১. অর্থাৎ ‘আমি আশ্রয় চাচ্ছি এমন সত্তার কাছে, যিনি মানুষের প্রতিপালক, মানুষের বাদশাহ এবং মানুষের ইলাহ। যেহেতু তিনিই প্রতিপালক, বাদশাহ ও ইলাহ, সেহেতু আশ্রয় দেয়ার ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই রয়েছে। একমাত্র তিনিই তার বান্দাদেরকে সকল প্রকার বিপদ-মসীবত ও দুঃখ-দুর্দশা থেকে হিফাযত করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন। তিনি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর কাছে আশ্রয় চাওয়া যায় না ; কারণ অন্য সবকিছুই তাঁরই সৃষ্টি। এক সৃষ্টি অন্য সৃষ্টিকে আশ্রয় দেয়ার যোগ্যতা রাখে না। | ২. ‘ওয়াসওয়াস' শব্দের অর্থ কোনো মন্দ কথা বা কাজের কথা মনের ভেতর বারংবার জাগিয়ে দেয়া। আর ‘খান্নাস' অর্থ প্রকাশ পাওয়া আবার আত্মগোপন করা। এর দ্বারা শয়তানকে বুঝানাে হয়েছে। শয়তানই মানুষের মনের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কুমন্ত্রণা দির মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বারবার চেষ্টা করে। আর এ কুমন্ত্রণা দানকারী শয়তান জিন জাতি এবং মানুষ উভয়ের মধ্যে থাকতে পারে। আল্লাহর পথের আহ্বানকারীর মনে বিভিন্ন ধরনের কুমন্ত্রণা দানকারী সে জিন হােক বা মানুষ, তাদের থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়াই উত্তম পন্থা।
এখানে স্মরণীয় যে, মনে কুমন্ত্রণা সৃষ্টি হওয়াই যত অনিষ্টের সূচনা মাত্র। কুমন্ত্রণার পরেই মানুষ মন্দ কাজের দিকে অগ্রসর হয়। কুমন্ত্রণা দ্বারা মানুষের মনে মন্দ কাজের ইচ্ছা জাগে অতপর ধীরে ধীরে ইচ্ছাটা সংকল্পে রূপ নেয়। অবশেষে অসাজ সংঘটিত হয়। তাই কুমন্ত্রণা দানকারীর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেন।
অনিষ্টের সূচনাতেই আল্লাহ তা নির্মূল করে দেন। কুরআন মজীদে অন্যত্রও শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে।
৩, অর্থাৎ কুমন্ত্রণা দানকারী মানুষ হােক বা জিন হােক, উভয়ের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। অন্য কথায় মানুষের কুমন্ত্রণা জিন শয়তানরাও দেয়, আবার মানুষ শয়তানরাও দেয়। এ সূরায় উভয় প্রকার শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ নির্দেশ রাসূলে করীম (স)-এর পর সকল যুগের মু'মিনদের জন্য কার্যকর।
(সুরা আল ফালাক ও আন নাসের শিক্ষা)
১, মানুষকে সকল বিপদ-আপদ, যুলুম-নির্যাতন দুঃখ-দৈন্য, ভয়-শংকা এবং মানুষ ও জিন জাতীয় শয়তানের যাবতীয় ওয়াসওয়াসা তথা কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় চাইতে হবে একমাত্র সকল কিছুর স্রষ্টা, সকল কিছুর প্রতিপালক, সকল বাদশাহর বাদশাহ; ও একমাত্র ইলাহ মহামহিম আল্লাহর নিকট।
২. সকল কিছুর স্রষ্টা যেহেতু আল্লাহ, সব কিছুর উপর নিয়ন্ত্রণও একমাত্র তাঁরই আহে এটাই যুক্তি-বুদ্ধির অনুকুলে। তাই কোনাে পরিস্থিতিতেই অন্য কোনাে শক্তির নিকট আশ্রয় চাওয়া সংগত। নয়। এটাই ঈমানের দাবী।
৩, এ সূরা দুটিতে যে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ রয়েছে তাতে দুনিয়াবী সংকট থেকে আশ্রয় যেমন শামিল রয়েছে, তেমনি পরকালের কঠিন বিপদ থেকে আশ্রয়ও এর মধ্যে শামিল রয়েছে। | ৪, আমাদেরকে আশ্রয় চাইতে হবে আল্লাহর সৃষ্টিলােকে যা কিছু আছে তার সর্বপ্রকার অনিষ্ট থেকে। এসব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অন্য কোনাে মানবীয় অমানবীয় শক্তির নিকট আশ্রয়। চাওয়া বা কামনা করা যাবে না।
৫. আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতে হবে মনের পুর্ণ ঐকান্তিক আস্থা ও দৃঢ়তা সহকারে। কোনাে প্রকার সন্দেহ-সংশয় বা দোদুল্যমানতা এতে থাকতে পারবে না। তবেই আল্লাহর আশ্রয়ের প্রতিফলন। লক্ষ করা যাবে।
৬. রাসূলুল্লাহ (স) যেসব বিষয়ে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতেন সেসব বিষয় সহীহ হাদীসসমূহে f সুস্পষ্টভাবে উল্লিখিত রয়েছে। আমাদেরকে সেগুলাে অনুসরণ করতে হবে।
৭, ঝড়-ফুক সম্পর্কে হাদীসের কিতাবসমূহে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক হাদীস রয়েছে। তবে ঝড়ফুকের ব্যাপারে মুফাসসিরীনে কিরাম যা বলেছেন তার সারকথা হলো—ক) এতে কোনাে প্রকার। শিরকের মিশ্রণ থাকতে পারবে না। (খ) আল্লাহর পবিত্র নাম বা তাঁর পবিত্র কালামের সাহায্যে ঝাড়।
No comments:
Post a Comment