুন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব৷
কাটা ফলের গায়ে দাগ ধরা ঠেকায়: বাড়িতে অতিথি আসছেন, ফলের স্যালাড পরিবেশন করতে চান৷ কিন্তু বেশি আগে থেকে ফল কেটে রাখলে তার গায়ে কালো দাগ ধরে যায়৷ এই পরিস্থিতি এড়াতে চাইলে এক বাটি ঠান্ডা জলে অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে তাতে ফলের টুকরোগুলো ভিজিয়ে রাখুন বেশ খানিকক্ষণের জন্য৷ তার পর তুলে নিলে ফলের গায়ে অনেকক্ষণ কালো দাগ ধরবে না৷
খুশকি তাড়াতে সাহায্য করে: স্নানের 10 মিনিট আগে মাথায় লেবুর রস লাগিয়ে নিন৷ তার পর ভালো কোনও অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন৷ লেবুর রসের সাইট্রিক অ্যাসিড খুশকি তাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নেয়৷ এর অ্যান্টি মাইক্রোবায়াল প্রপার্টি যে ছত্রাকের কারণে খুশকি হয় সেগুলির নিধনে সাহায্য করে৷
নখের দাগ-ছোপ তাড়ায়: নখে লেগে থাকা হলুদের ছোপ তাড়াতে চাইলে এক কাপ গরম জলে আধখানা লেবুর রস চিপে দিন৷ হাত মিনিট পাঁচেক ডুবিয়ে রাখুন৷ তার পর লেবুর খোসা ঘষে নিন ভালো করে৷ নখের সব দাগ-ছোপ দূর হবে, হাত হয়ে উঠবে সুগন্ধি৷
ড্রাই আইয়ের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়
যাঁরা বেশি সময় ধরে কমপিউটারের সামনে বসে কাজ করেন বা দীর্ঘ সময় ধরে টিভি দেখেন অথবা ভিডিয়ো গেম খেলেন, তাঁদের অনেকেরই ড্রাই আইয়ের সমস্যা হয়৷ আপনার চোখে যথেষ্ট পরিমাণ জল তৈরি না হলে বা সেই জল লুব্রিক্যান্ট হিসেবে যথেষ্ট না হলে চোখ করকর করে, জ্বালাভাব অনুভূত হয়৷ আলোর দিকে তাকানো যায় না, মিউকাসে ভরে যায় চোখ, ঝাপসা হয়ে আসে দৃষ্টি৷ এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়লে একবার অবশ্যই ডাক্তারের সাহায্য নিন৷ কিন্তু সাময়িক স্বস্তির জন্য আছে কিছু ঘরোয়া সমাধান৷
গরম জলের ভাপ: হালকা গরম জলে একটা পরিষ্কার কাপড়ের টুকরো ডুবিয়ে রেখে দিন৷ তার পর কাপড়টা তুলে নিংড়ে নিয়ে চোখের উপর পাঁচ মিনিটের জন্য রাখুন৷ তার পর আঙুলের হালকা চাপে চোখের উপরের ও নিচের পাতায় কাপড়টা মালিশ করুন৷ তাতে চোখের মধ্যেকার সব ময়লা পরিষ্কার হয়ে যাবে৷ কাপড়টা একেবারে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া পর্যন্ত এমনটা চালিয়ে যান৷ এতে আপনার চোখের মধ্যেকার জল বা অশ্রুর মান আগের চেয়ে ভালো হবে, তা বেশি আর্দ্রতা জোগাবে৷ লালভাব বা জ্বালাভাবও আগের চেয়ে কমবে নিঃসন্দেহে৷
নারকেল তেল: নারকেল তেল চোখ আর্দ্র রাখে, অশ্রু উবে যেতে দেয় না, কমায় জ্বালাভাব৷ পরিষ্কার তুলোয় নারকেল তেল দিয়ে চোখের উপর 15 মিনিটের জন্য রাখুন৷ সারা দিনে বেশ কয়েকবার এই পদ্ধতি রিপিট করতে পারেন৷
অ্যালো ভেরা জেল: ড্রাই আইয়ের সমস্যা কমাতে অ্যালো ভেরা জেল খুব কার্যকর ভূমিকা নেয়৷ এর ময়েশ্চরাইজ়িং ও অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি গুণ লাল ও ফোলাভাব কমাতে পারে৷ একটা পরিষ্কার টিস্যুতে অ্যালো ভেরা জেল নিয়ে চোখের নিচের পাতায় আলতো হাতে মালিশ করুন, 10 মিনিট পর হালকা গরম জলে ধুয়ে নিন৷ দিনে দু’বার এটা করতে পারেন৷
গোলাপ জল: আপনার ক্লান্ত চোখ তরতাজা করে তুলতে ভিটামিন এর গুণসমৃদ্ধ গোলাপ জল খুব কার্যকর৷ প্রসঙ্গত, ভিটামিন এ-র অভাবেই ড্রাই আইয়ের সমস্যার সূত্রপাত হয়৷ পরিষ্কার তুলো গোলাপ জলে ভিজিয়ে নিয়ে চোখের উপর রাখুন৷ 10 মিনিট পর সরিয়ে চোখ ধুয়ে নিন৷
রোদে পোড়া ত্বক সুস্থ করে তোলার ঘরোয়া টোটকা
গরম পড়ছে দুদ্দাড়িয়ে৷ কিন্তু তাই বলে তো আর কাজকর্ম শিকেয় তুলে বসে থাকা যায় না, রোদ্দুরে বেরনোও বন্ধ করা অসম্ভব৷ তাই ত্বকের হাজারো সমস্যা নিয়েও ভুগতে হয়৷ বিশেষ করে যাঁদের ত্বক স্পর্শকাতর, তাঁরা রোদে পা রাখার আগেই চিন্তায় পড়ে যান৷ আপনার রান্নাঘরেই এমন কিছু সামগ্রী আছে, যা ত্বকের জ্বালা-পোড়া থেকে মুক্তি দিতে পারে৷
বাড়িতে পাতা টক দই: বাড়িতে পাতা দইয়ে উপস্থিত প্রোবায়োটিক আপনার পেটের পাশাপাশি ত্বকের পক্ষেও খুব ভালো৷ ফ্রিজে আধ কাপ দই ঠান্ডা করতে দিন৷ বাইরে থেকে ফিরে মুখটা ধুয়ে নিয়ে দইয়ের বেশ মোটা পরত লাগান৷ জ্বালাভাব কমে গিয়ে ত্বক শীতল হয়ে এলে ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে নিন৷
অ্যালো ভেরা জেল: বাড়িতে অ্যালো ভেরা গাছ সহজেই হয়৷ পাতা ছিঁড়ে মাঝখান থেকে স্লাইস করে নিন৷ জেলটা বের করে সরাসরি রোদে পোড়া ত্বকে লাগান৷ ত্বক পুরোটা শুষে নিলে জল দিয়ে ধুয়ে নিন৷ দিনে চার-পাঁচবার লাগাতে পারেন৷
গ্রিন টি আর পুদিনার মিশ্রণ: চার কাপ ফুটন্ত জলে পাঁচ চাচামচ গ্রিন টি আর তিন কাপ ভরা পুদিনার পাতা দিয়ে দিন৷ পাতাটা আগে অবশ্যই ভালো করে ধুয়ে নিন৷ মিশ্রণটা ফুটতে আরম্ভ করে গ্যাস সিমার করুন৷ এক ঘণ্টা পর এটা নামিয়ে ছেঁকে নেবেন৷ পরিষ্কার কাচের বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন তরলটা৷ তুলোয় করে অল্প তরল নিয়ে মুখে লাগান থুপে থুপে৷ জ্বালাভাব কমে গেলে ধুয়ে ফেলুন ঠান্ডা জলে৷
শসা: শসার অ্যান্টি অক্সিডান্ট আর অ্যানালজেসিক গুণ রোদে পোড়া ত্বকের জ্বালা-যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করে৷ আধখানা শসা মিক্সিতে ব্লেন্ড করে নিন৷ সেটা ফ্রিজে রেখে বাড়ি থেকে বেরোন৷ ফেরার পর রোদে পোড়া ত্বকে ঠান্ডা শসার প্রলেপ লাগিয়ে আধ ঘণ্টা বিশ্রাম নিন৷ তার পর মুখ ধুয়ে নেবেন৷
আলু: আলুতে উপস্থিত শ্বেতসার ত্বকের তাপ শুষে নেয়৷ ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নেওয়া আলু থেকে পাতলা পাতলা কয়েকটা স্লাইস কেটে মুখ রাখুন৷ আলু গ্রেট করে নিয়েও ব্যবহার করতে পারেন শসার মতো, কিন্তু আধ ঘণ্টার বেশি মুখে লাগিয়ে রাখার দরকার নেই৷
গা বমিভাব থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়
গরমকালে অনেককেই বিব্রত করে সমস্যাটা৷ বিশেষত যাঁরা বাইরে ঘোরাঘুরি করে কাজ করেন, তাঁদের প্রায়ই গা গোলায়, খিদের বোধ থাকে না৷ সমস্যাটা খুব তীব্র আকার ধারণ করার আগে পর্যন্ত বমিও হয় না, কিন্তু একটা অস্বস্তি আর মাথা ঝিমঝিম ভাবটা বড়ো ভোগায়৷ অনেক সময় ব্যাপারটা বাড়তে বাড়তে পেট খারাপ বা বুকে ব্যথা পর্যন্ত চলে যায়, সেক্ষেত্রে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ৷ কিন্তু তার আগে পর্যন্ত কয়েকটি ঘরোয়া উপায়ের সাহায্য নিয়ে দেখতে পারেন আরাম হচ্ছে কিনা৷
আদা: প্রায় 2000 বছর ধরে গা বমিভাব কমাতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে এসেছে আদা৷ আদার সুবিধেটা হচ্ছে, যদি গর্ভবতী মহিলাদের মর্নিং সিকনেস হয় বা সমুদ্রে কেউ সি সিকনেসে আক্রান্ত হন, তা হলেও আদা প্রয়োগ করে সুফল মিলতে পারে৷ ক্যান্ডিড জিঞ্জার মুখে রাখলে উপকার পাবেন, আদা দেওয়া চা-ও খেতে পারেন৷ তবে পরিমাণটা যেন দিনে এক গ্রামের চেয়ে বেশি না হয়৷
পুদিনা: পুদিনার শরবত, পুদিনা দেওয়া চা, মিন্ট এসেনশিয়াল অয়েলের সুগন্ধ, সব ক’টাই গা বমিভাব কমাতে অত্যন্ত সহায়ক৷ এমনকী তাজা পুদিনার পাতা ভালো করে ধুয়ে খেলেও খুব ভালো ফল পাবেন৷
লেবু: লেবু অর্ধেক করে কেটে খানিকটা বিটনুন ছড়িয়ে নিন৷ অবশ্য হাই ব্লাড প্রেশার থাকলে নুনটা বাদ দিতে হবে৷ এই লেবুটা চুষে খেলে গা বমিভাব কমে যাবে৷ এক কাপ জল বা সোডায় লেবুর রস মিশিয়ে খেলেও উপকার পাবেন৷ পাতিলেবু ছাড়াও কমলালেবু, কিউয়ি খেলেও এই সুফলগুলি মিলবে৷
আমলকী: লেবুর মতোই বিটনুন দিয়ে আমলকীর টুকরো মুখে রাখতে পারেন৷ শুকনো আমলকী তো বটেই, আমলকীর জ্যুসও খুব কার্যকর৷
জল খান বেশি করে: একবার গা বমিভাব শুরু হয়ে গেলে বেশি জল খাওয়া মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়৷ কিন্তু তা এড়াতে চাইলে প্রতিদিন অন্ততপক্ষে 4 লিটার জল খাওয়া অভ্যেস করুন৷ পর্যাপ্ত জল খেলে হজম ভালো হয়, পেট পরিষ্কার থাকে, ফলে গা বমিভাবও আপনাকে বিব্রত করতে পারবে না৷
শুকনো খাবার খান: পেট খালি রাখবেন না৷ কিছুক্ষণ অন্তর অন্তর মুড়ি, চিড়েভাজা, শুকনো টোস্ট, ক্রিম ক্র্যাকার বিস্কুট খেলে উপকার পেতে পারেন৷
নাক ডাকার সমস্যাটা হালকাভাবে নেবেন না
ঘুমের মাঝে যাঁদের নাক ডাকে, তাঁদের সাধারণত হাসির খোরাক মনে করা হয় এবং তাঁদের পাশে কেউ ঘুমোতেও চান না৷ নাক ডাকা আসলে নানা রোগের বহিঃপ্রকাশ৷ সাধারণত যাঁদের নাক ডাকে, তাঁদের বারবার ঘুম ভেঙে যায়, ফলে সকালবেলা ক্লান্ত লাগে৷ এটা কিন্তু অবট্রুসিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ৷ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ধরনের রোগীকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত৷ নাক ডাকা বন্ধ করার জন্য কিছু ওষুধপত্র কিনতে পাওয়া যায় বটে, কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সে সব না খাওয়াই ভালো৷ তবে এমন কিছু ঘরোয়া উপায় আছে যার সাহায্যে খানিকটা উপশম পেতে পারেন৷
অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েল যে কোনও প্রদাহ কমাতে খুব কার্যকর৷ রাতে ঘুমের আগে এক টেবিলচামচ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল খেলে আপনার শ্বাসনালীর আশপাশের অঞ্চলের প্রদাহ কমবে৷ ফলে শ্বাস নিতে সুবিধে হবে, নিশ্চিন্তে ঘুমোতেও পারবেন৷
ছোট এলাচ: বন্ধ নাক খুলে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি অব্যাহত রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে ছোট এলাচ৷ ঘুমোতে যাওয়ার এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগে এক গ্লাস গরম জলে দেড় চা চামচ ছোট এলাচের গুঁড়ো মিশিয়ে খাওয়া অভ্যেস করুন৷
হলুদ: অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে পরিচিত৷ সেই সঙ্গে তা প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন কমাতেও কার্যকর ভূমিকা নেয়৷ সদ্য গুঁড়ো করা এক চাচামচ হলুদ এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ দুধে মিশিয়ে শুতে যাওয়ার আগে পান করুন, খুব ভালো ঘুম হবে৷
রসুন: ঠান্ডা লেগে সর্দি হয়েছে আর সেই কারণে নাক বন্ধ? ঘুমোতে যাওয়ার কিছু আগে এক কোয়া রসুন চিবিয়ে খান, সেই সঙ্গে পান করুন এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ জল৷ শ্বাসের নালী পরিষ্কার হয়ে যাবে, সারা রাত নিশ্চিন্তে ঘুমোবেন, নাকও ডাকবে না৷
স্টিমিং: ঘুমোতে যাওয়ার আগে নাক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? সেক্ষেত্রে স্টিম বা ভাপ নিলে নেজ়াল কনজেশন কমতে পারে৷ জল ফুটিয়ে নিন৷ ভাপ উঠতে আরম্ভ করলে নামিয়ে কয়েক ফোঁটা নিম/ টি ট্রি/ ইউক্যালিপটাসের মতো কোনও একটি এসেনশিয়াল অয়েলের কয়েক ফোঁটা যোগ করে দিন ওই জলে৷ তার পর মাথার উপর একটা তোয়ালে চাপা দিয়ে ভাপ নিন জলের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে৷ পারলে এই সময় ঘরের জানলা-দরজা বন্ধ রাখুন৷ টানা 10 মিনিট স্টিম নেওয়ার পর শুতে যান, আরাম পাবেন৷
এছাড়াও প্রতিদিন ব্যায়াম করুন৷ শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলে নাক ডাকার সমস্যাও কমবে৷ প্রাণায়াম করতে পারলেও খুব ভালো হয়৷ ধূমপানের অভ্যেস আছে? পারলে সেটা ছাড়ার চেষ্টা করুন, উপকার পাবেন৷
