Wednesday, May 25, 2022

 

জীবনের গােপন কথা

এই মুহূর্তে আপনি কেমন করে বসে আছেন, কেমন করে এই বইখানি পড়ছেন, কথা বলছেন, তা নির্ভর করে একটা আশ্চর্য যন্ত্রের উপরে। সেটা স্পন্দিত না হলে, চোখের পলকে আপনি চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যাবেন। এই অবাক করা দুরূহ যন্ত্রটির নাম হচ্ছে হৃৎপিন্ড। তাই এই যন্ত্রাটি সম্বন্ধেই প্রথমে কিছু আলােচনা করা দরকার।

মানবদেহের বক্ষস্থলের বামদিকে মধ্যচ্ছদার (Diaphrasern)এর উপরে হৃৎপিন্ডটি অবস্থিত। দেখতে অবিকল একটি বট পাতার মত। গােড়া প্রশস্ত মাথাটা চিকন ছোঁচালাে। হৃৎপিন্ডটা মাঝামাঝি দুটো ভাগে বিভক্ত হয়েছে। প্রত্যেক ভাগে আবার দু'টো করে ভাগ। ডানদিকের খন্ডে ওপরে একটি নীচে একটি। অনুরূপভাবে বামদিকের খণ্ডে ওপরে একটি নীচে একটি ভাগ রয়েছে। ডানদিকের ওপরের ভাগের নাম ডান অলিন্দ (Right Atrium), নীচের ভাগের নাম ডান নিলয় (Right Mentricle)। অনুরূপভাবে, হৃৎপিন্ডের বাম অংশের ওপরের অংশের নাম বাম অলিন্দ (Left Atrium) এবং নীচের অংশের নাম বাম নিলয় (Left Veritricle)। হৃৎপিন্ডের দু'পাশে ওপর থেকে নীচে ঝুলে রয়েছে দু’টো লাউয়ের মত জিনিষ। এদেরকে ফুসফুস বা ছাকনি (Lungs) বলা হয়েছে। এরা নিঃশ্বাসের ভেতর থেকে অক্সিজেন নামক একপ্রকার জিনিস ঘেঁকে রক্তে মিশিয়ে হৃৎপিন্ডে পাঠিয়ে দেয়, তার ওপরেই আমাদের জীবন নির্ভর করে।

মানবদেহে অজস্র রক্তবাহী নালী আছে, যাদের ভিতর দিয়ে দেহে রক্ত চলাচল করে দেহকে সর্বদা জীবন্তু রাখে। এই নালীগুলাে দু'রকমের। একটির নাম শিরা যা দেহের আবর্জনাময় রক্ত হৃৎপিন্ডে নিয়ে যায় শােধনের জন্য। অন্যটির নাম ধমনি যা দিয়ে শােধিত রক্ত সারাদেহে প্লাবিত হয়ে পড়ে।

অদ্ভুত উপায়ে হৃৎপিন্ড কাজ করে চলে। হৃৎপিন্ডটা একটা গােস্তের পিন্ড। দেহের শিরাগুলাে অশােধিত রক্ত বহন করে প্রথমে হৃৎপিন্ডে ডানভাগের ওপরের অংশে নিয়ে যায়, যাকে ডান অলিন্দ বলে, রক্ত যখন ঢােকে তখন ডান অলিন্দের গােস্তগুলাে প্রসারিত হয়ে রক্তটা গ্রহণ করে পরে রক্তকে সে সংকুচিত করে ডান নিলয়ে ঠেলে দেয়। এর মাঝখানে একটা ব্যাপার ঘটে। ডান অলিন্দ এবং ডান নিলয়ের মধ্যে একটি কপাটিকা রয়েছে অর্থাৎ দরজার মত। সেটি ইংরেজি ‘v” অক্ষরের মতই কিন্তু নীচের দিকে খােলা । ডান অলিন্দ যখন সংকুচিত হয়ে রক্তকে ডান নিলয়ে পাঠাতে শুরু করে, রক্ত

No comments:

Post a Comment