Monday, November 22, 2021

 

তাকদির বনাম স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিস্রষ্টা কি এখানে বিতর্কিত?

সাজিদের ব্যাগে ইয়া মোটা একটি ডায়েরি থাকে সবসময়। ডায়েরিটা প্রাগৈতিহাসিক আমলের কোন নিদর্শনের মতো। এই ডায়েরিতে নানান বিখ্যাত ব্যক্তিদের কথাও লিখা আছে। একবার কানাডার টরেন্টোতে সাজিদ তার বাবার সাথে একটি অফিসিয়াল ট্যুরে গিয়েছিলো । সেখানে অনেক সেলেব্রিটির সাথে বিলগেটসও আমন্ত্রিত ছিলেন। বইমেলায় জাফর স্যারের বই 'একটুখানি বিজ্ঞান' এর দ্বিতীয় কিস্তি 'আরো একটুখানি বিজ্ঞান' প্রকাশিত হয়। সাজিদ জাফর স্যারের বই কিনে বের হওয়ার পথে জাফর স্যারের সাথে তার দেখা হয়ে যায়। সাজিদ স্যারের একটি অটোগ্রাফ নিয়ে, স্যারের কাছে হেসে জানতে চাইলো,- 'স্যার, 'একটুখানি বিজ্ঞান" পাইলাম এরপর পাইলাম 'আরো একটুখানি বিজ্ঞান'এটার পরে, আরো  আরো একটুখানি বিজ্ঞান' কৰে পাচ্ছি?" সেদিন নাকি জাফর স্যার মিষ্টি হেসে বলেছিলেন, 'পাবেনিজের সাথে ঘটে যাওয়া এরকম অনেক ঘটনাই ঠাঁই পেয়েছে সাজিদের ডায়েরিটাতে সেদিন থার্ড সেমিষ্টারের শেষ পরীক্ষাটি দিয়ে রুমে আসলাম। এসে দেখি সাজিদ ঘরে নেই। তার টেবিলের উপরে তার ভায়েরিটা পড়ে আছে খোলা অবস্থায়।ডায়েরিটা বন্ধ করতে গিয়ে একটি শিরোনামে নামে আমার চোখ আটকে যায়। আমি সাজিদের টেবিলেই বসে পড়ি। লেখাটির শিরোনাম নাম ছিলো , "ভাগ্য বনাম স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি- স্রষ্টা কি এখানে বিতর্কিত? বেশ লোভনীয় শিরোনাম। শারীরিক ক্লান্তি ভুলেই আমি ঘটনাটির প্রথম থেকে পড়া শুরু করলাম। ঘটনাটি সাজিদের ডায়েরিতে যেভাবে লেখা, ঠিক সেভাবেই আমি পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি কয়েকদিন আগে ক্লাশের থার্ড পিরিয়ডে মফিজুর রহমান স্যার এসে আমাকে দাঁড় করালেন। বললেন, "তুমি ভাগ্যে, আই মিন তাকদিরে বিশ্বাস করো?" আমি আচমকা অবাক হলাম। আসলে এই আলাপগুলো  হলো ধর্মীয় আলাপ। মাইক্রোবায়োলজির একজন শিক্ষক যখন ক্লাশে এসে এসব জিজ্ঞেস করেন, তখন খানিকটা বিব্রত বোধ করাই স্বাভাবিক স্যার আমার উত্তরের আশায় আমার মুখের দিকে চেয়ে আছেন আমি বললাম,- 'জ্বি, স্যার এজ এ্যা মুসলিম, আমি তাকদিরে বিশ্বাস করি এটি আমার ঈমানের মূল সাতটি বিষয়ের মধ্যে একটি' স্যার বললেন, 'তুমি কি বিশ্বাস করো যে, মানুষ জীবনে যা যা করবে তার সবকিছুই তার জন্মের অনেক অনেক বছর আগে তার তাকদিরে লিখে দেওয়া হয়েছে?' - 'জ্বি স্যার'- আমি উত্তর দিলাম - 'বলা হয়, স্রষ্টার ইচ্ছা ছাড়া গাছের একটি ক্ষুদ্র পাতাও নড়েনা, তাই না?' - 'জ্বি স্যার' - 'ধরো , আজ সকালে আমি একজন লোককে খুন করলাম এটা কি আমার তাকদিরে পূর্ব নির্ধারিত ছিলো না?' - 'জ্বি, ছিলো " - 'আমার তাকদির যখন লেখা হচ্ছিলো , তখন কি আমি জীবিত ছিলাম?' - 'না, ছিলেন না' - 'আমার তাকদির কে লিখেছে? বা, কার নির্দেশে লিখিত হয়েছে?'

