Wednesday, August 18, 2021

বোখারী শরীফ

ইয়াহইয়া ইবন বুকায়র ()......আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আবু যার (রা) রাসূলুল্লাহ (সঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন : আমার ঘরের ছাদ খুলে দেওয়া হল। তখন আমি মক্কায় ছিলাম। তারপর জিব্রীল (') এসে আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। আর তা যমযমের পানি দিয়ে ধুইলেন। এরপর হিকমত ঈমানে পরিপূর্ণ একটি  সোনার পাত্র নিয়ে আসলেন এবং তা আমার বক্ষে ঢেলে দিয়ে বন্ধ করে দিলেন। তারপর হাত ধরে আমাকে দুনিয়ার আসমানের দিকে নিয়ে চললেন। যখন দুনিয়ার আসমানে পৌছলাম, তখন জিবরীল () আসমানের রক্ষককে বললেন : দরযা খোল। তিনি বললেনঃ কে? উত্তর দিলেন : আমি জিব্রীল আবার জিজ্ঞাসা করলেন : আপনার সঙ্গে আর কেউ আছে কি? তিনি। বললেন : হাঁ, আমার সঙ্গে মুহাম্মদ  (সঃ) তিনি আবার বললেন  : তাকে কি আহবান করা হয়েছে। তিনি উত্তরে বললেন হাঁ। তারপর আসমান খেলা হলে আমরা প্রথম আসমানে উঠলাম। সেখানে দেখলাম, এক লোক বসে আছেন এবং অনেকগুলো মানুষের আকৃতি তার ডান পাশে রয়েছে এবং অনেকগুলো মানুষের আকৃতি বাম পাশেও রয়েছে। যখন তিনি যখন ডান দিকে তাকাচ্ছেন, হাসছে আর যখন বাঁ দিকে তাকালেন, কাদছেন। তিনি বললেন খোশ আমদেদ, হে পূণ্যবান নবী! হে নেক সন্তান! আমি জিবরীল (')-কে জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? তিনি বললেনঃ ইনি আদম () আর তার ডানে বায়ে তার সন্তানদের রুহ।  ডান দিকের লোকেরা জান্নাতী আর বাঁ দিকের লোকেরা জাহান্নামী। এজন্য তিনি ডান দিকে তাকালে হাসেন আর বাঁ দিকে তাকালে কান্না করে দেন। তারপরে জিব্রীল () আমাকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় আকাশে উঠলেন। সেখানে উঠে রক্ষককে বললেন : দরজা খোল । তখন রক্ষক প্রথম আসমানের রক্ষকের অনুরূপ প্রশ্ন করলেন। তারপর দরজা খুলে দিলেন। আনাস (রা) বলেন। এরপর আবু যার বলেন। তিনি (নবী ) আসমান সমূহে আদম ('), ইদরীস (), মূসা (), 'ঈসা (') ইবরাহীম ()-কে পেলেন। আৰু যার (রা) তাঁদের অবস্থান নির্দিষ্টভাবে বলেন নি। কেবল এতটুকু বলেছে যে, নবী সাঃ আদম ()-কে প্রথম আসমানে এবং ইবরাহীম ()কে ষষ্ষ্ঠ আসমানে পেয়েছেন। আনাস (রা) বলেন। যখন  জিবরিল (') নবী জে-কে ইদরীস ()-এর পাশ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন ইদরীস (') বললেন। খোশ আমদেদ। পুণ্যবান নবী এবং নেক ভাই! আমি জিজ্ঞাসা করলাম ? ইনি কে? জিবরীল () বললেন। ইনি ইদরীস (') তারপর আমি মূসা (')-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বললেন খোশ আমদেদ। পুণ্যবান নবী নেক ভাই। আমি বললামঃ ইনি কে? জিবরীল (') বললেনঃ মূসা (') তারপর আমি  মুসা (')- এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বললেনঃ খোশ আমদেদ। খোশ আমদেদ।! পুণ্যবান নবী এবং নেক ভাই। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? জিবরীল () বললেনঃ ইনি ঈসা (') তার পর ইবরাহীম ()-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বললেন : খোশ আমদেদ। খোশ আমদেদ। খোশ আমদেদ।! পুণ্যবান নবী নেক সন্তান! আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? জিবরীল (') বললেনঃ ইনি ইবরাহীম () ইব্ শিহাব () বলেন যে, ইবন হাযম আমাকে খবর দিয়েছেন ইন আৰুৱাস আবু হক আনসারী () উভয়ে বলেন নবী = বলেছেন। তারপর আমাকে আরো উপরে উঠানাে লআমি এমন এক সমতল স্থানে উপনীত হলাম, যেখান থেকে কলমের লেখার শব্দ শুনতে পেলাম। ইবন হাযম () আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন। নবী বলেছেন। তারপর আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করে দিলেন। আমি নিয়ে প্রত্যাবর্তনকালে যখন মূসা (')-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন মূসা (') বললেন। আপনার উম্মতের উপর আল্লাহ কীৱষ করেছেন? আমি বললাম ? পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। তিনি বললেন আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান, করণ আপনার টয়ত তা আদায় করতে সক্ষম হবে না। আমি ফিরে গেলাম। আল্লাহ পাক ছুি অংশ কমিয়ে দিলেন। আমি মূসা (')এর কাছে আবার গেলাম আর বললাম কি অংশ কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন আপনি আবার আপনার রবের কাছে যান। কারণ আপনার উম্মত এও আদায় করতে সক্ষম হবে না। আমি ফিরে গেলাম। তখন আরো কিছু অংশ কমিয়ে দেওয়া হলো । আবারও মূসা ()-এর কাছে গেলাম, এবারও তিনি বললেন আপনি আবার আপনার রবের কাছে যান। কারণ আপনার উম্মত এও আদায় করতে সক্ষম হবে না। তখন আমি আবার গেলাম, তখন আল্লাহ বললেন। এই পাঁচই (সওয়াবের দিক দিয়ে) পঞ্চাশ (গণ্য হবে) আমার কথার কোন পরিবর্তন নেই। আমি আবার মূসা (')-এর কাছে আসলে তিনি আমাকে আবারও বললেন। আপনার রবের কাছে আবার খান। আমি বললাম। আবার আমার রবের কাছে যেতে আমি লজ্জাবোধ করছি। তারপর জিবরীল (') আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। আর তখন তা বিভিন্ন রঙ্গে ঢাকা ছিল, যার তাৎপর্য আমার জানা ছিল না। তারপর আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হল। আমি দেখলাম তাতে মুক্তার হার রয়েছে আর তার মাটি কস্তুরী

No comments:

Post a Comment