মানুষকে যে মানুষ করে চালায় সর্বক্ষণ, তার নিকটে জীবনে কি বসেছাে কিছুক্ষণ? তুমি যারে কল্পনা কও গল্প নাতাে তা, জল্পনা সব ছেড়ে দিয়ে নােয়াতে পার মাথা বিশ্বাসের অবিশ্বাসে রাখলে আড়াল করে, সত্যি যদি সত্য হয়ে স্রষ্টা তােমায় ধরে।
হৃৎপিন্ড কেন স্পন্দিত হয়, কোথা থেকে শক্তি পায় এবং কে সারা দেহে রক্ত চলাচল প্রবাহমান রাখে? ভ্যাগাস নার্ভের শক্তির উৎস কোথায় এ জীবকোষ কেন বিভক্ত হয়? প্রথম কোষে জীবন ধারা কিভাবে শুরু হয়, এ সম্বন্ধে একটি ঘটনা না বলে পারা যায়
। হ্যরত মুসা (আঃ) কে কালিমুল্লাহ্ বলা হত, অর্থাৎ তিনি আল্লাহর সঙ্গে অনেক সময় যুক্তি করতেন। একদিন কথা প্রসঙ্গে তিনি আল্লাহকে প্রশ্ন করলেন, আপনি সর্বদাই কি মানুষের সঙ্গে থাকেন? আল্লাহু উত্তর দিলেন, হ্যা সর্বদাই আমার প্রভাব মানুষের ওপরে পড়ে আছে। মুসা (আঃ) আরজ করলেন, হে, মাবুদ, আমি যখন আমার বিবির সন্নিকটবর্তী হই তখনও কি আপনি আমার বিবির সঙ্গে থাকেন? আল্লাহ বললেন, হ্যা তখনও থাকি। হযরত মুসা (আঃ) লজ্জিত হয়ে বললেন, তাহলে এটাতাে বড় শরমের কথা হল, আমি বিবির সাথে যখন মিলি আপনি মেহেরবানী করে তখন তার সাথে থাকবেন না। আল্লাহ স্বীকার করে বললেন, তাই-ই হবে। কিছুদিন অতিক্রান্ত হয়ে গেল। একদিন হযরত মুসা (আঃ) তাঁর বিবির সঙ্গে বসে আলাপ করতে করতে এক সময় মিলনের অভিপ্রায়ে তার হাতখানি ধরে ফেলল, অমনি এক আজব ঘটনা ঘটে গেল। মুসা (আঃ) বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে থাকলেন। তিনি তাঁর স্ত্রীর হাত ধরার সঙ্গে সঙ্গে সে পাষাণ পাথরের মত নিশ্চল ঠান্ডা হয়ে গেল, সর্ব শরীর পাথরের মত শক্ত হয়ে গেল। তিনি স্ত্রীর হাত ছেড়ে দিলেন। আর অমনি চোখের পলকে তাঁর স্ত্রী আগের মত স্বাভাবিক হয়ে গেল। আর মুসা (আঃ) তার হাত ধরলেন, আবারও তাঁর স্ত্রী আগের মত কঠিন পাথর হয়ে গেল। এভাবে কয়েকবার এই কান্ডের পরে মুসা (আঃ) হতবাক হয়ে আল্লাহর কাছে গিয়ে ফরিয়াদি করে বললেন, মাবুল কেন এমন হয়? তখন আল্লাহ উত্তর দিলেন, মুসা তােমার কি স্মরণ নেই? তুমিই না আমাকে অনুরােধ জানিয়েছিলে, যখন বিবির সঙ্গে মিলবে তখন আমি যেন তার সঙ্গে না থাকি। আমি আমার ওয়াদা মত কাজ করেছি, নিশ্চয়ই আমি ওয়ালা ভঙ্গ করিনি। যখন তুমি মিলনের উদ্দেশ্যে তােমার স্ত্রীর হাত পাকড়াও করেছ, ঠিক সেই মুহূর্তে আমি তােমার বিবিকে ছেড়ে গিয়েছি। আর অমনি সে পাথরের মত নিশ্চল হয়ে গিয়েছে। মুসা মনে রেখ, যে মুহূর্তে আমি মানুষকে ছেড়ে যাই সঙ্গে সঙ্গে চোখের পলকে তার জীবনলীলা সাংগ হয়ে যায়। আমার অলক্ষ্য প্রভাবের কারণেই মানুষ জীবন্ত থাকে, কথা কয়, ভাষা পায়, সঞ্চরণশীল হয়। তাই আল্লাহ বান্দাকে জানিয়ে দিয়েছেন “তুমি কি একাই চল, না কেউ তােমাকে চালায়?"
No comments:
Post a Comment