মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস – মেজর জেনারেল (অব.) এম. এস. এ. ভূঁইয়া পৃষ্ঠা 52
মেজর জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণটি সম্পর্কে কিছু বলা প্রয়োজন। আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, বেতার কেন্দ্র থেকে যারা সেদিন মেজর জিয়ার ভাষণ শুনেছিলেন তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, মেজর জিয়া তাঁর প্রথম দিনের ভাষণে নিজেকে হেড অব দি স্টেট অর্থাৎ রাষ্ট্রপ্রধান রূপেই ঘোষণা করেন। কিন্তু তার দ্বিতীয় দিনের ভাষণে তিনি ঘোষণা করেন যে, এই মুক্তিসংগ্রাম তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। হয়তো উভয় সংকটে পড়েছিলেন। একদিকে তার নিজের নামে ঘোষণা প্রচার করলে জনগণের সমর্থন পাওয়া যাবে না, অন্যদিকে শেখ মুজিবুর তখন পাঞ্জাবীদের হাতে বন্দী। তাই তাঁর অনুপস্থিতিতে তার নামে কি করে ঘোষণা করা যায়?
আজ একথা অনস্বীকার্য যে, বিপ্লবী বেতার থেকে মেজর জিয়ার ভাষণ বিশেষ করে শেখ মুজিবের নাম উল্লেখ করে ভাষণ এবং অন্যান্য প্রচারণার ফলে আমাদের সশস্ত্র লড়াইয়ে দ্রুত গতি সঞ্চারিত হয় এবং তা রাজনৈতিক চরিত্রে আকার নেয়।
স্বাধীনতার ঘোষণা, কার নামে প্রচারিত হয়েছিল সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা এই যে, জিয়াউর রহমান নিজে উদ্যোগ নিয়েই এই ঘোষণা দিয়ে এতে আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামের কতটুকু সুবিধা হয়েছিল তা অবশ্যই বিচার্য। | সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলার নিরিখে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলার মান ছিল অত্যন্ত উঁচু। ঐ সেনাবাহিনীর অফিসার হয়ে বিদ্রোহ ঘোষণার ঝুঁকি নেওয়াটা কম কথা নয়, এর একটা মারাত্মক দিকও ছিল। বিদ্রোহ যদি অংকুরেই বিনষ্ট হয়ে যেত তাহলে যারা সেনাবাহিনীতে ছিলেন, মিলিটারী বিচার অনুযায়ী তাদের ভাগ্যে কি জুটতো? সামরিক বাহিনীতে যারা ছিলেন এবং যাদের নাম বিপ্লবের শুরুতেই জানাজানি হয়ে যায়, তাদের ভাগ্যে ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিল
। পাঠক নিশ্চয়ই জানেন, ইতিহাসে বিদ্রোহ করার অপরাধে সামরিক বাহিনীর কতজনকেই না ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে যেতে হয়েছে। বিদ্রোহ যদি অংকুরেই বিনষ্ট হতো এবং তৎকালীন পাকিস্তান সরকার টিকে থাকতো তখন আমাদের অবস্থাও তাই
No comments:
Post a Comment