গরমে ত্বকের সমস্যা হচ্ছে? আছে ঘরোয়া সমাধান
গরম পড়তে আরম্ভ করেছে দুদ্দাড়িয়ে৷ তার মানে বাইরে বেরোলেই ঘাম হবে৷ যদি আপনার ত্বক খুব স্পর্শকাতর হয়, তা হলে লাল হয়ে যাবে, চুলকাবে৷ লোকজনের সামনে খুব অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে এই সমস্ত ক্ষেত্রে৷ তা ছাড়া হাতে যদি নখ থাকে, তা হলে চুলকাতে গিয়ে ত্বকে সংক্রমণ হওয়া বা কেটে-ছড়ে যাওয়াও বিচিত্র নয়৷ এই পরিস্থিতিতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে কয়েকটি ঘরোয়া সমাধান৷
যাঁরা খুব বেশি ঘামেন তাঁরা দুই-তিনবার স্নান করুন: স্নান আপনার শরীরকে শীতল রাখবে৷ খুব চড়া গন্ধের সাবান ব্যবহার করবেন না, হালকা কোনও বডি ওয়াশ ব্যবহার করুন, তাতে ত্বকে পিএইচ ব্যালান্স বজায় থাকবে৷ প্রতিবার স্নানের পর অন্তর্বাসসহ সব পোশাক বদলে ফেলুন৷ স্নানের পর একগাদা পাউডার মাখবেন না, বরং অ্যালো ভেরা বা অলিভ অয়েলযুক্ত হালকা কোনও লোশন লাগিয়ে নিন৷ একস্ট্রা ভার্জিন নারকেল তেলও চলতে পারে৷ আর সুতির পোশাক মাস্ট৷
অ্যালো ভেরা জেল মজুত রাখুন হাতের কাছে: অ্যালো ভেরা জেল বা তাজা অ্যালো ভেরার নির্যাস, দুটোই সমান কার্যকর৷ ত্বকের সমস্যায় খুব কাজে দেয় অ্যালো ভেরা, স্পর্শকাতর ত্বকেও তা ব্যবহার করা যায়৷ তবে খেয়াল রাখবেন, অ্যালো ভেরা জেল একেবারে স্বচ্ছ হয়৷ বাজারচলতি কোনও প্রডাক্টে রং মেশানো থাকলে তা এড়িয়ে চলুন৷
নিমপাতা খুব ভালো অ্যান্টিসেপটিক: নিমের তেল, নিমপাতা বাটা দুটোই খুব ভালো কাজে দেয় চুলকানির সমস্যায়৷ তবে ত্বকে ব্যবহারের নিমপাতা বাটার জন্য একটা আলাদা ব্লেন্ডার বা শিল-নোড়া রাখবেন, তাতে অন্য কাজ যেন না হয়৷ এক বালতি জলে এক মুঠো নিমপাতা ভিজিয়ে রোদে রাখুন ঘণ্টাখানেকের জন্য৷ স্নান শেষে পাতা সরিয়ে এই জলটা গায়ে ঢেলে নিন৷ নিমের পাতাযুক্ত সাবানও কিনতে পাওয়া যায়, সেটাও ব্যবহার করে দেখতে পারেন৷
অ্যাপল সাইডার ভিনিগার খুব কাজে দেয়: এক চাচামচ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার নিয়ে সরাসরি লাল হয়ে যাওয়া ত্বকে লাগান৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই চুলকানি কমে গিয়ে আরাম পাবেন৷ এটি অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি ফাঙ্গাল, ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স বজায় রেখে তা আর্দ্র রাখে৷
বেকিং সোডা: এক কাপ বেকিং সোডা গুলে নিন বাথটবের জলে৷ সেই জলে আধ ঘণ্টা গা ডুবিয়ে বসে থাকুন৷ তার পর এক মগ জলে গা ধুয়ে মুছে নিন৷
হৃদয়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে মেনে চলুন সহজ নিয়ম
মেয়েদের মধ্যেও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে হৃদরোগের আশঙ্কা, বয়সটাও আর খুব একটা বড়ো ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াচ্ছে না৷ তাই হৃদয়কে সুস্থ রাখতে চাইলে আজই সচেতন হয়ে উঠুন৷ মেনে চলুন কয়েকটি সাধারণ নিয়ম, হিসেব করে খাওয়াদাওয়া করুন৷ তা হলেই সুস্থ থাকবে আপনার হৃদয়৷
অন্তত ছ’ ঘণ্টা বরাদ্দ রাখুন ঘুমের জন্য: ঘুমে যেন কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ৷ ঘুমের মধ্যে যদি মনে হয় আচমকা দম বন্ধ হয়ে আসছে এবং তার ফলে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে, তা হলে সচেতন হতে হবে৷ সম্ভবত আপনি স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত৷ নাক ডাকাও হার্টের পক্ষে খুব একটা ভালো নয়৷ সেক্ষেত্রেও ডাক্তার দেখিয়ে নিরাময়ের ব্যবস্থা করতে হবে৷
ঘণ্টার পর ঘণ্টা কমপিউটার, টিভি বা ভিডিয়ো গেম নিয়ে বসে থাকবেন না: ধূমপানে শরীরের যা ক্ষতি হয়, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয় টানা বসে ভিডিয়ো গেম খেললে, টিভি বা মোবাইলে বুঁদ হয়ে থাকলে৷ যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁরাও যদি লম্বা সময় ধরে এক জায়গায় বসে থাকেন, তা হলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে৷ সম্ভব হলে প্রতি আধ ঘণ্টা অন্তর সিট থেকে উঠে একটু হেঁটে চলে বেড়ান৷
স্ট্রেস থেকে মুক্তির উপায় খুঁজুন: কাজের চাপ রাতারাতি কমানো সম্ভব নয়, যেটা করতে পারেন সেটা হচ্ছে স্ট্রেস থেকে মুক্তির উপায় খোঁজা৷ এমন কিছুর সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করুন যা মন ফুরফুরে রাখতে সাহায্য করে৷ গান শুনুন, বেড়াতে যান৷ মাঝে-মধ্যে ব্রেক নিন৷ স্ট্রেস বাড়লেই বাড়বে হার্ট রেট আর রক্তচাপ, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আর্টারির দেওয়াল৷ যোগাভ্যাস স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করতে পারে৷
বেশি নুন খাবেন না: সোডিয়াম জল ধরে রাখে, তার ফলে বাড়ে রক্তের ভলিউম৷ বাড়তি চাপ পড়ে হার্টের উপর৷ তাই নুন খাওয়ার পরিমাণ কমান৷ রান্নায় নুন চলবে, বাদ দিন প্যাকেটজাত খাবার, প্রসেসড ফুড আর কাঁচা নুন খাওয়া৷
মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য ভালো রাখুন: মুখগহ্বর থেকেই অনেক অসুখের সূত্রপাত হয়৷ তাই দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রাখাটা একান্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ সেই সঙ্গে খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে৷ তাতে ঠেকানো যাবে ব্যাকটেরিয়ায় শরীরে প্রবেশের আশঙ্কা৷
ডবল চিনের সমস্যা দূর করুন ঘরোয়া উপায়ে
সমস্যাটা কী? দিন কতক ধরে কোনও সেলফিই আর পছন্দ হচ্ছে না? যা-ই তুলুন না কেন, চোয়ালের ভাঁজের নিচে এক পরত ফ্যাটের স্তর চোখে পড়ছে বারবার৷ সেটা দেখতে এতই বাজে লাগছে যে একের পর এক ছবি ডিলিট করে চলেছেন? হাই নেক জামাকাপড় পরছেন, তাল তাল চুইং গাম চিবোচ্ছেন, কোকো বাটার দিয়ে মুখ আর গলা মাসাজ করছেন প্রতি রাতে, কিন্তু কিছুতেই কিছু লাভ হচ্ছে না? নাকি মাথা ঠান্ডা করুন, ডবল চিন দূর করার কতগুলো সামাধান আছে৷
তার মধ্যে প্রথমটা খুব সহজ৷ ডবল চিন হওয়ার আগে থেকেই সতর্ক হোন৷ মনে রাখবেন, 30-এর কোঠায় পৌঁছে গেলেই কিন্তু শরীরে ফ্যাট জমার হার বাড়বে, সেই সঙ্গে ক্রমশ ঘাটতি পড়বে আপনার পেশির স্থিতিস্থাপকতায়, তা ঝুলে যাবে নিচের দিকে৷ তাই শরীরের অন্য কোথাও ফ্যাট না থাকলেও 40-এর দিকে এগোতে আরম্ভ করলেই ডবল চিনের সমস্যা আপনাকেও ভোগাতে পারে৷ তাই সময় থাকতেই রাশ টানুন খাওয়াদাওয়ায়, মুখের পেশি যাতে টানটান থাকে তেমন ব্যায়াম অভ্যেস করুন৷
যাঁদের ডবল চিন হয়ে গিয়েছে, তাঁরা কিন্তু রাতারাতি কোনও ফল পাবেন না, একটু ধৈর্য ধরে ব্যায়াম অভেস করে যেতে হবে৷ সেই সঙ্গে পুরো শরীরের ওজন কমানোর প্রতিও নজর দিন, সম্ভব হলে যোগাযোগ করুন একজন পুষ্টিবিদের সঙ্গে৷ তিনি বলে দেবেন ঠিক কোন ধরনের খাওয়াদাওয়া আপনাকে সুস্থ রাখবে৷ এই সব ক’টি বিষয় একসঙ্গে কাজ করতে আরম্ভ করলেই চোয়ালের নিচে আলগা হয়ে ঝুলে পড়া ত্বকে ফিরে আসবে টানটান ভাব৷ অনেকে ওজন কমানোর পরেও চিবুকের নিচের ত্বকের টানটান ভাবটা আর ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারেন না, ত্বক ঝুলেই থাকে৷ সেটাকেও ডবল চিন মনে হতে পারে৷ এটাও কিন্তু রাতারাতি স্বাভাবিক হবে না, অনেকটাই সময় লাগবে৷ ততদিন পর্যন্ত যেটা ট্রাই করে দেখতে পারেন সেটা হচ্ছে মেকআপ টেকনিক৷ হতাশ হবেন না, যতদিন না ফ্যাট পুরোপুরি কমছে, ততদিন বুদ্ধিমানের মতো প্রসাধন ব্যবহার করলে দিব্যি ঢেকে রাখা সম্ভব এই সমস্যা৷ তাই আর দেরি না করে এখনই উঠে-পড়ে লাগুন৷ জেনে নিন আপনি কী কী করতে পারেন৷
চিন আপ
বসে বা দাঁড়িয়ে করা যায় এই ব্যায়াম৷ মেরুদণ্ড সোজা রেখে দাঁড়ান/ বসুন৷ মাথা ক্রমশ পিছনের দিকে নিয়ে যান, চোখ থাকবে সিলিংয়ের দিকে৷ এবার ঠোঁট দুটোকে গোল করে সামনের দিকে যতটা পারেন ঠেলতে থাকুন৷ চোয়াল যেন পুরোপুরি স্ট্রেচ করে৷ পাঁচ গোনা পর্যন্ত ধরে রাখুন এই পজ়িশন, ক্রমশ সময়টা বাড়িয়ে 10 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেন৷ একসঙ্গে 10টি চিন আপ করলে একটি সেট পুরো হবে৷ তার পর আবার রিপিট করতে পারেন৷
নেক রোল
যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁরা নেক রোলের সঙ্গে পরিচিত৷ একইসঙ্গে চোয়াল, গলা, ঘাড়ের পেশিকে টোন আপ করতে সাহায্য করে এই বিশেষ ব্যায়াম৷ রিল্যাক্স হয় আপনার কাঁধের পেশিগুলিও৷ মেরুদণ্ড সোজা রেখে মাথা ঘোরাতে থাকুন, এক পাশের কাঁধের দিক থেকে তা যেন অন্য পাশের কাঁধের দিকে আসে৷ প্রথমে ঘড়ির কাঁটার দিকে রোল করবেন, তার পর ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে একইভাবে মাথা ঘোরাতে হবে৷ 10টি একসঙ্গে করলে একটি সেট পুরো হবে৷ সুবিধের ব্যাপারটা হচ্ছে যে আপনি অফিসের ডেস্কে বসে কাজের ফাঁকে ছোট্ট বিরতি নিয়েও এই ব্যায়ামগুলি অভ্যেস করতে পারেন৷
টাং প্রেস
মেরুদণ্ড সোজা রেখে দাঁড়ান/ বসুন৷ মাথা ক্রমশ পিছনের দিকে নিয়ে যান৷ সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে আপনার জিভটা টান করে ঠেকিয়ে রাখুন মূর্ধা বা মুখগহ্বরের তালুতে৷ এইভাবে চিবুকটা নামিয়ে আনুন বুকের কাছে, যেন তা এসে আপনার গলার কাছটা স্পর্শ করে৷ কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন, তার পর জিভটা রিল্যাক্স করে ঘাড় সোজা করে সামনে তাকান৷ 20টি রিপিটেশন করলে তবে একটি সেট পুরো হবে, অন্ততপক্ষে দুটো সেট করুন৷
সিংহাসন
এই যোগমুদ্রাটি মুখের মাসল টানটান করতে খুব কাজে দেয়৷ শুধু যে মুখের মাসল টোনড হয়, তা নয়, এই আসনের নিয়মিত অভ্যেসের ফলে চিবুক ও চোয়ালের আশপাশের মাসল শক্তিশালীও হয়ে ওঠে৷ যাঁরা সিংহাসন নিয়ম করে সিংহাসন অভ্যেস করেন, তাঁদের ডাবল চিনের সমস্যা সার্জারি ছাড়াই উধাও হয়ে যায়৷ এবার প্রশ্ন, কীভাবে অভ্যেস করবেন এই আসনটি? দু’ভাবে করা যায়, শুয়ে ও বসে৷ খুব রিল্যাক্সড ভঙ্গিমায় বসুন৷ জিভটা যতটা সম্ভব বের করে নিন বাইরে, ক্রমশ আপনার গলা আর চোয়ালের কাছে টানটান ভাবটা অনুভব করতে পারবেন৷ এইভাবে 10 পর্যন্ত গুনুন, তিন থেকে পাঁচটা রিপিটেশন করতে পারেন৷ দিনে অন্তত দুটো সেট এইভাবে অভ্যেস করতে হবে৷
টিল্ট হেড
সোজা হয়ে দাঁড়ান৷ মাথাটা ক্রমশ পিছনের দিকে নিয়ে যান, গলা আর চিবুকের কাছটায় টানটান ভাব অনুভব করতে পারবেন৷ আবার ফিরিয়ে আনুন আগের পজ়িশনে৷ এইভাবে অন্তত 10 সেকেন্ড ধরে রাখুন, একসঙ্গে অন্তত পাঁচটি রিপিটেশন করলে একটি সেট পূর্ণ হবে৷ এই ব্যায়ামটি শনতে যতটা সহজ, করতেও ঠিক ততটাই৷ অফিসে কাজের ফাঁকে দিব্যি অভ্যেস করতে পারবেন এবং কিছুদিনের মধ্যেই ফারাকটা পরিষ্কার বুঝতে পারবেন৷
ব্লো এয়ার
মেরুদণ্ড সিধে রেখে সোজা হয়ে বসুন৷ মাথাটা পিছনের দিকে নিয়ে গিয়ে সিলিংয়ের দিকে তাকান৷ ঠোঁট দুটো সরু করে গাল ফুলিয়ে মুখের ভিতর থেকে বাতাস ছাড়ুন 10 সেকেন্ডের জন্য৷ 10টি রিপিটেশন করলে একটি সেট পুরো হবে৷ অন্তত পাঁচটি রিপিটেশন অভ্যেস করুন৷
মেকআপেই ঢাকুন ডবল চিন
ব্যায়াম করে ডবল চিন কমানোর উপায় তো জানলেন। আগেই বলা হয়েছে, এই পথ অনুসরণ করলে ফল পাওয়ার ব্যাপারটাও একটু দীর্ঘমেয়াদি হয়ে পড়ে। তাই কিছু শর্টকাটের কথাও জেনে রাখা ভালো। জেনে নিন মেকআপের কিছু বিশেষ কৌশল। ঠিকঠাক প্রয়োগ করতে পারলে কারও নজরেই পড়বে না আপনার ডবল চিন!
