এক নবীর পক্ষে অন্য নবীর মান-মর্যদা সম্পর্কে অবগত হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। সে হিসাবে হযরত দাউদ (আঃ) যখন হযরত ইব্রাহীম হযরত ইসমাইল ও হযরত আইউব (আঃ) এর উচ্চ মর্যাদার খবর অবগত হলেন। তিনি তখন আল্লাহর দরবারে নিজের মান মর্যাদার উন্নতির জন্য আবেদন করলেন। আল্লাহর পক্ষে তাকে অবগত হল যে, মান মর্যদা উন্নতির জন্য কঠিন পরীক্ষা দিত হয়। তখন হযরত দাউদ (আঃ) আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করে বললেন, হে দয়াময়! আমাকে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন করার ক্ষেত্রে আপনি যে কোন পরীক্ষার সম্মুখীন করুন। আমি তা স্বানন্দে কবুল করে নিব এবং আপনার রহমত যদি আমার সাথে থাকে তবে আমি সে পরিক্ষায় অবশই উত্তির্ন হব। আল্লাহত তায়ালা হযরত দাউদ (আঃ) এর । ফরিয়াদ কবুল করলেন এবং তাকে পরীক্ষার সম্মুখীন করে দিলেন। একদা হযরত দাউদ (আঃ) নিজ এবাদাতখানায় বসে ইবাদাত করছিলেন। এমন সময় একটি নতুন ধরনের পাখি এসে তাঁর ইবাদাত খানায় ঢুকক। পাখিটি দেখতে কবুতরের ন্যায় ছিল। তাঁর গায়ের রং ছিল সোনালী বর্ণের। তাঁর পাখা পা। ঠোট ছিল সৌন্দর্যমণ্ডিত। হযরত দাউদ (আঃ) পাখিটি দেখে অবাক হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলেন। পাখিটি তাঁর নিকট আসল। তখন তিনি পাখিটি ধরার জন্য অগ্রসর হলেন। পাখিটি তখন একটু দূরে সরে গেল। তিনি আর একটু অগ্রসর হলেন। পাখিটি আর একটু দূরে সরে গেল। এভাবে হযরত দাউদ (আঃ) অগ্রসর হচ্ছিলেন আর পাখিটিও খানিক দূরে সরে সরে তাকে ঘর থেকে বের করে নিল। অতপর হযরত দাউদ (আঃ) পাখিটি ধরার জন্য বে খায়াল হয়ে পাখির পিছনে ছুটতে আরম্ভ করলেন। এভাবে অগ্রসর হতে হতে তিনি পাখির পিছনে বহুদুর চলে গেলেন। রাস্তা জঙ্গল ও পাহাড় অতিক্রম করে তিনি অন্য রাজ্যে ঢুকে পড়ল। হযরত দাউদ (আঃ) যে এত দূরে এসে গেছেন তা তিনি আদৌ অনুমান করতে পারেন নি। তিনি যখন সুন্দর ফুল। বাগানের মাঝে এসে পৌঁছলেন তখন পাখিটি উধাও হয়ে গেল। তখন তাঁর চেতনা ফিরে এল। তিনি নিজেকে অসহায় ভাবতে লাগলেন।
কোথায় কিভাবে তিনি এসেছেন কিছুই তাঁর স্বরনে আসছে না। তিনি সেখানে অনেক ক্ষন দাড়িয়ে রইলেন। অতপর একজন মালির সাথে তাঁর দেখা হল তিনি যখন মালি কে জিজ্ঞাসা করলেন, এ বাগানের মালিক কে? মালি উত্তর দিল এ বাগানের মালিক একজন মহিলা। তাঁর নাম বতশা আফিয়া। তিনি বাগানের ওপারে সুরম্য অট্টলিকায় বসবাস করনে। হযরত দাউদ (আঃ) বাগানের মধ্যে হেটে অপর প্রান্তে গিয়ে দেখেন বাগান সংলগ্ন এক হাউজে এক সুন্দর মহিলা গোছল করছে। এ সুন্দরি মহিলার নাম ছিল বতশা আফিয়া। হযরত দাউদ (আঃ) তাকে বিবাহ করার নিয়ত করলেন। সে মর্মে তিনি একজন পথচারীর নিকট জিজ্ঞাসা করলেন, এ বাগানের যে মহিলা তাঁর কি বিবাহ হয়েছে লোকটি উত্তর দুল হ্যাঁ কিছুদিন হল তাঁর বিবাহ হয়েছে বটে কিন্তু তাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সাক্ষাৎ হয়নি। তাঁর স্বামির নাম আউরিয়া সে একজন দক্ষ সৈনিক ছিলেন। সাধারণ ত্রুটির জন্য সে চাকুরী চ্যুত | হয়েছে বর্তমানে সে বেকার।
