Wednesday, November 17, 2021

 

মহান আল্লাহ বলেন,

কুল ইয়া এবাদিয়াল লাজিনা আজলামু আলা আনফুছিকুম, লা-তাকনাতু মের রাহমাতিল্লাহ ইন্নাল্লাহা ইয়াগফুরুজ জুনুবা জামিয়া ইন্নাহু হুয়াল গাফুররু রাহিম

অর্থাত্ (হে নবী !) বলে দিন ওহে আমার বান্দারা তোমরা যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ তারা আল্লাহর রহমত প্রাপ্তি থেকে নিরাশ হয়ো না নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করবেন, তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (সুরা যুমার আয়ত-৫৩)

লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা লাহা মা কাছাবাত ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত

আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কোনো কাজ চাপিয়ে দেন না সে যা ভালো কাজ করেছে তার ফল পাবে এবং যা খারাপ করেছে তা তার বিরুদ্ধে যাবে

রব্বানা লা তু আখিজনা ইন নাসিনা আও আখত্বনা
আমাদের রব, আমরা ভুলে গেলে বা ভুল করে ফেললে আমাদের পাকড়াও করেন না

রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিল আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু আলাল্লাজিনা মিন কাবলিনা
আমাদের রব, আগেকার লোকদের উপর যেমন কঠিন বোঝা দিয়েছিলেন, আমাদের উপর তেমন বোঝা দিয়েন না

রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মালা ক্বতালানা বিহ্ ওয়া আ’ফুআন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ার হামনা আনতা মাওলানা ফানসুরনা আলাল কওমিল কাফিরিন।

আমাদের রব, যে বোঝার ভার বইবার সামর্থ্য আমাদের নেই , সে- বোঝা চাপিয়ে দিয়েন না আমাদের অপরাধগুলো মাফ করে দিন আমাদের পাপগুলো গোপন করে দিন আমাদের উপর দয়া করুন আপনিই তো আমাদের রক্ষাকর্তা তাই অবিশ্বাসী লোকগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন” [আল-বাক্বারাহ ২৮৬]

লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জলিমিন

বাংলা অর্থ : তুমি ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কোনো ইলাহ নেই তুমি পুত-পবিত্র, অবশ্যই আমি জালেমদেরই একজন ছিলাম [সুরা আম্বিয়া-৮৭]

মহান আল্লাহ্ তার পাক কালামে যে ঘোষনা করেন

 কুনতুম খাইরা উম্মাতিন উখরিজাত লিন্নাস তা মুরুনা বিল মারুফি ওয়াতান হাওনা আনিল মুনকারি ওয়া তুমিনুনা বিল্লাহ

অর্থাৎ তোমরা সর্বোত্তম জাতি, সমগ্র মানব জাতির কল্যাণের জন্যেই তোমাদের বের করে আনা হয়েছে তোমরা দুনিয়ার মানুষদের সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে আর তোমরা নিজেরাও আল্লাহ্র উপর (পুরাপুরি) ঈমান আনবে (সূরা আল-ইমরান- ১১০)

ইসলাম মানবতার ধর্ম মানব চরিত্রের উৎকর্ষ সাধনই এর মূল লক্ষ্য মহান লক্ষ্যে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আদি যুগ থেকে নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন সর্বশেষ সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাঠিয়েছেন মানবতার উৎকর্ষের পূর্ণতা প্রদানের জন্য মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন,

 বুইছতু লিউতাম্মিমা মাকারিমাল আখলাক’,

অর্থাৎ আমাকে পাঠানো হয়েছে সুন্দর চরিত্রের পূর্ণতা প্রদানের জন্য (মুসলিম তিরমিজি)

প্রসঙ্গে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কোরআন কারিমে বলেন,

ওয়া ইন্নাকা লাআলা খুলুকিন আজিম’,

অর্থাৎ হে মুহাম্মদ (সা.), নিশ্চয় তুমি মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত (পারা: ২৯, সূরা-৬৮ কলম, আয়াত: )
মানব চরিত্রের উত্তম গুণাবলির অন্যতম হলো ধৈর্য সহিষ্ণুতা। পবিত্র কোরআনে স্থানে স্থানে মহান আল্লাহ নিজেকে ধৈর্যশীল পরম সহিষ্ণু হিসেবে পরিচয় প্রদান করেছেন। ধৈর্যের আরবি হলো ছবর। সহিষ্ণুতার আরবি হলো হিলম। ছবর হিলম শব্দদ্বয়ের মাঝে কিঞ্চিৎ তাত্ত্বিক পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে। সাধারণত ছবর তথা ধৈর্য হলো অপারগতার কারণে বা অসমর্থ হয়ে প্রতিকারের চেষ্টা বা প্রতিরোধ না করা। আর হিলম, অর্থাৎ সহিষ্ণুতার মানে হলো শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও প্রতিশোধ গ্রহণ না করা। অর্থে হিলম ছবর অপেক্ষা উন্নততর পর্যায়। তবে উভয় শব্দ কখনো কখনো অভিন্ন অর্থে তথা উভয় অর্থে এবং একে অন্যের স্থানে ব্যবহৃত হয়। হিলম তথা সহিষ্ণুতা সম্পর্কে মহাগ্রন্থ আল কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘.

..ওয়া ইন্নাল্লাহা লাআলিমুন হালিম

অর্থাৎ...এবং আল্লাহই তো সম্যক প্রজ্ঞাময়, পরম সহনশীল। (পারা: ১৭, সূরা-২২ হজ, আয়াত: ৫৯)

ছবর, অর্থাৎ ধৈর্য সম্পর্কে কোরআন মজিদে আল্লাহ তাআলা বলেন,

ইন্না ওয়াজাদনাহু ছাবিরা; নিমাল আবদু, ইন্নাহু আউওয়াব

অর্থ: আমি তো তাকে পেলাম ধৈর্যশীল কত উত্তম বান্দা সে! সে ছিল আমার অভিমুখী। (পারা: ২৩, সূরা-৩৮ সাদ, আয়াত: ৪৪)

ইন্না ফি জালিকা লাআতিল লিকুল্লি ছব্বারিন শাকুর

অর্থ: নিশ্চয় এতে তো নিদর্শন রয়েছে প্রত্যেক পরম ধৈর্যশীল পরম কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য। (পারা: ১৩, সূরা-১৪ ইবরাহিম, আয়াত: )
ধৈর্যের গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআন মজিদে বলেছেন, ‘মহাকালের শপথ, মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা
নয়, যারা ইমান আনে সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ধৈর্যের উপদেশ দেয়। (পারা: ৩০, সূরা-১০৩

No comments:

Post a Comment