Wednesday, May 25, 2022

 

ভাববার কথা 

 বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে প্রােটোপ্লাজম, সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস, ক্রোমােজম, জিন এমনকি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি নিউক্লিক এসিড ও সৃষ্টি করতে পেরেছেন। একটা মানুষ মরে গেলে তার সম্পূর্ণ দেহটি অবিকল অবিকৃত অবস্থায় পড়ে থাকে, শুধু সে জন্মের মত স্তব্ধ হয়ে যায়। তার বাকশক্তি, শ্রবণ শক্তি, ঘ্রাণশক্তি, বুদ্ধি, চিন্তা, হৃৎপিন্ড সবই ঠান্ডা হয়ে যায়, কিন্তু দেহের নাক, মুখ, চোখ, কান, হৃৎপিন্ড, ফুসফুস ইত্যাদি সবই তাে ঠিক থাকে, তাহলে মরে কি?

বিশ্বের বিজ্ঞানীরা দেহ নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে মাথা কেঁকে চিন্তায় ঘর্মাক্ত হয়ে পেরেশান হয়ে স্থির মন্তব্য করে বলেছেন, মানুষের মরে কি, তা তাে ঠিক বােঝা যায় না। কেউ বলেছেন, সকল অঙ্গগুলাে এক সময় নিস্তেজ হয়ে যায়-এটাই মরণ। কেউ বলেছেন, জীবকোষ গুলােই মরণশীল। এরা এক সময় স্থবির হয়ে যায় এটার নামই মৃত্যু। এরকম আরও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ মরণ সম্বন্ধে করা হয়েছে। কিন্তু আসলেই কি এসব কথা যথার্থই মরণের পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা? মরণ কি সত্যিই আমাদের ধারণার (Idea) মরণের মত? একটা মানুষ মরণের পরে তার অনেক অঙ্গ প্রত্যঙ্গই তাে ঠিক থাকে। যেমন- চক্ষু ঠিক থাকে, অনেকে মরণােত্তর চক্ষু হাসপাতালে দান করে যায়।

| বিজ্ঞানীদের মাথায় সব ধরণের বুদ্ধি যদি থাকতই তবে মানব জীবনের জীবনীশক্তি, যার কারণে মানুষ জ্যান্ত থাকে, যার নাম হচ্ছে নিউক্লিক এসিড, যার সম্বন্ধে আগেই বলা হয়েছে, তবে মানুষ মরে গেলে সেই এসিড দু-এক মাত্রা মৃতদেহের ভিতরে ইনজেক্ট করে দিলে মানুষ কেন বেঁচে উঠে না? কেন খাড়া হয়ে কথা বলা শুরু করে না? চোখ মেলে প্রিয়জনের মুখের দিকে ফিরে চায়না? তাইতাে কবি গেয়েছেন

যারে তুমি ডাক আঁখি নীরে। সে যে আর আসিবেনা ফিরে সে যে চলে গেছে দূর ধামে।

এখানে এসে বিজ্ঞানীরা মাথা নত করে স্বীকার করে বলেছেন, নিশ্চয়ই আছেন একজন

যার হুকুমেই মৃত্যু ঘটে। তাই কবি বলেন,

নিশ্চয় আছেন একজন। 

যে অর্থে আমরা বুঝি, 

যে অর্থে আমরা খুঁজি 

হয়ত তিনি নন তেমন 

নিশ্চয়ই আছেন একজন।

মানুষ মরে গেলে আসলেই কি সে মরে? এ সম্বন্ধে দর্শন শাস্ত্র আংশিক ব্যাখ্যা দিতে পেরেছে। আসলে যে মরে সে হচ্ছে এমন একটা জিনিস যা বিজ্ঞানের, দর্শনের এবং বিজ্ঞানীর, দার্শনিকের ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

মানুষ যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনিই শুধু জানেন মরণে কিসের মরণ হয়। কি মরণের কারণে মানুষের দেহ মরে। কেউ বিশ্বাস না করলেও যিনি মানুষের মৃত্যু ঘটান তিনি বলেন “বল (হে মুহাম্মদ সাঃ) মানুষের জীবন আমার একটা আদেশ (Order) মাত্র, যার নিরসনই মানবদেহের মৃত্যুর আসল কারণ এবং এ সম্বন্ধে মানুষকে কোন জ্ঞানই দেয়া হয়নি।” (আল-কুর'আন) স্রষ্টার সেই আদেশটি হচ্ছে আসল মানুষ। দেহ হচ্ছে নকল মানুষ। এই আদেশটি যেন সর্পের মত, মানব দেহটি সেই সর্পের খােলসের মত । আসল সাপ খােলস এড়িয়ে হালকা হয়ে চলে যায়, খোলসটি পথের ধারে পড়ে থাকে নিশ্চল হয়ে। আসল মানুষটির খোলস মানুষের মতই দেহ আছে, আছে নাক, কান, মুখ, হাত, পা, মাথা, জিহ্বা, হৃৎপিন্ড, ফুসফুস, যকৃত-ইত্যাদি কিন্তু অদৃশ্য বা গায়েব। সে তার অলক্ষ্য দেহ নিয়ে এই জড় দেহে আশ্রয় করে তাকে। সে যখন বিদায় নিয়ে যায়, খােলস দেহের সর্ব অঙ্গ ঠিক থাকা সত্ত্বেও দেহ আর নড়াচড়া করে না, চির জনমের মত তার স্পন্দন স্তব্ধ হয়ে যায়। আসল মানুষ দেহাভ্যন্তর থেকে তার আসল জিহবা টান দিয়ে নিয়ে চলে যায়, নকল মানুষের এই মাটির জিহ্বা আর কথা বলে না। আসল মানুষ ভেতর থেকে আসল চোখ টেনে নিয়ে বেরিয়ে যায়, এই মাটির চোখে আর রােশনাই থাকে না। এমনিভাবে আসল মানুষ তার হৃৎপিন্ড সরিয়ে নিয়ে যায়, নকল মানুষের হৃৎপিন্ডের স্পন্দন চির জনমের মত বন্ধ হয়ে যায়।

No comments:

Post a Comment