Tuesday, May 4, 2021

 হারুন অর রশিদের গল্প

চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। চাঁদ এখন যৌবন কাল শেষ করে বয়োবৃদ্ধ হওয়ার দিকে তাই সন্ধ্যারাতেই আলোর বিচ্ছুরণ শুরু করে না, রাত ঘনীভূত হবার পর তার আলোর কার্যকারিতা শুরু হয়। তাই কিছুদূরে বাচ্চাদের কান্নার শব্দ শোনা গেলেও অবস্থান নির্ণয় করা সহজ হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে সামনের দিকে আগাতে হল। যারা এগিয়ে যাচ্ছে সংখ্যা দুইজন হলেও দূর থেকে আরও বেশ কয়েকজন তাঁদের উপর তীক্ষ্ন নজর রাখছে। বেশ কিছু বালুময় বিস্তৃর্ণ পথ পাড়ি দেবার পর কান্নার আওয়াজ যে দিক থেকে আসছে ঠিক সেদিকেই নিভুনিভু আগুনের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। সুতরাং আরও কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে তাদের নিকটে অথচ অন্ধকারে দাঁড়িয়ে শিশুদের কান্না এবং ওখানে আগুন দিয়ে কি করা হচ্ছে তার পর্যবেক্ষণ চলছে। প্রথম দর্শনে দেখা গেল একজন ভদ্র মহিলা চুলায় কিছু রান্না করছে এবং তার পাশে দুইজন শিশু খাবারের জন্য কান্না করছে যদিও মহিলাটি বাচ্চাদের অতিশীঘ্রই খাবার দেবার আশ্বাস দিচ্ছে। এভাবে বেশকিছু সময় অতিবাহিত হল। দুইজন আগন্তুক ঠায় দাঁড়িয়ে এসব চিত্র দেখে যাচ্ছে। একজন আগন্তুকের বয়স খানিকটা বেশী হলেও অপরজন ছিল পাক্কা যুবক। এসব চিত্র দেখার ফাঁকেফাঁকে আগন্তুক-দ্বয় নিজেদের মধ্যে কিছু ছোট ছোট আলাপও করছে। এরই মধ্যে চাঁদও আলো ছড়াতে শুরু করে দিয়েছে, সবকিছু আরও স্পষ্ট করে দেখা যাচ্ছে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও যখন দেখা গেল মহিলা বাচ্চাদের কে যে স্বল্প সময়ের আশ্বাস দিচ্ছে তা শেষ হচ্ছে না। তখন আগন্তুক দুইজন মহিলার দিকে এগিয়ে গেল এবং জিজ্ঞেস করল বাচ্চাদের এভাবে কান্নার প্রকৃত কারণ কি। তখন মহিলা অত্যন্ত অসহায়তার সাথে বলতে লাগল- এই দুই বাচ্চা আমার সন্তান, আমার স্বামী যুদ্ধে শহিদ, আমি সারাদিন চেষ্টা করেও তাদের জন্য কোন খাদ্য সংগ্রহ করতে পারিনি। তাই তাদের সান্ত্বনা দেবার জন্য পাতিলের মধ্যে পাথর সিদ্ধ করছি এবং অপেক্ষা করছি কখন তারা কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে। তখন আগন্তুক লোকদের মধ্যে প্রথম-জন খুব মর্মাহত হলেন এবং পাশের যুবককে তাদের খাবারের জন্য নিজ কাঁধে করে আটা এবং খেজুর নিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন। যেই কথা সেই কাজ। অল্প সময়ের মধ্যে খাদ্য নিয়ে ফিরে এলেন যুবক। এর অল্প সময় পরই মহিলা জানতে পারল তার জন্য খাদ্য বহন করে নিয়ে আসা ব্যক্তিই খলিফা হারুন অর রশিদ।

 

No comments:

Post a Comment