কৌশল 1
প্রথমেই সারা মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে বেস তৈরি করে নিন। বেস ঠিকঠাক হলে মেকআপও নিখুঁত হবে।
এবার আপনার ত্বকের স্বাভাবিক রঙের চেয়ে দু’ শেড গাঢ় ফাউন্ডেশন আর ব্রোঞ্জার নিন। যাঁদের গায়ের রং ফর্সা, তাঁরা গোলাপি ঘেঁষা ব্রোঞ্জার বাছবেন। মাঝারি বা চাপা গায়ের রং যাঁদের, তাঁরা একটু সোনালির দিকের শেড বাছুন।
চিবুকে ফাউন্ডেশন লাগানোর পর অল্প একটু ব্রোঞ্জার নিয়ে চোয়ালের হাড় বরাবর লাগান। ছোট ছোট স্ট্রোকে মিশিয়ে দিন। এভাবে পুরো চোয়ালের হাড়ে ব্রোঞ্জার লাগান।
মেকআপ স্পঞ্জ দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। চোয়ালের হাড়ের নিচে চিবুকের নরম অংশেও ব্রোঞ্জারের ছোঁয়া রাখুন, যাতে গলা আর চিবুকের রঙে ফারাক না থাকে।
ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার দিয়ে সেট করে নিন।
কৌশল 2
ঠোঁটের মেকআপের উপর জোর দিন। সত্যি বলতে, গাঢ় রঙের লিপস্টিকও আপনার চেহারা একদম পালটে দিতে পারে। ডবল চিন থেকে লোকের নজর ঘোরাতে গাঢ় লাল, গাঢ় খয়েরি শেডের লিপস্টিক পরুন। চকচকে লিপ গ্লসও লাগিয়ে নিতে পারেন। ঠোঁটে নাটকীয়তা এলে চিবুকের দিকে আর নজর যাবেই না।
কৌশল 3
ঠোঁটের মতোই গাল আর চোখের মেকআপও সমান জরুরি। চোখের জন্য কোনও নরম রঙের আইশ্যাডো আর লাইনার বাছুন। উপরের দিকে ছোট ছোট টানে ব্লাশার লাগান গালে। চিবুকের খুঁত অনেকটাই ঢাকা পড়ে যাবে।
কৌশল 4
হেয়ারস্টাইলের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। চিবুকের ঠিক নিচে বা ঘাড় পর্যন্ত লম্বা চুলের কোনও স্টাইল করবেন না। চিবুকের নিচ পর্যন্ত লম্বা চুলে কার্ল চলবে না একেবারেই। বরং এমন কোনও স্টাইল করুন যাতে চিবুকের দিকটা বেশি নজরে না আসে। সমস্ত চুল একদিকে নিয়ে গিয়ে পনিটেল বাঁধতে পারেন।
গ্যাস-অম্বল, বুক জ্বালার সমস্যার সহজ সমাধান
নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করছেন, অফিসে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন টিফিনের বাক্স, কিন্তু তা-ও পেট ফাঁপছে, গ্যাস-অম্বল-বুক জ্বালার সমস্যা কিছুতেই আপনার পিছু ছাড়ছে না? একবার আপনার খাদ্যতালিকায় চোখ বুলিয়ে দেখুন, সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়ে যাবেন নিজেই!
দূরে থাকুন ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, ক্যাপসিকামের মতো সবজি থেকে: উল্লিখিত প্রত্যেকটি সবজি হজমের সময়েই পেট ফাঁপে সবার৷ এই সমস্যা এড়াতে চাইলে এড়িয়ে চলুন সবজিগুলিকে৷
আপেল: এতদিন জানতেন, অ্যান অ্যাপল আ ডে, কিপস ডক্টরস অ্যাওয়ে৷ এবার জেনে নিন যে আপেলে উপস্থিত ফাইবার জল শোষণ করে৷ আর তার পর যখন সেটা ভাঙে, তখন তৈরি হয় গ্যাস৷
বিনস: বিনসে উপস্থিত অলিগোস্যাকারাইড হজম করতে পারে না আমাদের শরীর, সেটা পেটের ভিতর গ্যাসের জন্ম দেয়৷
ময়দা: ময়দা রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ায়, বাড়ায় ফ্যাটের স্টোরেজ৷ সেই সঙ্গে তা গ্যাসও তৈরি করে পেটে৷
খাবার আর কার্বনেটেড পানীয়: প্রচুর চিনি মেশানো থাকে যে কোনও কার্বনেটেড পানীয়ে৷ আপনার রোজের খাবারের সঙ্গে যখন সেটা পান করছেন, তখন হজমে ব্যাঘাত ঘটবেই৷ আর খাবার হজম হতে যত দেরি হবে, পেটে গ্যাসের পরিমাণ তত বাড়বে৷
দই আর টক ফল: কমলালেবু বা কিউয়ির মতো যে সব ফলে টক রস আছে সেগুলি থেকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়, দইয়ের প্রোবায়োটিক ও ল্যাকটিক অ্যাসিডও শরীরের জন্য খুব ভালো৷ কিন্তু দুটোকে একসঙ্গে মেশাবেন না, তাতে হজম হতে অনেক দেরি হবে৷ একান্তই যদি কখনও দই আর এই ধরনের ফল একসঙ্গে খাওয়ার প্ল্যান করে থাকেন, তা হলে খেয়াল রাখবেন দই যেন ঘরের তাপমাত্রায় থাকে৷ সেই সঙ্গে যোগ করে নিন সামান্য মধু আর এক চিমটে দারচিনির গুঁড়ো, তাতে উষ্ণতা বাড়বে৷
দুধ বা ছানা আর পালং শাক: পালংয়ের সঙ্গে যে কোনও ডেয়ারি প্রডাক্ট খেলেই দুধের সমস্ত গুণ নষ্ট হয়ে যায়৷ বিশেষ করে পালংয়ের অক্সালিক অ্যাসিড দুধের ক্যালশিয়াম শোষণে বাধা সৃষ্টি করে৷ তাই পালং পনির নয়, মটর পনির খান৷ পালংয়ের সঙ্গে খেতে পারেন কোনও ডাল বা মশরুম৷
দুধ আর ডাল: দইয়ের সঙ্গে ডাল খেতে পারেন, কিন্তু দুধের সঙ্গে নৈব নৈব চ৷ দুধের নিজস্ব হজমের প্রক্রিয়া আছে৷ তার পাচন পাকস্থলীতে হয় না, ডুওডেনামে হয়৷ ডালের অলিগোস্যাকারাইড হজমেও অনেকটা সময় লাগে৷ তাই দুটো একসঙ্গে খেলেই হজমে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা আছে৷
মাছ আর দুধ: ছেলেবেলায় আমরা সবাই শুনেছি যে মাছ আর দুধ একসঙ্গে খেলে নাকি ত্বকের রোগ হয়৷ আসলে দুটোই প্রোটিন, একবারে একটিই আমাদের শরীরের জন্য যথেষ্ট৷ দুটো একসঙ্গে খেলেই হজমের গোলমাল হতে পারে৷
খাবার ভালো করে চিবিয়ে খান: ভালো করে চিবিয়ে না খেলে কিন্তু মুখের লালারসের সঙ্গে মিশবে না খাবার, তাতে হজমের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হবে৷ খেতে খেতে কথা বলবেন না৷ আর এত কিছু মেনেও যদি পেট ফাঁপার সমস্যা না কমে, তা হলে অবশ্যই একবার ফুড অ্যালার্জির টেস্ট করার কথা ভাবতে হবে৷ জেনে নিন দুধ, গ্লুটেন বা অন্য কোনও অ্যালার্জির কারণেই আপনার হজমের সমস্যা হচ্ছে কি না৷
জল খেলে কি ওজন কমে?
জল খাওয়ার নানাবিধ উপকারিতা আছে, এ কথা আমরা সবাই জানি। গরম পড়তে আরম্ভ করেছে, ঘাম হওয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে৷ তাই জল খাওয়ার পরিমাণও ক্রমশ বাড়াতে আরম্ভ করুন৷ অনেকে দাবি করেন যে, জল খেলে শারিরীকভাবে সুস্থ থাকার পাশাপাশি ওজনও কমে। সেটা কি আদৌ সত্যি?
সাম্প্রতিক কিছু সমীক্ষা বলছে, জল মেটাবলিজ়মের হার বাড়াতে সাহায্য করে৷ আপনি যে পরিমাণ জল এখন খান, তার চেয়ে প্রতিদিন 500 মিলিলিটার জল বেশি খেলেই বিপাক ক্রিয়ার হার অন্ততপক্ষে 20 শতাংশ বেড়ে যাবে৷ এই প্রক্রিয়াটা ট্রাই করে দেখা যেতেই পারে, তবে রাতারাতি ফল পাওয়ার আশা না করাই ভালো।
অনেকে জলের তেষ্টা মেটাতে দ্বারস্থ হন অন্যান্য পানীয়ের৷ কিন্তু জ্যুস, প্যাকেটজাত লস্যি, সফট ড্রিঙ্কের চেয়ে জল শরীরের পক্ষে অনেকটাই ভালো৷ জলে কোনও ক্যালোরি নেই, সুগার কনটেন্টও শূন্য৷ তাই বুঝতেই পারছেন, আপনি অন্য কোনও পানীয় বাতিল করে জল খেলে ওজন কমার সম্ভাবনা আছে কারণ মোট ক্যালোরি গ্রহণের মাত্রাও সেক্ষেত্রে কমে যাবে৷ তাই আর দেরি না করে প্রত্যেক দিন জল খাওয়ার পরিমাণ বাড়ান, ওজনও ধীরে ধীরে কমতে আরম্ভ করবে৷ খুব ভালো হয় যদি খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে জল খেয়ে নেন৷ খাবার খাওয়ার পরে অন্তত আধ ঘণ্টা জল খাবেন না৷ এতে হজম ভালো হবে, কমবে কোষ্ঠকাঠিন্য৷
এবার প্রশ্ন, একজন সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষের জন্য কতটা জল খাওয়া উচিত? ডা. ফুয়াদ হালিম বলছেন, ‘‘ধরুন, সাধারণ উচ্চতার আন্দাজ 60 কেজি ওজনের একজন সুস্থ মানুষের জন্য সাড়ে চার লিটার জল খাওয়া চলতে পারে৷ ওজন একটু বেশি হলে আরও একটু বাড়াতে হবে জল খাওয়ার পরিমাণ৷ গ্রীষ্মকালে বেশি ঘামেন? তা হলে আরও বেশি জল খান, তাতে কিডনিও ভালো থাকবে।’’
চোখ বাঁচিয়ে দোল খেলুন
দোল কি আর কেউ হিসেব করে খেলে? বরং কেউ ‘এ বছর রং খেলব না’ বলে ধুয়ো তুললে তাকে চেপে ধরে রাঙিয়ে দেওয়ার মধ্যেই একটা বিজাতীয় আনন্দ পাওয়া যায়! কিন্তু যাঁদের চোখে কোনও সমস্যা হয়েছে, ডায়াবেটিসের মতো অসুখ আছে বা কথায় কথায় অ্যালার্জি হয়, তাঁদের তো সাবধান না হয়ে কোনও উপায় নেই! বিশেষ করে দোলে যে ধরনের সিন্থেটিক রং ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে উপস্থিত রাসায়নিকের প্রভাবে সুস্থ মানুষেরও চোখের সমস্যা হতে পারে৷ তাই দোলের দিন রং খেলার আগে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন৷
দিশা আই হসপিটালের সঙ্গে যুক্ত চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অংশুমান গোস্বামী বলছেন, ‘‘সম্ভব হলে প্রাকৃতিক রঙের সাহায্যেই দোল খেলুন৷ হোলির রঙে উপস্থিত ভারী ধাতুর প্রভাবে চোখে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে৷ লাল রঙে উপস্থিত চকচকে উপাদানগুলি হচ্ছে অভ্র, এগুলি থেকে কিন্তু চোখে বড়ো সমস্যা হতে পারে৷ সবুজ রং চোখে ঢুকে গেলে খানিকক্ষণের জন্য দৃষ্টিশক্তিই চলে যেতে পারে৷ তাই দোল খেলার জন্য আপনি কোন ধরনের রং বেছে নিচ্ছেন, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ ভুলেও কারও চোখে রং ভরা বেলুন ছুড়বেন না, তাতে চোখে আচমকা আঘাত লাগার আশঙ্কা থাকে৷ আর কনট্যাক্ট লেন্স পরে দোল খেলবেন না৷ লেন্সের ফাঁকে রং আটকে গেলে কিন্তু সিরিয়াস ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা আছে৷’’
চোখ নিরাপদে রাখারও কতগুলি পদ্ধতি বাতলে দিচ্ছেন ডা. গোস্বামী৷ প্রথমত, সানগ্লাস পরে নিতে পারেন, চশমা থাকলেও সেটাও চলতে পারে৷ দুটোই চোখকে গার্ড করে রাখবে৷ দুই, চুল বেঁধে রাখুন বা একটা টুপি পরে নিন মাথায়৷ তাতে চুল থেকে রং গড়িয়ে চোখে এসে পড়বে না৷ তিন, চোখের চারপাশে নারকেল তেলের একটা পরত লাগিয়ে নিন খেলা শুরুর আগেই৷ তাতে রং বসবে না চট করে, চোখে এসে ঢোকার তো প্রশ্নই নেই৷ চার, চোখে রং ঢুকে গেলে কখনওই রগড়াবেন না, তাতে রেটিনা আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷
কিন্তু এত সাবধানতা সত্ত্বেও যদি চোখে রং ঢুকে যায়, তখন কী করবেন? এএমআরআই হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য বলছেন, ‘‘কলের জলে বারংবার ঝাপটা দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন৷ সময় লাগুক, অসুবিধে নেই৷ কিন্তু রং পুরো বেরিয়ে যাওয়া দরকার৷ ছোটখাটো সমস্যা এতেই মিটে যাওয়ার কথা৷ কিন্তু যদি দেখেন যে তার পরেও চোখ ফুলে আছে, লাল হয়ে পিচুটি কাটছে, তা হলে বুঝতে হবে যে আপনার কেমিক্যাল কনজ়াংটিভাইটিস হয়েছে৷ সেক্ষেত্রে ডাক্তার দেখান একবার, অনেক ক্ষেত্রেই এটাও স্বাভাবিকভাবে কমে যায়৷ কিন্তু ডাক্তার দেখিয়ে নিলে বোঝা যাবে যে কর্নিয়ায় কোনওরকম অ্যাবরেশন বা ইনজুরি হয়েছে কিনা৷ কাউকে রং মাখানোর সময় সতর্ক থাকুন, যেন চোখে হাতের খোঁচা না লাগে৷ বিশেষ করে যাঁদের সদ্য কোনও অপারেশন হয়েছে, কর্নিয়ায় সমস্যা আছে বা বারবার ইনফেকশন হয় চোখে, তাঁরা অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করুন৷’’
1.
