Saturday, August 14, 2021

আবু নূয়াইম () বর্ণিত  আবূ হুরায়রা (রা) বলতেন :  আল্লাহর কসম! যিনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই, আমি ক্ষুধার জ্বালায় আমার পেটকে মাটিতে রেখে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতাম আর কোন সময় ক্ষুধার জ্বালায় আমার পেটে পাথর বেঁধে রাখতাম একদিন আমি ক্ষুধার যন্ত্রণায় বাধ্য হয়ে নবীন সাহাবীগণের বের হওয়ার পথে বসে থাকলাম  

আবু বকর (রা) যেতে লাগলে আমি কুরআনের একটা আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম আমি তাকে প্রশ্ন করলাম এই উদ্দেশ্যে যে, তিনি তাহলে আমাকে পরিতৃপ্ত করে কিছু খাওয়াবেন কিন্তু তিনি চলে গেলেন, কিছু করলেন না কিছুক্ষণ পর উমর (রা) যাচ্ছিলেন আমি তাঁকে কুরআনের একটি আয়াত সম্বন্ধে প্রশ্ন করলাম সময়ও আমি প্রশ্ন করলাম উদ্দেশ্যে যে, তিনি আমাকে পরিতৃপ্ত করে খাওয়াবেন কিন্তু তিনি চলে গেলেন আমার কোন ব্যবস্থা করলেন না তার পরক্ষণে আবুল কাসিম সাঃ যাচ্ছিলেন। তিনি আমাকে দেখেই মুচকি হাসলেন এবং আমার প্রাণে কি অস্থিরতা বিরাজমান

এবং আমার চেহারার অবস্থা থেকে তিনি তা আঁচ করতে পারলেন। তারপর বললেন, হে আৰূ হুরাইরা! আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি হাজির আছি। তিনি বললেন : তুমি আমার সঙ্গে চল। বলে তিনি চলেন, আমিও তার অনুসরণ করলাম। তিনি ঘরে ঢুকবার অনুমতি চাইলেন এবং আমাকে ঢুকবার অনুমতি দিলেন। তারপর তিনি ঘরে প্রবেশ করে একটি পেয়ালার মধ্যে কিছু পরিমাণ দুধ পেলেন। তিনি বললেন ? দুধ কোথা থেকে এসেছে। তারা বললেন, এটা আপনাকে অমুক পুরুষ অথবা অমুক মহিলা হাদিয়া দিয়েছেন। তখন তিনি বললেনঃ হে আৰু হুরাইরা ! আমি বললাম, লাব্বাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ! তুমি সুফফাবাসীদের কাছে। গিয়ে তাদেরকে আমার কাছে ডেকে নিয়ে এসো । রাবী বলেন, সুফফাবাসীরা ইসলামের মেহমান ছিলেন। তাদের কোন পরিবার ছিল না এবং তাদের কোন সম্পদ ছিল না এবং তাদের কারো উপর নির্ভরশীল হওয়ারও সুযোগ ছিল না। যখন কোন সাদাকা আসত তখন তিনি তা তাদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। তিনি এর থেকে কিছুই গ্রহণ করতেন না। আর যখন কোন হাদিয়া আসত, তখন তার কিছু অংশ তাদেরকে দিয়ে দিতেন এবং

কিছু রাখতেন। এর মধ্যে তাদেরকে শরীক করতেন। আদেশ শুনে আমার মনে কিছুটা হতাশা এলো । মনে মনে ভাবলাম যে, সামান্য দুধ দ্বারা সুফফাবাসীদের কি হবে? সামান্য দুধ আমার জন্যই যথেষ্ট হতো  এটা পান করে আমি শরীরে কিছুটা শক্তি পেতাম। এরপর যখন তারা এসে গেলেন, তখন তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন যে, আমিই যেন তা তাদেরকে দেই, আর আমার আশা রইল না যে, দুধ থেকে আমি কিছু পাব। কিন্তু আল্লাহ তাঁর রাসূলের নির্দেশ না মেনে কোন উপায় নেই। তাই তাদের কাছে গিয়ে তাঁদেরকে ডেকে আনলাম। তারা এসে ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইলে তিনি তাদেরকে অনুমতি দিলেন। তারা এসে ঘরে আসন গ্রহণ করলেন। তিনি বললেনঃ হে আবু হির! আমি বললাম, আমি হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহু। তিনি বললেন, তুমি পেয়ালাটি নাও আর তাদেরকে দাও। আমি পেয়ালা নিয়ে একজনকে দিলাম তিনি তা পরিতৃপ্ত হয়ে পান করে পেয়ালাটি আমাকে ফিরিয়ে দিলেন। আমি আরেকজনকে পেয়ালাটি দিলাম। তিনিও পরিতৃপ্ত হয়ে পান করে পেয়ালাটি আমাকে ফিরিয়ে দিলেন। এমন কি আমি এরূপে দিতে দিতে নবী পর্যন্ত পেীছলাম। তারা সবাই তপ্ত হয়েছিলেন। তারপর নবী পেয়ালাটি নিজ হাতে নিয়ে রেখে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। আর বললেনঃ হে আবূ হুরাইরা  আমি বললাম, আমি হাযির, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, এখন তো আমি আর তুমি আছি। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি ঠিক বলছেন। তিনি বললেন, এখন তুমি বসে পান কর। তখন আমি বসে কিছু পান করলাম। তিনি বললেন, তুমি আরও পান কর। আমি আরও পান করলাম। তিনি বারবার আমাকে পান করার নির্দেশ দিতে লাগলেন। এমন কি আমি বলতে বাধ্য হলাম যে, আর না। যে সত্তা আপনাকে সত্য ধর্মসহ পাঠিয়েছেন, তার কসম (আমার পেটে) আর পান করার মত জায়গা আমি পাচ্ছি না। তিনি বললেন, তাহলে আমাকে দাও। আমি পেয়ালাটি তাকে দিয়ে দিলাম। তিনি আলহামদুলিল্লাহ্ বিসমিল্লাহ বলে বাকীটা পান করলেন

 

No comments:

Post a Comment