আদম সন্তানের সিজদাহ দর্শনে শয়তানের ক্রন্দনঃ
আবু
হুরাইরা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু হতে
বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া
সাল্লাম বলেছেন,
‘আদম
সন্তান
যখন
সিজদার
আয়াত
পাঠ
করে,
অতঃপর
সিজদা
করে,
শয়তান
তখন
সরে
গিয়ে
কেঁদে
কেঁদে
বলে
হায়!
তাকে
সিজদা
করতে
বলা
হয়েছে,
অতঃপর
সে
সিজদা
করেছে,
তার
জন্য
জান্নাত। আর
আমাকে
সিজদার
আদেশ
করা
হয়েছে,
অতঃপর
আমি
অবাধ্য
হয়েছি।
তাই
আমার
জন্য
জাহান্নাম ধার্য
হ’ল’। -সহিহ
মুসলিম,
ইবনু
মাজাহ,
আহমাদ,
মিশকাত
হা/৮৩৫
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে সিজদার বিস্ময়কর উপকারিতাঃ
বলা
বাহুল্য, নামাজ
মুসলিম
জীবনের
অবিচ্ছেদ্য অংশ
বিধায়
একজন
মুসলিম
কিছুতেই এবং
কোনো
অবস্থাতেই নামাজকে এড়িয়ে
যেতে
পারেন
না।
ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের প্রথমটি ঈমান।
আর
ঈমানের
পরে
দ্বিতীয়টিই হচ্ছে
নামাজ।
এ
কারণে,
ঈমান
গ্রহণের পরে
নামাজের অবস্থানই সর্বাগ্রে। পবিত্র
কুরআনে
ঘোষণা
করা
হয়েছে-
إِنَّ الصَّلاَةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا
নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে
নামাজ
আদায়
করা
মুমিনদের ওপর
ফরজ।
-সূরা:
আন
নিসা,
আয়াত
: ১০৩
এ
কথা
বলা
আবশ্যক
যে,
নামাজের পার্থিব উপকারিতা অনুসন্ধান করা
কোনো
মুসলিমেরই কাম্য
হওয়া
উচিত
নয়।
মহান
প্রতিপালকের আদেশ
নিঃশর্তভাবে মেনে
নামাজ
আদায়
করাই
মুমিন
মুসলিমের ঐকান্তিক দায়িত্ব। কিন্তু
নামাজ
আদায়ের
মাধ্যমে একজন
বিশ্বাসী ব্যক্তি মহান
প্রতিপালক নির্দেশিত অবশ্য
পালনীয়
একটি
আদেশ
পালনের
মাধ্যমে তাঁর
সন্তুষ্টিলাভের পাশাপাশি পার্থিব শারীরিক ও
অন্যবিধ যেসব
ফায়দা
এবং
উপকারিতা লাভে
ধন্য
হয়ে
থাকেন,
সেগুলো
জানার
চেষ্টা
করেছেন
আধুনিক
চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তিবর্গ। তাদের
দীর্ঘ
গবেষনা
এবং
পর্যবেক্ষনে উঠে
এসেছে
যে,
মুসলিম
জীবনের
অত্যাবশ্যকীয় অনুসঙ্গ এই
নামাজের ফায়দা,
ফজিলত
ও
উপকারিতা শুধু
পরকালীন জীবনের
সাথেই
সম্পর্কিত নয়;
ইহকালেও এর
রয়েছে
অভাবনীয় এবং
অসাধারণ অনেক
উপকারিতা। আধুনিক
চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় উঠে
এসেছে-
মানবদেহের জন্য
এর
অচিন্ত্যনীয় কিছু
উপকারিতার কথা।
নামাজের রুকনগুলোর প্রতিটিতেই মানবদেহের জন্য
যে
আলাদা
আলাদা
উপকারিতা রয়েছে
সে
কথা
আজ
বিজ্ঞানের আলোকে
প্রমানিত এবং
সুপ্রতিষ্ঠিত। যেহেতু