নিয়মিত তেতো খাওয়ার উপযোগিতা
তেতো খেতে কারই বা ভালো লাগে? কিন্তু বিশেষ করে এই গরম পড়ার সময়টায় তেতো খাওয়ার জন্য সব বাড়িতেই বিস্তর চাপাচাপি শুরু হয়ে যায়৷ হয় নিম, না হয় করলা, অথবা উচ্ছে, নিদেনপক্ষে সজনে ফুল, কিছু না কিছু একটা মেনুতে থাকবেই৷ তেতো সবজি খাওয়ার এই ব্যাপারটা কিন্তু কেবল এ দেশে নয়, বিদেশেও আছে৷ সেখানেও কেল নামে একটি শাকজাতীয় উপাদান মেলে যা স্যালাডে মিশিয়ে খাওয়া হয়, সেটিও তিতকুটে এবং মা-বাবারা পুষ্টিগুণের দোহাই দিয়ে বাচ্চাদের সেটি খেতে বাধ্য করেন৷
এবার প্রশ্ন হচ্ছে, তেতো খাওয়াটা জরুরি কেন? প্রথম কারণ হচ্ছে এটি মুখের স্বাদ বদলাতে সাহায্য করে, কাজ করে প্রাকৃতিক প্যালেট ক্লেনজ়ার হিসেবে৷ প্রথম পাতে তেতো খান, বাকি সব খাবারই সুস্বাদু লাগবে৷ সাধারণত তেতো সবজিগুলি হজমের পক্ষে সহায়ক হয়, বাড়ায় বিপাকক্রিয়ার হার৷ আর যেহেতু গরমকালে বিপাকের হার ক্রমশ মন্দগতিপ্রাপ্ত হয়, তাই তেতো খাওয়াটা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়৷ লক্ষ করলেই দেখবেন, প্রকৃতিতেও এই সময়টায় অজস্র তেতো সবজি মেলে, সজনের ফুল, কচি নিমপাতা, উচ্ছে, করলা... তাই নিয়মিত তেতো খাওয়ার অভ্যেস থাকা ভালো৷
নিমপাতা: নিমের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ নিয়ে তো নতুন করে কিছু বলার নেই৷ আয়ুর্বেদে মনে করা হয়, নিম নিয়মিত সেবন করলে শরীরের ‘বাত’দোষের খণ্ডন হয়, সেরে যায় সব নিউরোমাসকিউলার সমস্যা৷ সুস্থ থাকে ত্বক-চুল, বাড়ে লিভারের কর্মক্ষমতা৷ নিয়মিত নিমপাতা খেলে ক্ষুদ্রান্ত্রের ব্যাকটেরিয়াও নিয়ন্ত্রণে থাকে৷
উচ্ছে/ করলা: এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ বাড়ায় প্রতিরোধক্ষমতা, পেটফাঁপা কমে, নিয়ন্ত্রণে থাকে ব্লাড সুগার৷
সজনে ফুল: প্রচুর ক্যালশিয়াম আর পটাশিয়াম মেলে৷ যে সব মায়েরা স্তন্যদান করছেন, তাঁদের জন্য আদর্শ৷ আয়ুর্বেদ মতে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন, সর্দি-জ্বরের উপশমে এর ব্যবহার আছে৷ খুব কষা লাগলে অল্প গরম জলে মিনিট পাঁচেকের জন্য ভাপিয়ে জলটা ফেলে দিয়ে রান্না করুন৷
ডার্ক চকোলেট: ডার্ক চকোলেটের সলিউবল ফাইবার, মিনারেল আর অ্যান্টিঅক্সিডান্ট আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে৷ ডার্ক চকোলেটের একটি ছোট্ট টুকরো রোজ খেতে পারেন৷
মেথি: মেথি শাক আর মেথির দানা, দুটোই খুব উপকারি৷ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে, হজমশক্তি বাড়াতে এর কোনও বিকল্প নেই৷ বুকে-গলায় জ্বালাভাব ও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলেও তা থেকে মুক্তি পেতে মেথি সাহায্য করতে পারে৷
হাঁপানির হাত থেকে বাঁচার উপায়
বসন্ত মানেই মধুমাস, কোকিলের কুহুতান ইত্যাদি আরও অনেক ভালো ভালো বিষয়৷ কিন্তু যাঁরা হাঁপানিতে ভোগেন, তাঁদের কাছে সময়টা বড়ো ভয়াবহ৷ প্রথমত, পুরুষদের চেয়ে ঋতুমতী মেয়েরা শ্বাসের অসুখে বেশি ভোগেন, নানা সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে এ তথ্য৷ তার উপর ঋতুবদলের এই সময়টায় বাতাসের ধূলিকণা মাটির কাছাকাছি আসে, ধোঁয়াশা তৈরি হয়। বিশেষ করে ভোর আর রাতের দিকে সেই ধোঁয়াশা বা স্মগের চাদর মুড়ে দেয় গোটা শহর। সাধারণ, সুস্থ-সবল মানুষের তাতে খুব একটা অসুবিধে হওয়ার কথা নয়, কিন্তু বাচ্চা আর বয়স্করা এই ধোঁয়াশার চাপটা নিতে পারেন না, আর হাঁপানি থাকলে তো আরওই অসুবিধে হয়৷ যাঁরা মোটামুটি স্বাস্থ্য সচেতন, তাঁদের অনেকেরই ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে মর্নিং ওয়াকে যাওয়ার অভ্যেস থাকে। শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা থাকলে কিন্তু খুব ভোরে উঠে বাইরে বেরোলে হিতে বিপরীত হতে পারে। ভোরে না সম্ভব হলে দিনের অন্য কোনও সময়ে জোরে হাঁটুন, জগিং করুন। আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে ধোঁয়াশা থেকে দূরে থাকা। কিছুদিন পর যখন তাপমাত্রা মোটামুটি সয়ে যাবে শরীরে, তখন আবার পুরোনো রুটিনে ফিরুন।
হাঁপানি থাকলে ফুলের পরাগরেণু থেকেও অ্যালার্জি হয়। বাড়ির মধ্যে বা আশপাশে ফুলের গাছ থাকলে সেগুলিকে সরিয়ে ফেলতে চেষ্টা করুন। বালিশ বা লেপ-কম্বল-গদি রোদে দিয়ে রাখুন৷ তা থেকেও শ্বাসের সমস্যা হতে পারে৷ যাঁরা ক্রনিক সমস্যায় ভুগছেন এবং নিয়মিত চিকিৎসার মধ্যে রয়েছেন, তাঁরা জানেন, এই রোগের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি হলেই ওষুধ বদলে আনতে হয় ডাক্তারের কাছে গিয়ে, সেটাই করুন। যাঁরা সদ্য ভুগতে আরম্ভ করেছেন বা মনে হচ্ছে শ্বাস নিতে অসুবিধে হচ্ছে, তাঁরাও ডাক্তার দেখান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। যাঁরা বাইক চালান বা যে সব বাচ্চাদের ভোরে স্কুল, তাঁরা নাক-মুখ ঢাকা মাস্ক ব্যবহার করুন৷ সম্ভব হলে এড়িয়ে চলুন ধূমপান, তা শ্বাসকষ্ট আরও বাড়ায়৷ রোজের খাদ্যতালিকায় বছরভর রাখুন ভিটামিন সি, তাতে প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে, ঠেকিয়ে রাখা যায় নানা রোগ৷
বসন্তের অসুখবিসুখ থেকে দূরে থাকুন
শরীরের ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগে। আগামী দিনে গরম আরও বাড়বে, আর তার সঙ্গে সঙ্গে অতি সক্রিয় হয়ে উঠবে কিছু ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া, বাড়বে নানা অসুখবিসুখ। ফলে ভিতর থেকে শরীর শক্তপোক্ত না হলে ঋতু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে সমস্যা হবে।
মূল সমস্যা
মূল যে সমস্যাগুলো এই সময়ে ভোগায় তার মধ্যে প্রথম তিনটি হচ্ছে ভাইরাল ফিভার, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ও চামড়ার অসুখ। এ ছাড়া পেটের গোলমাল বা অন্যান্য অসুখবিসুখও থাকে। শীতে সাধারণত সবাই ভাজাভুজি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার বেশি খেয়ে ফেলেন, শরীর গরম রাখার জন্য বাড়তি ক্যালোরির প্রয়োজনও হয়। কিন্তু একইসঙ্গে আবার এই ধরনের খাবারের কারণেই কখনও কখনও কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগতে হয়, কখনও আবার ডায়েরিয়া বা ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজ়িজ় বিরক্ত করে। অতিরিক্ত ভাজাভুজি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে গা গোলানো, বমি বা পেট ফাঁপার সমস্যাতেও ভোগেন অনেকে৷
কী কী নিয়ম মেনে চলা উচিত?
সুস্থ থাকতে টেকনোলজিকে কাজে লাগান। সকালের খবরের কাগজ, নিউজ় চ্যানেল, এমনকী আপনার ফোনেও আবহাওয়ার হাল-হকিকত জানতে কয়েক সেকেন্ড লাগবে। বাড়ি থেকে বেরনোর আগে অবশ্যই সেটা একবার চেক করে নিন। যদি দেখেন রাতের দিকে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, তা হলে সঙ্গে একটা গরম পোশাক রাখুন। আবার যেদিন গরম লাগছে, সেদিন একগাদা জ্যাকেট-কোট চাপিয়ে ঘামলেও কিন্তু শরীর খারাপ হতে পারে। ইন ফ্যাক্ট, গরমের পোশাক পরে শরীর অতিরিক্ত ঘাম হয় এবং সেটা শুকোতে পারে না বলেই ত্বকের রোগ দেখা দেয় বসন্তে। সোজা কথায়, এই সময় রোজ আবহাওয়া বদলায়। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময়টা শরীরকে দিতে হবে। যাঁরা বাইক চালান, তাঁরা অবশ্যই নাক-মুখ ঢেকে রাখুন, বিশেষত রাত আর ভোরের দিকে। বাড়িতে বা অফিসে কেউ ভাইরাল ফিভার বা সর্দি-কাশিতে ভুগছেন? সম্ভব হলে একটু দূরত্ব বজায় রাখুন কারণ এগুলি খুব তাড়াতাড়ি ছড়ায়। হালকা জ্বর, গা ব্যথায় প্যারাসিটামল খাওয়া যায়, কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার। শীতকালে অনেকেই জল খাওয়া একেবারে কমিয়ে দেন, গরম পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা আবার বাড়াতে হবে। ঈষদুষ্ণ জলে খুব ভালো করে রোজ স্নান করবেন৷
ফল-সবজির খোসা ফেলে দেবেন না, ব্যবহার করুন
ফল আর সবজির সব খোসাই ফেলে দেবেন না৷ খোসার মধ্যেও কিছু না কিছু এমন উপাদান থাকে, যা নানাভাবে ব্যবহার করা যায়৷
আলুর খোসা: আলুর খোসায় নানা এনজ়াইমের পাশাপাশি আছে ভিটামিন সি৷ চোখ ফুলে থাকলে, চোখের কোলে কালি পড়লে বা অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকলে আলুর খোসা ব্যবহার করে চমকে দেওয়ার মতো ফল পাবেন৷ আলুর খোসাগুলি ফ্রিজে রাখুন 10-15 মিনিটের জন্য৷ ঠান্ডা হয়ে গেলে চোখের উপর ও আশপাশে লাগিয়ে নিন৷ চোখ বন্ধ করে খানিকক্ষণ বিশ্রাম করুন৷ 15-20 মিনিট পর ঠান্ডা জল দিয়ে চোখ ধুয়ে নিন৷
কমলালেবুর খোসা: এখন কমলালেবুর ভরা মরশুম চলছে৷ লেবু খাওয়ার পর খোসাটি রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে সারা বছর রূপটান হিসেবে ব্যবহার করার রেওয়াজ ঠাকুমা-দিদিমাদের আমল থেকে চলে আসছে৷ দুধের সর, ময়দা আর কমলালেবুর খোসাগুঁড়োর মিশ্রণ ফেস মাস্ক ও এক্সফোলিয়েটার হিসেবে দারুণ কার্যকর৷ যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত, তাঁরা দুধের সর-ময়দার বদলে দই আর মধু ব্যবহার করে দেখতে পারেন৷ পেঁপে বা অ্যাভোকাডোর খোসা বেটেও মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করা যায়৷ খোসায় উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডান্ট ও পুষ্টিগুণের কারণে ত্বক ঝলমলিয়ে ওঠে৷ তবে যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত স্পর্শকাতর, তাঁরা এই ধরনের রূপটান ব্যবহারের আগে একবার অল্প একটু অংশে লাগিয়ে দেখে নেবেন৷ খোসায় উপস্থিত প্রাকৃতিক তেলের কারণে অনেকের ত্বকে প্রতিক্রিয়া হয়৷
কলার খোসা: কলার খোসার ভিতরের দিকটা দিয়ে দাঁত ঘষে দেখতে পারেন, তা ঝকঝকে সাদা হয়ে উঠবে৷ লেবুর খোসাতেও একই কাজ হয়৷ ম্যাঙ্গানিজ়, ম্যাগনেশিয়াম আর পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ এই খোসায় ঝকমকিয়ে ওঠে আপনার দাঁতের এনামেল৷
কমলালেবু ও বাতাবিলেবুর খোসা: এগুলির নিজস্ব গন্ধই খুব সুন্দর৷ শুকিয়ে নিয়ে স্নানের জলে ভিজিয়ে রাখুন খানিকক্ষণ৷ ঈষদুষ্ণ জলে সুবাস আরও তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়বে৷ খোসাটা ফেলে দিয়ে জলটা স্নানের শেষে গায়ে ঢেলে নিন৷ ত্বকের নানা ছোটখাটো সমস্যা ও ক্লান্তি দূর হবে৷
পাতিলেবু ও কমলালেবুর খোসা: পোকামাকড় তাড়াতে দারুণ কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে পাতিলেবু ও কমলালেবুর খোসা৷ দরজা, জানলার আশপাশে, বইয়ের আলমারিতে শুকনো লেবুর খোসা রাখতে পারেন৷ মশা-মাছি-আরশোলার আনাগোনা যেখানে বেশি, সেখানেও রাখা যায়৷
ঘরোয়া পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণে রাখুন কোলেস্টেরল
কোলেস্টেরল কী?
