আল্লাহ তায়ালার দয়া, শান্তি এবং রহমত আপনাদের সবার ওপরে বর্ষিত আল্লাহ তায়ালার দয়া, শান্তি এবং রহমত আপনাদের সবার ওপরে বর্ষিত হোক। আমাদের তথা মানুষের এই জীবনের উদ্দেশ্যটা কী? আমাদের মধ্যে কতজন মানুষ প্রকৃতপক্ষে এ ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তা করেছেন যে, আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যটা কী। আমাদের মধ্যে কজন আছেন, যারা | চিন্তা-ভাবনা করেছেন এ ব্যাপারে যে, আমাদের এই অস্তিত্বের উদ্দেশ্যটা কী। আমরা এখানে কী করছি? এখানে কেন এসেছি? আসুন, আমরা এই ব্যাপারটা বিশ্লেষণ করে দেখি।
আমাদের তথা মানুষের এই জীবনের উদ্দেশ্যটা কী? আমাদের মধ্যে কতজন মানুষ প্রকৃতপক্ষে এ ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তা করেছেন যে, আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যটা কী। আমাদের মধ্যে কজন আছেন, যারা | চিন্তা-ভাবনা করেছেন এ ব্যাপারে যে, আমাদের এই অস্তিত্বের উদ্দেশ্যটা কী। আমরা এখানে কী করছি? এখানে কেন এসেছি? আসুন, আমরা এই ব্যাপারটা বিশ্লেষণ করে দেখি। ক'জন লোক জীবনের উদ্দেশ্য জানে? মানুষের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক লোকই জানে যে , আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যটা কী? এখন কথা হলো, আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যটা কী? এটা জানা কি খুব জরুরি? আমি আপনাদের একটা উদাহরণ দিচ্ছি। আর সেটা হলো- মনে করুন একটি লোক হাটতে হাটতে এক মোড়ে আসলো । তখন সে অন্য আরেক জনকে জিজ্ঞাসা করলো “এই রাস্তাটা কোন দিকে গিয়েছে, ভাই?" পথিক তাকে বললো “আপনি কোথায় যেতে চান? লোকটি বললো- “যে কোনো জায়গায়।” তখন পথিক বলবে- “যেকোনো পথে যান কোনো সমস্যা হবে না।” এখানে এই লোকটার কোনো উদ্দেশ্য নেই। লোকটা যেসব কাজ করে, তার সেই কাজগুলো কোনো রকম পার্থক্য সৃষ্টি করে না; কারণ তার কোনো গন্তব্য নেই। আমাদের মধ্যে অনেকে ঠিক এভাবেই জীবন-যাপন করছে। জীবনের উদ্দেশ্যের রকম ফের আপনাদের আরো একটি উদাহরণ দিচ্ছি। মনে করুন একজন বিল্ডার (স্থপতি) একটি বিল্ডিং বানানো শুরু করলো । বিল্ডিংয়ের ভিত তৈরির জন্য সে মাটিতে বড় একটি গর্ত তৈরি করলো। এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হলো- “আপনার এই বিল্ডিংটা কত তলা পর্যন্ত হবে?” সে বললো- “আমি জানি না। প্রশ্ন করা হলো “বিল্ডিংটা কত স্কয়ার ফিট জুড়ে তৈরি করা হচ্ছে?" সে বললো- “এটা নিয়ে চিন্তাই করিনি।” আসলে সেই বিল্ডারের কোনো উদ্দেশ্যই নেই। একবার এক লোক তার প্রতিবেশীকে বললো- “আপনার কুকুরটা সবসময় গাড়ির পিছনে ধাওয়া করে। ভাবছি এই কুকুরটা কখনও কি কোনো গাড়িকে ধরতে পারবে?" প্রতিবেশী উত্তর দিল- “কোনো গাড়িকে ধরতে পারবে কি না সেটা নিয়ে আমি ভাবছি না, বরং আমি ভাবছি গাড়িটা ধরতে পারলে সে তখন কী করবে।" যে লোকটা বলছে, কুকুর গাড়িটা ধরতে পারবে কি না সে কিন্তু বুঝতে পারছে না। আর প্রতিবেশী, যে কুকুরটার মালিক; সে কিন্তু বুঝতে পারছে যে, কুকুর যদি গাড়িটাকে ধরতে পারে তারপর সে কী করবে; সে বুঝতে পারছে যে, এখানে কুকুরটার উদ্দেশ্যটা কী। দুর্ভাগ্যহীন