Saturday, November 27, 2021

 

রাসূল (স)-এর দৈহিক শক্তি 

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন স্বীয় মর্যাদাবান বান্দা নবী করীম (স)-কে অপরিমেয় দৈহিক শক্তি দান করেছিলেন। এ ব্যাপারে শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (র) 'মাদারিজুন্নবুওয়াত" গ্রন্থে লিখেন ; হুজুর আকরাম (স)-এর শক্তি, বাহুর শক্তি এবং মজবুতি এতই ছিল যে, বিশ্বখ্যাত কুস্তিগীর (পাহলােয়ান) তার সামনে দাঁড়াতেও পারত না। রুকানা ছিলেন আরবের একজন বিখ্যাত কুস্তিগীর, চারদিকে তার দৈহিক শক্তির সুখ্যাতি ছিল। প্রসিদ্ধি ছিল যে, তিনি এক শত লােকের মুকাবিলা করে পরাজিত করে দিতেন। এ ব্যাপারে সুনানে তিরমিযিতে রয়েছে“একদিন নবী (স) আরবের কোনাে পাহাড়ি এলাকায় (মক্কার কোনাে ঘাঁটি) চলতে চলতে রুকানার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়ে গেল। বিশ্বনেতা (স)-এর এ অভ্যাস ছিল যে, যে ব্যক্তি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন হুজুর (স) তাকে ইসলাম গ্রহণ করার দাওয়াত দিতেন। হুজুর (স) রুকানাকেও দাওয়াত দিলেন। বললেন, তােমরা মূর্তিপূজা ত্যাগ করে তাওবা করে নাও এবং অংশীহীন মহান আল্লাহর ওপর ঈমান আন। রুকানা বলল, আমি এক শর্তের ওপর এ দাওয়াত কবুল করতে প্রস্তুত আছি, তা হলাে আপনি যদি আমাকে পরাজিত করতে পারেন, তবেই আমি ঈমান আনবাে। নবী করীম (স)-এ শর্তে রাজি হলেন। রুকানাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, রুকানা। যদি তুমি এ শর্তের ওপর ঈমান আনার ওয়াদা কর তাহলে আমি এ শর্ত পূরণ। করতে তৈরি আছি। সাথে সাথে রুকানা নেংটি পড়ে ময়দানে এসে দাঁড়াল। রাসূল (স)ও তাশরীফ নিলেন। রাসূল (স) বাজু (বাহু) ধরলেন এবং এক ঝটকায় তাকে চিৎ করে ফেলে দিলেন। সে হয়রান এবং পেরেশান হয়ে গেল। কিন্তু পরক্ষণেই উঠে দাঁড়িয়ে বলল, আমি প্রস্তুত ছিলাম না। অসাবধানতার মধ্যে আপনি আমাকে পরাজিত করেছেন। আপনি আমাকে আরেকবার পরাজিত করতে পারলে আমি ঈমান আনবাে। রাসূল (স) তার এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন। রাসূল (স) প্রস্তুতি নিলেন, তার বাহু ধরে ফেললেন এবং জমিনের ওপর ফেলে দিলেন। রুকানার এ ব্যাপারে সামান্যতম ধারণা ছিল না যে তাকে এতাে সহজেই ফেলে দেয়া যাবে। তাই লজ্জিত অবস্থায় আবার উঠলেন এবং তৃতীয়বারের মতাে আবার কুস্তির দাওয়াত দিলেন। এরপরও রাসূল (স) তাকে এ কথা বলেননি যে, দুবার আমি তােমার শর্ত পূরণ করেছি। বরং আল্লাহর রাসূল পুনরায় কুস্তি লড়ার জন্য প্রস্তুত হলেন। অতঃপর রাসূল (স) তাকে এমনভাবে ঝটকা দিলেন যে, চোখের পলকে জমিনে ফেলে দিলেন। তিনি এবার আর অস্বীকার করতে পারলেন না, তিনি উচ্চৈঃস্বরে কালিমা শাহাদাত পড়েন এবং ঘােষণা করেন যে, এটা কোনাে দৈহিক শক্তি নয়, রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে রূহানি শক্তি দ্বারা তিনবার পরাজিত করেছেন। আমি একথা স্বীকার করে নিলাম যে, আপনি আল্লাহ তাআলার রাসূল। রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে রুকানা ছাড়াও আরাে অনেক লােক কুস্তি করেছেন এবং তিনি সকলের ওপর বিজয়ী হয়েছেন। এদের মধ্যে আবুল আসাদ ছিলেন একজন বিখ্যাত কুস্তিগীর। যে গরুর চামড়ার ওপর দাড়িয়ে যেত এবং লোকজন তার নিচ থেকে চামড়া টেনে বের করার পূর্ণ শক্তিতে চেষ্টা করত । চামড়া ফেটে যেত কিন্তু নিচ থেকে বের হতাে না। কুস্তিগীর আসাদ একদিন নবী করীম (স)-এর সঙ্গে কুস্তি পড়তে চাইলেন। তিনি বললেন, যদি আপনি আমাকে জমিনের ওপর ফেলতে পারেন তাহলে আমি আপনার ওপর ঈমান আনবাে। নবী কারীম (স) তাকে জমিনের ওপর চিৎ করে ফেলে দেন কিন্তু সে ঈমান আনেনি। নবী করীম (স)-এর দেহ মুবারক ছিল পরিপূর্ণ ও চুড়ান্ত রকমের পবিত্র । হযরত উম্মে আবাদ (রা) রাসূল (স)-এর প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করে বলেন ! রাসূলুল্লাহ (স)-এর পেট বড় হওয়া এবং পেট সামনের দিকে বেড়ে যাওয়ার দোষমুক্ত ছিলেন। (আল অফা বিআহওয়ালি মুস্তফা, পৃ.-৪৫২, ইমাম আব্দুর রহমান ইবন জাওরী ।) অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (স)-এর দেহ মুবারক ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত “আমি দ্রুত চলার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার প্রিয় রাসূল (স) থেকে দ্রুত আর কাউকে দেখিনি। যখন তিনি দ্রুত হাটতেন তখন মনে হতাে জমিন নিজে নিজে জড়িয়ে যাচ্ছে। যখন তিনি চলতেন তখন পূর্ণ শক্তি দ্বারা চলতেন এবং রাসূলুল্লাহ (স)-এর চলন বড়ই মাপা হতাে। এতদসত্ত্বেও কেউ রাসূল (স)-এর গতি অতিক্রম করতে পারেনি। (কিতাবুশ শিফা, পৃ.-৮২, কাজী ইয়াজ আন্দালুসী।) (দ্বিয়াউন নবী খ-৫, পৃ. -২৭৪, পীর করম শাহ, আক্তহারী, দ্বিয়াউল কুরআন পাবলিকেশন্স লাহাের।) বর্ণিত বিশ্লেষণ থেকে উপলব্ধি করা যায় যে, নবীগণ (আ) ছিলেন রােগ-বালাই থেকে নিরাপদ । সকল প্রকারের দৃণার উদ্রেককারী রােগ-বালাই থেকে মুক্ত। বিশেষত আমাদের নবী করীম (স) মানসিক, দৈহিক, আধ্যাত্মিক শক্তি, মেধা, পাণ্ডিত্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দিক থেকে পৃথিবীর সকল মানুষ থেকে ছিলেন সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম।

 

No comments:

Post a Comment