Tuesday, May 28, 2013

মতিঝিলে ব্যাপক প্রাণহানির তথ্য সঠিক, তালিকা হচ্ছে :হেফাজত :: দৈনিক ইত্তেফাক

মতিঝিলে ব্যাপক প্রাণহানির তথ্য সঠিক, তালিকা হচ্ছে :হেফাজত

'বিএনপির নেতার কথায় আল্লামা শফী ফিরে যাননি'

চট্টগ্রাম অফিস
রাজধানীর শাপলা চত্বরে ৫ মে গভীর রাতে যৌথ অভিযানের পর প্রেসনোটের বক্তব্যকে বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে হেফাজতে ইসলাম উল্লেখ করেছে। হেফাজত নেতারা গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে প্রেসনোটের জবাব দেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, মূলত ওই রাতে নিরীহ ঘুমন্ত মানুষের ওপর যে বর্বরোচিত গণহত্যা চালানো হয়েছে তা ধামাচাপা দেয়ার জন্যই হেফাজতের ওপর দায় চাপিয়ে এই প্রেসনোট দেয়া হয়েছে। এতে নিহতদের যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে তা শুধু হাস্যকরই নয়, উল্লেখিত সংখ্যার কারণেই পুরো প্রেসনোটটি অসত্য প্রমাণিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট। অভিযানে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করা ও বিভিন্ন ভবনে ও অলিগলিতে আশ্রয় নেয়া লোককে অভয় দিয়ে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল মর্মে যে কথা বলা হয়েছে, তা নির্জলা মিথ্যা। ঘটনার ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ সরকারের এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণ করে। প্রেসনোটে পল্টন, গুলিস্তান ও বিজয় নগর এলাকায় ভাংচুর অগ্নিসংযোগের জন্য হেফাজত কর্মীদের দায়ী করে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে সেটিও সঠিক নয়। বরং ওইসব এলাকায় শাপলা চত্বরের দিকে আসতে থাকা হেফাজতের মিছিলের ওপর পুলিশ ও সরকারি দলের কর্মীরা হামলা চালায় এবং নিরীহ আলেমদের গুলি করে ও পিটিয়ে হত্যা করে। আর সরকারি দলের লোকেরা সরাসরি এবং কিছুসংখ্যক হেফাজত কর্মী সেজে বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ করে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী রওয়ানা হয়েও বিএনপির নেতৃপর্যায় থেকে ফোন পেয়ে শাপলা চত্বরে না গিয়ে ফিরে যাওয়ার যে কথা বলা হয়েছে, তাও অসত্য। সরকারি দলের লোক ও পুলিশের বেপরোয়া আচরণে গুলিস্তান পল্টন এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলির কারণে চরম নিরাপত্তাহীন বোধ করায় আল্লামা শফী শাপলা চত্বরে যেতে পারেননি।

হেফাজতে ইসলাম এই প্রেসনোট প্রত্যাখ্যান করে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য কমিশন গঠন করার আবারো দাবি জানাচ্ছে। প্রেসনোটটিকে একেবারেই বিভ্রান্তিমূলক মনে করছে। কারণ এতে কখন কার সিদ্ধান্তে কার কার নেতৃত্বে কিভাবে অভিযান চালানো হয়েছে, অভিযানে র্যাব পুলিশের কত সংখ্যক সদস্য, অফিসার অংশ নিয়েছেন, কতটি সাঁজোয়া যান ব্যবহার করা হয়েছে, তার উল্লেখ নেই। তথাকথিত অভিযানে কী পরিমাণ গুলি, টিয়ারসেল, রাবার বুলেট ব্যবহার করা হয়েছে তারও কোন পরিসংখ্যান নেই। নিহতদের একটি হাস্যকর সংখ্যা দেয়া হলেও আহতদের কোন সংখ্যা দেয়া হয়নি।