ভাবে আমাদের অনেকেই আমাদের জীবনটাকে এইভাবে পার করে দিচ্ছি; এই কুকুরটার মতোই। উদ্দেশ্যহীন জীবন। লোকজন গ্রাজুয়েশান করে। তাদের জিজ্ঞেস করবেন, “আপনি গ্রাজুয়েশন করছেন কেন?" তারা আসলে কারণটা জানেনা। কারণ হলো, এই যে তারা গ্রাজুয়েশন করতে যায়; গ্রাজুয়েশন করে আপনি কী করবেন? সে বললো “আমি জানি না। আমাদের বেশিরভাগই জীবনটা পার করছি গন্তব্য ছাড়া লোকটার মতো অথবা কুকুরটার মতে, যে একটা গাড়িটা ধরতে পিছনে পিছনে ছুটছে কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই। অনুকরণপ্রিয় মানুষ। আমাদের অনেকেই না বুঝেই অন্যের উদ্দেশ্যকে নকল করি । কোনো ছাত্রকে আপনি প্রশ্ন করবেন "আপনি কমার্স পড়ছেন কেন?" সে উত্তর দিবে, কারণ আমার বন্ধু ও কমার্স পড়ছে। এছাড়া আবার অনেকেই অভিনেতা-অভিনেত্রী বা বিভিন্ন মডেলকে নকল করার চেষ্টা করে। অনেকেই এটা না বুঝেই করে। একবার এক লোক গ্রাম থেকে মুম্বাইতে চলে আসলো বড়লোক হওয়ার জন্য। তাকে একবার প্রশ্ন করা হলো- “আপনি মুম্বাইতে আসলেন কেন?" সে তখন বললো- “আমি হিন্দি সিনেমায় দেখেছি অমিতাভ বচনকে, সে খুব গরিব ছিল, তারপর মুম্বাইতে এসে একরাতের মধ্যে অনেক বড়লোক হয়ে গেল।" এই জন্য। আপনারা প্রায়ই দেখবেন, মুম্বাইয়ে আশেপাশের বহু এলাকা থেকে মুম্বাইতে চলে আসে, যাতে একরাতে বড়লোক হতে পারে। এই কারণে আমরা দেখতে পাই মুম্বাইতে বস্তির সংখ্যাও খুব দ্রুত বাড়ছে। অনেক সময় আপনারা দেখবেন, অভিনেতা আর মডেলরা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়। তারা বিভিন্ন পণ্যের মার্কেটিং করে। একবার আমার পরিচিত একজন একটা নতুন গাড়ি কিনলো হুন্দাই আইটেমের। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো- “আপনি হুন্দাই আইটেমের গাড়ি পছন্দ করলেন কেন?" সে বললো- "আমার প্রিয় অভিনেতা শাহরুখ খান; আর তার একটা হুন্দাই গাড়ি আছে; এজন্য আমি এই হুন্দাই আইটেম গাড়ি পছন্দ করেছি।”
আমি জানি না, অভিনেতা শাহরুখ খান ওই হুন্দাই আইটেম গাড়িতে একদিন ছাড়া আর কোনো দিন বসেছেন কিনা। সে চালায় মার্সিডিজ অথবা বিআইডব্লিউ অথবা এরকম কিছু। আমার সন্দেহ তার আসলে হুন্দাই আইটেম আছে কি-না। শাহরুক খান মডেল হয়েছেন ট্যাগ হিয়ার ঘড়ির। সেটা বিখ্যাত ঘড়ি, সন্দেহ নেই। এখন শাহরুখ খানের অনেক ভক্তই ট্যাগ হিয়ার ঘড়ি ব্যবহার করছে। আমি জানি না শাহরুখ খানের অভিনয়ের সাথে এই ট্যাগ হিয়ারের সম্পর্কটা কী। ট্যাগের এই ঘড়িটা তাকে কি অভিনয় করতে সাহায্য করেছে? আমার তো মনে হয় শাহরুখ খান বিখ্যাত হওয়ার আগে ঘড়িটার দিকে তাকিয়েও দেখেননি বা ব্যবহার করেননি। এরকম বিভিন্ন মিডিয়ায় পণ্যের মার্কেটিং করা হয়; আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা অন্য মানুষকে নকল করার চেষ্টা করি। আর সেটা বেশিরভাগ সময় কিছু না বুঝেই করি। উদ্দেশ্যহীন কাজের পরিণতি মনে করুন, একজন শিল্পপতি একটি টেক্সটাইল ফ্যাক্টরি করলো। তাকে প্রশ্ন করা হলো- “আপনি এই টেক্সটাইল ফ্যাক্টরি করলেন কেন?" শিল্পপতি উত্তর দিল- "আমি খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি, টেক্সটাইল ব্যবসায় অনেক বেশি লাহু করা যায়।" তাকে