- "তাহলে, সোজা এবং সরল লজিক এটাই বলে- 'আজ সকালে যে খুনটি আমি করেছি, সেটি মূলত আমি করি নি। আমি এখানে একটি রোবট মাত্র আমার ভেতরে একটি প্রোগ্রাম সেট করে দিয়েছেন স্রষ্টা। সেই প্রোগ্রামে লেখা ছিলো যে, আজ সকালে আমি একজন লোককে খুন করবো। সুতরাং, আমি ঠিক তাই- করেছি, যা আমার জন্য স্রষ্টা পূর্বে ঠিক করে রেখেছেন।এতে আমার কোন হাত নেই ডু ইউ। এগ্রি, সাজিল?' - 'কিছুটা'- আমি উত্তর দিলাম। স্যার এবার হাসলেন। হেসে বললেন, 'আমি জানতাম তুমি কিছুটাই একমত হবে, পুরোটা নয়। এখন তুমি আমাকে নিশ্চই যুক্তি দেখিয়ে বলবে,- স্যার, স্রষ্টা আমাদের একটি স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন আমরা এটা দিয়ে ভালো-মন্দ বিচার করে চলি,

রাইট?

- 'জি স্যার।" - "কিন্তু সাজিদ, এটা খুবই লেইম লজিক, ইউ নো? ধরো, আমি তোমার হাতে বাজারের একটি লিষ্ট দিলাম। লিষ্টে যা যা কিনতে হবে, তার সবকিছু লেখা আছে। এখন তুমি বাজার করে ফিরলে। তুমি ঠিক তাই তাই কিনলে যা আমি লিষ্টে লিখে দিয়েছি। এবং তুমি এটা করতে বাধ্য। এতটুকু বলে স্যার আমার কাছে জানতে চাইলেন, 'বুঝতে পারছে?" আমি বললাম, 'জি স্যার।" - 'ভেরি গুড! ধরো, তুমি বাজার করে আসার পর, একজন জিজ্ঞেস করলো, সাজিদ কি কি বাজার করেছো? তখন আমি উত্তর দিলাম, - 'ওর যা যা খেতে মন চেয়েছে, তা- তা- কিনেছে। বলতো, আমি সত্য বলেছি কিনা?' আমি বললাম,- 'নাহ, আপনি মিথ্যা বলেছেন।' স্যার চিৎকার করে বলে উঠলেন,- 'এক্সাক্টলি। ইউ হ্যাভ গট দ্য পয়েন্ট,মাই ডিয়ার। আমি মিথ্যা বলেছি। আমি লিষ্টে বলেই দিয়েছি তোমাকে কি কি কিনতে হবে। তুমি ঠিক তাই তা- কিনেছে যা আমি কিনতে বলেছি। যা কিনেছে সব আমার পছন্দের জিনিস। এখন আমি যদি বলি, 'ওর যা যা খেতে মন চেয়েছে,সে তা- তা- কিনেছে', তাহলে এটা একটা ডাহা মিথ্যা কথা, না?" - 'জি, স্যার।' - "ঠিক সষ্টাও এভাবে মিথ্যা বলেছেন। দুই নাম্বারি করেছেন। তিনি অনেক আগে আমাদের তাকদির লিখে তা আমাদের গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এখন আমরা সেটাই করি, যা স্রষ্টা সেখানে লিখে রেখেছেন। আবার, এটি দ্য এন্ড অফ দ্য ডে, এই কাজের জন্য কেউ জান্নাতে যাচ্ছে, কেউ জাহান্নামে। কিন্তু কেনো? এখানে মানুষের তো কোন হাত নেই। ম্যানুয়ালটা স্রষ্টার তৈরি। আমরা তো জাষ্ট পারফর্মার।