ব্যাপক প্রাণহানির কথা গুজব নয়, সত্যি

শাপলা চত্বরে ব্যাপক প্রাণহানির বিষয়টি গুজব নয়, একেবারেই সত্যি। ঘটনার পর সেখান থেকে লাশ সরিয়ে নেয়ার বিষয়টিও শতভাগ সত্য। তবে ওইদিন ঠিক কত লোক পুলিশের গুলি ও নির্মম পিটুনিতে শহীদ হয়েছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান এখনই বলা যাচ্ছে না। সঠিক পরিসংখ্যান তৈরির কাজ চলছে। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম ওই ঘটনার সঠিক খবর না দিলেও বিদেশি সংবাদ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক হতাহতের বিষয়টি এসেছে এবং আসছে। সংখ্যাও শত শত বলে কোন কোন বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে আভাস দেয়া হয়েছে। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত পল্টন, গুলিস্তান বিজয় নগর এলাকায়ই ১৫ জনকে শহীদ করা হয়েছে। তাদের মৃতদেহের কয়েকটি পাশের দু'টি হাসপাতালে পাওয়া যায়। কয়েকটি লাশ সমাবেশস্থলে আনা হয়। আর দুয়েকটি লাশ গুম করা হয়। আর ঘটনাস্থলে কী পরিমাণ লাশ পড়ে ছিল তা ৭ মে দুয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি এবং কিছু ভিডিও চিত্র থেকেই অনুমান করা যায়। এই চিত্রগুলো অভিযানের শেষে শাপলা চত্বর সংলগ্ন সোনালী ব্যাংকের সিঁড়ি ও বারান্দা এবং কালভার্ট রোড ও তদসংলগ্ন গলি থেকে তোলা। ওইসব চিত্রেই ২০টির বেশি লাশ দেখা যাচ্ছে। ফলে পুরো এলাকায় আগে পরে কত সংখ্যক মানুষ শহীদ হয়েছিল তা অনুমান করা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতেই লাশের সংখ্যা হাজার হাজার হওয়ার আশংকাটি আসছে।

বায়তুল মোকাররম গেট চাওয়া হয়েছিল

প্রেসনোটে বলা হয়েছে, সমাবেশ করার জন্য শাপলা চত্বরের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। আসলে এই বক্তব্য সত্য নয়। হেফাজতের পক্ষ থেকে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়। সরকার বায়তুল মোকাররমের অনুমতি না দিয়ে ঢাকা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার পর দুপুরের দিকে শাপলা চত্বরে সমাবেশের অনুমতি দেয় আকস্মিকভাবে।

হেফাজত নাশকতা চালায়নি

প্রেসনোটে শাপলা চত্বরে আসার সময় হেফাজত কর্মীরা উচ্ছৃংখল আচরণ করে এবং নাশকতামূলক কাজ শুরু করে বলে যে কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। আসলে শুরু থেকেই পুলিশ ওই এলাকায় উস্কানিমূলক আচরণ করে। হেফাজত কর্মীদের পুলিশ মিছিলে ধাওয়া করে যেভাবে ওই এলাকায় পাখির মতো খুঁজে খুঁজে গুলি করছিল তাতে তাদের পক্ষে অগ্নিসংযোগ এবং নাশকতামূলক কাজ করার সুযোগ ছিল না। এমন ভীতিকর অবস্থা পুলিশ তৈরি করেছিল হেফাজত কর্মীদের লাশ রাস্তা থেকে তুলে আনার মতো সাহস পর্যন্ত কারো ছিল না যা টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারে লক্ষ্য করা গেছে। হেফাজতে ইসলাম আগে লংমার্চ শেষে ঢাকায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং ওইদিনও শেষ পর্যন্ত শাপলা চত্বরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করে প্রমাণ করেছে অরাজনৈতিক এই সংগঠনটি কোনরকমের বিশৃংখলা ও নাশকতামূলক তত্পরতায় বিশ্বাস করে না।