সিজদাহ
নিয়ে
অত্র
নিবন্ধ
সে
কারণে,
নামাজের সিজদায়
মানবদেহের বৈজ্ঞানিক উপকারিতা নিয়েই
এখানে
আলোকপাত করার
চেষ্টা
থাকবে
ইনশাআল্লাহ।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে,
একই
বিষয়ে
নামাজের শারীরিক উপকারিতার নিয়ে
Physical benefits of
(Salah) prayer - Strengthen the faith & fitness নামে গবেষনামূলক একটি
নিবন্ধ
প্রকাশ
করেছেন
সংযুক্ত আরব
আমিরাতের আল
আইন
হাসপাতালের পুনর্বাসন এবং
শারীরিক মেডিসিন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফিজিওথেরাপিস্ট গজল
কামরান।
এই
বিষয়ে
আরও
একাধিক
গবেষনার লিঙ্ক
এখানে
যুক্ত
করে
দেয়া
সঙ্গত
মনে
করছি,
যাতে
অনুসন্ধানী ব্যক্তি মাত্রই
উত্থিত
যে
কোনো
প্রশ্নের উত্তর
পেতে
পারেন
সহজেই-
নামাজ বান্দা ও তার প্রভুর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমঃ
নামাজ
হুকুমের দিক
থেকে
অন্যান্য ফরজ
ইবাদতের মত
একটি
ফরজ
ইবাদত
হলেও
এর
বিশেষ
বৈশিষ্ট্য হচ্ছে,
এর
মাধ্যমে বান্দা
ও
তার
প্রভুর
মধ্যে
সরাসরি
যোগাযোগ সৃষ্টি
হয়।
নামাজ
প্রতিপালকের সান্নিধ্যলাভের অন্যতম
মাধ্যম।
নামাজ
মানুষকে অশ্লীল
এবং
গর্হিত
কাজ
থেকে
বাঁচিয়ে রাখে।
বস্তুতঃ একাগ্রচিত্তে নামাজ
আদায়কারী একজন
মানুষ
ব্যক্তি, সামাজিক কিংবা
রাজনৈতিক কোনো
পরিসরেই কোনো
খারাপ
কাজের
সঙ্গে
কোনোভাবে সম্পৃক্ত হতে
পারেন
না।
কারণ,
তিনি
দৈনিক
কম
করে
হলেও
পাঁচবার মুখোমুখি হন
তার
প্রিয়তম রবের।
একান্ত
আরাধনায় নত
হন
তাঁর
সামনে।
বিনীত
অন্তরে
প্রার্থনায় বিগলিত
হন
মালিকের সামনে।
নিজেকে,
নিজের
আমিত্ব,
অহমিকা,
দম্ভ-
সবকিছুকে ভেঙ্গে
চূড়ে
চুরমার
করে
দিয়ে
সিজদায়
লুটিয়ে
পড়েন
মালিকের পদপ্রান্তে। এ
কারণে
তার
মধ্যে
সার্বক্ষণিকভাবে কাজ
করে
'একটু
পরেই
মহান
রবের
সঙ্গে
কথোপকথনের মধুময়
মুহূর্তের ভিন্নধর্মী স্বাদ
এবং
উপলব্ধির অনন্য
একটি
অনুভূতি'।
নামাজের গুরুত্ব বুঝার
জন্য
এতটুকু
বিষয়
জেনে
নেয়াই
যথেষ্ট
যে,
আল
কুরআনে
অন্ততঃ
৮২
টি
স্থানে
নামাজের উল্লেখ
করা
হয়েছে।
হাদিস
এবং
সীরাতের কিতাবগুলোতে স্পষ্ট
বর্ণনা
এসেছে,
রাসূলে
কারিম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া
সাল্লাম জীবনের
শেষ
আদেশও
ছিল
এই
নামাজ।
তিনি
অসুস্থাবস্থায় তাঁর
জীবনের
শেষ
সময়েও
বলেছিলেন- 'আচ্ছলাত! আচ্ছলাত! ওয়ামা-
মালাকাত আইমানুকুম!' অর্থাৎ,
সাবধান!
সতর্ক
থেকো
নামাজের ব্যাপারে! যত্নবান হও
নামাজ
এবং
তোমাদের অধিনস্তদের বিষয়ে!
No comments:
Post a Comment