স্কিপ্ট রাইটার তো স্রষ্টা স্রষ্টা এরজন্য আমাদের কাউকে জান্নাত, কাউকে জাহান্নাম দিতে পারেন না যুক্তি তাই বলে, ঠিক?" আমি চুপ করে রইলাম পুরো ক্লাশে পিনপতন নিরবতা বিরাজ করছে তখন স্যার বললেন, 'হ্যাভ ইউ এ্যানি প্রপার লজিক অন দ্যাট টিপিক্যাল কোয়েশ্চান, ডিয়ার?" আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলাম স্যার মুচকি হাসলেন মনে হলো- উনি ধরেই নিয়েছেন যে, উনি আমাকে এবার সত্যি সত্যিই কুপোকাত করে দিয়েছেন বিজয়ীর হাসি আমাকে যারা চিনে তারা জানে, আমি কখনো কারো প্রশ্নের উত্তর দিতে সময় নিই আজকে যেহেতু তার ব্যতিক্রম ঘটলো, আমার বন্ধুরা আমার দিকে ড্যাব ড্যাৰ চোখ করে তাকালো। তাদের চাহনি দেখে মনে হচ্ছিলো, এই সাজিদকে তারা চিনেই কোনদিন দেখে নি। আর, ক্লাশে আমার বিরুদ্ধ মতের যারা আছে, তাদের চেহারা তখন মূহুর্তেই উজ্জ্বল বর্ণ ধারন করলো।তারা হয়তো মনে মনে বলতে লাগলো,- 'মোল্লার দৌড় অই মসজিদ পর্যন্তই।হা হা হা' আমি মুখ তুলে স্যারের দিকে তাকালাম। মুচকি হাসিটা স্যারের মুখে তখনও বিরাজমান। আমি বললাম, 'স্যার, এই ক্লাশে কার সম্পর্কে আপনার কি অভিমত?" স্যার ভ্যাবাচ্যাকা খেলেন। স্যার জিজ্ঞেস করেছেন কি আর আমি বলছি কি। স্যার বললেন, 'বুঝলাম না।' - মানে, আমাদের ক্লাশের কার মেধা কি রকম, সে বিষয়ে আপনার কি ধারনা?" - 'ভালো ধারনা। তাদের সম্পর্কে একজন শিক্ষকেরই তো সবচেয়ে ভালো জান আমি বললাম, 'স্যার, আপনি বলুন তো, এই ক্লাশের কারা কারা ফাষ্ট ক্লাশ আর কারা কারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে?

স্যার কিছুটা বিস্মিত হলেন বললেন, 'আমি তোমাকে অন্য বিষয়ে প্রশ্ন করেছি তুমি 'আউট অফ কনটেক্সট গিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করছো সজিদ - 'না স্যার, আমি কনটেক্সটেই আছি আপনি উত্তর দিন স্যার বললেন, 'এই ক্লাশ থেকে রায়হান, মমতাজ, ফারহানা, সজীব, ওয়ারেশ, ইফতি, সুমন, জাবেদ এবং তুমি ফাস্ট ক্লাশ পাবে আর বাকিরা সেকেন্ড ক্লাশ ! স্যার যাদের নাম বলেছেন, তারা সবাই ক্লাশের ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট সুতরাং, স্যারের অনুমান খুব একটা ভুল না আমি বললাম, 'স্যার, আপনি এটা লিখে দিতে পারেন?" - 'Why not'- স্যার বললেন এই বলে তিনি খচখচ করে একটা কাগজের একপাশে যারা ফাষ্ট ক্লাশ পাবে তাদের নাম, অন্যপাশে যারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে, তাদের নাম লিখে আমার হাতে দিলেন আমি বললাম, 'স্যার, ধরে নিলাম যে আপনার ভবিষ্যৎ বাণী সম্পূর্ণ সত্য হয়েছে মানে, আপনি ফাষ্ট ক্লাশ পাবে বলে যাদের নাম লিখেছেন,তারা সবাই ফাষ্ট ক্লাশ পেয়েছে, আর যারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে লিখেছেন, তাদের সবাই সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে' - 'হুম, তো?" = 'এখন, স্যার বলুন তো, যারা ফাষ্ট ক্লাশ পেয়েছে, আপনি এই কাগজে তাদের নাম লিখেছেন বলেই কি তারা ফাষ্ট্র ক্লাশ পেয়েছে?" - 'নাহ তো" - 'যারা সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে, তারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে বলে আপনি এই কাগজে লিখেছেন বলেই কি তারা সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে? স্যার বললেন, 'একদম না - "তাহলে মূল ব্যাপারটি কি স্যার?" স্যার বললেন, 'মূল ব্যাপার হলো, আমি তোমাদের শিক্ষকআমি খুব ভালো জানি পড়াশুনায় তোমাদের কে কেমনআমি খুব ভালো করেই জানি, কার কেমন মেধা সুতরাং, আমি চোখ বন্ধ করেই বলে দিতে পারি কে কেমন রেজাল্ট করবে'

আমি হাসলাম। বললাম, সার, যারা সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে, তারা যদি আপনাকে দোষ দেয়? যদি বলে, আপনি সেকেন্ড ক্লাশ' ক্যাটাগরিতে তাদের নাম লিখেছেন বলেই তারা সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে?

