ঈমানদার ব্যক্তির জন্য সিজদার গুরুত্ব অপরিসীমঃ
ঈমানদার ব্যক্তির জন্য সিজদার গুরুত্ব অপরিসীম। মুমিন আল্লাহর পদতলে সিজদা করতে ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে দ্বিধাবোধ করবে না। যেমন পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন,
وَظَنَّ دَاوُوْدُ أَنَّمَا فَتَنَّاهُ فَاسْتَغْفَرَ رَبَّهُ وَخَرَّ رَاكِعًا
وَأَنَاب
‘দাঊদ বুঝতে পারল, আমি তাকে পরীক্ষা করলাম। তারপর সে তার প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল আর সিজদায় লুটিয়ে পড়ল এবং মুখ ফিরাল তাঁর দিকে’। -সূরা আছ ছোয়াদ ৩৮/২৪
অপর এক আয়াতে আল্লাহ বলেন,
قُلْ آمِنُوْا بِهِ أَوْ لَا تُؤْمِنُوا إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِنْ
قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ سُجَّدًا،
وَيَقُولُونَ سُبْحَانَ رَبِّنَا إِنْ كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولًا،
وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا-
‘তুমি বলে দাও (হে অবিশ্বাসীগণ!), তোমরা কুরআনের প্রতি ঈমান আন বা না আন, যাদেরকে ইতিপূর্বে জ্ঞান দান করা হয়েছে (আহলে কিতাবের সৎ আলেমগণ), যখন তাদের উপর এটি পাঠ করা হয়, তখনই তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। আর তারা বলে, মহাপবিত্র আমাদের পালনকর্তা! আমাদের প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি অবশ্যই কার্যকরী হয়। আর তারা কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের বিনয়চিত্ততা আরও বৃদ্ধি পায়’। -সূরা বনী ইসরাঈল, ১৭/১০৭-১০৯
প্রকৃতপক্ষে সিজদার সময় দয়াশীল ও ক্ষমাশীল আল্লাহর কাছে দয়া-ক্ষমা, করুণা, অনুগ্রহ, রহমত, ভালোবাসা প্রভৃতি লাভ করার আশাও করা হয়। উপরে বর্ণিত আয়াতে দাঊদ আলাইহিস সালাম -এর ক্ষমা প্রার্থনা ও সিজদায় লুটিয়ে পড়া একটি তাৎপর্যময় উদাহরণ। তিনি একজন নবী হয়েও তাঁর পরীক্ষায় ভীত হয়ে পড়েছিলেন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে সিজদায় লুটিয়ে পড়েছিলেন।
ফলাফল নির্ভর করে সিজদাকারীর অন্তরের স্বচ্ছতার উপরে। আর এর ফায়ছালাকারী একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। তিনি ব্যতীত এ বিষয়ে কারো কোন হাত নেই। সুতরাং আল্লাহর উপর নির্ভরশীল হয়েই তাঁর প্রতি দৃঢ় আশা-ভরসা নিয়ে সিজদা ও প্রার্থনা করতে হবে।
অধিক সিজদাকারীদের চেহারায় ফুটে ওঠে বিশেষ উজ্জ্বলতাঃ
অধিক পরিমানে রুকু এবং সিজদা করা স্বয়ং প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামের অনন্য একটি গুণ, যার উল্লেখ পবিত্র কুরআনেও রয়েছে। আল্লাহ তাআ'লা ইরশাদ করেন-
مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاء عَلَى الْكُفَّارِ
رُحَمَاء بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ
اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِّنْ أَثَرِ السُّجُودِ
মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি তাদেরকে রুকু ও সিজদারত দেখবেন। তাদের মুখমন্ডলে রয়েছে সিজদার চিহ্ন। -সূরা: আল ফাতাহ, আয়াত : ২৯
আয়াতোক্ত سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِّنْ أَثَرِ السُّجُودِ দ্বারা বুঝানো হয়েছে, নামাজ তাঁদের জীবনের এমন ব্রত হয়ে গেছে যে, নামাজ ও সিজদার বিশেষ চিহ্ণ তাঁদের মুখমন্ডলে উদ্ভাসিত হয়। এখানে সিজদার চিহ্ণ বলে সেই নূরের আভা বুঝানো হয়েছে, যা দাসত্ব এবং বিনয় ও নম্রতার প্রভাবে প্রত্যেক ইবাদতকারীর মুখমন্ডলে প্রত্যক্ষ করা হয়। কপালে সিজদার কালো দাগকে বুঝানো হয়নি। বিশেষতঃ তাহাজ্জুদ নামাজের ফলে উপরোক্ত চিহ্ণ খুব বেশি ফুটে ওঠে। ইবনে মাজার এক বর্ণনায় প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- যে ব্যক্তি রাতে বেশি নামাজ পড়ে, দিনের বেলায় তার চেহারা সুন্দর আলোকোজ্জ্বল দৃষ্টিগোচর হয়। হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, এর অর্থ নামাজীদের মুখমন্ডলে সই নূর, যা কিয়ামতের দিন প্রকাশ পাবে। -তাফসীরে জালালাইন, ইসলামিয়া কুতুবখানা, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা-১৩৬
Sunday, June 19, 2022
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment