Friday, October 1, 2021

দাজ্জালের স্পাই ও আবাসস্থান সম্পর্কে মুসলিম শরীফে বর্ণিত হাদিস
আমির বিন সারাহিল শা’বি শা’ব হামদান বর্ননা করেন যে তিনি কাইসের কন্যা এবং আদ-ডাহ্হাক বিন কাইসের বোন, ফাতিমাকে (যিনি প্রথম মুহাজির নারী) জিজ্ঞাসা করেন, আমার কাছে বর্ননা করুন এমন একটি হাদিস যেটা আপনি রসুলুল্লাহর (স) কাছ থেকে সরাসরি শুনেছেন এবং যার মধ্যে অন্য কোন (অন্য কারও মুখ থেকে শুনেননি) সংযোগ নেই। তিনি বলেন: খুব ভাল, যদি তুমি পছন্দ কর আমি সেটা বলতে রাজি আছি এবং তিনি (আমির) বললেন: ঠিক আছে সেটাই করুন এবং বলুন আমাকে। তিনি (ফাতিমা) বললেন: আমি মুগিরার পুত্রকে বিয়ে করি, সে সেই সময়ে পছন্দনীয় কুরাইশ যুবকদের মধ্যে ছিল, কিন্তু সে রসুলুল্লাহর (স) পক্ষে প্রথম জিহাদে শহীদ হয়ে গেল। যখন আমি বিধবা হয়ে গেলাম, রসুলুল্লাহর(স) সাহাবিদের মধ্যে ‘আবদ আল-রহমান বিন আওফ আমাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন। রসুলুল্লাহও (স) তাঁর আযাদকৃত দাস উসামা বিন জায়িদের জন্যও একই বার্তা পাঠালেন এবং আমার কাছে বার্তা পাঠানো হল যে রসুলুল্লাহ (স) বলেছেন (উসামা সম্পর্কে): যে আমাকে ভালবাসে তাকে উসামাকেও ভালবাসা উচিৎ। যখন রসুলুল্লাহ (স) এ ব্যাপারে আমার সাথে এ ব্যাপারে কথা বললেন, আমি বললাম: আমার সবকিছু আপনার হাতে। আপনি আমাকে আপনার যার পছন্দ তার সাথেই আমাকে বিয়ে দিতে পারেন। তিনি (স) বললেন: তুমি উম্ম শারিকের বাড়িতে চলে যাও এবং উম্ম শারিক আনসারদের মধ্যে ধনী মহিলা ছিলেন। সে আল্লাহর রাস্তায় উদারতার সাথে খরচ করতো এবং অতিথিদের খুব আন্তরিকতার সাথে আপ্যায়ন করত। আমি বললাম: আমি সেটাই করব যেটা আপনি পছন্দ করেন। তিনি (স) বললেন: উম্ম শারিকের কাছে যেওনা কারন তার বাড়িতে প্রায়ই অতিথি আসে এবং আমি পছন্দ করব না যে তোমার মাথার কাপড় তোমার শরীর থেকে সরে যাবে এবং আগন্তুক সেটা দেখে ফেলবে যেটা তুমি পছন্দ করবে না। তুমি বরং তোমার চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ বিন ‘আমর বিন উম্ম মাকতুমের বাড়ি যাও এবং সে কুরাইশ বংশের বনু ফিহর গোত্রের লোক, এবং সে তোমার গোত্রেরই লোক। তাই আমি (ফাতিমা) সেই বাড়িতে গেলাম এবং যখন আমার ইদ্দতের সময় শেষ হয়ে গেল, আমি একজন আহবানকারীর আহবান শুনতে পেলাম যে, নামাজ মসজিদে (জামা’য়াতে) অনুষ্ঠিত হবে। তাই আমি মসজিদের দিকে গেলাম এবং রসুলুল্লাহের (স) সাথে নামাজ আদায় করলাম এবং আমি মেয়েদের কাতারের মধ্যে ছিলাম যেটা পুরুষদের কাতারের অপেক্ষাকৃত নিকটে ছিল।