প্রশ্ন করা হলো- "আপনার কাছে কি এ ব্যাপারে ভালো কোনো রিপোর্ট আছে?" সে বললো-“না।” তাকে বলা হলো- "ব্যবসা দেখাশুনার জন্য কি কাউকে ঠিক করেছেন বা সেই কোম্পানির জন্য কি কাউকে এক্সিকিউটিভ বানিয়েছেন?" সে বললো-“না।” তাকে প্রশ্ন করা হলো- “আপনি এখানে কত পার্সেন্ট লাভ করতে চান?" সে বললো- “আমি জানি না। তাকে প্রশ্ন করা হলো- “আপনি টেক্সটাইল পণ্য বিক্রি করবেন কোথায়?" সে বললো “আমি জানি না।" আপনাদের কি মনে হয়- এই শিল্পপতি টেক্সটাইল ব্যবসায় কোনো লাভ করতে পারবে? প্রশ্নই আসে না। তারপর ধরুন, আর একজন লোক, যার কোনো উদ্দেশ্য আছে। তার উদ্দেশ্য হচ্ছে পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানী হওয়া। এজন্য সে কী করলো? সে প্রথম মানব আদম (আ) থেকে শুরু বর্তমান সময় পর্যন্ত সব ইতিহাস পড়লো। সে সবকিছু পড়ে জানতে পারলো যে, পৃথিবীর মধ্যে এ পর্যন্ত অতিবাহিত সময়ের সবচেয়ে সেরা বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন। আর এ কথাটি সঠিক। এটা জানার পর লোকটা কী করলে? সে আইজ্যাক নিউটনের মতো হওয়ার জন্য মাথার চুল লম্বা রাখলো। অর্থাৎ আইজ্যাক নিউটনের মতো বাবরি। তারপর নিউটনের মতো করে সে জামাকাপড় পড়তে শুরু করলো। সেই লোক কি নিউটনের মতো বিজ্ঞানী হতে পারবে? এই লোকের একটি উদ্দেশ্য আছে, কিন্তু তার প্ল্যানিংটা ভুল। একটি প্ল্যান অবশ্য তার ঠিক যে, সে বিজ্ঞানীদের নিয়ে পড়াশুনা করেছে। তবে তার পুরো প্ল্যানিংটা ভুল। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলাই জীবনের উদ্দেশ্য এবার মূল প্রশ্নে আসি যে, আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যটা কী? পৃথিবীতে এই যে, আমাদের অস্তিত্ব; এটার উদ্দেশ্যটা কী? আপনাদের কী মনে হয়? কে এই প্রশ্নটার সঠিক উত্তর দিতে পারবেন যে, আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যটা কী? কে সে? ডা. জাকির নায়েক। অবশ্যই এর উওর হবে, না । ডা. জাকির নায়েক এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন না। তাহলে কি বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে? এখানেও উত্তর হবে, না; বিজ্ঞানীরাও এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না। তাহলে। কি দার্শনিকরা এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন? এখানেই সেই একই উত্তর যে, না; দার্শনিকরাও এ প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম নন। এই প্রশ্নটার সবচেয়ে সেরা উত্তর যে, আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যটা কী? এই প্রশ্নটার উত্তর দিতে পারবেন আমাদের স্রষ্টা, সর্বশক্তিমান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা। যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনিই উত্তর দিতে পারবেন যে, আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যটা কী। আমার লেকচারের শুরুতে পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত তেলাওয়াত করেছিলাম। সেটা হচ্ছে সূরা যারিয়াতের ৫৬ নম্বর আয়াত। সেখানে উল্লেখ করা
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন .
অর্থ : আমি জ্বীন এবং মানুষকে এই কারণে সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা আমার ইবাদত করে। (সূরা যারিয়াত : আয়াত-৫৬) আমি জ্বীন এবং মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য। এখানে যে আরবি শব্দটি আছে সেটা = (ইবাদাহ)। এর মূল আরবি শব্দ । (আবদ)। যার অর্থ ভৃত্য অথবা দাস।। (ইবাদাহ) অর্থ- সেবা করা, আনুগত্য করা, অনুগত হয়ে আত্মসমর্পণ করা। এককথায় ইবাদাহ মানে উপাসনা করা।
অথবা, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার আদেশগুলাে মেনে চলা, ঈশ্বরের নির্দেশগুলাে মেনে চলা । আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদেরকে যে কাজগুলাে করার নির্দেশ দিয়েছেন, সেগুলাে যদি মেনে চলি, তাহলে সেটাই হবে ইবাদাহ, সেটাই হবে উপাসনা। যেমন ধরুন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন, তােমরা পাঁচটি স্তম্ভ মেনে চলবে। যদি আপনি তাওহীদে বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ছাড়া কোনাে উপাস্য নেই; তাহলে ইবাদত করছেন, আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করছেন। যদি আপনি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেন, তাহলেও আপনি ইবাদত করছেন, আল্লাহ তায়ালার উপাসনা করছেন। যদি আপনি যাকাত দেন; যেটা বাধ্যতামূলক: তাহলেও আপনি আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করছেন। যদি সিয়াম পালন করেন, তাহলেও আপনি আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করছেন। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন যে, তোমরা তোমাদের প্রতিবেশীদের সাহায্য করো। যেটা বলা হয়েছে সূরা মাউনে। এটা করলেও আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করা হবে। যদি আপনি সেই কাজগুলো থেকে বিরত থাকেন, যা করতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নিষেধ করেছেন; তাহলেও আপনি আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করছেন। যদি অ্যালকোহল পান করা থেকে বিরত থাকেন; তাহলেও আপনি আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করছেন। যদি শুকরের মাংস না খান; তাহলেও আপনি আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করছেন। যদি চুরি করা, প্রতারণা করা, মিথ্যা বলা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকেন; তাহলেও আপনি আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করছেন। এককথায় আপনি যদি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নির্দেশগুলাে মেনে চলেন, আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করেন; তাহলেও আপনি আল্লাহ তায়ালার ইবাদাত করছেন। মানুষের সব কাজ দু'ধরনের আর মানুষের সব কাজকে ইবাদতের ক্যাটাগরিতে ফেলা যায়, যদি দুটি শর্ত মেনে চলেন। ১. আমরা এই কাজগুলো করবো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সন্তুষ্টি | অর্জনের জন্য। ২. যে কাজ করবেন সেটা অবশ্যই সুন্নাহ অনুযায়ী করবেন। যেভাবে আমাদের সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ করে গেছেন।
