পূর্বেকার আসমানী কিতাবে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)দের আললাচনা।
আতা ইবনে ইয়াসার (রহঃ) বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ)এর সহিত আমার সাক্ষাৎ হইলে আমি তাঁহাকে বলিলাম, তাওরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে সকল গুণাবলী বর্ণিত হইয়াছে তাহা আমাকে বলুন। তিনি বলিলেন, অবশ্যই, খোদার কসম তাঁহার যে সকল গুণাবলী কোরআনে বর্ণিত হইয়াছে তাওরাতেও তাহাই বর্ণিত হইয়াছে। যেমন—হে নবী, আমি আপনাকে সাক্ষী ও সুসংবাদদাতা এবং ভীতি প্রদর্শনকারী ও উম্মীদের (অর্থাৎ আরবদের) রক্ষণাবেক্ষণকারীরূপে প্রেরণ করিয়াছি। আপনি আমার বান্দা ও রাসূল, আমি আপনার নাম মুতাওয়াক্কিল রাখিয়াছি। তিনি রূঢ় ও কঠোর হৃদয় নহেন, বাজারে শোরগোলকারীও নহেন এবং মন্দকে মন্দ দ্বারা প্রতিহত করেন না বরং মাফ ও ক্ষমা করিয়া দেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁহাকে দুনিয়া হইতে উঠাইয়া নিবেন না যতক্ষণ না মানুষ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু পড়িয়া বক্ৰদ্বীনকে সোজা করিয়া লইবে। (অর্থাৎ দ্বীনে ইবরাহীমকে পরিবর্তন করিয়া তাহারা যে বাঁকাপথে চলিয়াছে উহা ছাড়িয়া সেরাতে মুস্তাকীম অর্থাৎ সরল ও সোজা পথে চলিতে আরম্ভ না করিবে।) তাঁহার দ্বারা আল্লাহ তায়ালা অন্ধ চক্ষু ও বধীর কান এবং রুদ্ধ দিলের আবরণ মুক্ত করিবেন। (আহমাদ)
অপর এক রেওয়ায়াতে বর্ণিত হইয়াছে যে, আল্লাহ তায়ালা তাঁহার দ্বারা বক্ৰদ্বীনকে সোজা না করিয়া তাঁহাকে দুনিয়া হইতে উঠাইবেন না। অপর এক রেওয়ায়াতে ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ (রহঃ) এরূপ উল্লেখ করিয়াছেন যে, আল্লাহ তায়ালা যাবুর কিতাবে হযরত দাউদ (আঃ)এর উপর এই ওহী নাযিল করিয়াছেন, “হে দাউদ, তােমার পর অতিসত্বর এক নবী আসিবেন, যাঁহার নাম আহমাদ ও মুহাম্মাদ হইবে, তিনি সত্যবাদী ও সাইয়্যেদ হইবেন। আমি তাঁহার প্রতি কখনও নারায হইব , আর তিনিও কখনও আমাকে নারায করিবেন না। আমি তাঁহার অগ্র-পশ্চাতের সকল ভুল-ভ্রান্তি করিবার পূর্বেই মাফ করিয়া দিয়াছি। তাঁহার উম্মাত আমার রহমতপ্রাপ্ত, আমি তাহাদিগকে ঐ সকল নফল কার্য দান করিয়াছি যাহা নবীদিগকে দান করিয়াছি এবং তাহাদের উপর ঐসকল কার্য ফরয করিয়াছি যাহা নবী ও রাসূলগণের উপর ফরয করিয়াছি। অতএব তাহারা কেয়ামতের দিন আমার নিকট এমনভাবে উপস্থিত হইবে যে, তাহাদের নুর নবীদের নূরের ন্যায় হইবে।” এইরূপে অনেক কথা আলোচনার পর অবশেষে বলিয়াছেন, “হে দাউদ, আমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁহার উম্মাতকে সকল উম্মাতের উপর সম্মান দান করিয়াছি। (বিদায়াহ)। সাঈদ ইবনে আবি হেলাল (রহঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হযরত কা'ব (রহঃ)কে বলিলেন, আমাকে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁহার উম্মাতের গুণাগুণ সম্পর্কে বলুন। তিনি বলিলেন, আমি আল্লাহ তায়ালার কিতাবে (অর্থাৎ তাওরাতে) তাহাদের সম্পর্কে এরূপ পাইয়াছি, “আহমাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁহার উম্মাত অত্যাধিক প্রশংসাকারী হইবে, তাহারা ভাল-মন্দ সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করিবে। প্রত্যেক উচু জায়গায় (উঠিতে) তাহারা আল্লাহু আকবার বলিবে এবং প্রত্যেক নিচু জায়গায় নামিতে) তাহারা সুবহানাল্লাহ পড়িবে। তাহাদের আযানের ধ্বনি আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হইবে। পাথরের উপর মৌমাছির মৃদু গুঞ্জনের ন্যায় নামাযের মধ্যে তাহাদের (কোরআন পাঠের) মৃদু গুঞ্জন (ত) হইবে। ফেরেশতাদের কাতারের ন্যায় তাহারা নামাযে কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে। নামাযের কাতারের হায়াতুস সাহাবাহ (রাঃ) ন্যায় যুদ্ধের ময়দানে তাহারা কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে। যখন তাহারা আল্লাহর রাহে জেহাদে বাহির হইবে তখন তাহাদের সম্মুখে ও পিছনে মজবুত বর্শা হাতে ফেরেশতাগণ থাকিবে। আর যখন তাহারা যুদ্ধের ময়দানে কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে তখন আল্লাহ তায়ালা তাহাদের উপর এমনভাবে ছায়া করিবেন--বলিয়া হযরত কা'ব (রহঃ) দুইহাত। প্রসারিত করিয়া দেখাইলেন—যেমন শকুন তাহার বাসার উপর ছায়া করিয়া থাকে। তাহারা কখনও যুদ্ধের ময়দান হইতে পলায়ন করিবে না। (আবু নুআঈম) হযরত কা'ব (রহঃ) হইতে অনুরূপ এক রেওয়ায়াতে ইহাও বর্ণিত হইয়াছে যে, তাঁহার উম্মাত অত্যাধিক প্রশংসাকারী হইবে, তাহারা সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করিবে এবং প্রত্যেক উচুস্থানে আল্লাহু আকবার বলিবে। (নামায ইত্যাদি এবাদতের সময় নির্ধারণের জন্য) সূর্যের খেয়াল রাখিবে। ময়লা আবর্জনা ফেলার জায়গায় হইলেও পাঁচ ওয়াক্ত নামায সময়মত আদায় করিবে। কোমরের মধ্যস্থলে লুঙ্গী বাঁধিবে এবং অযুর মধ্যে আপন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করিবে।
No comments:
Post a Comment