যখন রসুলুল্লাহ (স) তাঁর নামাজ শেষ করলেন, তিনি হাসিমুখে মিম্বরের উপর বসলেন এবং বললেন: প্রত্যেক বান্দার উচিৎ নিজ নিজ জায়গায় বসে যাওয়া। তিনি তারপর বললেন: তোমরা কি জান কেন আমি তোমাদের একত্র হতে বললাম? তারা বলল: আল্লাহ এবং তাঁর রসুলই (স) ভাল জানেন। তিনি (স) বললেন: শপথ আল্লাহর, আজ আমি তোমাদের কোন উপদেশ বা সতর্ক করার জন্য একত্রিত করিনি, কিন্তু আমি তোমাদের এখানে আটকে রেখেছি একজন প্রক্তন খৃস্টান, তামিম আদ-দারি যে এসেছিল এবং ইসলাম কবুল করেছে এবং আমাকে কিছু বলেছে যেটা আমি তোমাদের দাজ্জাল সম্পর্কে যা বলেছি তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
সে আমার কাছে বলেছে যে, বনু লাখম এবং বনু জুদামের ত্রিশ জন লোক নিয়ে সমুদ্র যাত্রা করে এবং এক মাস তারা সমুদ্রের ঢেউয়ে আক্রান্ত হয়। সূর্যাস্তের সময় সেই ঢেউ তাদেরকে সমুদ্র সংলগ্ন একটা দ্বীপে নিয়ে যায়। তারা একটা ডিঙ্গি নৌকা করে দ্বীপে যায়। সেখানে একটা পশুর সাথে তাদের সক্ষাৎ হয় যার শরীরে এত লোম ছিল যে তারা তার সম্মুখ আর পশ্চৎ এর মধ্যে পাথর্ক্য করতে পারছিল না। তারা বলল, হায় হায়, তুমি কে? এটা বলল: আমি আল-জাসাসা। তারা বলল: আল-জাসাসা এটা আবার কি? এবং এটা বলল: হে লোকেরা, আশ্রমে একজন লোক তোমাদের সম্পর্কে জানতে খুবই আগ্রহী। সে (তামিম) বলল: যখন সে আমাদের একজন ব্যক্তি সম্পর্কে বলল তখন আমরা ভয় পেয়ে গেলাম যেন এটা (পশু) একটা শয়তান/দানব। তারপর আমরা দ্রæত চলতে লাগলাম যতক্ষন পর্যন্ত না আমরা আশ্রমের নিকটে পৌছলাম এবং একজন সুঠাম দেহের লোককে দেখতে পেলাম যার হাত তার গলা এবং তার দুই পায়ের মধ্য থেকে গোড়ালি পর্যন্ত লোহার শিকল দিয়ে বাধা আছে। আমরা তাকে বললাম: হায় হায়, কে তুমি? এবং সে বলল: তোমরা শিঘ্রই আমরা সম্পর্কে জানতে পারবে কিন্তু বল তোমরা কারা? আমরা বললাম: আমরা আরবের লোক এবং আমরা একটা নৌকায় যাত্রা শুরু করেছিলাম কিন্তু সমুদ্রের ঢেউ আমাদের এক মাস ধরে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে এবং এই দ্বীপে শেষমেশ নিয়ে এসেছে। আমরা ডিঙ্গি নৌকায় করে এই দ্বীপে প্রবেশ করলাম এবং সেখানে একটি প্রচন্ড ঘন পশমের পশুর সাথে আমাদের সক্ষাৎ হল এবং তার পশমের ঘনত্বের কারনে আমরা তার সম্মুখ বা পশ্চাতের পার্থক্য করতে পারলাম না। আমরা বললাম: হায় হায়, কে তুমি? সেটা বললো: আমি আল-জাসাসা (স্পাই/গোয়েন্দা)। আমরা বললাম: আল-জাসাসা সেটা আবার কি? এবং সেটা বলল: তোমরা আশ্রমের মধ্যে একজন লোকের কাছে যাও যে তোমাদের জানার জন্য আগ্রহের সাথে আপেক্ষা করছে। তাই আমরা তোমার কাছে ভয়ে দ্রæতই চলে আসলাম যেন একটা হয়তো বা শয়তান/দানব। সে (শৃঙ্খলিত লোক) বলল: বাইসানের খেজুর গাছ সম্পর্কে আমাকে বল। আমরা বললাম: তুমি ঠিক এটার কি বিষয়টা জানতে চাও? সে বলল: আমি তোমাদের জিজ্ঞাসা করছি যে এই গাছগুলোতে কি ফল ধরে নাকি ধরেনা?
