Sunday, February 5, 2023

খারাপ স্বপ্ন কাউকে বলবেন না।
" মদীনার অধিবাসী এক মহিলার স্বামী ছিল ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক কাজে বিভিন্ন দেশে আসা যাওয়া করত সে। যখনই তার স্বামী বিদেশে যেত তখনই সে নারী স্বপ্ন দেখত।
আর তার স্বামী সর্বদা তাকে গর্ভবতী রেখে যেত।
একদিন সে রাসূলুল্লাহ (সা) এর কাছে এসে বলল, আমার স্বামী সফরে গেছে। আমি গর্ভবতী। আমি স্বপ্ন দেখলাম, আমার ঘরের চৌকাঠ ভেঙ্গে গেছে।
আর আমি একটি এক চোখ কানা সন্তান প্রসব করেছি।
রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, ভাল স্বপ্ন দেখেছো। ইনশা আল্লাহ তোমার স্বামী তোমার কাছে সহীহ-সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসবে আর তুমি একটি সুস্থ-সুন্দর সন্তান প্রসব করবে। এভাবে সে দু বার বা তিনবার স্বপ্ন দেখেছে।
আর প্রতিবারই রাসূলুল্লাহ (সা) এর কাছে এসেছে। তিনি প্রতিবার এরকম ব্যাখ্যাই দিয়েছেন। আর প্রতিবার সে রকমই বাস্তবায়িত হয়েছে।
একদিন মহিলা আগের মতই আসল। রাসূলুল্লাহ (সা) তখন অনুপস্থিত ছিলেন। সে স্বপ্ন দেখেই এসেছে।
আয়েশা (রা) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর বান্দী! তুমি রাসুলুল্লাহর নিকট কী জিজ্ঞেস করবে? সে বলল, আমি একটি স্বপ্ন প্রায়ই দেখি। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসি। তিনি সুন্দর ব্যাখ্যা দেন।
সেটাই বাস্তবে পরিণত হয়। আমি বললাম, তুমি আমাকে বল, কী স্বপ্ন দেখেছো?
সে বলল, রাসূলুল্লাহ (সা) আসুক, তারপর বলব। আমি তাকে বারবার অনুরোধ করতে লাগলাম স্বপ্নটি বলার জন্য-
যেমনটি আমার অভ্যাস। অবশেষে সে আমাকে স্বপ্নের কথা বলতে বাধ্য হল। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! তোমার স্বপ্ন যদি সত্যি হয়, তাহলে তোমার স্বামী মারা যাবে। আর তুমি একটি অপূর্ণাঙ্গ বা অসুস্থ ছেলে প্রসব করবে।
তখন মহিলাটি বসে কাঁদতে লাগল।
রাসূলুল্লাহ (সা) এসে বললেন, হে আয়েশা! এর কি হয়েছে? তখন আমি পুরো ঘটনা ও স্বপ্ন সম্পর্কে আমার দেয়া ব্যাখ্যা রাসূলুল্লাহ (সা)কে জানালাম।
রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, হে আয়েশা এটা কী করলে?
যখন কোনো মুসলমানের স্বপ্নের ব্যাখ্যা করবে তখন সুন্দর ও কল্যাণকর ব্যাখ্যা দেবে। মনে রাখবে স্বপ্নের যে ব্যাখ্যা দেয়া হয়, বাস্তবে তাই সংঘটিত হয়।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন :
আল্লাহ তাআলার কি ইচ্ছা জানি না।
মহিলাটির স্বামী মারা গেল আর দেখলাম সে একটি অসুস্থ অপূর্ণাঙ্গ ছেলে প্রসব করল।
(বর্ণনায় : দারামী। ইবনে হাজার রহ. হাদীসটিকে হাসান বলে অভিহিত করেছেন।)