কোলেস্টেরল এক ধরনের মেদ যা কোষের মেমব্রেন তৈরি ও দেখভাল করার পাশাপাশি আরও নানা জরুরি কাজকর্ম করে৷ দৈনিক শারীরবৃত্তীয় কাজকর্মের জন্য শরীরের যতটা কোলেস্টেরল প্রয়োজন, ততটা স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়ে যায়৷ তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন না করলে কিন্তু রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রাধিক্য হয় এবং সেটা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন৷ তাই সময় থাকতে সচেতন হোন৷
গ্রিন টি পান করুন নিয়মিত
পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, চিনিছাড়া গ্রিন টি হাই-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করতে পারে৷ এই ‘ভালো’ বা ‘বন্ধু’ কোলেস্টেরল স্বাস্থ্যরক্ষায় একান্ত কার্যকর, তাই দিনে অন্তত দু’ কাপ চিনিহীন গ্রিন টি পান করুন৷ যাঁদের মুখে গ্রিন টি রোচে না একেবারেই, তাঁরা দুই থেকে তিন টেবিলচামচ ধনে শুকনো তাওয়ায় সেঁকে নিন৷ তারপর গুঁড়ো করে নিতে হবে৷ এক কাপ জলের সঙ্গে এক চাচামচ ধনের গুঁড়ো ফুটিয়ে, ছেঁকে জলটা পান করলেও চলবে৷
রোজের খাদ্যতালিকায় রাখুন ভিটামিন সি
ভিটামিন সি হচ্ছে অ্যান্টিঅক্সিডান্ট৷ তা রক্তে উপস্থিত ‘বন্ধু’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে ও ‘শত্রু’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে৷ তাই রোজের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি থাকা আবশ্যক৷ দিনে তিন গ্লাস পরিমাণ তাজা অরেঞ্জ জ্যুস পান করলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, এমনটা অনেকেই মনে করেন৷ কমলালেবু তো বটেই, মুসম্বি, বাতাবি বা পাতিলেবুতেও প্রচুর ভিটামিন সি মিলবে, তা ছাড়া পেঁপে, কিউয়ি, পেয়ারা ইত্যাদি ফলও রোজ খাওয়া ভালো৷
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়ান
ম্যাকরেল, টুনা, সার্ডিন, স্যামনের মতো মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে৷ আপনার পছন্দের অন্য কোনও সামুদ্রিক মাছও খেতে পারেন৷ তা ছাড়া তিসি বা ফ্ল্যাক্সসিডে প্রচুর পরিমাণ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে৷ সরাসরি দু’-এক চামচ তিসি খেতে পারেন, একান্ত সম্ভব না হলে তিসি গুঁড়ো করে খান৷ স্যালাড ইত্যাদিতে তিসির তেলও ব্যবহার করা যায়৷
রসুন আর দারচিনি খান নিয়ম করে
প্রতিদিনের রান্নায় দুই থেকে তিনটি রসুন ব্যবহার করলে রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা৷ সকালের কফিতে ব্যবহার করুন এক চিমটে দারচিনির গুঁড়ো৷ প্রাতরাশে ওটমিল খান রোজ? পরিজ তৈরির সময় খানিকটা দারচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে পারেন, স্বাদে-গন্ধে মন ভরে যাবে৷ হট চকোলেটেও সামান্য দারচিনি মিশিয়ে খেয়ে দেখুন, দারুণ ভালো লাগবে৷
পান করুন ওয়াইন বা ড্রট বিয়ার
অন্য কোনও মদের চেয়ে ওয়াইন বা ড্রট বিয়ার পান করলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, এ কথা পরীক্ষিত ও প্রমাণিত৷ বিশেষ করে রেড ওয়াইনের সোপোনিন রক্তে শত্রু কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে নাকি দারুণ কার্যকর৷ তবে তাই বলে মাত্রাছাড়া মদ্যপান কোনও কাজের কথা নয়৷ মদ্যপান ও ধূমপান দুটোই আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকারক৷
ব্যায়াম করুন, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখুন
যাঁরা নিয়ম করে শরীরচর্চায় প্রতিদিন খানিক সময় ব্যয় করেন, তাঁদের রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে ও স্ট্রেস কমে এ কথা পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে৷ পেটের চারপাশে জমে থাকা ফ্যাট কমানোর চেষ্টা করলেই ফারাকটা বুঝতে পারবেন আপনিও৷
ফাটা গোড়ালির সমস্যা দূর করুন ঘরোয়া উপায়ে
সারা বছর যাঁরা নিয়ম করে পায়ের ত্বকের পরিচর্যা করেন না, শীতের দিনে তাঁদের খুব ভোগায় ফাটা গোড়ালির সমস্যা৷ পা খোলা স্যান্ডাল বা ফ্লিপ-ফ্লপ পরে প্রকাশ্যে বেরনো যায় না, কয়েক কদম চলার পরেই প্রবল ব্যথা হতে থাকে৷ ক্ষেত্র বিশেষে তো রক্তও পড়তে থাকে পা থেকে৷ এই পরিস্থিতিতে কী করবেন?
প্রথমেই কয়েকটি অভ্যেস গড়ে তুলতে হবে আপনাকে৷ পা একেবারে পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন সব সময়ে৷ বাড়িতে খালি পায়ে না থেকে স্লিপার পরে থাকুন৷ প্রতিদিন স্নানের সময়ে ঝামা পাথর বা ফুট ফাইল দিয়ে পা ঘষে নেবেন৷ স্নানের পর আপনি গোটা শরীরে মাখেন ময়েশ্চরাইজ়ার, শ্যাম্পু করার পর চুলে দেন কন্ডিশনার৷ গোড়ালিতে কী লাগান? নিশ্চয়ই তা বাদ পড়ে যায় অনবধানে? এমনটা করলে চলবে না মোটেই৷ স্নানের পর ও রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পা পরিষ্কার করে নিয়ে কোনও ফুট ক্রিম লাগান৷ মাঝে মাঝে ব্যবহার করুন স্ক্রাবার৷ আর নিয়ম করে পেডিকিওর করাতে পারলে তো কোনও কথাই নেই!
যে যে ঘরোয়া টোটকা আপনার পায়ের ত্বককে আর্দ্র রাখে:
পেট্রোলিয়াম জেলি: রাতে শুতে যাওয়ার আগে গরম জলভরা পাত্রে আধ ঘণ্টা পা ডুবিয়ে রাখুন৷ তারপর ঝামা দিয়ে পা ঘষে তুলে ফেলুন যাবতীয় মৃত কোষ৷ পা শুকনো হতে দিন স্বাভাবিকভাবে, ঘষে ঘষে মুছবেন না৷ এবার পেট্রোলিয়াম জেলির মোটা পরত লাগিয়ে একটু পুরনো ও আলগা হয়ে যাওয়া মোজা পরে নিন পায়ে৷ এটা পুরো শীতকাল চালিয়ে যেতে পারলে খুব ভালো ফল পাবেন৷
নারকেল তেল আর মোম: একটি পাত্রে নারকেল তেল আর মোম নিয়ে ততক্ষণ গরম করুন যতক্ষণ না মোম গলে যায়৷ মিশ্রণটি ঠান্ডা করুন৷ আগে বলা পদ্ধতিতে পায়ের ময়লা ও মৃত কোষ পরিষ্কার করে নিন৷ তারপর ফাটা গোড়ালিতে এই মিশ্রণ লাগিয়ে মোজা পরে শুতে যান৷ পরদিন সকালের আগে যেন পায়ে জল না লাগে৷
যে প্যাকগুলি ব্যবহার করলে আপনার পায়ের ত্বক কোমল থাকবে:
কলা আর অ্যাভোকাডো: একটা কলা আর অ্যাভোকাডোর শাঁস ম্যাশ করে নিন কাঁটাচামচ দিয়ে৷ গরমজলে পা ভিজিয়ে রাখুন প্রথমে, তার পর স্ক্রাব করে পরিষ্কার করে নিন৷ এর পর ঠান্ডা জলের গামলায় পা ডুবিয়ে রাখুন কিছুক্ষণের জন্য৷ পা তুলে তোয়ালে দিয়ে হালকা করে মুছে নিন৷ আর্দ্র পায়ে এই প্যাক লাগিয়ে 10
মিনিট অপেক্ষা করুন৷ তার পর পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিন৷
দুধ আর ওটমিল পাউডারের মাস্ক: 2-3 টেবিলচামচ ওটমিল গুঁড়ো করে নিন ব্লেন্ডারে৷ তার পর ঠান্ডা দুধের সঙ্গে এই গুঁড়ো মিশিয়ে একটা ঘন প্যাক তৈরি করুন৷ ফাটা গোড়ালিতে লাগিয়ে আধ ঘণ্টা রাখুন৷ ধুয়ে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে নিন৷ সপ্তাহে একবার এই প্যাক লাগান৷ দুধের প্রাকৃতিক ময়েশ্চরাইজ়ার পা আর্দ্র রাখে, ওটমিল মৃত কোষ থেকে মুক্তি দেয়৷
লেবু, ডিমের কুসুম আর চালের গুঁড়োর প্যাক: এক চাচামচ চালের গুঁড়ো, এক টেবিলচামচ লেবুর রস আর একটা ডিমের কুসুম একসঙ্গে মিশিয়ে নিন৷ প্যাকটা পায়ে লাগিয়ে 20
মিনিট রাখুন৷ তার পর ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন৷ প্রতিদিন করলে ভালো ফল পাবেন৷
খুশকির হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায়
খুব সুন্দর করে সেজেছেন আপনি, দারুণ পোশাক, পারফেক্ট মেকআপ৷ কিন্তু একটু কাছে গেলেই যদি কায়দায় সেট করা চুলের ফাঁকে ফাঁকে ছোট্ট ছোট্ট সাদা খুশকি ভেসে উঠতে দেখা যায়, তা হলে মনটা খারাপ হয়ে যায় না, বলুন? বিশেষ করে বছরের এই সময়টায়, শীতকালে খুশকির সমস্যা কম-বেশি সবাইকেই বড়ো বিব্রত করে৷ কেন হয় খুশকি? কীভাবেই বা তার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, তা জানতে চান?
খুশকি আসলে কী?
পুরোনোদিনের মানুষরা খুশকিকে ‘মরামাস’ বলতেন, মানে হচ্ছে মাথার ত্বকের শুকনো, মৃত কোষ৷ স্বাভাবিক নিয়মে কিছু মৃত কোষ সবার মাথাতেই থাকে, তা কিন্তু চোখে পড়ার আগেই ঝরে পড়ে যায়৷ সমস্যাটা যখন বাড়ে, তখনই তা বাইরে থেকে চোখে পড়ে৷ মাথার তালু চুলকায়, আবার চুলকোতে গেলেই ভুসভুসিয়ে উপরে উঠে আসে মৃত কোষ৷ চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ালে বা মাথা চুলকালে জামাকাপড় ভরে যায় খুশকিতে৷ চুলও ওঠে গোছা গোছা৷ সব মিলিয়ে বেশ বিরক্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়৷
খুশকি হওয়ার কারণগুলি কী কী?
1. বিজ্ঞানীরা বলেন, খুশকির মূল কারণ হচ্ছে ফাঙ্গাল ইনফেকশন৷
2. বিউটিশিয়ানরা বলেন যে, অনেক সময় শ্যাম্পু করার পর চুল ভালো করে না ধুলে বা মাথার তালুতে কন্ডিশনার লাগিয়ে ফেললে এবং সেটা লাগাতার চালিয়ে গেলেও নাকি খুশকির সমস্যা হতে পারে৷ মৃত কোষে ফাঙ্গাস বা ছত্রাক বংশবৃদ্ধি করতে আরম্ভ করলে সমস্যাটা মাত্রা ছাড়ায়৷
3. অনেকেই অভিযোগ করেন যে তাঁদের ত্বক অতি শুষ্ক বা অতি তৈলাক্ত হওয়ার কারণে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সত্ত্বেও খুশকি পিছু ছাড়ে না কখনওই৷
4. যাঁরা মাথার চুলে নিয়ম করে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন না, তাঁদেরও খুশকির সমস্যা হতে পারে৷ সাধারণত শীতকালে ঠান্ডার কারণে শ্যাম্পু করতে ইচ্ছে হয় না৷ শ্যাম্পু লাগালেও তা ভালো করে জল ঢেলে ধোওয়া হয় না, ঝপ করে কোনওক্রমে স্নান শেষ করাতেই জোর দেন বেশিরভাগ৷ শ্যাম্পুর অবশিষ্টাংশ চুলের গোড়ায় জমলেই বিপদ!
5. যাঁরা গরম জলে স্নান করেন, তাঁদের খুশকির সমস্যা বেশি ভোগায়৷ চুল ধোওয়ার জন্য সব সময় ঘরের তাপমাত্রায় জল ব্যবহার করুন৷ গরম জল মাথায় লাগালে পরিস্থিতি আরও সঙ্গীণ হয়ে উঠবে৷
6. কিছু মানুষ স্ক্যাল্প সোরিয়াসিসে ভোগেন৷ সোরিয়াসিসের কারণেই তাঁদের মাথার ত্বকে অতিরিক্ত পরিমাণে কোষ তৈরি হয়, আঁশের মতো চামড়া উঠতে আরম্ভ করে৷ তার উপর ধুলো-ময়লা, স্ক্যাল্পে থাকা সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ড থেকে নিঃসৃত তেল মিশে আরও বাড়িয়ে তোলে সমস্যা৷
7. যাঁরা নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খান, সারাদিনে প্রচুর জল পান করেন, শরীরে আপাতদৃষ্টিতে কোনও সমস্যা নেই, তাঁদের সাধারণত খুশকির সমস্যা খুব বেশি ভোগায় না৷ তাই সুস্থ জীবনযাপনের উপর জোর দিন৷
কীভাবে মুক্তি পাবেন খুশকির হাত থেকে?
