তখন এই কপাটিকা বা দরজাটি (Mitral Value) দিয়ে অতিক্রম করে। রক্তে ডান নিলয় ভরে যায় তখন এই কপাটিকা বা দরজাটি বন্ধ হয়ে যায়। ডান নিলয় থেকে এই রক্ত একটা নালী দিয়ে সরাসরি হৃৎপিন্ডের দুদিকে দুটো ফুসফুসে ঢুকে। ওদিকে ফুসফুস নিঃশ্বাস থেকে যে অক্সিজেন সংগ্রহ করে রেখেছে, রক্ত তার ভিতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে দুদিকের দুটো ফুসফুসই রক্তের সঙ্গে অক্সিজেন মিশিয়ে রক্তকে শােধিত করে দেয়। তারপর এই শােধিত রক্ত আবার ফুসফুসের সংযােজিত নালী দিয়ে হৃৎপিন্ডের বাম অংশের উপরিভাগে বাম অলিন্দে প্রবেশ করে। বাম অলিন্দ সঙ্গে সঙ্গে সেই রক্ত বাম নিলয়ে প্রেরণ করে। এখানেও অলিন্দ ও নিলয়ের মধ্যে একটা দরজা আছে। হৃৎপিন্ডের ডানদিকে যা যা হয়, বাম অংশেও তাই হয়। বাম অলিন্দ থেকে রক্ত যখন বাম নিলয়ে যায়, তখন বাম নিলয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করতে হয়। রক্ত যখন তার ভিতরে ঢোকে সে প্রসারিত হয় এবং পরে সংকুচিত হয়ে যায় । সংকুচিত হবার সময় সে রক্তকে এমন জোরে একটা ধাক্কা দেয় যে রক্তটা এক মিনিটের ভিতরে দেহের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে- এমনকি চুলের গােড়া, চোখের মনি, হাত ও পায়ের আংগুলের মাথায় পর্যন্ত সঞ্চালিত করে দেয়।
ভাববার কথা।
হৃৎপিন্ডের প্রতিটি অংশ সংকুচিত ও সম্প্রসারিত হয়ে দেহে রক্ত চলাচল অব্যাহত রেখেছে। প্রতি মিনিটে এই স্পন্দনের সংখ্যা হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ বার। এ হ’ল স্বাভাবিক স্পন্দন। এভাবে দৈনিক হৃৎপিন্ডটা প্রায় এক লক্ষ বার স্পন্দিত হয়। অর্থাৎ সংকুচিত হয় ও সম্প্রসারিত হয়। বিজ্ঞানীরা অনেক ভাবনা চিন্তা করে, অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে শেষ পর্যন্ত মন্তব্য করেছেন হৃৎপিন্ডের এই রহস্যময় স্পন্দনের কারণ আমরা খুঁজে বের করতে পারলাম না এবং স্বীকার করে বলেছেন, নিশ্চয়ই এর পেছনে কোন অদৃশ্য শক্তি কাজ করে যা আমাদের বােধগম্য নহে। অনেকে বলে এবং বিশ্বাসও করে স্রষ্টা বলতে কেউ নেই। সবই এমনিতে হয়- এসব যারা ভাবে এবং বলে তারা কিন্তু এসব দেহতত্ত্ববিদ মহাবিজ্ঞানীদের ছাত্র হবার মত জ্ঞানও রাখে না। অথবা বিশেষ একটা বিষয়ে কিছু জেনে-টেনে এক আধটা পাশ-টাশ করেছে। মহাবিজ্ঞানী এবং মহাজ্ঞানী আইনষ্টাইনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, স্রষ্টা বলতে কি কোন মহাশক্তি আছেন? তিনি উত্তর দিলেন, নিশ্চয়ই আছেন কিন্তু তার সম্বন্ধে তােমরা কিছু অনুধাবন করতে পারবে না।
আরেকটি ভাববার কথা, হৃৎপিন্ডটা কেন চলমান থাকে এবং তার এই শক্তি প্রথমে কোথা থেকে এল। যারা শুধু বিজ্ঞান বিজ্ঞান করে আর যুক্তি ছাড়া কিছুই মানে না তারা যুক্তিতে আটকা পড়লেও যুক্তিকেও যুক্তিহীন বলে মনে করে। এটা একটা একগুয়েমি স্বভাব এবং যা জ্ঞানের অলক্ষ্যে জ্ঞানকে ফাকি দেবার একমাত্র ধারাল অস্ত্র। বিশ্ববিশ্রুত মহাজ্ঞানী বিজ্ঞানী নিউটন আইন প্রকাশ করলেন, সে আইন সারা বিশ্ব
No comments:
Post a Comment