স্যার কপালের ভাঁজ লম্বা করে বললেন, ইট উড বি টোট্যালি বুলশিট ! আমি কেন এর জন্য দায়ী হবো? এটা তো সম্পূর্ণ তাদের দায়। আমি শুধু তাদের মেধা, যোগ্যতা সম্পর্কে ধারনা রাখি বলেই অগ্রিম বলে দিতে পেরেছি যে কে কেমন রেজাল্ট করবে।' আমি আবার জোরে জোরে হাসতে লাগলাম। পুরো ক্লাশ আমার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে। আমি থামলাম। বললাম- স্যার, তাকদির তথা ভাগ্যটাও ঠিক এরকম। আপনি যেমন আমাদের মেধা, যোগ্যতা, ক্ষমতা সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন, সুইও তেমনি তার সৃষ্টি সম্পর্কে ধারনা রাখেন। আপনার ধারনা মাঝে মাঝে ভুল হতে পারে, কিন্তু এটার ধার কোন ভুল নেই। স্রষ্টা হলেন আলিমুল গায়েব। তিনি ভূত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ সব জানে আপনি যেরকম আমাদের সম্পর্কে পূর্বানুমান করে লিখে দিয়েছেন যে, আমাদের মঞ্চে কারা কারা ছাই ক্লাশ পাবে, আর কারা সেকেন্ড ক্লাশ। এর মানে কিন্তু এই না যে, আপনি বলছেন বলে আমাদের কেই ফাষ্ট ক্লাশ পাচ্ছি, কেউ সেকেন্ড ক্লাশ। স্রষ্টাও সেরকম পূর্বানুমান করে আমাদের তাকদির লিখে রেখেছেন। তাতে লেখা আছে দুনিয়ায় আমরা কে কি করবো। এর মানে কিন্তু এই না যে, তিনি লিখে দিয়েছেন বলেই আমরা কাজগুলো করছি। বরং, এর মানে হলো এই- তিনি জানেন যে, আমরা দুনিয়ায় এই এই কাজগুলো করবো তাই তিনি তা অগ্রিম লিখে রেখেছেন তাকদির হিসেবে

আমাদের মধ্যে কেউ ফাষ্ট ক্লাশ আর কেউ সেকেন্ড ক্লাশ পাবার জন্য যেমন কোনভাবেই আপনি দায়ী নন, ঠিক সেভাবে, মানুষের মধ্যে কেউ ভালো কাজ করে জান্নাতে, আর কেউ খারাপ কাজ করে জাহান্নামে যাবার জন্যও স্রষ্টা দায়ী নন। স্রষ্টা জানেন যে, আপনি আজ সকালে একজনকে খুন করবেন। তাই তিনি সেটা আগেই আপনার তাকদিরে লিখে রেখেছেন। এটার মানে এই না যে- স্রষ্টা লিখে রেখেছে বলেই আপনি খুনটি করেছেন। এর মানে হলো- স্রষ্টা জানেন যে, আপনি আজ খুনটি করবেন। তাই সেটা অগ্রিম লিখে রেখেছেন আপনার তাকদির হিসেবে

স্যার, ব্যাপারটা কি এখন পরিষ্কার? স্যারের চেহারাটা কিছুটা ফ্যাকাশে মনে হলো। তিনি বললেন,- 'হুম।' এরপর স্যার কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন।তারপর বললেন, 'আমি শুনেছিলাম তুমি 'দিন আগেও নাস্তিক ছিলে।তুমি আবার আস্তিক হলে কবে?' আমি হা হা হা করে হাসলাম। বললাম,- 'এই প্রশ্নটা কিন্তু স্যার আউট অফ কনটেক্সট।' এটা শুনে পুরো ক্লাশ হাসিতে ফেটে পড়লো

পিরিওডের একদম শেষদিকে, স্যার আবার আমাকে দাঁড় করালেন। বললেন,'বুঝলাম স্রষ্টা আগে থেকে জানেন বলেই লিখে রেখেছেন। তিনি যেহেতু আগে থেকেই জানেন কে ভালো কাজ করবে আর কে খারাপ কাজ করবে, তাহলে পরীক্ষা নেওয়ার কি দরকার? যারা জান্নাতে যাওয়ার তাদের জান্নাতে, যারা জাহান্নামে যাওয়ার তাদের জাহান্নামে পাঠিয়ে দিলেই তো হতো, তাই না?"

