Sunday, November 27, 2022

 

প্রশ্ন ঃ ৩ । আমার নাম জাবের, আমি কোন প্রকাশনা থেকে আসিনি। আমি আপনাদের এই অনুষ্ঠানের বিষয়ে ‘Times of India' তে বিজ্ঞপ্তি দেখে এখানে এসেছি, যেন আমার এ বিকালটা ভালভাবে কাটে। যাই হোক আমার প্রশ্ন সরাসরি ডা. জাকির নায়েকের কাছে। তার আগে একটি বিষয়ে পরিষ্কার করতে চাই যা মি. সাহানী উল্লেখ করেছেন, তাহলো তাসলিমা নাসরিন ভুল উদ্ধৃতি দিয়েছেন। যাইহোক আপনি যদি টাইম ম্যাগাজিনের ৩১ জানুয়ারী ১৯৯৪ সংখ্যা পড়ে থাকেন তাহলে দেখবেন যে, মি. ফারজান আহমদ একটি রিপোর্ট করেছেন, তাসলিমা নাসরিন বলেছেন, “সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে” Ok আচ্ছা ঠিক আছে। যদি কোরআনে এ বিষয় থেকেই থাকে তাহলে আমি কিভাবে এরকম অবৈজ্ঞানিক বিষয়টি বিশ্বাস করবো? আর দ্বিতীয়ত: হলো তিনি (তসলিমা) ইসলামকে দোষারোপ করেছেন এই বলে যে, বাংলাদেশে ইসলামের জন্যই মেয়ে শিশু হত্যার হার অনেক বেশি ভয়াবহ। আমি ভাবছি কুরআনে এ বিষয়ে কি আছে? থাকলে তা কি স্পষ্ট করে বলবেন?
প্রশ্নোত্তর ডা: জাকির: ভাই মি. জাবেদ, এর দুটি প্রশ্ন রয়েছে। যদিও একটি প্রশ্ন করার কথা ছিল পরিচালক যদি আমাকে অনুমতি দেন তাহলে আমি দুটি প্রশ্নেরই উত্তর দিতে পারবো । প্রথম প্রশ্ন হলো 'টাইম ম্যাগাজিন' এর ৩১ জানুয়ারি ৯৪ সংখ্যায় (যা বিশ্বের একটি প্রসিদ্ধ ম্যাগাজিন) প্রকাশ পেয়েছে, আমিও ৩১ জানুয়ারি ৯৪ এর প্রকাশিত রিপোর্ট সম্পর্কে একমত পোষণ করছি। যেখানে সে (তাসলিমা নাসরিন) বলেছেন, যে কুরআন বর্ণনা করেছে, “সূর্য পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে, সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে” তার প্রশ্ন হলো তিনি (জাবেদ) যদি কুরআনের শিক্ষা বিশ্বাস করেন তাহলে এটি কিভাবে প্রমাণ করবেন? আমি তার এ বিষয়ে মন্তব্যের সাথে একমত। এটা কিভাবে সম্ভব যে এমন তথ্যবিহীন যুক্তিবিহীন, প্রমাণহীন একটি বিষয়ের প্রমাণ করা । কুরআন বলে “সূর্য পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে” তাহলে কুরআন অবশ্যই বলবে- অর্থ : ‘বলে দিন, তোমরা সত্যবাদী হলে প্রমাণ উপস্থিত কর।' (সূরা বাকারা- আয়াত-১১১)
তাহলে আমাদের প্রমাণ করতে হবে, আসুন আমরা প্রমাণ দিব। আসুন দেখি কুরআন এ বিষয়ে কি বলেছে- প্রিয় উপস্থিতি, সে (তসলিমা নাসরিন) কুরআন থেকে যে আয়াতটিকে রেফার করেছে তাহলো কুরআনের সূরা আম্বিয়ার ৩৩ নং আয়াত। যেখানে বলা হয়েছে-
অর্থ: “তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র । সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।” একই বিষয়ে সূরা ইয়াসিন-এর ৪০ নং আয়াতে বলা হয়েছে- অর্থ : “সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত্রি অগ্রে চলে না দিনের। প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে।”
কুরআন একথা বলেনি যে, “সূর্য পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে” কুরআন বলেছে সূর্য ও চন্দ্র প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে।”আর শব্দ ও শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। এ শব্দটি
শব্দমূল থেকে এসেছে। যা কোন চলন্ত বা গতিশীল বস্তুর গতির প্রকৃতি /Motion বুঝায় । (Discribing the motion for moving body) আপনি যদি বলেন একজন মানুষের - - - -র বিষয়টি বুঝান তাহলে এর দ্বারা তার দাঁড়িয়ে থাকা বুঝাবে না, বরং এর দ্বারা বুঝাবে সে হয় হাঁটছে না হয় দৌড়াচ্ছে । আপনি যদি কোন লোকের পানিতে (সাবহান) করা বুঝান তাহলে তখন তাকে পানিতে ভাসা বুঝাবে না। এর দ্বারা পানিতে সাঁতার দেওয়া বুঝাবে। একইভাবে আপনি যদি ‘সাবহা’ শব্দটি কোন স্বর্গীয় বা আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কিত বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন তাহলে এর দ্বারা ঐ বস্তুর তার পরিভ্রমণকে বুঝাবে । 'If you use the word Subha for heavenly body it means it is rotating about its own access.'
কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সূর্য ও চন্দ্র পরিভ্রমণ করছে। তারা নিজ অক্ষে স্ব স্ব গতিতে ঘুরছে। “ The sun and the moon rotate, they travel in their motion that revolve and they rotate about its own Axis."- এই আয়াত আমাকে সন্দেহের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। কারণ, আমি যখন ১৯৮২ সালে সেন্ট পিটার কলেজ থেকে আমার I.S.C পাস করি তখন সেখানে জানি যে সূর্য Rotate করে না, সূর্য Resolve করে। যাই হোক, এখানে দুটি বিষয় ছিল। এক হলো গবেষক বলছে সূর্য তার নিজ অক্ষে Rotate (আবর্তন) করে না। অন্য দিকে কুরআন বলছে- সূর্য তার নিজ অক্ষে Rotate (আবর্তন) করছে। এ কারণে এ বিষয়ে আমার দ্বিধা হয়। তারপর আমি জানতে পারলাম যে, বর্তমান সর্বাধুনিক Advanced research and Astronomy গবেষণা করে আবিষ্কার এবং প্রমাণ করেছে যে, সূর্য তার নিজ অক্ষে সর্বদা Rotate করছে ।আপনি যদি সূর্যকে নিজে ল্যাবরেটরিতে বা নিজে সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন তাহলে দেখবেন সূর্য নিজ অক্ষেই ঘুরছে এবং এর নিজের কিছু Black hole রয়েছে। আপনি যদি এর ইমেজগুলো দেখেন তাহলে দেখবেন যে, সূর্যের বেশ কিছু Black Spots রয়েছে। সূর্যের কতগুলো নির্দিষ্ট Hols রয়েছে যেমন- Black Spots এবং সেই Black Spots গুলো সম্পূর্ণরূপে Rotate করতে পঁচিশ দিন সময় নেয় । তাই সংক্ষেপে বলা যায় সূর্য নিজে Rotate করতে প্রায় পঁচিশ দিন সময় নেয়। সুতরাং আমি বলবো কুরআন অবশ্যই সেকেলে বা Backword নয় বরং কুরআন হলো সর্বাধুনিক Most up to date. আমি তাসলিমা নাসরিনকে জিজ্ঞেস করতে চাই, কে ১৪০০ বছর আগে প্রচার করেছে, ঘোষণা করেছে—অথঃ “প্রত্যেকেই তার নিজ অক্ষে পরিভ্রমণ করছে।” অর্থাৎ তারা Revolve এবং Rotate (আবর্তন) করছে। আপনারাও তাকে জিজ্ঞেস করুন। কুরআন কখনই বলেনি যে, সূর্য পৃথিবীকে Rotate বা Revolve করছে। এটা হলো তার অপব্যাখ্যা। যেহেতু পরিচালক আমাকে অনুমতি দিয়েছেন, তাই আমি প্রশ্নকারীর প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশের উত্তর দিচ্ছি। যেহেতু সে (তাসলিমা) কোন প্রকার প্রমাণ ছাড়াই এ বিষয়টি জলজ্যান্ত প্রমাণ করতে চেয়েছে যে, শুধু ইসলামের কারণেই বাংলাদেশে মেয়ে শিশু হত্যার হার অনেক বেশি। বাংলাদেশে মুসলমান সংখ্যা অর্থাৎ ইসলামের কারণেই মেয়ে শিশু হত্যার হার অনেক বেশি। এ বিষয়টি কোন প্রকার প্রমাণ ছাড়াই সে এমন দাবি করেছে আমি তাকে বলতে বলবো, সে কেবল কুরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করুক যেখানে বলা হয়েছে যে, মেয়ে শিশুদের হত্যা কর। বস্তুত বিবিসি (B.B.C) এর একটি প্রোগ্রাম এ্যাসাইনমেন্ট যা “Small clipping was let her -die” শিরোনামে একজন ব্রিটিশ Amili Bucenin এ্যামিলি ব্যাকেনিন প্রস্তুত করেছেন। তিনি UK থেকে এসে মেয়ে শিশু হত্যার উপর একটি জরিপ করে দেখেছেন যে, মেয়ে শিশু হত্যার হার সবচেয়ে বেশি ইন্ডিয়াতেই । তার মতে প্রত্যেক দিন তিন হাজারেরও বেশি (Flitases) চিহ্নিত হয়েছে, অপেক্ষায় থাকে Females নারী । এটা তিন হাজার Flit শুধু আমাদের দেশেই । আপনি যদি এই সংখ্যাকে ৩৬৫ দিয়ে গুণ করেন তাহলে তা অবশ্যই এক মিলিয়নের চাইতে বেশি হবে । এক মিলিয়ন Flit চিহ্নিত করা হয়েছে যারা কেবল শুধু মেয়ে শিশু নিয়ে অপেক্ষা করছে। যারা আপনারা কেন এ খবরটি আমাদের পত্রিকার হেড লাইনের খবর হিসেবে পড়েন না? যতক্ষণ পর্যন্ত এ রকম মেয়ে শিশুর হত্যা বন্ধ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আপনারা এটাকে পত্রিকার Front Page-এ নিউজ করুন। তামিলনাড়ুর সরকারের রিপোর্ট অনুযায়ী যেসব মেয়ে শিশু জীবন্ত জন্মগ্রহণ করে তাদের মধ্যে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৪টি শিশুকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেওয়া হয়। ভেবে দেখুন প্রতি দশজনে ৪জন একজন ব্রিটিশ Inteligent কে আমাদের দেশের মেয়ে শিশুর হত্যার হার তদন্ত করে রিপোর্ট করতে হয়েছে। এবার আমি মেয়ে শিশু হত্যা সম্পর্কে কুরআন কি বলেছে, কুরআনে কি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে উল্লেখ করবো। সে (তসলিমা) একটি আয়াত উল্লেখ করতে পারবে না। এ বিষয়ে সে একটি আয়াতও উল্লেখ করতে পারবে না। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি। মেয়ে শিশু হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এমন একটি আয়াতও সে কুরআন থেকে উদ্ধৃত করতে পারবে না । আসলে আপনি যদি কুরআন পড়েন তাহলে সূরা তাকবীর এর ৮ ও ৯ নং আয়াতে পাবেন । তাসলিমা নাসরিন কেবল বলে থাকে, কুরআন বলেছে, কোরআন এমন বলেছে, কুরআন তেমন বলেছে, আমি বুঝিনা কিভাবে একজন ব্যক্তি কুরআন পড়ে নাই অথবা সে যদি বলে আমি কুরআন পড়েছি তাহলে সে (তাসলিমা) বললো যে কুরআন অমুক আয়াতে বলেছে আর আপনারা তা কুরআনের আয়াত হিসেবে গ্রহণ করে নিচ্ছেন। Give benefit of doubt. আপনারা তাকে সন্দেহের সুযোগ দিচ্ছেন, সে সন্দেহের সুযোগ নিচ্ছে। যেমন- কুরআন বলেছে যে, সূর্য পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে, তাই কুরআন মেয়ে শিশু হত্যা করতে বলেছে। তাতেই আপনারা তার সাথে একমত হয়ে যাচ্ছেন। আপনারা যদি কুরআন এর সূরা তাকবীর এর ৮ ও ৯ নং আয়াত পড়ে, যেখানে বলা হয়েছে - অর্থ: “যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে, কি অপরাধে তাকে হত্যা করা হলো?” অর্থাৎ শেষ বিচারের দিন জানতে চাওয়া হবে কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হলো? কিয়ামতের দিন এই শিশু চিৎকার করতে থাকবে তখন জানতে চাওয়া হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল? সুতরাং বুঝতেই পারছেন মেয়ে শিশু হত্যা করা ইসলাম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে। যেকোনভাবেই হোক, তা মেয়ে হোক, যে কোন শিশু হত্যা ইসলাম হারাম করেছে। শিশু হত্যা ইসলামে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশ এসেছে। কুরআনের সূরা আল ইসরা'র ৩১ নং আয়াতে বলা হয়েছে— অর্থ: “দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই জীবনোপকরণ দিয়ে থাকি। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মারাত্মক অপরাধ।”অর্থ : “আপনি বলুন : এসো, আমি তোমাদেরকে ঐসব পাঠ করে শুনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য হারাম করেছেন, তা এই যে, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না, পিতা-মাতার সাথে সদয় ব্যবহার কর, স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্র্যের কারণে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দিই, আর নির্লজ্জতার কাছেও যেও না। প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না; কিন্তু ন্যায়ভাবে ব্যতীত। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝ।”কুরআন ছেলে সন্তান হওয়ার পর আনন্দিত হওয়ার বিষয়ে এবং মেয়ে সন্তান জন্ম নিলে তার চেহারা মলিন হয়ে যাওয়ার বিষয়ে উল্লেখ করেছেন।” যেমন- কুরআনের সূরা 'আন নাহাল' এর ৫৮ ও ৫৯ নং আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন- অর্থ : “যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন তার মুখ কাল হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিস্ট হতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে যে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে সেভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দেবে, না তাকে মাটির নিচে পুঁতে ফেলবে। শুনে রাখ, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট।”


No comments:

Post a Comment