এমনি ভাবে দেহতত্ত্ববিদগণ মানব দেহ জরীপ করতে গিয়ে অসংখ্য স্থানে মহাস্রষ্টা আল্লাহকে মেনে নিয়েছেন। যিনি হৃৎপিন্ডে স্পন্দন দিয়েছেন, যিনি প্রথম ধাক্কা দিয়ে হৃৎপিন্ডতে ষ্টার্ট করিয়ে দিয়েছেন এবং যিনি ভ্যাগাস নার্ভে জীবন প্রবাহের প্রেরণা (Impulse) ইনজেক্ট করে দিচ্ছেন, তিনি সমগ্র সৃষ্টিকে জানিয়ে দিয়েছেন, “আল্লাহু নুরুস্সামাওয়াতে ওয়াল আরদ” (আল-কুরআন) অর্থাৎ আসমান জমিনে যা কিছু প্রেরণা পায়, শক্তি পায়, হৃৎপিন্ড তার চলশক্তি পায়, ভ্যাগাস নার্ভ প্রবাহ পায়, জীবকোষ তার শক্তি পায়- এসবের জেনারেটর হচ্ছি আমি, আমি মহাআলো, মহাতেজময় শক্তি। আমার মহাশক্তির মেশিন থেকে সবাই শক্তি (Energy) পায়। আমার আলো বিদ্যুতের প্রবাহের মত মস্তিষ্কে খেলে যায় অনবরত, তা থেকে ভ্যাগাস নার্ভ প্রবাহ পায়। সেই তড়িৎ প্রবাহ প্রতিনিয়ত হৃৎপিন্ডকে উজ্জীবিত করে এবং তার স্পন্দন শক্তি যোগায়। এ জন্য প্রতিটি মানুষকে আল্লাহ অনুধাবন করে দেখতে বলেছেন, “আফালা তা'কেলুন", অর্থাৎ তােমাদের কি জ্ঞান নেই? তােমরা কি একেবারেই পাথরের চেয়ে স্থবির হয়ে চিন্তা কর? তােমাদের সামনে এক খন্ড গোশত খাবারের পেয়ালায় রাখা হল, এখন তুমি ওতে হাত দিতে যাবে এমন সময় যদি ঐ মাংসপিন্ডটি হঠাৎ স্পন্দিত হয়ে সংকুচিত এবং সম্প্রসারিত হতে থাকে এবং তার ভিতর থেকে ঝোলগুলো উথলিয়ে ওঠে এবং উঠানামা করতে থাকে প্রতি মিনিটে ৮০ বার, তবে তুমি নিশ্চয়ই লাফ দিয়ে উঠবে, ভাবনায় বিভোর হয়ে চিল্লাচিল্লি করে বিবিকে, পড়শীকে হাকাহাকি করে ডাকতে শুরু করবে। কিন্তু তোমার ভিতরে মিনিটে ৭০ থেকে ৮০ বার তোমার নিজের গোশতখন্ডটা লাফাচ্ছে, তার শব্দও তুমি ষ্টেথিসকোপে কানে শুনতে পাও, কই তুমি তো জীবনে কোনদিন এর জন্য তোমার কোন জ্ঞানী পড়শীকে ডেকে এর কারণটা জিজ্ঞেস করলে না বা ভুলেও একদিন একটু চিন্তা করে দেখলে না। এই মর্মে আল্লাহ বলে, “উলায়িকা কাল আনয়াম বালহুম আদাল” (আল-কুরআন) অর্থাৎ এত নিকটের চিন্তা ভাবনা যার নেই, ভিতরের খবর নেই, বাইরের কত কিছু নিয়ে কতই না ভাবনা ভাবে, এরা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট।
এক লাইনের জ্ঞান খাটিয়ে অন্য লাইনের সমস্যার সমাধান করা যায় না। এক যন্ত্রে সকল অস্ত্র তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। কৃষিবিদ্যার একজন ডক্টর একটা ব্যাধির যেমন প্রেসক্রিপশান করতে পারে না, ঠিক একজন ডাক্তার কেমিস্ট্রির সূক্ষ্ম থিওরি নাও বুঝতে পারে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে হলে ঐ ক্ষেত্রে যারা অভিজ্ঞ তাদের কাছে গিয়েই শিখতে হয়। হৃৎপিন্ডে কেমন করে প্রবাহ আসে এবং কেন স্পন্দিত হয় এবং কে এই স্পন্দন ঘটায় তার সম্বন্ধে শুধু দেহতত্ত্ব (Physiology) এবং শব ব্যবচ্ছেদ বিদ্যায় (Anatomy) পারদর্শী হয়ে বােঝা যাবে না। এখানে আরও সূক্ষ্ম জ্ঞানের দরকার হবে এবং এ লাইনে যারা বিশেষজ্ঞ (Specialist) তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে জানা যাবে হৃৎপিন্ড কেন এ রকম করে। স্কুল জ্ঞান দিয়ে অনেক সূক্ষ্ম জিনিষ বোঝা যায় না। তাইতো কবির ভাষায় বলতে হয়
হাতুড়ি দিয়ে সেলায়ের কাজ সম্ভব না ভবে, যার কাছে যে খবর আছে সেথায় যেতে হবে।
মানুষকে যে মানুষ করে চালায় সর্বক্ষণ, তার নিকটে জীবনে কি বসেছো কিছুক্ষণ? তুমি যারে কল্পনা কও গল্প নাতো তা, জল্পনা সব ছেড়ে দিয়ে নোয়াতে পার মাথা? বিশ্বাসের অবিশ্বাসে রাখলে আড়াল করে, সত্যি যদি সত্য হয়ে স্রষ্টা তোমায় ধরে।
হৃৎপিন্ড কেন স্পন্দিত হয়, কোথা থেকে শক্তি পায় এবং কে সারা দেহে রক্ত চলাচল প্রবাহমান রাখে? ভ্যাগাস নার্ভের শক্তির উৎস কোথায় ও জীবকোষ কেন বিভক্ত হয়? প্রথম কোষে জীবন ধারা কিভাবে শুরু হয়, এ সম্বন্ধে একটি ঘটনা না বলে পারা যায়
No comments:
Post a Comment