ইল্লাল্লাহ” অর্থ কি “আল্লাহ ছাড়া”?
--এর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ----------------------------------------------
কিন্তু কালিমার মৌলিক উদ্দেশ্য, কাওয়ায়িদে লুগাতে আরাবিয়্যাহ এবং কুরআন ও হাদীসের বর্ণনা অনুসারে এ কালিমার সেরূপ অর্থ করা যথার্থ হয় না। মূলত সেরকম অনুবাদের কারণেই সমাজে “ইল্লাল্লাহ” জিকির নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছ
এ বিষয়টির সম্যক উপলব্ধির জন্য প্রথমতঃ “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর মর্ম খোলাসা করতে হবে। দ্বিতীয়তঃ আরবী ব্যাকরণ হিসেবে এ কালিমার সহীহ তারকীব নির্ণয় করতে হবে। তৃতীয়তঃ কুরআন ও হাদীসে এ ধরনের শব্দ বা বাক্য কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে-সে দিকে নজর দিতে হবে। উক্ত তিনটি বিষয় পর্যায়ক্রমে উল্লেখ করছি।.
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর মর্ম------------------------------
কালিমা لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ)-এর মূল কথা হচ্ছে মহান আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহীদের ঈমান।
এটা সাব্যস্ত করার জন্য এতে দু’টি অংশ রয়েছে :
১। নাফী (না বাচক অর্থাৎ সকল বাতিল মা‘বূদকে অস্বীকার করা)-এর অংশ। তা হলো-- لَا إِلَهَ (লা-ইলাহা)। অর্থ : কোন মা‘বূদ অস্তিত্বে নেই।
২। ইছবাত (হ্যাঁ বাচক অর্থাৎ মহান আল্লাহকে ইলাহ হিসেবে স্বীকৃত প্রদান)-এর অংশ। তা হচ্ছে-- إِلَّا اللهُ (ইল্লাল্লাহ)। অর্থ : “তবে মা‘বূদ শুধু আল্লাহ আছেন”। অতঃপর সেই উভয় অংশ মিলে কালিমাটির মূল মর্ম হয়-- اِنَّما الْاِلهُ هُوَ اللهُ আল্লাহই একমাত্র মা‘বুদ।
এ কালিমার উক্ত মূল মর্মের দিকে পথনির্দেশ করে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন--
إِنَّمَا إِلَٰهُكُمُ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ
“তোমাদের মা‘বূদ তো কেবল আল্লাহ--যিনি ঐ মহান সত্তা যে, কোন মা‘বূদ অস্তিত্বে নেই, তবে মা‘বূদ শুধু তিনিই আছেন।” (সূরাহ ত্বহা, আয়াত নং ৯৮)
বস্তুত এটাই উক্ত কালিমার যথার্থ অর্থ। যার মধ্যে গাইরুল্লাহকে অস্বীকার করার বিষয়টি পূর্ণরূপে ফুটে উঠেছে এবং সেই সাথে মহান আল্লাহর একত্বের ঈমান মুখ্যভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
পক্ষান্তরে এ কালিমার অর্থ “আল্লাহ ছাড়া কোন মা‘বুদ নেই” বলা হলে, তার দ্বারা এ কালিমার উক্ত দুই অংশবিশিষ্ট মর্মবাণী সার্থকভাবে পরিষ্ফুট হয় না। কেননা, “আল্লাহ ছাড়া কোন মা‘বুদ নেই”-এর মধ্যে শুধু ‘নফী’র বিষয়টি মুখ্যরূপে দৃশ্যমান হচ্ছে যে, “কোন মা‘বূদ নেই”। আর তার সাথে “আল্লাহ ছাড়া” শব্দটি শুধু “কোন মা‘বূদ”-এর পরিচয়রূপে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু সেই কালিমার ‘ইছবাত’-এর অংশ অর্থাৎ “তবে মা‘বূদ শুধু আল্লাহ আছেন” সেই অর্থের মধ্যে স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হচ্ছে না।
No comments:
Post a Comment