আমরা বললাম: হ্যাঁ। তারপর সে বলল: আমি মনে করি এগুলোতে আর ফল ধরবে না। সে বলল: আমাকে তাবারিয়্যা (লেক টাইবেরিয়াস/সি অব গ্যালেলি/লেক কিনারাত) হ্রদ সম্পর্কে বল? আমরা বললাম: তুমি এটার কোন বিষয়টা ঠিক জানতে চাও? সে বলল: ওটাতে কি কোন পানি আছে? তারা বলল: সেখানে প্রচুর পানি আছে। তারপর সে বলল: আমি মনেকরি এটা খুব শিঘ্রই শুকিয়ে যাবে। সে আবার বলল: জুগারের নদীটা সম্পর্কে আমাকে বল। তারা বলল: ঠিক কোন বিষয়টা তুমি জানতে চাও? সে বলল: এটাতে কি পানি আছে এবং লোকজন কি এটার পানি দিয়ে সেচ কাজ চালায়? আমরা বললাম: হ্যাঁ, সেখানে প্রচুর পানি আছে আর মদিনার অধিবাসিরা এটার সহায়তায় জমিতে সেচ দেয়। সে বলল: আমাকে উম্মি নবী (নিরক্ষর/ বনি-ইসরাইল ব্যাতিত অন্য কোন গোত্রের নবী/রসুল) সম্পর্কে বল, সে কি করেছে? আমরা বললাম: সে মক্কা থেকে এসেছে এবং ইয়াথ্রিবে/ইয়াস্রিব (মাদিনা) স্থায়ী হয়েছে। সে বলল: আরবরা কি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে? আমরা বললাম: হ্যাঁ। সে বলল: তিনি তাদের সাথে কেমন আচরণ করছেন? আমরা জানালাম যে, সে তার আশেপাশে যারা আছে তাদের উপর বিজয়ী হয়েছে এবং তারা তার কাছে তাদেরকে সমর্পন করেছে। তারপর সে আমাদের বলল: এটা কি সত্যিই হয়েছে? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তারপর সে বলল: যদি এটাই হয়ে থাকে তবে তার প্রতি তাদের অনুগত থাকাটাই তাদের জন্য ভাল হবে। আমি (শৃঙ্খলিত লোক) এখন তোমাদের আমার সম্পর্কে বলছি: আমি দাজ্জাল এবং আমি শিঘ্রই বের হওয়ার অনুমতি পাব এবং তাই আমি বের হব এবং ভূপৃষ্ঠে ভ্রমণ করব এবং কোন শহরকেই ছাড় দেবনা যেখানে না আমি চল্লিশ রজনী থাকব শুধু মক্কা এবং মাদিনা ছাড়া যেহেতু এই দুটি জায়গা আমার জন্য নিষিদ্ধ এবং এই দুটিতে যাওয়ার আমি কোন প্রচেষ্টাই করব না। তরবারি হাতে একজন ফেরেশতা আমাকে প্রতিহত করবে এবং আমার পথে বাধা দেবে এবং সেখানে যাওয়ার সবগুলো পথেই ফেরেশতারা পাহারা দেবে; তারপর রসুলুল্লাহ (স) তাঁর লাঠির প্রান্ত দিয়ে মিম্বরে আঘাত করে বললেন: এটাই তায়বা (মদিনা)। আমি কি তোমাদের এরকমই (দাজ্জাল সম্পর্কে) বর্ণনা দেয়নি? লোকেরা বলল: হ্যাঁ, এবং তামিম আল-দারির এই বর্ণনা আমি পছন্দ করেছি কারন এটা তার (দাজ্জাল) মক্কা ও মদিনা সম্পর্কে যা বলেছি তার সাথে মিলে যায়। দেখ সে (দাজ্জাল) ভুমধ্য সাগরে অথবা আরব সাগরে। না, আসলে সে পূর্বে আছে, সে পূর্বে আছে, সে পূর্বে আছে এবং তিনি তাঁর হাত পূর্বের দিকে দেখালেন। আমি (ফাতিমা বিনত্ কাইস) বললেন: আমি এটা আমরা স্মৃতিতে সংরক্ষণ করে রেখেছি (রসুলুল্লাহের (স) বর্ণনা)।
--সহিস মুসলিম, বই নং- ৪১, হাদিস নং- ৭০২৮
 

No comments:

Post a Comment