যাঁরা স্ক্যাল্প সোরিয়াসিসে ভুগছেন, তাঁরা ডাক্তারের বাতলে দেওয়া বিধি মেনে চলুন৷ কোনও প্রডাক্ট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করারই দরকার নেই৷ বাকিদের জন্য কিছু ঘরোয়া পদ্ধতির হদিশ দেওয়া হল৷
নিমপাতা: নিমপাতার সর্বরোগহর গুণের কথা কারও অবিদিত নয়৷ খুশকির প্রকোপ কমাতেও তা দারুণ কাজে দিতে পারে৷ এক মুঠো নিমপাতা পেস্ট তৈরি করে নিন৷ স্নানের এক ঘণ্টা আগে সেটা মাথায় লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ পরে থাকুন৷ তার পর ভেষজ কোনও শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ভালো করে ধুয়ে নিন৷ আগের দিন রাতে এই পেস্টটা লাগিয়ে পরদিন শ্যাম্পু করতে পারলেও খুব ভালো ফল পাবেন৷ পেস্ট লাগাতে চান না? এক মুঠো নিমপাতা ভিজিয়ে দিন এক মগ গরম জলে৷ সারা রাত এইভাবে রাখুন৷ পরদিন স্নান সেরে মাথা ধুয়ে নিন এই জলে, তাতেও নিয়ন্ত্রণে আসবে খুশকি৷ নিমের নিয়মিত ব্যবহার আপনার মাথার তালুর চুলকানি কমাবে, যে ফাঙ্গাসের কারণে খুশকির বাড়বাড়ন্ত হয়, সেগুলিকে ক্রমশ অকেজো করে দেয় নিমের নির্যাস৷
গ্রিন টি: শরীরের পাশাপাশি চুলের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে এই অ্যান্টি অক্সিডান্টসমৃদ্ধ চা৷ এক কাপ গ্রিন টি বানিয়ে নিন৷ তার মধ্যে মেশান কয়েক ফোঁটা পিপারমিন্ট এসেনশিয়াল তেল আর এক চাচামচ কোনও ভালো মানের সাদা ভিনিগার৷ ঠান্ডা করে নিন৷ স্নানের আগে চুলটা ভিজিয়ে নিন সাধারণ তাপমাত্রার জলে৷ তার পর এই মিশ্রণ চুলে ঢালুন৷ ঘষে ঘষে মাথার ত্বকে মিশ্রণটা লাগিয়ে নিন পাঁচ মিনিট ধরে৷ তার পর কোনও মৃদু সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুলটা ধুয়ে নিতে হবে৷ কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন৷ কন্ডিশনার কখনওই মাথার তালুতে লাগাবেন না৷ চুলের গোড়া থেকে আন্দাজ এক ইঞ্চিমতো ছেড়ে গোটা চুলের গায়ে কন্ডিশনার লাগান, তাতে চুল নরম থাকবে৷ ভালো করে ধুয়ে নিন মিনিট তিনেক পর৷
সঠিক শ্যাম্পু: খুশকি নিরাময়ের চেষ্টা করার আগে সুনিশ্চিত করুন যেন তা আপনাকে বিব্রতই না করতে পারে৷ সে জন্য নিয়মিত মাথায় শ্যাম্পু করা প্রয়োজন৷ চুল অপরিষ্কার হলেই ধুয়ে ফেলুন, মাথার তালুতে যেন বাড়তি তেল না জমতে পারে৷ শ্যাম্পুর ফেনা যেন চুলের ফাঁকে আটকে না থাকে, সেগুলি জমেও খুশকি হয় পরবর্তীকালে৷ শীতকালে কিন্তু আমাদের স্ক্যাল্পকে শুষ্কতার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য মাথার সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ডগুলি বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে, তাই চুলে বেশি তেলাভাব লক্ষ্য করতে পারেন৷ নিয়মিত শ্যাম্পু ছাড়া একেবারেই চলবে না এ সময়ে৷
নারকেল তেল আর টি ট্রি অয়েল: নারকেল তেলেরও কিন্তু ফাঙ্গাস তাড়ানোর আর চুলকে খুশকিমুক্ত রাখার ক্ষমতা আছে! 5 টেবিলচামচ নারকেল তেলের সঙ্গে 10 ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিন৷ তার পর মাথার তালুতে ভালো করে মাসাজ করে নিন এই মিশ্রণ৷ পরদিন সকালে মাইল্ড কোনও শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে পারেন৷ হাতে সময় না থাকলে অন্তত আধ ঘণ্টা এই মিশ্রণ মাথায় লাগিয়ে রাখুন৷ টি ট্রি অয়েল বজায় রাখবে চুলের প্রাকৃতিক ঝলমলেভাব৷
লেবুর রস: পাতিলেবুর রস নিংড়ে নিন৷ তার পর সেটা মাথায় লাগিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে চুল ধুয়ে নিন৷ লেবুর রসের অ্যাসিড ফাঙ্গাস বিনষ্ট করতে খুব কার্যকর ভূমিকা নেয়৷ বাজারচলতি যে কোনও অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ প্রডাক্টে থাকে ক্ষতিকর কেমিক্যাল৷ লেবুর রস তা থেকে মুক্ত৷ এক কাপ জলে একটি লেবুর রস মিশিয়ে শ্যাম্পুর পর চুল ধুয়ে ফেললেও খুব ভালো ফল পাওয়া যায়৷ যতদিন না পুরোপুরি খুশকিমুক্ত হচ্ছেন ততদিন পর্যন্ত এই মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন৷ কমলালেবুর খোসা শুকনো করেও পাতিলেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া যায়৷ 3-4টি শুকনো কমলালেবুর খোসা আর আন্দাজমতো পাতিলেবুর রস ব্লেন্ডারে দিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন৷ তার পর সেই পেস্টটা মাথায় লাগিয়ে এক ঘণ্টা রেখে চুল শ্যাম্পু করে নিন হালকা কোনও শ্যাম্পু দিয়ে৷ খুশকির পাশাপাশি সমস্ত দুর্গন্ধের হাত থেকেও মুক্তি পাবেন৷ সপ্তাহে 2-3বার রিপিট করা যায়৷
অ্যাপল সাইডার ভিনিগার: সমান পরিমাণ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার আর জল মিশিয়ে নিন, তারপর এই মিশ্রণ ব্যবহার করুন আপনার শ্যাম্পুর পরিবর্তে৷ এই মিশ্রণ ফাঙ্গাসের বাড়বৃদ্ধি ও চুলকানি কমাতে খুব কার্যকর৷ তবে অ্যাপল সাইডার ভিনিগার কখনওই সরাসরি চুলে লাগাবেন না৷ খুশকি না যাওয়া পর্যন্ত টানা ব্যবহার করতে পারেন৷
টক দই: আপনার পুরো চুলে মাখানো যায়, এমন পরিমাণ দই দু’ দিন বাইরে ফেলে রাখুন৷ দইটা একটু টক হয়ে গেলে বেশি ভালো কাজ হবে৷ স্নানের এক ঘণ্টা আগে সেটা মাথায় খুব ভালো করে লাগিয়ে নিন৷ স্ক্যাল্প তো বটেই, চুলের গায়েও লাগাবেন৷ মাস্কের মতো এই প্রলেপটা লাগিয়ে রাখুন৷ তার পর ভালো করে চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন৷ দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিডের প্রভাবে আপনার চুল হয়ে উঠবে নরম, কোমল ও উজ্জ্বল৷ নিয়মিত ব্যবহারে খুশকি মুক্ত থাকতে পারবেন৷
বেকিং সোডা: ফাঙ্গাস কমাতে বেকিং সোডাও খুব কার্যকর৷ স্নানের সময় চুল ভিজিয়ে নিন৷ তার পর মাথার তালুতে ও চুলে বেকিং সোডা লাগিয়ে কয়েক মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন৷ এটি চুলের উপর সেই অর্থে কোনও ঋণাত্মক প্রভাব ফেলে না, উলটে মাথার ত্বকের বাড়তি তেল শুষে নেয়৷ প্রথমদিকে চুল একটু শুষ্ক লাগলেও ঘাবড়াবেন না৷ কিছুদিনের মধ্যেই আপনার মাথার তালু স্বাভাবিক পরিমাণে তেল তৈরি করতে আরম্ভ করবে৷
অ্যাসপিরিন: পরিষ্কার ন্যাপকিনে দু’টি অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট রেখে গুঁড়ো করে নিন৷ তার পর তা মিশিয়ে নিন আপনার শ্যাম্পুর সঙ্গে৷ এই মিশ্রণ দিয়ে শ্যাম্পু করুন নিয়মিত৷ অ্যাসপিরিনের স্যালিসাইলেট মাথার তালু পরিষ্কার করে, চুল থাকে ড্যানড্রাফমুক্ত৷
মনে রাখবেন:
খুশকি একেবারে গোড়াতেই নিয়ন্ত্রণ করা খুব জরুরি৷ কারণ একবার বাড়তে আরম্ভ করতে তার নিরাময় কঠিন হয়ে পড়ে৷ কেন খুশকি হচ্ছে, সেটা জানার চেষ্টা করুন৷
যদি খুশকি খুব বেড়ে যায়, তা হলে আপনার চুলের স্বাস্থ্যহানি হবে৷ মাথার তালু চুলকাবে বেশি, চুল পড়তেও পারে৷ তবে একবার খুশকি সেরে গেলে এবং মাথার তালু ফাঙ্গাসমুক্ত হলে ফের চুল গজাবে৷
স্ক্যাল্প সোরিয়াসিস হলেও চুল পড়ে৷ এক্ষেত্রে কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শমতো প্রডাক্ট ব্যবহার করা একান্ত আবশ্যক৷
বাড়াবাড়িরকম খুশকি সারাতে হলে সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে মেডিকেটেড অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু৷ বাজারচলতি শ্যাম্পু ব্যবহার বন্ধ রাখুন কিছুদিনের জন্য৷
নারকেল তেল, খাঁটি অলিভ অয়েল, টি ট্রি অয়েল খুশকি সারাতে কার্যকর বলে মনে করা হয়৷ প্রতিটির মধ্যেই অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি ফাঙ্গাল গুণাগুণ বর্তমান৷ সেই সঙ্গে তেল চুলের ময়েশ্চরাইজ়ারের জোগান দেয়৷ ফলে চুল থাকে নরম-কোমল৷
আপনার নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ নেই তো?
লাঞ্চ খাওয়ার সময় স্যালাডে কাঁচা পেঁয়াজ ছিল? নিঃশ্বাসের কড়া গন্ধ সামাল দিতে গিয়ে চুইংগাম চিবোনো ছাড়া আর কোনও রাস্তাই নেই! খুব পেঁয়াজ-রসুন দেওয়া রান্না খেলেও মুখে মশলার গন্ধটা জড়িয়ে থাকে অনেকক্ষণ৷ কাজের চাপে খেতে দেরি হয়ে গেলেও মুখে একটা বাজে গন্ধ হয় অনেক সময়৷ কিন্তু এই ব্যতিক্রমগুলি ছাড়াও যদি কারও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হয়, তা হলে অবশ্যই সচেতন হওয়া উচিত৷
সাধারণত মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলেই নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হয়৷ আগে দেখুন আপনার দাঁত বা মাড়িতে কোনও সমস্যা আছে কিনা৷ যাঁরা সাইনুসাইটিসের সমস্যায় ভুগছেন, পোস্ট নেজ়াল ড্রিপ হয় সারাক্ষণ, ক্রনিক অ্যাসিড রিফ্লাক্স আছে, লিভার বা কিডনির সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের শ্বাসেও দুর্গন্ধ হওয়ার আশঙ্কা আছে৷ তাই দীর্ঘদিন মুখের দুর্গন্ধ আপনাকে বিব্রত করলে একবার ডাক্তার দেখিয়ে জেনে নিন সমস্যাটা ঠিক কেন এবং কোথায় হচ্ছে এবং সেই মতো সমাধান খুঁজে বের করুন৷
সঠিক খাবার খাওয়া খুব জরুরি৷ তাতে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে, মুখ গহ্বরের স্বাস্থ্যেও তার প্রভাব পড়ে৷ প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন তাজা ফল, শাকসবজি, লাল চালের ভাত, মাছ, বাদাম ও বিনসের মতো প্রোটিন৷ বেশি তেল-ঘি-মশলা ব্যবহার করবেন না রান্নায়৷ সেই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে জলপান করুন৷ সকালে মুখ ধোওয়ার আগে খালি পেটেই খানিকটা জল খেলে আপনার শ্বাসের দুর্গন্ধ নিশ্চিতভাবেই কমবে৷
যে সব ঘরোয়া পদ্ধতি শ্বাসের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে:
দিনে অন্তত দু’বার দাঁত মাজুন৷ সেই সঙ্গে দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবারের কণা পরিষ্কার করতে ব্যবহার করুন ফ্লস৷ শেষে মুখ ধুয়ে নিন মাউথওয়াশ দিয়ে৷ প্রতিদিন সকালে জিভ পরিষ্কার করতে ভুলবেন না৷ এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে মুখের অভ্যন্তরে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারবে না৷
মৌরি আপনার শ্বাসের গন্ধকে করে তোলে সুমিষ্ট৷ তাই খাওয়াদাওয়ার পর মুখশুদ্ধি হিসেবে মৌরির ব্যবহার ভারতীয় আয়ুর্বেদ অনুমোদন করে৷ চুইংগামের বদলে ব্যাগে এক কৌটো শুকনো তাওয়ায় ভাজা মৌরিও রাখতে পারেন৷ পুদিনা বা তুলসীপাতাও একইভাবে কার্যকর৷
পাতিলেবু বা কমলালেবুর খোসা ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে রাখতে পারেন৷ তা চিবিয়ে নিলেও মুখের দুর্গন্ধের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়৷
লবঙ্গও নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ কমাতে ও শ্বাসে তরতাজা ভাব ফিরিয়ে আনতে খুব কার্যকর৷
যাঁরা ডেঞ্চার পরেন, তাঁরা রাতে শুতে যাওয়ার আগে অবশ্যই ডেঞ্চার খুলে রেখে মুখ ভালো করে ধুয়ে ঘুমোতে যাবেন৷ তা না হলে ব্যাকটেরিয়া জন্মাবে ও মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যহানি হবে৷
শীতে হাত ও পায়ের ত্বক শুকনো হয়ে আসছে? ঘরোয়া পদ্ধতিতে যত্ন নিন
ত্বকের শুষ্কতা শীতকালের একটা বড়ো সমস্যা৷ হাত আর পায়ের ত্বক আরও বেশ করে শুকিয়ে যায় তার কারণ এই দু’টি অঙ্গ সর্বক্ষণ কোনও না কোনও কাজে ব্যস্ত থাকে৷ পায়ে রাজ্যের ধুলোময়লা লাগে সারাদিন, সেটা পরিষ্কার করার জন্য নিশ্চয়ই আপনি সাবান আর স্ক্রাবারও ব্যবহার করেন প্রাণপনে৷ তার পর যদি প্রচুর পরিমাণে ময়েশ্চরাইজ়ার না লাগানো হয় তা হলেই ত্বক আর্দ্রতা হারাতে আরম্ভ করে৷ হাতে বারবার জল লাগে৷ খাওয়ার আগে-পরে, প্রতিবার টয়লেট ব্যবহার করার পর আমরা সাবান দিয়ে হাত ধুই, তাই হাতও আর্দ্রতা হারায় খুব দ্রুত৷
ব্যাগে বা অফিসের ডেস্কে সর্বক্ষণ একটা হ্যান্ড ক্রিম বা পছন্দের কোনও ভারী ময়েশ্চরাইজ়ার রাখুন৷ প্রতিবার হাত ধোওয়ার পর নিয়ম করে সেটি লাগিয়ে নেবেন৷ বাড়িতে বাসন মাজা বা কাপড় কাচার মতো কাজ করতে হয় নিয়মিত? ভালো ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন, তাতে হাত আর কাপড় দুই-ই বাঁচবে৷ সেই সঙ্গে গ্লাভস পরা অভ্যেস করা দরকার৷ পায়ে মোজা পরুন পুরো শীতটা৷ তাতে ময়লার হাত থেকে বাঁচার পাশাপাশি উষ্ণও থাকবেন৷ একান্তই সেটা সম্ভব না হলে ঢাকা দেওয়া পাম্প শ্যু, ব্যালেরিনা, ক্যানভাসের কেডস বা স্নিকার্স পরার অভ্যেস করুন৷ রাতে শোওয়ার আগে পা পরিষ্কার করে কোনও ক্রিম বা পেট্রোলিয়াম জেলি অথবা এক পরত নারকেল তেল পায়ে লাগিয়ে পুরোনো, আলগা হয়ে যাওয়া মোজা পরে ঘুমোতে যান, কয়েক দিনের মধ্যেই সুফলটা বুঝতে পারবেন৷ এছাড়াও রইল বেশ কিছু ঘরোয়া প্যাকের হদিশ যা আপনার হাত ও পায়ের হারানো আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে দারুণ কার্যকর৷
অ্যাভোকাডো ও চিনির স্ক্রাব: অ্যাভোকাডোতে উপস্থিত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট আপনার ত্বকে পোষণ জোগায় ও আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে৷ অর্ধেক অ্যাভোকাডো ম্যাশ করে নিন একটা ছোট বাটিতে৷ তার মধ্যে মিশিয়ে নিন এক টেবিলচামচ অলিভ অয়েল এবং আধকাপ মতো চিনি৷ এই মিশ্রণটা হাতে ও পায়ে ভালো করে লাগান, সার্কুলার মোশনে ঘষে ঘষে লাগালে উঠে যাবে ত্বকের যাবতীয় মৃত কোষ৷ তার পর ভিটামিন ই সমৃদ্ধ কোনও ভারী ময়েশ্চরাইজ়ার লাগিয়ে নিন৷
