Monday, August 22, 2022

 

# জানেন কি সর্বপ্রথম জাহান্নামে যাবে এক শ্রেণির আলেম সম্প্রদায়❓
কি, কথাটা শুনতে অবাক লাগছে? অবাক হলেও এটাই সত্যি। যাদের মুখে আমরা সবচেয়ে বেশি জান্নাত-জাহান্নামের বয়ান শুনতে পায় তাদের একটা গ্রুপই সর্বপ্রথম জাহান্নামে যাবে। কোন বিধর্মী, চোর, ডাকাত, মদখোর কেউই জাহান্নামে প্রথমে যাবে না, জাহান্নামে যাবে কোরআন-হাদিস জানা এক শ্রেণির আলেম সম্প্রদায়। তাই বাহ্যিক লেবাস দেখেই গলে যাবেন না। আগে দেখবেন তার ঈমান ঠিক আছে কিনা। যদি এ ধরণের আলেমদেরকে চিহ্নিত করতে না পারেন তবে তাদের লেজ ধরে জাহান্নামে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকতে হবে। কারণ এরা হল ঈমান চোর। কোন ফাঁকে আপনার ঈমান লুণ্ঠন করে নেবে অথচ আপনি টেরও পাবেন না! তাই যুগের ঈমাম কে চিনে নিন এবং তাঁর দামান শক্ত করে আঁকড়ে ধরুণ। তাহলে আর কিয়ামত অবদি ঈমান হারানোর ভয় থাকবে না।
যে ৩ শ্রেণির লোক সর্বপ্রথম জাহান্নামে যাবে এবং জাহান্নাম তাদের দেখে আরো বেশী ভয়ংকর রুপ ধারন করবে। তারা হল....
১/ আলেম- যারা নিজের খ্যাতির জন্যে আলেম সাঁজে।
২/ শহীদ- যাদের নিয়তে অপবিত্রতা ছিল।
৩/ দানশীল- যারা বাহবা পাওয়ার জন্যে দান করে।
দুই শ্রেণির মানুষ আছে যাদের হিসাব হবে কলার ধরে ধরে। এক শ্রেণীর মানুষ হবে আলেম সমাজ। তাদের কে প্রশ্ন করা হবে, তোমার এলমের তুমি কি প্রতিদান দিয়েছো? উম্মাহর জন্য কি করে এসেছো হিসাব দাও। মানুষকে সত্য পথে আহ্বান করেছো নাকি পথভ্রষ্ট করেছো তার জবাব দাও। দ্বিতীয় শ্রেণির ব্যাক্তি হবে রাজনীতিবিদ। যাদের উপর জনগণের আমানত রক্ষার ভার থাকে। শাসক শ্রেণি জনগণের হক্ব ঠিকমত আদায় করেছে কিনা সেটা কড়ায় গণ্ডায় আল্লাহর দরবারে হিসাব দিতে হবে।
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন,"শীঘ্রই একটা সময় আসছে যখন মুশরিকরা তোমাদের এমনভাবে কঁচুকাটা করবে মনে হবে যেন ক্ষুধার্ত ব্যাক্তি দস্তর খানায় খেতে বসেছে। "
সাহাবীরা প্রশ্ন করলো,"ইয়া রাসূলুল্লাহ,আমরা কি ঐ দিন সংখ্যায় কম হব?"
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তখন উত্তর দিলেন,"না, তোমরা সংখ্যায় কম হবে না। তোমরা হবে আবর্জনার মত। তোমাদের মধ্যে দুইটি জিনিস ঢুকে যাবে, যার ফলে তোমাদের এই করুণ পরিণতি হবে।"
সাহাবীরা আবার প্রশ্ন করলেন,"কি সেই দুইটি জিনিস?"
আল্লাহর হাবিব উত্তর দিলেন,"একটা হল দুনিয়ার মোহ এবং অন্যটি হচ্ছে মৃত্যুর ভয়। তোমারা আল্লাহর পথে জীবন দিতে চাইবে না। তখন জীবন দেওয়া তো অনেক দূরের কথা তোমরা হক্ব কথাই বলতে চাইবে না।"
কারবালার জমিনেও নবীজীর কলিজার টুকরা ও মা ফাতেমার নয়নের মণিকে কোন ইহুদি, খ্রিস্টান, হিন্দু কিংবা অন্য ধর্মের লোক শহীদ করেনি। সেখানেও জড়িয়ে আছে আলেম নামের জালিম মুসলমানরা। যারা বাহ্যিক দিক থেকে মুসলমান কিন্তু অন্তরে ইসলামের কোন আলোই প্রবেশ করেনি। কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ্ব, যাকাত, ইসলামী লেবাস ও ইবাদত বন্দেগী কোনটাই কাজে আসবে না যদিনা হৃদয়ে আহলে বাইতের মহব্বত না থাকে। এক বালতি দুধের মধ্যে যেমন একফোঁটা গোচুনা পড়লে সমস্ত দুধ নষ্ট হয়ে যাই ঠিক তেমনি যতই পরহেজগার ও ইবাদত বন্দেগী করা হোকনা কেন আহলে বাইতের প্রতি শত্রুতা পোষণ করলে তার সব আমলই বরবাদ হয়ে যাবে। মুসলমানরাই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু। তাই দুনিয়া লোভী কোন আলেমের সংস্পর্শে না থাকায় মঙ্গলজনক।

No comments:

Post a Comment