নবুওতের সূর্যকিরণ সরাসরি তাঁহাদেরই উপর পড়িয়াছে সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)দের মুবারক জামাতকে আল্লাহ তায়ালা তাঁহার নবীর সাহচর্যের জন্য বাছাই করিয়াছেন। তাঁহারাই দ্বীন ইসলামের প্রথম প্রচারক। আল্লাহ তায়ালা আপন কালামে পাকে তাঁহাদের প্রতি সন্তুষ্ট হওয়ার কথা ঘোষণা করিয়াছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলিতেন, “যে ব্যক্তি দ্বীনের পথে চলিতে চাহে সে যেন সেই সকল লোকদের অনুসরণ করে যাহারা অতীত হইয়া গিয়াছেন। আর তাঁহারা হইলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবা (রাঃ)। কারণ তাঁহারা এই উম্মতের শ্রেষ্টভাগ। তাঁহাদের অন্তর ছিল অত্যন্ত পবিত্র ও তাঁহাদের জ্ঞান ছিল সর্বাপেক্ষা গভীর। তাঁহাদের মধ্যে কোন প্রকার কৃত্রিমতা ছিল না, আল্লাহ তায়ালা আপন নবীর সাহচর্য ও তাঁহার দ্বীন প্রচারের জন্য তাঁহাদিগকে বাছাই করিয়াছিলেন। অতএব তাঁহাদের সম্মানকে স্বীকার করিয়া তাঁহাদের পদাঙ্ক অনুসরণ কর। তাঁহাদের আখলাক ও আদর্শকে মজবুত করিয়া ধর। কারণ তাঁহারা হেদায়াতের উপর ছিলেন।”
হযরত মাওলানা ইলিয়াস ছাহেব (রহঃ)এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালা প্রথম যুগের হীরা সমতুল্য সাহাবা ওয়ালী দাওয়াতের মেহনতকে বিশ্বব্যাপী পুনরায় চালু করিয়া দিয়াছেন। গোমরাহীর অন্ধকারে নিমজ্জিত লাখো মানুষ আজ আলোকোজ্জ্বল হেদায়াতের পথে ছুটিতেছে। জীবনের মোড় শিরক ও বিদআত হইতে তাওহীদ ও সুন্নাতের দিকে ঘুরিতেছে। ছোটবেলায় ‘উম্মি বি’ নামে আবেদাহ যাহেদাহ হিসাবে সুপরিচিত তাঁহার নানী পিঠে হাত বুলাইয়া বলিতেন, ইলিয়াস, কি ব্যাপার। তোমার মাঝে আমি সাহাবাদেরকে চলিতে ফিরিতে দেখিতে পাই। কখনও বলিতেন, ইলিয়াস, আমি তোমার মধ্যে সাহাবাদের খুশবু পাই।
পরবর্তীকালে তাঁহার সাহাবা প্রীতির ঘটনাবলীর দ্বারা এই কথাগুলির বাস্তবতা সকলেই উপলব্ধি করিতে পারিয়াছেন। সাহাবা (রাঃ)দের সহিত তাঁহার গভীর ভালবাসার দরুন তাঁহাদের ঘটনাবলী অত্যন্ত আগ্রহের সহিত শুনাইতেন। কখনও তাঁহাদের ঘটনাবলী শুনিতে যাইয়া ভাবাবেগে তন্ময় হইয়া পড়িতেন। এইজন্যই তাঁহার একান্ত ইচ্ছা ছিল যে, সাহাবা (রাঃ)দের জীবনী এমনভাবে সংকলিত হউক যাহাতে দাওয়াতের উসূল-আদাব ও উহার বিভিন্ন দিক পরিস্ফুটিত হয়। সুতরাং উক্ত কাজের জন্য তিনি তাঁহার সুযোগ্য পুত্র হযরত মাওলানা ইউসুফ ছাহেব (রহঃ)কে নির্বাচন করিলেন। আর তাঁহারই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল এই ‘হায়াতুস সাহাবাহ’ কিতাবখানি। পিতার ন্যায় হযরত মাওলানা ইউসুফ ছাহেব (রহঃ)ও সাহাবা (রাঃ)দের একজন সত্যিকার আশেক ছিলেন। প্রত্যহ এশার নামাযের পর তিনি নিজে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অত্যন্ত স্বাদ লইয়া হায়াতুস সাহাবাহ পড়িয়া শুনাইতেন।‘
No comments:
Post a Comment