দই আর মধুর মাস্ক: বাড়িতে পাতা দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড ফিরিয়ে আনবে আপনার ত্বকের হারিয়ে যাওয়া আর্দ্রতা৷ সঙ্গে মিশিয়ে নিন এক বড়ো চামচ মধু৷ মিনিট 10-15 রাখুন, তার পর সামান্য গরম জলে ধুয়ে কোনও ময়েশ্চরাইজ়ার লাগান৷
অলিভ অয়েল আর চিনি: অলিভ অয়েল ত্বকে আর্দ্রতা জোগায়, চিনি কাজ করে স্ক্রাবার হিসেবে৷ দুই বড়ো চামচ অলিভ অয়েল ও চিনি মিশিয়ে নিন৷ তারপর বেশ করে ঘষে ঘষে লাগান হাতে ও পায়ে৷ মিনিট 15 পর তেলটা টেনে যাবে৷ তখন ধুয়ে ক্রিম লাগিয়ে নিন৷ দিনে দুই থেকে তিনবার এমনটা করতে পারেন৷
অ্যালো ভেরা জেল: তাজা অ্যালো ভেরা জেল আর কয়েক ফোঁটা ভিটামিন ই তেল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন৷ হাতে ও পায়ে লাগান৷ মিনিট 15 পর ধুয়ে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে নিন৷
পাকা কলা: পাকা কলা, মধু আর অলিভ অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন৷ তার পর 5-7 মিনিটের জন্য ম্যাসাজ করুন হাতে৷ অল্প গরম জলে হাত ধুয়ে নিন এবং লাগিয়ে নিন ময়েশ্চরাইজ়ার৷
এই শীতে শুষ্ক ত্বকের যত্ন নিন ঘরোয়া উপায়ে
আপনার ত্বক কি প্রকৃতিগতভাবেই শুষ্ক? আপনার বয়স কি তিরিশ পেরিয়েছে? আপনি কি দিনের মধ্যে বেশিরভাগ সময়টাই শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কামরায় কাটান? তা হলে কিন্তু আগামী কয়েকটা মাস আপনাকে একটু বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, না হলে ত্বকের শুষ্কতা খুব ভোগাবে৷ মনে রাখবেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার ত্বক ক্রমশ আর্দ্রতা হারাবে, তাই বিশেষ যত্নআত্তি না পেলেই দেখা দেবে বলিরেখা৷ বয়সের আগেই ত্বকে ভাঁজ পড়বে, তা কুঁচকে যেতেও পারে৷ আশার কথা হচ্ছে, সামান্য একটু সচেতন হলেই কিন্তু এই সমস্যার হাত থেকে নিজেকে বাঁচানো সম্ভব৷
শুষ্ক ত্বকের হাত থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত জলপান করুন:
শরীর ভিতর থেকে আর্দ্র না হলে তার ছাপ পড়বে ত্বকের উপর৷ তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে জলপান করুন৷ দিনে অন্ততপক্ষে আট-দশ গ্লাস জলপান করা একান্ত আবশ্যক৷ ডাবের জল, ফলের রসও পান করতে পারেন৷
অলিভ অয়েল:
অলিভ অয়েল সাধারণত সব ধরনের ত্বকের পক্ষেই খুব কার্যকর৷ এর মধ্যে উপস্থিত ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডান্ট শুধু আপনার মুখ নয়, পুরো শরীরের ত্বকের যত্ন নেয়৷ স্নানের আধ ঘণ্টা আগে মুখে ও পুরো শরীরে অলিভ অয়েল মেখে নিন৷ তার পর হালকা গরমজলে স্নান সেরে লাগিয়ে নিন ময়েশ্চরাইজ়ার৷ অলিভ অয়েল, ব্রাউন সুগার, আর মধু এমন অনুপাতে মিশিয়ে নিন যেন ঘন ক্রিমের মতো একটি উপাদান তৈরি হয়, তারপর হালকা হাতে সর্বাঙ্গে মেখে নিন এই মিশ্রণটি৷ অল্প চাপ দিয়ে গোল গোল করে মালিশ করুন, এতে আপনার শরীরের সমস্ত মৃত কোষ উঠে যাবে৷ তার পর স্নান করে হালকা ময়েশ্চরাইজ়ার লাগিয়ে নিন৷
দুধ/ দই:
রুক্ষ, শুষ্ক, ফাটা ত্বকে অনেক সময়েই জ্বালা বা চুলকানির মতো সমস্যাও দেখা যায়৷ তেমন হলে এক লিটার ঠান্ডা দই বা দুধে নরম কাপড় বা তুলো ভিজিয়ে নিন সর্বাঙ্গে লাগান৷ অন্তত পাঁচ মিনিট এই প্রলেপটি ব্যবহার করুন৷ তাতে ত্বকের জ্বালাভাব দূর হবে৷ দই বা দুধে উপস্থিত ল্যাকটিক অ্যাসিডের প্রভাবে ঝলমলিয়ে উঠবে আপনার ত্বক৷ কাঁচা দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিন৷ তার পর সেটি আপনার গোটা শরীরে লাগিয়ে নিন স্নানের আগে৷ দই দিয়েও এই লেপটি তৈরি করা যায়৷ প্রলেপটি শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন ও স্নান করে নিন৷
অ্যালো ভেরা:
অ্যালো ভেরা এমনই একটি উদ্ভিদ, যা টবে লাগালে খুব সহজেই বেড়ে ওঠে৷ একটি অ্যালো ভেরা পাতা নিন, মাঝখান থেকে কেটে ফেলুন সেটিকে৷ শাঁসটা বের করে নিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিন৷ জ্বালাভাব, চুলকানি মুহূর্তে কমে যাবে৷ সেরে যায় ছোটখাটো ইনফেকশনও৷ আর্দ্রতা জোগানোর পাশাপাশি এই শাঁস বা জেলের পরত আপনার ত্বকের উপর তৈরি করে রাখে সুরক্ষার আবরণ, তাতে দূষণ আপনার ত্বকে কোনও ছাপ ফেলতে পারে না৷
নারকেল তেল:
মুখ ও শরীরের ত্বকের পাশাপাশি গোড়ালি, হাঁটু, কনুইয়েরও বিশেষ খেয়াল রাখা প্রয়োজন, বিশেষ করে শীতকালে৷ না হলে এগুলি রুক্ষ ও কালো হয়ে যায়৷ প্রথমে এই অংশের ত্বক ভিজিয়ে রাখুন জলে৷ ত্বক যখন কুঁচকে যাবে, তখন বুঝবেন যা যথেষ্ট আর্দ্রতা পেয়েছে৷ নারকেল তেল সাধারণত শীতকালে জমে যায়৷ জমা তেলের মোটা পরত লাগিয়ে নিন আর্দ্র ত্বকে৷ তার পর মোজা বা লম্বা হাতা টপ বা পাজামা পরে ঘুমোতে যান৷ টানা বেশ কয়েকদিন করলে নিজেই ফারাকটা বুঝতে পারবেন৷
ওটমিল:
আজ বলে নয়, বহু হাজার বছর ধরে ত্বকের পরিচর্যায় ব্যবহৃত হচ্ছে ওটমিল৷ সবচেয়ে ভালো কাজে দেবে ইনস্ট্যান্ট ওট, সেটাকে ব্লেন্ডারে দিয়ে প্রথমে পাউডারের মতো গুঁড়ো করে নিন৷ তার পর স্নানের বাথটবে জল ভরে এক কাপ এই পাউডার দিয়ে ভালো করে ছড়িয়ে দিন হাত দিয়ে৷ দেখে নেবেন যেন নিচের দিকে দলা পাকিয়ে না থাকে৷ তার পর এই জলে 15-20 মিনিট শুয়ে থাকুন৷ ওটমিল ত্বক পরিষ্কার করে, আর্দ্রতা জোগায়৷ এর মধ্যে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডান্ট বজায় রাখে উজ্জ্বলতা৷
কমলালেবু:
কমলালেবুতে উপস্থিত ভিটামিন সি ঠেকিয়ে রাখে বলিরেখা৷ কমলালেবুর খোসা, সরবাটা, ময়দা বা বেসনের প্রলেপের ব্যবহার রূপটান হিসেবে বহুদিন প্রচলিত৷ এই শীতে যত কমলালেবু খাবেন, তার খোসা ফেলবেন না৷ সব রোদে শুকনো করে রেখে দিন৷ পরে গুঁড়ো করে ব্যবহার করতে পারবেন৷
মেয়োনিজ়:
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও মেয়োনিজ় কিন্তু ত্বকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে দারুণ কার্যকর৷ তবে মেয়োনিজ়ে সাধারণত নুন, গোলমরিচ, মাস্টার্ড পাউডার ইত্যাদি যোগ করা হয় স্বাদ বাড়ানোর জন্য৷ এই জিনিসগুলি যোগ করার আগে খানিকটা তুলে রেখে দিন মাস্ক হিসেবে ব্যবহারের জন্য৷ তা না হলে ত্বকে প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে৷ ডিমের কুসুম আর তেল ব্লেন্ড করে যে মেয়োনিজ় তৈরি হয়, তার সঙ্গে খানিকটা বেবি অয়েল মিশিয়ে নিন৷ তার পর মুখে, ঘাড়ে, কনুইয়ে, হাতে লাগিয়ে নিন স্নানের আগে৷ ডিমের গন্ধটা একটু কড়া, সেটা সহ্য করে নিতে পারলে এই প্যাকের কোনও জবাব নেই!
মধু ও পাকা কলা:
পাকা কলা ও মধু একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন৷ মুখে লাগান প্রলেপের মতো করে, তার পর 20-25 মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন ও ময়েশ্চরাইজ়ার লাগান৷ এটি নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ত্বক পাবে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা, তা হয়ে উঠবে নরম ও কোমল৷ পাকা কলা, মধু আর সরের প্রলেপও শুষ্ক ত্বকের খুব ভালো দাওয়াই হতে পারে৷ মধু অন্য নানা প্যাকের সঙ্গেও নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন৷
আমন্ড তেল:
আমন্ড তেলে প্রচুর ভিটামিন ই থাকে এবং তা আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় ও ত্বককে করে তোলে মসৃণ৷ ত্বক খুব সহজেই এই তেল শুষে নেয়, কিন্তু চটচটানি অনুভূত হয় না৷ অ্যালো ভেরা জেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা আমন্ড তেল আর মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন৷ মুখে লাগিয়ে 15-20 মিনিট অপেক্ষা করে সামান্য গরম জলে ধুয়ে ফেলুন৷
অ্যাভোকাডো:
অ্যাভোকাডোতে উপস্থিত প্রাকৃতিক তেল ত্বকের শুষ্কতা দূর করে এবং তা নরম ও কোমল হয়ে ওঠে৷ সেই সঙ্গে যদি খানিকটা মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করেন, তা হলে আরও ভালো ফল পাবেন৷
চকোলেট:
চকোলেটে উপস্থিত ক্যাফেইন থেকে ত্বকে আসে উজ্জ্বলতা৷ সেই সঙ্গে চকোলেটের ফ্যাটও ময়েশ্চরাইজ়ার হিসেবে ভালোই কাজ করে৷ ডার্ক চকোলেট গলিয়ে নিন মাইক্রোওয়েভ আভেনে৷ হালকা গরম থাকতে থাকতে তার সঙ্গে মধু মিশিয়ে ফেস প্যাক বানিয়ে নিন৷ মুখে, গলায়, ঘাড়ে, হাতে তা লাগিয়ে 15 মিনিট অপেক্ষা করুন৷ চোখের নিচ আর ঠোঁটের আশপাশের অংশে যেন প্যাক না লাগে সেদিকে নজর রাখবেন৷ তার পর সার্কুলার মোশনে হাত ঘুরিয়ে ম্যাসাজ নিন মুখে, সামান্য গরম জলে ধুয়ে ময়েশ্চরাইজ়ার লাগান৷
যা করবেন না:
অতিরিক্ত গরম জলে বেশিক্ষণ ধরে স্নান করবেন না, তাতে ত্বকের আর্দ্রতা ক্রমশ হারাতে থাকে৷
স্নানের আগে অয়েল মাসাজ করলেও স্নানের পর অতি অবশ্যই ময়েশ্চরাইজ়ার ব্যবহার করুন৷ তা না হলে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কোনওদিন কমবে না৷ ত্বক অল্প ভিজে থাকা অবস্থাতেই ময়েশ্চরাইজ়ার লাগিয়ে নিন৷
খুব কড়া সাবান আপনার ত্বকের শুষ্কতা কেড়ে নেবে৷ হালকা কোনও সাবান বা সোপ ফ্রি ক্লেনজ়ার ব্যবহার করুন৷ বেসন, মুসুর ডাল বাটা, চালের গুঁড়ো ইত্যাদি দিয়ে ত্বক খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করা যায়৷ ক্লেনজ়ার বা স্ক্রাবার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই সতর্কতা মেনে চলা উচিত৷
অ্যালকোহলযুক্ত টোনার বা যে কোনও স্কিনকেয়ার প্রডাক্ট এড়িয়ে চলুন৷ এগুলি ব্যবহারে ত্বকের আর্দ্রতার ভাঁড়ারে টান পড়ে৷ মিনারেল অয়েল, কৃত্রিম রং বা সুগন্ধিযুক্ত প্রডাক্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন৷
অহেতুক রোদ লাগাবেন না ত্বকে, বিশেষ করে সকাল ন’টার পর৷ সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন৷ ছাতা, টুপি, সানগ্লাসও রোদের হাত থেকে আপনাকে বাঁচাবে৷ লিপ বাম কেনার সময়েও এমন কিছু বাছুন যার মধ্যে এসপিএফ আছে৷
পরিবর্তন আনুন খাদ্যতালিকায়৷ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন সি, আর ম্যাগনেশিয়াম যেন থাকে খাদ্যতালিকায়৷ তা না হলেই মুষড়ে পড়বে আপনার ত্বক৷ মাছ, আখরোট, ফ্ল্যাক্সসিড বা তিসি, ফল, শাকসবজি রাখুন রোজের খাদ্যতালিকায়৷ খুব তেলমশলাদার বা ভাজাভুজিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন৷
আপনার রান্নাঘরেই লুকিয়ে আছে অব্যর্থ পেনকিলার!
আপনার রান্নাঘরে এমন কিছু অব্যর্থ ব্যথানাশক আছে যা যে কোনও ভালো পেনকিলারের চেয়েও বেশি কার্যকর, তা কি জানেন? তার চেয়েও বড়ো কথা হচ্ছে, ব্যথানাশক ওষুধ টানা ব্যবহার করে গেলে কিন্তু শরীরে তার কুপ্রভাব পড়ে৷ জেনে নিন আচমকা কোথাও ব্যথা হলে কোন কোন জিনিস আপনাকে সাহায্য করতে পারে৷
দই: পেটে ব্যথা, পেট ফুলে থাকা বা বদহজম সারাতে দারুণ কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে বাড়িতে পাতা সাদা দই৷ এর মধ্যে উপস্থিত প্রোবায়োটিক আমাদের হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে৷ দিনে দু’বার দু’ বাটি দই খেলেই দেখবেন অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে!
পিপারমিন্ট: মাসলের ব্যথা, দাঁতে ব্যথা, মাথায় ব্যথা, না্র্ভে ব্যথা কষ্ট দিচ্ছে? পুদিনার পাতা ভালো করে ধুয়ে চিবিয়ে খান৷ তাতে হজমশক্তি বাড়বে, ধীরে ধীরে শান্তি নেমে আসবে আপনার শরীরে ও মনে৷ তাতে করে ব্যথার বোধটা খুব বেশি ভোগাবে না৷ ঈষদুষ্ণ জলে 10-12 ফোঁটা পিপারমিন্ট অয়েল দিয়ে স্নান করে ঘুমোতে যান রাতে, ফারাকটা কিছুদিনের মধ্যেই বুঝতে পারবেন৷
আদা: মাসলের ব্যথা, আর্থারাইটিস, পেটের ব্যথা, বুকের ব্যথা আর পিরিয়ডের ব্যথায় খুব ভালো কাজ করে আদা৷ মাইগ্রেনের ব্যথা হচ্ছে? আদা দেওয়া চা খেয়ে দেখতে পারেন৷ কাশি, ব্রঙ্কাইটিস, গলা ব্যথা সারাতেও মন্ত্রের মতো কাজ দেয় আদা, শ্বাস নিতে অসুবিধে হলেও আদা দেওয়া চা খুব ভালো কাজে দেয়৷
রসুন: দাঁতে ব্যথা, কানে ব্যথা, আর্থারাইটিস সারাতে দারুণ কাজে দেয় রসুন৷ কাঁচা রসুন খাওয়া সবচেয়ে ভালো, রান্নায় এর ওষধি গুণ নষ্ট হয়ে যায়৷ দাঁতে ব্যথা হচ্ছে? তক্ষুণি আরাম পেতে চাইলে রসুন ছেঁচে সামান্য নুন দিয়ে লাগান, আরাম পাবেন৷ জয়েন্টের ব্যথা সারাতে রসুন তেলও খুব কার্যকর ভূমিকা নেয়৷
হলুদ: হলুদে উপস্থিত কারকিউমিন ক্রনিক ব্যথা সারাতে ওস্তাদ৷ কোথাও আচমকা ব্যথা লাগলে চুন-হলুদের প্রলেপ দেওয়া আমাদের ঐতিহ্যের মধ্যেই পড়ে৷ কোনও পোকামাকড়ের কামড়ে ত্বকে চুলকানি, জ্বালাভাব হচ্ছে? হলুদ আর অ্যালো ভেরা জেল মিলিয়ে লাগালে আরাম পাবেন৷
লবঙ্গ: মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যরক্ষায় দারুণ কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে লবঙ্গের তেল৷ দাঁতে ব্যথা হলে কোনও ওষুধ লাগানোর আগে লবঙ্গের তেল ব্যবহার করে দেখতে পারেন৷ লবঙ্গ চিবিয়ে খেতে পারেন৷
ধোঁয়াশা থেকে বাঁচতে কী করবেন?