হযরত দাউদ (আঃ) সমস্ত তথ্য জেনে আউরিয়াকে খবর দিলেন। আউরিয়া হ্যরত দাউদ (আঃ) এর নিকট এসে হযরত দাউদ (আঃ) তাঁর নিকট পরিচয় দিলেন। তখন আউরিয়া তাকে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করে আরজ করল। হুজুর! আপনি কষ্ঠ করে কেন পদধূলি রাখলেন। হযরত দাউদ (আঃ) বললেন, আমি কতক লোকের কাছে তোমার সুনাম শুনেছি। তুমি একজন দক্ষ সৈনিক। সে হিসাবে আমি তোমাকে বলতে এসেছি যে, আমার একজন দক্ষ সৈনিক প্রয়োজন। বর্তমানে আমার একজন দক্ষ সৈনিক এর অভাব। তুমি সামান্য ত্রুটির জন্য চাকুরী চ্যুত হয়েছে সেটা কোন ব্যাপার নয়। আমি তোমাকে এবার প্রধান সেনাপতি করে যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চাই। এ পথ থেকে হয়ত তুমি একদিন রাজ্যের সর্বেসর্বা হওয়ার সুযোগ লাভ করবে। যেমন আমি সেনপতি থেকে রাষ্ট্র প্রধানের ভাগ্য লাভ করেছি। বর্তমানে তোমার বেতন হবে সেনাবাহিনীর সকলের চাইতে বেশি এবং সুবিধা যা চাও তাই দেওয়া হবে। আউরিয়া হযরত দাউদ (আঃ) এর নিকট থেকে তাঁর ভাগ্য পরিবর্তনের কথা শুনে আনন্দে আটখানা হয়ে গেল। একবাক্যে সে চাকুরির স্বীকৃতি প্রদান করল।
আউরিয়া তাৎক্ষনিক সুযোগ সুবিধার মোহে অন্ধ হয়ে তাঁর সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীর কথা ভুলে গেল এবং হযরত দাউদ (আঃ)। এর নিকট যুদ্ধ যাত্রার আদেশ প্রার্থনা করল। হযরত দাউদ (আঃ) আউরিয়াকে দুর্ধর্ষ রোম বাহিনীর বীরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করলেন। আউরিয়া অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে রোম বাহিনীর বীরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করল এবং অতি অল্প সময়য়ের মধ্যে বিজয় লাভ করল। ইতিপূর্বে এ বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে কেউ বিজয়ী লাভ করতে পারি নি। আউরিয়া রোম বিজয় করে সেখান থেকে নাকো নামক আর এক যুদ্ধ ক্ষেত্রের দিকে অগ্রসর হল। সেখানে একদিন বিরের সাথে যুদ্ধ করে নিহত হল। কিন্তু তাঁর সৈন্যরা আউরিয়ার মৃত্যুতে মনবল না হারিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বিজয় তাদের হাতের মুঠায় চলে এসে। হযরত দাউদ (আঃ) আউরিয়ার মৃত্যুতে যথেষ্ট শোক প্রকাশ করেন। এক বছর ধরে শোক পালনের জন্য রাজ্যময় ঘোষণা দিয়ে দেন। কিছুদিন পরে বতশার নিকট হ্যরত দাউদ (আঃ) বিয়ের পয়গাম প্রেরণ করেন। বতশা নিজ জীবনের ভবিষ্যত চিন্তা করে বিয়েতে রাজি হয়। তখন হযরত দাউদ (আঃ) একদিন দরবারের লোকজন নিয়ে বতশাকে বিয়ে করে নিজ মহলে নিয়ে। আসেন। ইতোপূর্বে হযরত দাউদ (আঃ) নিরানব্বই শাদী করেছিল। এবার বতশাকে নিয়ে স্ত্রীর সংখ্যা একশতে পরিপূর্ণ হল। হযরত দাউদ (আঃ) এর শেষ স্ত্রীর বতশার গর্ভেই বিশ্বখ্যাত বাদশা সোলাইমান জন্মগ্রহন করেন। যিনি ছিলেন সমগ্র পৃথিবীর একছত্র অধিপতি। জ্বীন, ইনছান, পশু-পক্ষী বাতাস, পানি ছিল তাঁর প্রজাকুলের অন্তর্ভুক্ত।
No comments:
Post a Comment