পরিস্থিতিই হেফাজতকে অবস্থান করতে বাধ্য করে

প্রেসনোটে হেফাজতের অবস্থানকে বেআইনি হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং আল্লামা আহমদ শফী সমাবেশ স্থলে আসার পথে বিএনপির কোন নেতার ফোন পাওয়ার পর ফিরে যান বলে বলা হয়। এই বক্তব্যও সত্য নয়। প্রথম হেফাজত পরিস্থিতির কারণেই অবস্থান বহাল রাখতে বাধ্য হয়। প্রথম: পুলিশ দুপুর থেকেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যে হেফাজতের অনেক নেতা কর্মী শহীদ হন এবং আহত হন। তাদের কয়েকজনরে লাশ সমাবেশস্থলে এসে যায়। এতে লাখ লাখ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। হেফাজতের পক্ষ থেকে পল্টন এলাকায় গুলি বন্ধ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য পুলিশকে বার বার অনুরোধ করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, আত্মরক্ষায় পুলিশ গুলি চালাচ্ছে। এই অবস্থায়ও আল্লামা শফী সন্ধ্যার পর সমাবেশ শেষ করার ঘোষণা দিতে রওয়ানা দিয়েছিলেন। কিন্তু পথে এসে তিনি ভীতিকর পরিস্থিতি দেখে ফিরে যান লালবাগ মাদরাসায়। সেখানে পুলিশ প্রশাসনকে বিভিন্ন মাধ্যমে জানান যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এতে রাতে এই অবস্থায় এই লাখ লাখ লোককে ছেড়ে দিলে তারা কোথায় যাবেন। তাছাড়া পথে পথে যেভাবে হামলা হচ্ছে তাতে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শংকা আছে। তিনি সকাল ৬টার মধ্যে নিজে শাপলা চত্বর গিয়ে সমাবেশ শেষ করে সবাইকে নিয়ে শাপলা চত্বর ছাড়ার কথা বার বার বলেন। কিন্তু প্রশাসন তার কথায় কর্ণপাত করেননি। এর সত্যতা মিলে শাপলা চত্বরের স্টেজ থেকে বার বার বলা হয় আল্লামা শফী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অবস্থান অব্যাহত থাকবে। কখনো বলা হয়নি, লাগাতার অবস্থান চলতে থাকবে। এখানে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য সেটি হচ্ছে- হেফাজতের সমাবেশের অনুমতির বিষয়, অবস্থান করা না করার বিষয়টি নিয়ে কথাবার্তা সবই হয় প্রশাসনের সাথে কিন্তু আমরা দেখছি প্রেসনোটে বিএনপির নেতার কথা বলার পর আল্লামা শফী ফিরে গিয়েছেন বলা হয়েছে। এটা সত্য নয়। অন্যদিকে হেফাজকে অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বা পুলিশ প্রশাসন আহবান জানাতে পারেন। কিন্তু সেদিন দুই দফায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ মহাসচিব সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম হেফাজতকে সরে যাওয়ার জন্য সময় বেধে দিচ্ছিলেন এবং কঠোর পদক্ষেপের কথা বলছিলেন। এতেই প্রমাণিত হয় হেফাজতের ওপর হামলার সাথে পুলিশের পাশাপাশি সরকারি দলও জড়িত ছিল এবং পল্টনে নাশকতার পিছনেও সরকারি দলের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বুঝা যায়।