শীত আসছে মানেই ভোরবেলা আর সন্ধের দিকে ধোঁয়াশার চাদর মুড়ে ফেলবে শহরকে। সেই সময় যাঁদের নিয়মিত পথে বেরোতে হয়, তাঁদের অনেকেই হাঁচি, কাশি, সর্দি ও ফুসফুসের নানা সমস্যায় কাবু হয়ে পড়েন। কিছুদিন আগে খাস রাজধানী দিল্লির দখল নিয়েছিল এমনই এক ভয়ানক ধোঁয়াশা, তার ফলে বহু মানুষ অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন। ডাক্তারদের বক্তব্য, এই ধোঁয়াশায় ভাসমান দূষণ কণাগুলির মধ্যে কোনও কোনওটি আমাদের ফুসফুসের গভীরে সেঁধিয়ে যায় এবং তার ফলে নানা ধরনের অসুখ হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ ফুসফুসের সমস্যা বা শ্বাসকষ্টই নয় কেবল, হতে পারে স্ট্রোক বা হার্টের অন্যান্য সমস্যাও, বিকল হতে পারে কিডনির মতো আবশ্যক অঙ্গও৷ বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি৷ কিন্তু সকালবেলা যদি বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাতে হয় বা বাড়ির বড়ো কেউ নিয়মিত মর্নিং ওয়াকে যাওয়ার অভ্যেস গড়ে তোলেন, তা হলে কী করবেন? ধোঁয়াশায় মোড়া পথে না বেরিয়ে ঘরবন্দি হয়ে থাকাটাই কি তবে ভবিতব্য?
সাম্প্রতিককালে ডাক্তাররা বলছেন, যাঁদের বয়স হয়েছে, ডায়াবেটিস আছে বা ক্রনিক শ্বাসের অসুখে ভোগেন, তাঁরা প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নিউমোনিয়া ভ্যাকসিন নিন, বছরে একবার করে ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিষেধক নেওয়াটাও বাধ্যতামূলক৷ এর ফলে বাড়বে আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতা, অসুখের সঙ্গে লড়াই করতে পারবেন৷
খাদ্যতালিকায় নজর দিন৷ প্রতিদিন প্রচুর জল খাওয়াটা বাধ্যতামূলক৷ শীতে অনেকেই জল খাওয়া কমিয়ে দেন, সেটা একেবারে ঠিক নয়৷ দরকারে হাতের কাছে ঈষদুষ্ণ জল রাখুন এবং মাধেমধ্যে চুমুক দিয়ে সেটা পান করুন৷ ফলের রস বা ডাবের জলও চলতে পারে৷ প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল রাখুন৷ কারণটা আর কিছুই না, এগুলি শরীরের পক্ষে প্রয়োজনীয় মিনারেল ও ভিটামিনের জোগান দেয়৷ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড আর আয়রনও থাকা উচিত রোজের ডায়েটে৷ একেবারে তেল-ঘি-মাখন-মিষ্টিবর্জিত খাবার খাবেন না৷ রোজের খাদ্যতালিকায় যোগ করুন ঘি আর গুড়, তবে তা যেন মাত্রাছাড়া না হয়৷ দরকারে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন৷
শরীর ভিতর থেকে শক্তপোক্ত হলে আপনিও দূষণের সঙ্গে সহজে লড়াই করতে পারবেন৷ দূষণের সঙ্গে লড়াই করা এমনিই কঠিন, তার উপর অতিরিক্ত নিকোটিন আর তামাকসেবন আপনাকে আরও বিপদের দিকে ঠেলে দেবে৷ ধূমপানে রাশ টানুন৷ বাড়িতে যোগব্যায়াম অভ্যেস করুন, নিয়মিত প্রাণায়াম আপনার ফুসফুসকে শক্তিশালী করে তোলে৷
মাস্ক ব্যবহার করুন ভোর এবং সন্ধেবেলায় রাস্তায় বেরোতে হলে৷ বাড়িতে ফুসফুসের সমস্যায় ভোগা রোগী থাকলে এয়ার পিউরিফায়ার লাগাতে পারেন৷ রাস্তায় বেরনোর আগে স্মার্টফোনে একবার বাতাসের অবস্থাটা জেনে নিয়ে বেরোলেও সুবিধে হবে৷
হৃদরোগ ঠেকিয়ে রাখতে গেলে কী করবেন
একটা সময় পর্যন্ত মনে করা হত, মেয়েদের হার্ট অ্যাটাক হয় না সাধারণত। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে বদলে গিয়েছে সেই ধারণা৷ এখন বহু কম বয়সি মহিলাও হৃদরোগে আক্রান্ত হন৷
‘‘স্ত্রী হরমোনের প্রভাবেই সাধারণত মেয়েদের হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে। কিন্তু ইদানীং দুনিয়া বদলেছে। বিশেষ করে মেয়েদের জীবনে তৈরি হয়েছে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা। সম্পর্ক খুব তাড়াতাড়ি ভেঙে যাচ্ছে, চাকরিবাকরির নিশ্চয়তাও সেই অর্থে নেই৷ ঘর-বাইরে দুটো দিকই একজন মহিলা অনায়াসে সামলাতে পারেন, এমন একটা বিশ্বাস সমাজে প্রচলিত আছে এবং সেটা মেনে চলতে গিয়ে অসম্ভব চাপ নিতে হয় মেয়েদের৷ তাঁরা নিজেদের খেয়াল রাখার সময় পান না৷ এই সব নানা কারণে মেয়েদের হরমোনের ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে বন্ধ্যাত্ব। প্রচুর মহিলা আজকাল ধূমপানও করেন। ফলে হার্টের অসুখের আশঙ্কাও অনেকটাই বেড়েছে। যদি কারও পরিবারে করোনারি আর্টারি বা ইসকেমিক হার্ট ডিজ়িজ়ের ইতিহাস থাকে এবং দেখেন যে বুকে কোনও সমস্যা হচ্ছে, রাতে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে অস্বস্তিতে, আবার খানিক বাদে সেটা আপনিই চলে যাচ্ছে, হাত-পা ফুলছে, নিশ্বাসের কষ্টের মতো কোনও একটি সমস্যাও হচ্ছে, তা হলে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন,’’ বলছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শুভানন রায়৷ হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে মেনে চলুন নিচের নিয়মগুলি৷
ময়দা, সাদা চালের ভাতের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না: সরল শ্বেতসারের বদলে আপনার রোজের খাদ্যতালিকায় রাখুন লাল চালের ভাত, ব্রাউন ব্রেড৷ এতে শরীরে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে, ফাইবারের জোগানও বৃদ্ধি পায়৷
প্রতিদিন প্রাতরাশে ওটমিল খান: ওটমিলে উপস্থিত সলিউবল ফাইবার ও বিটা গ্লুকন নিয়ন্ত্রণে রাখে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল৷ ওটের সঙ্গে সঙ্গে কলা, আপেল, আঙুল, আখরোট, আমন্ডের মতো ফল ও বাদাম খেতে পারলে আরও ভালো হয়৷
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল: যে কোনও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলে থাকে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডান্ট, তার ফলে ট্রাইগ্লিসারাইড ও ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে, ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়৷
খাদ্যতালিকায় রাখুন ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার: সামুদ্রিক মাছ ও ফ্ল্যাক্সসিড ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ ও আপনার হার্ট সুস্থ রাখতে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে৷
ব্যায়াম করুন, স্ট্রেস রাখুন নিয়ন্ত্রণে: প্রতিদিন ব্যায়াম করুন৷ স্ট্রেসের মাত্রা কখনওই বাড়তে দেবেন না৷ দরকারে মনোবিদের পরামর্শ নিতে পারেন৷ ওজন যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে সব সময়ে৷
ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন: ধূমপান ও মদ্যপান শুধু হার্ট নয়, আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পক্ষেই খুব একটা ভালো নয়৷ ইচ্ছে হলে বরং দু’ পাত্র ওয়াইন পান করতে পারেন মাঝে-মধ্যে৷ বিশেষ করে রেড ওয়াইনের সাপোনিন কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকর৷
জিরের কয়েকটি অজানা ও অত্যন্ত কার্যকর গুণ
রোজের রান্নায় জিরের ব্যবহার প্রায় সব বাঙালির বাড়িতেই হয়৷ কিন্তু জানেন কি, নানাভাবে কাজে লাগানো যায় আমাদের অতি পরিচিত এই মশলাটিকে?
হজমের পক্ষে অত্যন্ত সহায়ক জিরে: যাঁরা নিয়মিত হজমের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের হজমশক্তি বাড়াতে অত্যন্ত সহায়ক জিরে৷ এর মধ্যে উপস্থিত থাইমল যৌগ ও প্রাকৃতিক তেল আমাদের লালাগ্রন্থিকে উত্তেজিত করে তোলে, তার ফলে বাড়ে হজমের ক্ষমতা৷ এক কাপ জলে এক চাচামচ জিরে দিয়ে ফুটিয়ে নিন৷ তার পর মিশ্রণটা অল্প ঠান্ডা করে পান করুন৷ দিনে তিনবার এই অনুপান সেবন করলে আপনার হজমশক্তি বাড়বে৷
কোষ্ঠকাঠিন্য ঠেকাতে উপযোগী: জিরেতে উপস্থিত ফাইবার গ্যাস্ট্রো ইন্টেস্টিনাল ট্র্যাক্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, বাড়ে এনজ়াইমের ক্ষরণ৷ তাই প্রাকৃতিক জোলাপ হিসেবে তার ব্যবহার হয়ে আসছে বহুদিন ধরেই৷ হজম সংক্রান্ত নানা সমস্যা সারানোর জন্যও জিরে খুব গুরুত্ব পায়৷ এক চাচামচ জিরে শুকনো তাওয়ায় ভেজে নিন ভালো করে৷ তার পর গুঁড়ো করে নিন৷ প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মধু আর জলের সঙ্গে এই গুঁড়োটা মিশিয়ে খান৷
অ্যাস্থমা ও ঠান্ডা সারাতে কার্যকর: সর্দি-কাশি সারানোর জন্যও জিরে খুব কাজে দেয়৷ এর অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি গুণ বাড়ায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও লড়াই করে যে কোনও সংক্রমণের সঙ্গে৷ এক চামচ জিরে ও আদাকুচি ফুটিয়ে নিন এক গ্লাস জলে৷ তার পর সেটা ছেঁকে নিয়ে দিনে তিনবার পান করতে পারেন৷
উজ্জ্বল ত্বকের জন্য আদর্শ: মধু আর জিরে দিয়ে তৈরি খুব সহজ একটা ফেস প্যাক আপনার ত্বককে উজ্জ্বল ও টানটান করে তোলে৷ এই প্যাক ত্বকের শুষ্কতা ঠেকিয়ে রাখতে খুব কার্যকর, তাই আসন্ন শীতের মরশুমে ব্যবহার করতে পারবেন স্বচ্ছন্দে৷ আধ টেবিলচামচ জিরে গুঁড়ো, এক টেবিলচামচ মধু, কোয়ার্টার টেবিলচামচ হলুদগুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে নিন৷ তার পর মুখে লাগিয়ে দশ মিনিট রাখুন ও হালকা গরম জলে ধুয়ে নিন৷ তার পর লাগিয়ে নিন জোজোবা তেল৷
চুল হয়ে ওঠে লম্বা ও স্বাস্থ্যের আভায় ঝলমলে: আধ গ্লাসের একটু বেশি জলে এক টেবিলচামচ জিরে গুঁড়ো ও একটা ডিমের কুসুম মিশিয়ে নিন ভালো করে৷ তারপর এই মিশ্রণটি চুলের দৈর্ঘ্য বরাবর লাগিয়ে নিন৷ শুকিয়ে গেলে ভালো করে ধুয়ে নিন৷ সপ্তাহে একবার করতে পারলে খুব ভালো ফল পাবেন৷
ভ্যাজাইনার স্বাস্থ্য বজায় রাখার ঘরোয়া উপায়
দীর্ঘকাল ধরে ভ্যাজাইনা বা নারীর গোপনাঙ্গ নিয়ে কোনওরকম আলোচনাই হত না প্রকাশ্যে৷ কিন্তু ইদানীং সে সব বাধা অনেকটাই দূর হয়েছে৷ বিশেষ করে ডাক্তাররাও প্রকাশ্যেই বলছেন যে এ দেশে এখনও মেয়েরা যোনির স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিয়ে তেমন চিন্তাভাবনা করেন না, ফলে নানা ধরনের রোগের সূত্রপাত হয়৷ ভ্যাজাইনার স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য বাড়িতেই কিছু নিয়মকানুন মেনে চলুন৷
সুতির অন্তর্বাস পরুন, বিশেষ করে গরমকালে। যাঁরা থং পরতে অভ্যস্ত, তাঁদের জন্যও একই নিয়ম। অন্তর্বাস প্রতিদিন, পারলে দিনে দু’বার বদলান। রাতের বেলা অন্তর্বাস না পরলে যৌন অঙ্গ শ্বাস নিতে পারে।
প্রতিবার মূত্রত্যাগের পর ভ্যাজাইনা ধুয়ে মুছে নিতে পারলে খুব ভালো হয়। মোছার সময় সামনে থেকে পিছনের দিকে টিস্যু নিয়ে যান, ভুলেও উলটোটা করবেন না।
সাঁতার কাটতে ভালোবাসেন? জল থেকে উঠে তাড়াতাড়ি সাঁতারের পোশাক ছেড়ে ফেলুন, তাতে ইনফেকশনের আশঙ্কা কমবে।
প্রচুর জল খান সারাদিনে, সুস্থ থাকার জন্য ভ্যাজাইনার আর্দ্র থাকাও প্রয়োজন। তাতে দুর্গন্ধও কমে।
দই খান নিয়ম করে। দইয়ের ব্যাকটেরিয়া ভ্যাজাইনার পিএইচ ব্যালান্স বজায় রাখতে সহায়ক, ইস্ট ইনফেকশন তাড়ায়।
রোজের খাদ্যতালিকায় শাক-সবজি, সাইট্রাস ফল রাখবেন অবশ্যই। আয়রনযুক্ত শাকসবজি সারা শরীরের পাশাপাশি ভ্যাজাইনাতেও রক্ত সংবাহন বাড়ায়, তাতে আর্দ্রতা বজায় থাকে। লেবুজাতীয় ফলের ভিটামিন সি বাড়ায় প্রতিরোধক্ষমতা।
ভ্যাজাইনার পিএইচ ব্যালান্স বজায় রাখতে ক্র্যানবেরি জ্যুস খুব কার্যকর। যাঁরা ইউরিনারি ট্র্যাক্টের ইনফেকশনে ভোগেন, তাঁদের পক্ষেও ক্র্যানবেরি জ্যুস ভালো।
নিয়মিত কেগেল এক্সারসাইজ় করলে শক্তিশালী ও সুস্থ হবে আপনার ব্যক্তিগত অঙ্গের সমস্ত পেশি। তাতে নাকি অরগ্যাজ়মও হয় চমৎকার!
আজকাল এমন কিছু প্রডাক্ট বাজারে পাওয়া যায় যেগুলি ভ্যাজাইনার পিএইচ ব্যালেন্স বজায় রেখে তা পরিচ্ছন্ন রাখতে সাহায্য করে৷ আপনার গাইনিকোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে তেমন কিছু ব্যবহার করে দেখতে পারেন৷
No comments:
Post a Comment