ভাববার কথা।
হৃৎপিন্ডের প্রতিটি অংশ সংকুচিত ও সম্প্রসারিত হয়ে দেহে রক্ত চলাচল অব্যাহত রেখেছে। প্রতি মিনিটে এই স্পন্দনের সংখ্যা হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ বার। এ হ’ল স্বাভাবিক স্পন্দন। এভাবে দৈনিক হৃৎপিন্ডটা প্রায় এক লক্ষ বার স্পন্দিত হয়। অর্থাৎ সংকুচিত হয় ও সম্প্রসারিত হয়। বিজ্ঞানীরা অনেক ভাবনা চিন্তা করে, অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে শেষ পর্যন্ত মন্তব্য করেছেন হৃৎপিন্ডের এই রহস্যময় স্পন্দনের কারণ আমরা খুঁজে বের করতে পারলাম না এবং স্বীকার করে বলেছেন, নিশ্চয়ই এর পেছনে কোন অদৃশ্য শক্তি কাজ করে যা আমাদের বোধগম্য নহে। অনেকে বলে এবং বিশ্বাসও করে স্রষ্টা বলতে কেউ নেই। সবই এমনিতে হয়- এসব যারা ভাবে এবং বলে তারা কিন্তু এসব দেহতত্ত্ববিদ মহাবিজ্ঞানীদের ছাত্র হবার মত জ্ঞানও রাখে না। অথবা বিশেষ একটা বিষয়ে কিছু জেনে-টেনে এক আধটা পাশ-টাশ করেছে। মহাবিজ্ঞানী এবং মহাজ্ঞানী আইনষ্টাইনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, স্রষ্টা বলতে কি কোন মহাশক্তি আছেন? তিনি উত্তর দিলেন, নিশ্চয়ই আছেন কিন্তু তার সম্বন্ধে তোমরা কিছু অনুধাবন করতে পারবে না।
আরেকটি ভাববার কথা, হৃৎপিন্ডটা কেন চলমান থাকে এবং তার এই শক্তি প্রথমে কোথা থেকে এল। যারা শুধু বিজ্ঞান বিজ্ঞান করে আর যুক্তি ছাড়া কিছুই মানে না তারা যুক্তিতে আটকা পড়লেও যুক্তিকেও যুক্তিহীন বলে মনে করে। এটা একটা একগুয়েমি স্বভাব এবং যা জ্ঞানের অলক্ষ্যে জ্ঞানকে ফাঁকি দেবার একমাত্র ধারাল অস্ত্র । বিশ্ববিশ্রুত মহাজ্ঞানী বিজ্ঞানী নিউটন আইন প্রকাশ করলেন, সে আইন সারা বিশ্ব চোখ বন্ধ করে মেনে নিল। তিনি বললেন, জড় পদার্থে গতি সৃষ্টি না করে দিলে সে গতি সম্পন্ন হয় না এবং যতক্ষণ গতি সৃষ্টির কারণ থাকে ততক্ষণই এ জড় পদার্থ গতি সম্পন্ন থাকে। এ হচ্ছে নিউটনের দেয়া আইন (Law of Newton)। হৃৎপিন্ড একটা মাংস খন্ড | অর্থাৎ জড় পদার্থ হৃৎপিন্ডটা সৃষ্টি হবার পর নিচুপ হয়ে পড়েছিল গতিহীনভাবে। এতে কোন স্পন্দন ছিল না, কোন সংকোচন বা সম্প্রসারণ ছিলনা। ডান বা বাম অলিন্দ এবং নিলয়গুলো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় চুপ করে বসেছিল। হঠাৎ এক সময় এরা নড়ে উঠল, স্পন্দিত হতে লাগল এবং হৃদক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। জড় পদার্থকে চালিয়ে না দিলে চলে না, গতি সৃষ্টি করে না দিলে গতি সম্পন্ন হয়না- বিজ্ঞানীর এ আইনে বিশ্বাসী যুক্তিবাদীরা, নাস্তিকরাও এ আইন মেনে নেয়। এই হৃৎপিন্ডটি মানুষের জীবনকে প্রতিনিয়ত জীবন্ত অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখছে। সর্বাঙ্গ-এমনকি তার যুক্তি করার ক্ষমতাও যে যুগিয়ে দিচ্ছেএই হৃৎপিন্ডটা প্রথম অবস্থায় অত্যন্ত নিষ্ক্রিয় ছিল, ছিল গতিহীন, স্পন্দনহীন, স্থবির। এটাকে প্রথম একটা ধাক্কা দিয়ে কে এতে গতি সৃষ্টি করে দিল? বিজ্ঞানীরা বলেন, এটা আমরা জানিনে, এটা আমাদের বোধগম্য হয় না। হৃৎপিন্ড কেন যে এমন করে নড়াচড়া করে, এর কারণ কেউ আজও খুঁজে বের করতে পারেনি।হৃৎপিন্ডের এই স্পন্দনের একটা কারণ খুঁজে পেতে গিয়ে আরও হতবাক হয়ে তারা মহাস্রষ্টাকে স্বীকার করে নিয়েছে। তারা অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখেছে ভ্যাগাস (vugus) নার্ভ নামে একটা নালী মাথার নিম্নভাগ থেকে নেমে মধ্যচ্ছদা পর্যন্ত এসে মিশেছে। এটা হৃৎপিন্ডে গিয়ে মিশেছে। ভ্যাগাস কথার মানে ভবঘুরে (Magabond)। তড়িতের মত প্রবাহ এর ভিতর দিয়ে এসে হৃৎপিন্ডে অনবরত প্রেরণা (Impulse) দেয়, সঙ্গে সঙ্গে হৃৎপিন্ড সক্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা শত চেষ্টা করেও আবিষ্কার করতে পারেনি এই প্রেরণা কোথা থেকে আসে এবং মস্তিষ্কের কোথায় এই প্রেরণা সৃষ্টিকারী মেশিন (Generating machine)। বিজ্ঞান বলে, প্রতিটি শক্তি (Energy) সৃষ্টির এক সৃষ্টিকারী মেশিন (Generating machine) আছে, যা থেকে শক্তির উৎস আসে। যেমন কাপ্তাই-এর সৃষ্টিকারী মেশিন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়ে আসে, ডায়নামা থেকে শক্তি আসে। বিজ্ঞানীরা মাথা নত করে বলেছেন, ভ্যাগাস নার্ভের প্রেরণার উৎস-শক্তির উৎস কোথায় তা নিশ্চয়ই অজানা এক শক্তির হাতে এবং এই শক্তিই হচ্ছেন আল্লাহ রাব্দুল আ'লামিন।।
No comments:
Post a Comment