যদি সব কাজে এই দুটি শর্ত মেনে চলেন, তাহলে আপনার সব ধরনের কাজকেই ইবাদত বা উপাসনা বলে গণ্য করা যেতে পারে। যখনই আপনি কোনো যন্ত্রপাতি ক্রয় করেন, সেই যন্ত্রপাতির সাথে একটা ইন্সট্যাকশান ম্যানুয়াল থাকে। যদি মানুষকে এভাবে কোনো যন্ত্র বা মেশিন বলেন, তাহলে আপনার মানবেন যে, মানুষ হচ্ছে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে জটিল মেশিন। আপনাদের কি মনে হয় না যে, এই মানুষ নামক মেশিনেরও একটা ইন্সট্যাকশান ম্যানুয়াল দরকার? কুরআন মানব জাতির ইন্সট্যাকশান ম্যানুয়াল মানবজাতির জন্য সর্বশেষ আর চূড়ান্ত ইন্সট্যাকশান ম্যানুয়াল হচ্ছে- “পবিত্র কুরআন”। পবিত্র কুরআন হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার সর্বশেষ আর চূড়ান্ত আসমানী কিতাব। এটি নাযিল হয়েছে, সর্বশেষ আর চূড়ান্ত নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর । এটাই হলো মানব জাতির জন্য সর্বশেষ আর চুড়ান্ত ইন্সট্যাকশান ম্যানুয়াল। এই পবিত্র কুরআন তথা মানব জাতির ইন্সট্যাকশান ম্যানুয়ালে বলা হয়েছে, মানুষ কোন কাজগুলো করবে আর কোন কাজগুলো তারা করবে না। অনেকেই এভাবে প্রশ্ন করে যে, ঈশ্বর কেন চাইলেন যে, আমরা তার ইবাদত করি? এটা না হলে কি কিতাব চলবে না? কেন ইশ্বরের প্রশংসা করতে হবে। আল্লাহ আকবার আল্লাহ সর্বশক্তিমান। মহান ঈশ্বরের কি প্রশংসা না হলে চলবে না? পবিত্র কুরআনে আল্লাহ এই প্রশ্নগুলাের উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন ।
অর্থ : হে মানুষ জাতি! তোমরা তো আল্লাহ তায়ালার মুখাপেক্ষী; কিন্তু আল্লাহ সকল অভাব থেকে মুক্ত সকল প্রশংসা তারই। (সূরা ফাতির : আয়াত-১৫) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদেরকে তার ইবাদত আর প্রশংসা করতে বলেন; এটা কিন্তু তার উপকারের জন্য নয়; বরং এতে উপকারটা আমাদেরই। আমরা যখন বলি আল্লাহু আকবার; একে আল্লাহর কিছু আসে যায় না; তিনি এমনিতেই সর্বশক্তিমান। আপনি আল্লাহ আকবার বলেন আর না বলেন, তারপরও আল্লাহ সর্বশক্তিমানই থাকবেন। এতে আল্লাহ তায়ালার কিছু যাবে আসবে না। তবে আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর প্রশংসা করতে বলেন, তার কারণ তিনি মানুষের সাইকোলজিটা জানেন। আমরা মানুষরা যখনই কারো প্রশংসা করি, আমরা তখন স্বাভাবিকভাবে তার উপদেশগুলো মেনে চলি। যেমন ধরুন, আপনার মায়ের হার্ট অ্যাটাক করলো । তখন সাধারণ একজন লোক এসে আপনাকে বেশ কিছু উপদেশ দিলো। আপনি কি তার কথা শুনবেন, নাকি সেই লোকের কথা শুনবেন, যে লোক পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভালো হাট বিশেষজ্ঞ একজন সাধারণ লোকের হার্ট সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই; অন্যদিকে একজন হার্ট বিশেষজ্ঞ জানেন, হার্টের কোন সমস্যার কারণে কী হয়। এমতাবস্থায় আপনি একজন সাধারণ লোকের উপদেশ মানবেন, নাকি হার্ট বিশেষজ্ঞের উপদেশ মানবেন? খুবই স্বাভাবিক, আপনি যেহেতু জানেন হার্ট বিষয়ে সেই ডাক্তার খুবই বিখ্যাত, সবাই তার প্রশংসা করে, তাই আপনার কাছেও তার কথাগুলোই সঠিক বলে মনে হবে। একইভাবে আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তায়ালা চান, আমরা যেন তার প্রশংসা করি। তিনি সবচেয়ে মহান, আল্লাহ সবচেয়ে মহান আল্লাহ সবকিছু জানেন, আল্লাহ সবচেয়ে জ্ঞানী। এতে করে আমরা যখনই বলি যে, আল্লাহ সবচেয়ে জ্ঞানী, তাই তিনি যে আদেশগুলাে দেন, সেগুলো মেনে চলারও চেষ্টা করি। যদি আমরা না মানি যে, তিনি সবচেয়ে জ্ঞানী, তিনি সবচেয়ে মহান, তাহলে তার কথাগুলো মেনে চলার সম্ভাবনা কম। তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা চান আমরা যেন তার ইবাদত করি, তার প্রশংসা করি। আর এতে যে আল্লাহর উপকার হচ্ছে তা নয়; বরং আমাদেরই উপকার হচ্ছে। পবিত্র কুরআনের সূরা ফাতিরে উল্লেখ করা হয়েছে
. .। অর্থ : হে মানুষ জাতি! তোমরা তো আল্লাহ তায়ালার মুখাপেক্ষী; কিন্তু আল্লাহ সকল অভাব থেকে মুক্ত; সকল প্রশংসা তারই। (সূরা ফাতির- আয়াত : ১৫)
No comments:
Post a Comment