 

আমি আবার হাসলাম আমার হাতে স্যারের লিখে দেওয়া কাগজটি তখনও ধরা ছিলো আমি সেটা স্যারকে দেখিয়ে বললাম, 'স্যার, এই কাগজে কারা কারা ফাষ্ট ক্লাশ পাবে, আর কারা কারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে, তাদের নাম লেখা আছে তাহলে এই কাগজটির ভিত্তিতেই রেজাল্ট দিয়ে দিন বাড়তি করে পরীক্ষা নিচ্ছেন কেনো?" স্যার বললেন, 'পরীক্ষা না নিলে কেউ হয়তো এই বলে অভিযোগ করতে পারে যে, 'স্যার আমাকে ইচ্ছা করেই সেকেন্ড ক্লাশ দিয়েছে পরীক্ষা দিলে আমি হয়তো ঠিকই ফাষ্ট ক্লাশ পেতাম' আমি বললাম,- 'একদম তাই, স্যার স্রষ্টাও এইজন্য পরীক্ষা নিচ্ছেন, যাতে কেউ বলতে না পারে- দুনিয়ায় পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে আমি অবশ্যই আজকে জান্নাতে থাকতাম স্রষ্টা ইচ্ছা করেই আমাকে জাহান্নামে পাঠিয়েছে' ক্লাশের সবাই হাত তালি দিতে শুরু করলো স্যার বললেন,- 'সাজিদ, আই হ্যাভ এ্যা লাষ্ট কোয়েশ্চান' - 'ডেফিনেইটলি, স্যার'- আমি বললাম - 'আচ্ছা, যে মানুষ পুরো জীবনে খারাপ কাজ বেশি করে, সে অন্তত কিছু না কিছু ভালো কাজ তো করে, তাই না?" - 'জ্বি স্যার' - 'তাহলে, এই ভালো কাজগুলোর জন্য হলেও তো তার জান্নাতে যাওয়া দরকার, তাই না?" আমি বললাম,- 'স্যার, পানি কিভাবে তৈরি হয়? স্যার আবার অবাক হলেন হয়তো বলতে যাচ্ছিলেন যে, এই প্রশ্নটাও আউট অফ কনটেক্সট, কিন্তু কি ভেবে যেন চুপসে গেলেন বললেন, 'দুই ভাগ হাইড্রোজেন আর এক ভাগ অক্সিজেনের সংমিশ্রণে।। আমি বললাম, 'আপনি এক ভাগ হাইড্রোজেন আর এক ভাগ অক্সিজেন দিয়ে পানি তৈরি করতে পারবেন?" - 'কখনোই না'

 "ঠিক সেভাবে, এক ভাগ ভালো কাজ আর এক ভাগ মন্দ কাজে জান্নাত পাওয়া যায়না জান্নাত পেতে হলে হয় তিন ভাগই ভালো কাজ হতে হবে, নতুবা দুই ভাগ ভালো কাজ, এক ভাগ মন্দ কাজ হতে হবে অর্থাৎ, ভালো কাজের পাল্লা ভারি হওয়া আবশ্যক' সেদিন আর কোন প্রশ্ন স্যার আমাকে করেন নি

এক নিশ্বাসে পুরোটা পড়ে ফেললাম। কোথাও একটুও থামিনি। পড়া শেষে যেই মাত্র সাজিদের ডায়েরিটা বন্ধ করতে যাবো, অমনি দেখলাম, পেছন থেকে সাজিদ এসে আমার কান মলে ধরেছে। সে বললো,- 'তুই তো সাংঘাতিক লেভেলের চোর।' আমি হেসে বললাম,- 'হা হা হা। স্যারকে তো ভালো জব্দ করেছিস ব্যাটা।' কথাটা সে কানে নিলো বলে মনে হলো না। নিজের সম্পর্কে কোন কমপ্লিমেন্টই সে আমলে নেয় না। গামছায় মুখ মুছতে মুছতে সে খাটের উপর শুয়ে পড়লো। আমি তার কাঁধে হাত রাখলাম। বললাম,- 'সাজিদ...'

- 'একটা কথা বলবো?" - 'বল।' - 'জানিস, একসময় যুবকেরা হিমু হতে চাইতো। হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে, মরুভূমিতে গর্ত খুঁড়ে জ্যোৎস্না দেখার স্বপ্ন দেখতো। দেখিস, এমন একদিন আসবে, যেদিন যুবকেরা সাজিদ হতে চাইবে। ঠিক তোর মতো...' এই বলে আমি সাজিদের দিকে তাকালাম। দেখলাম, ততক্ষণে সে ঘুমিয়ে পড়েছে। অঘোর ঘুম.......

 

No comments:

Post a Comment