Wednesday, May 25, 2022

 

মানব সৃষ্টি রহস্য

কি করে মানুষ হল? কেমন করে মানুষ দুনিয়ার আলােয় প্রকাশ হল? বিজ্ঞানীদের মতে, জ বিকোষ (Cel) দিয়েই মানুষের গােটা দেহ সৃষ্টি হয়েছে। একটা পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দেহে তিরিশ কোটি কোটি জীবকোষ রয়েছে। প্রতিটি কোষে আবার রয়েছে কয়েকটি অংশ। এগুলাের যথাক্রমে নাম হচ্ছে-প্রােটোপ্লাজম (Protoplasm), সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm), নিউক্লিয়াস (Nucleus), ক্রোমােজম (Chromosome), জিন (Gerse) এবং জিনের ভিতরে রয়েছে জেনিটিক নট বা গেরাে যার ভিতরে রয়েছে নিউক্লিক এসিড (Nucleic acid), এই এসিডই হচ্ছে আমাদের জীবনী শক্তি। জীবকোষ বা সেল নিয়ে একটু আলােচনা না করলে জীবন রহস্য বােঝা যাবে না।

আজ থেকে সােয়া চার’শ বছর আগে শেডেন ও শােয়ান বলে দু’জন জার্মান বিজ্ঞানী আবিষ্কার করে বললেন, প্রতিটি জ্যান্ত জিনিস কোষ নামে এক প্রকারের একক (Unit) নিয়ে সৃষ্টি। একজন পূর্ণ বয়স্ক লােকের দেহ ত্রিশ কোটি কোটি জীবকোষ দিয়ে তৈরী হয়েছে। এই কোষই মানব দেহের আসল উপাদান, এর ভিতরেই রয়েছে জীবন্ত প্রাণীর প্রাণশক্তি।

অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করে দেখলে দেখা যায়, একটি কোষে বিন্নি রকমের উপাদান রয়েছে। সহজ কথায়, প্রােটোপ্লাজম নামে একটি পদার্থ দিয়ে কোষটি তৈরী। এর ভিতরে সাদা সাদী এক প্রকার পদার্থ কলি কালি হয়ে অবস্থান করছে। এটাকে সাইটোপ্লাজম বলা হয়। সাইটোপ্লাজম হচ্ছে কোষ, দেহ তৈরীর মূল উপাদান, এটা নরম জেলির মত এক প্রকারের জি নিস। সাইটোপ্লাজমের ভেতরেই রয়েছে অপেক্ষাকৃত ঘন, কাল, জেলির মত জীবনের রহস্যময় পদার্থ নিউক্লিয়াস। এই নিউক্লিয়াসগুলাের ভেতরে রয়েছে জীবনের সবচেয়ে রহস্যময় কণা। এগুলাে সুতার মত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিষের জট পাকানো অবস্থায় রয়েছে। এগুলাের নাম হচ্ছে ক্রোমােজম (Chroti6Othe)। এদের সংখ্যা মানুষের বেলায় ছয়চল্লিশটি, অন্যান্য প্রাণীর বেলায় বেশি কম হয়, যেমন- ঘােড়ার কোষে ৬০টি, কুকুরের কোষে ৪২টি। পরবর্তীকালে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে, ক্রোমােজমের ভেতরে জিন (Chene) বলে আরও সূক্ষ্ম কাঠামাের মত যার চারদিকে চারটা নট ৰী গেরো রয়েছে। এই নটগুলোর মধ্য দিয়ে নিউক্লক এসিড বলে একটা অতি রহস্যময় পদার্থ চলমান আছে, যেটা হচ্ছে আসল জীবনীশক্তি, যে শক্তি প্রতিটি প্রাণীকে জীবন্ত রাখে। মাতৃগর্ভে শিশু কেমন আকৃতি পাবে, কেমন ব্যক্তিত্ব হবে, এমন কি চুল বা চোখের রং পর্যন্তও এই জিনই নিয়ন্ত্রণ করে। কলি মানুষের ঘরে কোন কোন সময় ফর্সা সন্তান জন্ম হয়। হয়ত পূর্ব পুরুষের কোন ফর্সা মানুষের জিন ক্রমাগতভাবে বংশ পরস্পরায় নামতে নামতে কালাে মানুষটির ভিতর দিয়ে প্রকাশ পেয়ে ফর্সা সন্তানের সৃষ্টি হয়েছে।

No comments:

Post a Comment