অত্র হাদিস থেকে বেশ কয়েকটি ব্যাপার প্রতীয়মান হয়, প্রথম ৩ বছর মহিলাটি সুস্থ সন্তান প্রসব করলো এবং স্বামীও সুস্থভাবে ফিরে এলো সফর থেকে। কিন্তু পরেরবার আয়েশা (রা) স্বপ্নের ব্যাখ্যা টা দিলেন অন্যভাবে আর তার ফলাফল কি হলো তা তো উপরে পড়লেনই এবং সাথে সাথে রাসুল (স) নিষেধ করে দিলেন কখনই যেন কোনো স্বপ্নের ব্যাখ্যা খারাপ/অশুভ করে দেয়া না হয়। আপনারা হয়ত অনেক সময় অনেক মন্দ স্বপ্ন/ভয়ানক স্বপ্ন দেখে থাকেন,যদি কখনো মন্দ স্বপ্ন দেখেন তাহলে কি করবেন?
এই উত্তরের আগে চলুন হাদিস পড়ি.......
স্বপ্ন তিন প্রকার। (১) আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, (২) বান্দার মনের খেয়াল এবং (৩) শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতি প্রদর্শনমূলক কিছু। অতএব তোমাদের কেউ পছন্দনীয় কিছু স্বপ্নে দেখলে তা ইচ্ছা করলে অপরের কাছে ব্যক্ত করতে পারে। আর সে অপছন্দনীয় কিছু স্বপ্নে দেখলে যেন তা ব্যক্ত না করে এবং উঠে নামায পড়ে।
(সুনানে ইবনে মাজাহ,হাদিস নাম্বার ৩৯০৬)।
৩ ধরনের স্বপ্ন, ভালো,মন্দ, এবং মনের খেয়াল থেকে আসা স্বপ্ন।
মনের খেয়াল থেকে আসা স্বপ্ন কিরকম? এই যেমন ক্রিকেট খেলা দেখে ঘুমালেন আর স্বপ্নেও দেখছেন ক্রিকেট। অথবা সামনে পরীক্ষা তাই পড়ার চাপ খুব,টেনশনে দিনাতিপাত করছেন,এমন সময় স্বপ্নে দেখছেন আপনি পরীক্ষা দিতে গিয়ে কলমের সব কালি শেষ অথবা এক্সাম সেন্টারে গিয়ে দেখেন সবার খাতা জমা নিচ্ছে। মানে সময় শেষ হয়ে এক্সাম দিতে গিয়েছেন। যে যেই খেয়ালে থাকে সে সেই খেয়ালের স্বপ্ন দেখে। এটা স্বাভাবিক স্বপ্ন। ভাল বা সুসংবাদ মূলক কোনো স্বপ্ন দেখলে আলহামদুলিল্লাহ বলুন। আর যদি ভয়ানক/ভীতিকর/অশুভ কোন স্বপ দেখে থাকেন তাহলে ঘুম ভাঙলে সাথে সাথেই বাম দিকে হালকা করে তিনবার থু থু ফেলবেন। ৩ বার "আউজুবিল্লাহিমিনাশ শাইত্বনির রাজিম" বলবেন। উঠে সালাত আদায় করুন অন্তত ২ রাকাত। এবং অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই মন্দ স্বপ্নের কথা কখনই কারো সামনেই প্রকাশ করবেননা।
প্রকাশ করলে আর মন্দ স্বপ্নের ব্যাখ্যায় মন্দ কিছু বললে তা বাস্তবে কিভাবে রুপ নেয় তা উপরের মদীনাবাসী মহিলার ঘটনাটি প্রমান দেয়। কাজেই ভয়ানক স্বপ্ন দেখলেও ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নেই, সাহায্য প্রার্থনা করুন রবের কাছে। স্বপ্ন যতক্ষন প্রকাশ পাবেনা, ততক্ষন উক্ত স্বপ্নের দ্বারা ক্ষতি হবেনা। মন্দ স্বপ্ন প্রকাশ পেলে তা অনিষ্টতায় রুপ নিয়ে নিতে পারে।
সচেতন থাকুন, সচেতন রাখুন...
- সংগৃহীত

 

No comments:

Post a Comment