Thursday, January 27, 2022

 

হাসান তাকী: বন্ধু শব্দটি বাংলা ভাষায় বহুল চর্চিত একটি শব্দ,  শব্দটি ছোট হলেও আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এই বন্ধু সম্পর্কটির গুরুত্ব অপরিসীম। আরবী পরিভাষায় বন্ধুকে বলা হয়  ‘খলিল’। বন্ধুত্ব এমন একটি সামাজিক বন্ধন, যা মানুষকে আত্মার বন্ধণে আবদ্ধ করে রাখে। বন্ধুত্ব এমন একটি পবিত্র সর্ম্পক যা নিয়ে স¦য়ং আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বিভিন্নভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন; পাশাপাশী সৎ এবং পরহেজগার বন্ধু নির্বাচনে উৎসাহিত করেছেন।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা বলেছেন, আর ঈমানদার পুরুষ এবং ঈমানদার একে অপরের বন্ধু। তারা ভালো কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠিত করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন-যাপন করে। তাদের ওপর আল্লাহতায়ালা অনুগ্রহ করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী সুকৌশলী। -সূরা আত তওবা: ৭১

পবিত্র কোরআনের অন্য জায়গায় আল্লাহ্তায়ালা এরশাদ করেন ‘আপনি নিজেকে তাদের সঙ্গে আবদ্ধ রাখুন, যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে অবচেতন করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার আনুগত্য করবেন না।’ (সুরা কাহাফ : আয়াত ২৮)

হাদিস শরীফে রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কাউকে ভালোবাসলো, তো আল্লাহর জন্যই ভালোবাসলো, কাউকে ঘৃণা করলো তো আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করলো, কাউকে কিছু দিলো তো আল্লাহর জন্যই দিল এবং কাউকে দেয়া বন্ধ করলো তো আল্লাহর জন্যই দেয়া বন্ধ করলো, তবে সে তার ঈমানকে পূর্ণ করলো। (মিশকাত শরিফ)

বিভিন্ন কারণে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। কিন্তু আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে সে বন্ধুত্ব সবচেয়ে বেশি দৃঢ় হয়। অপরদিকে নিজের স্বার্থের জন্য উপকার লাভের আশায় সামাজিক শ্রেণী ও জাতিগত পরিচিতির ভিত্তিতে যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে তা বেশিদিন টিকে না। এ সকল ক্ষেত্রে কারো স্বার্থে কোন রকম আঘাত লাগলেই বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়।

ইসলামের দৃষ্টিতে উপযুক্ত লোকদের সাথে বন্ধুত্ব করা উচিত এবং সারা জীবন যেন বন্ধুত্ব অটুট থাকে সে চেষ্টা করা। যে বন্ধুত্ব আমাদের জীবনের আমূল পরিবর্তন করে দেয়, যে বন্ধুত্ব ছাড়া আমাদের চলা সম্ভব নয়, সে বন্ধুত্ব লালনের জন্য কোরআন ও হাদীসে নির্দেশনা মানতে হবে।

একজন ভালো বন্ধুর কি কি গুণ থাকা দরকার এ সম্পর্কে ইমাম গাজ্জালি (রহ) বলেন, যার মধ্যে তিনটি গুণ আছে তাকে বন্ধু হিসেবে নির্বাচন করা উচিৎ।

গুণগুলো হলো:

১. বন্ধুকে হতে হবে জ্ঞানী ও বিচক্ষণ

২. বন্ধুর চরিত্র হতে হবে সুন্দর ও মাধুর্যময়

৩. বন্ধুকে হতে হবে নেককার ও পুণ্যবান

অনেক সময় চরম শত্রুও বন্ধুত্বের ছদ্মবেশে এসে ভীষণ সর্বনাশ করে। ইবলিশ শয়তানও হজরত আদম (আ.)-এর কাছে বন্ধুর বেশে এসে তাঁদের ধোঁকায় ফেলেছিল।

পরিশেষে একটি কথা দ্বার্থহীন কণ্ঠে বলা যেতে পারে, ভালো গুণের অধিকারী ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করাই মুসলমানের কাম্য।

No comments:

Post a Comment