হেফাজতকে দমন করতেই অভিযান

প্রেস নোটে জনগণের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার জন্য অভিযান অপরিহার্য হয়ে উঠে বলে বলা হয়। এটিও বাস্তবতার পরিপন্থি। হেফাজত কর্মীদের মূল অবস্থান ছিল দৈনিক বাংলার মোড় থেকে শাপলা চত্বর, ওইদিকে টিকাটুলি মোড় এবং বিপরীত দিকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত। এই এলাকার মধ্যে কোন সহিংসতার ঘটনাই ঘটেনি। পুলিশ নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করলে হেফাজতের কর্মীরা রাত যাপন করেই সকালে স্থান ত্যাগ করতে পারতো। কিন্তু সেটা না করে উস্কানিমূলক আচরণ এবং বেপরোয়া গুলিবর্ষণ ও হামলার মাধ্যমে সৃষ্ট ঘটনাকে পুঁজি করে নিরাপরাধ ঘুমন্ত মানুষের ওপর যৌথ অভিযান চালানোর কোন যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। প্রেসনোটে দুয়েকটি মিডিয়া নাকি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিল বলা হচ্ছে। বড় সমাবেশে নেতা কর্মীরা নানা ধরনের কথা বলতেই পারে। তাছাড়া দুপুর থেকে পুলিশের গুলিতে হেফাজত কর্মী নিহত হওয়ার খবরে অপরপ্রান্তে ক্ষোভ দেখা দেয়াই স্বাভাবিক। ক্ষুব্ধ কর্মীদের কোন বক্তব্য কোন দিনই পুরো সংগঠনের বক্তব্য হতে পারে না। অতএব কোন টেলিভিশনে কোন ক্ষুব্ধ কর্মীর মন্তব্যকে অভিযান চালানোর পক্ষে অযুহাত হিসেবে দাঁড় করানো কোন দায়িত্বশীল সরকারের কাছ থেকে আশা করা যায় না।

ঘটনা পরম্পরা এবং সরকারের নানা আচরণ থেকে এখন এটা পরিষ্কার যে সরকার হেফাজতের ঈমানী আন্দোলনকে দমানোর জন্য এই অভিযান চালিয়েছে। ঠাণ্ডা মাথায় সেদিন রাতে অভিযান চালায় এবং ঘুমন্ত জিকির ও নামাজরত আলেম ও তৌহিদী জনতাকে নির্মমভাবে আক্রমণ করে শত শত লোককে আহত নিহত করে। সেখানে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। জানে ফিরে আসা অনেকে সেই ভীতিকর পরিস্থিতিকে কেয়ামতের ময়দানের পরিস্থিতির সাথে তুলনা করেছেন।

প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার কথা ঠিক নয়

হেফাজতকর্মীদের ওপর অভিযানে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে যে কথা প্রেস নোটে বলা হয়েছে তা মোটেও সঠিক নয়। অভিযানকালে যৌথবাহিনী সরাসরি গুলি চালিয়েছে, গুলি খেয়ে ছটপট করে ঘটনাস্থলে অসংখ্য মানুষ মরে পড়ে থাকার ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অসংখ্য ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। সেখানে পুলিশ র্যাবকে আহত ব্যক্তিদের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গুলি করতে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া লোকদের নিরাপদে সরে যাওয়ার ব্যবস্থা করার দাবিও সত্য নয় শেষের দিকে মিডিয়াকে দেখানোর জন্য কিছু লোকের চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখানো হয়। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত অধিকাংশ ভিডিও চিত্রে দেখা যায় কিভাবে পলায়নপর আলেমদের পাখি শিকারের মতো গুলি করা হয়, লাঠিপেটা করা হয় এবং তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। অনেক আলেমকে অপমান করে কান ধরে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। এমন অসভ্য বর্বর আচরণের পরও প্রেস নোটে এমন বক্তব্য সত্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। যদি যৌথবাহিনীর অভিযানে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা না হয় তাহলে দৈনিক প্রথম আলোর রিপোর্টে ৫৬ জন, দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় ১৩ জন লোকের মৃত্যু কীভাবে হল?

