সূরা বাকারা (বকনা বাছুর) এর শানে নুযুল
সূরা বাকারা একটি মাদানী সূরা, অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ(সা) মদিনায় হিজরত এর
পরে এই সূরা নাজিল হয়েছিল। আরো বিশেষভাবে বলতে গেলে, এই সূরার বেশীরভাগ
অংশই নাজিল হয়েছিল হিজরতের প্রথম দেড় থেকে দুই বছরে। যদিও পুরো সূরাটি
নাজিল হতে লেগেছিল ৯ বছর।
মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পরে মুসলিমরা
সম্পূর্ন ভিন্ন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। মক্কায় তারা ছিল নির্যাতিত ও
সংখ্যাগরিষ্ঠ, আর মদিনায় মুসলিমদের সংখ্যা ছিল বেশী।
দুই - মক্কার
জীবনে যেহেতু মুসলিমদের জন্য নিজের ঈমান রক্ষা করে চলাই কষ্টসাধ্য ছিল তাই
আল্লাহ্ তখনো খুব বেশী নিয়ম-কানুন জারি করেননি। মদীনায় যেহেতু মুসলিমদের
জীবন অনেকটাই শংকামুক্ত, তাই এখানে আসার পরে আল্লাহ্ বিভিন্ন বিধি-বিধান
নাজিল করা শুরু করেন, যার বৃহৎ অংশ আছে সূরা বাকারায়।
তিন – মক্কায়
যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল তারা সামাজিক সুবিধা পাবার আশায় নয়, বরং শুধু
ইসলামকে ভালবেসেই তা গ্রহণ করেছিল। কিন্তু মদিনায় মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ
হওয়ায় অনেকেই মুখে-মুখে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল, কিন্তু অন্তরে ছিল চরম
ইসলাম-বিদ্বেষ। এই মুনাফিকদের সম্পর্কেও বলা হয়েছে এই সূরায়।
চার –
মদিনায় ইহুদীদের তিনটি বড় গোত্র বাস করত। এই প্রথমবারের মতো মুসলিমরা
যেহেতু ইহুদিদের সংস্পর্শে আসছে, কাজেই তাদের সাথে কিভাবে ব্যবহার ও
লেন-দেন করতে হবে তা-ও বলা হয়েছে এই সূরায়।
পাঁচ – এই সূরায় আদম(আ) ও
ইবলিশের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে কারণ এতে মুসলিমদের জন্য শিক্ষনীয় অনেক
কিছু আছে। আর বলা হয়েছে মুসা(আ) ও বনী ইসরাইলের কাহিনী কারণ তাদের
বংশধরেরাই হলো ইহুদিরা। মুসা(আ) এর যে ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে তার মূলে আছে
একটি বকনা-বাছুর (young female cow), ইহুদিরা যাকে পূজা করেছিল আল্লাহকে
বাদ দিয়ে। এই ঘটনার কারণেই এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে বাকারা বা
বকনা-বাছুর।
No comments:
Post a Comment