ফোন ইন্টারনেটেই সঠিক চিত্র আসছে

প্রেস নোটে বলা হয়েছে মোবাইল ফোন, ই-মেইল ও ইন্টারনেটের যুগে হত্যাকাণ্ড লাশ গুম করার কথা অবিশ্বাস্য। বাস্তবতা হচ্ছে সরকার দিগন্ত ও ইসলামিক টেলিভিশন বন্ধ করে অন্য টেলিভিশনগুলোকে চাপের মুখে ফেলে ঘটনার সঠিক চিত্র প্রকাশের ওপর অঘোষিত চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে অনেক টিভি চ্যানেলের কাছে ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও তারা তা প্রচার থেকে বিরত থাকছে বলে আমরা জানতে পারছি। তাছাড়া অভিযানের সকল দিকে সকল পর্যায়ে মিডিয়াকে যেতে দেয়া হয়নি এবং কোন কোন মিডিয়ার সাংবাদিক যৌথবাহিনীর হুমকির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে হ্যাঁ ইন্টারনেটে ঠিকই অভিযানের নির্মমতার ছবি আসছে এবং সেগুলোই অভিযানের নামে সরকারের গণহত্যাকে প্রমাণ করছে।

পরিবারের আহাজারি প্রসঙ্গ

আলেমদের ওপর নির্মম অভিযান চালিয়ে শত শত লোককে হত্যার পর প্রেস নোটে স্বজনদের কাছ থেকে আহাজারি আশা করার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতো বড় অভিযান চালিয়ে আলেমদের ওপর জুলুম করার পর উল্টো আলেমদের নামে ২০টির বেশি মামলা করে লাখ লাখ লোককে আসামি করা হলো। হেফাজতের মহাসচিবকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হলো। এই অবস্থায় মাজলুমদের ওপর সরকারের জুলুম অব্যাহত থাকলে এমন পরিস্থিতিতে কে কোথায় আছে, কার লাশ কোথায় রাখা হয়েছে এসব তথ্য পেতেও বেগ পেতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে্ই অনেক স্থানে শহীদকে দাফন করা হয়েছে। যাদের লাশ পাওয়া যাচ্ছে না খবর নেয়া হচ্ছে। হেফাজতের পক্ষ থেকে পরিসংখ্যান তৈরি হচ্ছে। স্বজনরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদরাসায় সন্ধান করছেন।

হেফাজতে ইসলাম ৫ মের ঘটনা নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত না করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা, আহত নিহতদের সঠিক পরিসংখ্যান দেয়া, নিহতদের লাশের সন্ধান দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আবারো দাবি জানাচ্ছে। একই সাথে হেফাজতের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা তুলে নিয়ে আটক মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ সকল নেতাকর্মীদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে হেফাজতের ১৩ দফা ঈমানী দাবি মেনে নেয়ার জন্যও দাবি জানাচ্ছে। অন্যথায় হেফাজত ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে দাবি আদায়ে বাধ্য করবে ইনশাল্লাহ।

মামলা প্রত্যাহারের দাবি

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আয়োজিত ওলামা প্রতিনিধি সম্মেলনে সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, বর্তমান নাস্তিকদের দোসর সরকার নিরস্ত্র নিরীহ তৌহিদী জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে অনেক তৌহিদী জনতাকে নির্মমভাবে শহীদ করেছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে এবং অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। সরকার এ সকল কার্যক্রমের মাধ্যমে মূলত ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আমরা সর্বস্তরের আলেম ওলামা ও তৌহিদী জনতা এ সকল কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও জোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আমরা সরকারের নিকট আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীসহ গ্রেফতারকৃত হেফাজতে ইসলামের সকল নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি এবং দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

গতকাল সকালে জামিয়া আজিজুল উলুম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওলামা ও প্রতিনিধি সমাবেশে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী প্রধান অতিথির ভাষণে বক্তব্য রাখেন। মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর মাওলানা শামসুল আলম, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ, মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির, মাওলানা মীর মুহাম্মদ ইদরিস, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, মাওলানা জুনাইদ, মাওলানা আহমদুল্লাহ, মাওলানা আবদুর রহমান, মাওলানা মুহাম্মদ নাসিম প্রমুখ।

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীসহ গ্রেফতারকৃত সকল নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গতকাল বিকালে নাজিরহাট বড় মাদরাসার পরিচালক আল্লামা শাহ মুহাম্মদ ইদরিসের সভাপতিত্বে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

No comments:

Post a Comment